মঙ্গলবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং, ৯ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

বিশ্বখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মাদ আলীর ইন্তেকাল

পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৬ 

গত ৪ জুন ২০১৬ সাবেক হেভিওয়েট বিশ্ব চ্যা¤িপয়ন মোহাম্মাদ আলী ৭৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পারকিনসন্স সিনড্রোমে ভুগছিলেন।
মোহাম্মদ আলী ১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি রাজ্যের লুইসভিলে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ক্যাসিয়াস মারসেলাস ক্লে-র নামানুসারে প্রথমে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল ক্যাসিয়াস মারসেলাস ক্লে জুনিয়র। পরে ১৯৬৫ সালে ইসলাম গ্রহণের পর নিজেই মোহাম্মদ আলী নাম বেছে নেন।
মোহাম্মাদ আলী ১২ বছর বয়স থেকে বক্সিং শুরু করেন। এর মাত্র ৬ বছর পর ১৯৬০ সালে অলি¤িপক এবং ১০ বছর পর (১৯৬৫ সালে) ওয়ার্ল্ড চা¤িপয়ন হন।
শুধু রিংয়েই নয়, রিংয়ের বাইরেও তাঁর মুখ চলত সমান তালে। সরব ছিলেন নিপীড়িত মানুষের অধিকারের দাবিতে। প্রথমবার বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যা¤িপয়নশিপ জেতার মাত্র ৩ বছর পর তাঁকে ভিয়েতনাম যুদ্ধে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল আমেরিকান সরকার। কিন্তু আলী তা সরাসরি প্রত্যাখান করে বলে দিয়েছিলেন, তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিপক্ষে৷ কোনো অবস্থাতেই তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেবেন না।
গত সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর সর্বশেষ বিবৃতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমান প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রা¤েপর মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছিলেন।
১৩২ শব্দের এক বিবৃতিতে ট্রাম্পকে উল্লেখ না করেই তিনি লেখেন, ‘আমি একজন মুসলমান এবং প্যারিস, সান বার্নারদিনোসহ বিশ্বের অন্য যেকোনো স্থানে নিরপরাধ মানুষ হত্যায় ইসলামিক জিহাদিদের নির্মম সহিংসতা ধর্ম বিশ্বাসের পরিপন্থী, যা প্রকৃত মুসলমানরা জানে। মোহাম্মাদ আলী বিৃতিতে আরো লেখেন, মুসলমান হিসেবে আমাদের ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, যারা ইসলামকে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যবহার করে। অনেককেই ইসলাম সম্পর্কে জানতে বিরত রেখেছে তারা। চেষ্টা করা এবং জোরপূর্বক কাউকে ইসলাম গ্রহণ করানো আমাদের ধর্মের বিরুদ্ধে, সত্যিকারের মুসলমানরা এটি জানে অথবা জানা উচিত। মোহম্মাদ আলী আরো বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে কাউকে হেয় করেনি এমন একজন হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের রাজনীতিবিদদের উচিত নিজেদের অবস্থান থেকে মানুষকে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানানো এবং এটি নিশ্চিত করা বিগথগামী হত্যাকারীরা প্রকৃত ইসলাম সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে।
মোহাম্মাদ আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন জাবেরি আনসারিও মোহাম্মাদ আলীর আত্মীয়-স্বজন এবং সারা বিশ্বের ভক্তদের জন্য গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, আলী শুধু তিনবারের বিশ্ব চ্যা¤িপয়ন মুষ্টিযোদ্ধাই ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন বর্ণবৈষম্য অবসান আন্দোলনের পথিকৃৎ।
উল্লেখ্য, মোহাম্মাদ আলী ১৯৯৩ সালের ৮ মে ইরান সফর করেন। তখন তিনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা মরহুম ইমাম খোমেইনীর মাযার যিয়ারত করেন। এছাড়া, তিনি ইরানের মাশহাদ শহরে নবীবংশের অষ্টম ইমাম রেযা (আ.)-এর মাযার যিয়ারত করেন। এ সফরের সময় ইরানের জনগণ মোহম্মাদ আলীকে উষ্ণ আতিথেয়তা জানায়।
মোহাম্মাদ আলী ক্লে ১৯৬৫ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি পশ্চিমা যুবকদের মাঝে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া এবং বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে ব্যাপক অনুপ্রেরণা জাগিয়েছিলেন। মোহাম্মাদ আলী ১৯৯০ সালে তাঁর ইরাক সফরে নাজাফ শহরে হযরত আমীরুল মুমিনীন আলী (আ.) এবং কারবালা শহরে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর মাযার যিয়ারত করেন।
১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন সর্বকালের সেরা বক্সার মোহাম্মদ আলী। সেদিন বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছিল। ওই সফরে আলীকে বাংলাদেশের নাগরিকত্বও দেয়া হয়েছিল। তাঁর হাতে সম্মানসূচক নাগরিকত্বের প্রতীকী চাবি তুলে দেয়া হয়েছিল। পল্টনের মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়াম উদ্বোধন করেছিলেন আলী নিজেই।

তেহরানে মোহাম্মাদ আলীর নামে সড়কের নামকরণের প্রস্তাব
বিশ্বখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মাদ আলী ক্লে-র নামে ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি সড়কের নামকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তেহরান সিটি কাউন্সিলের সদস্য ইকবাল শাকেরি গত ৫ জুন ২০১৬ এ প্রস্তাব দেন। দেশটির রাজধানীর সিটি কাউন্সিলের এক বৈঠকে একটি সড়কের নাম পরিবর্তন করে মোহাম্মাদ আলী রাখার কথা বলেন তিনি।
ওই বৈঠকে শাকেরি বলেন, মোহাম্মাদ আলী ছিলেন বর্ণবাদ ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক। তিনি ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।