সোমবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব ও প্রচারমাধ্যমসমূহের দৃষ্টিতে ইমাম খোমেইনী (র.)

পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ৩১, ২০১৩ 

news-image

ইমাম খোমেইনী ছিলেন সত্যের পথের আত্মবিস্মৃত আধ্যাত্মিক সাধক ও নিবেদিতপ্রাণ মুজাহিদ। তাঁর স্বাধীনচেতা অদম্য স্পৃহা ও ন্যায়ের জন্য আকুলতা ইতিহাসের গন্ডি, ভৌগোলিক দূরত্ব ও আকীদা বিশ্বাসের প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে সকল মানুষের জাগ্রত চেতনা ও সংবেদনশীল বিবেককে জাগ্রত করেছে। এই ছোট্ট অধ্যায়ে আমরা বর্তমান বিশ্বের কয়েকজন মনীষী ইমামের বিশাল ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে যে প্রাণঢালা অভিব্যক্তি ও শ্রদ্ধা ব্যক্ত করেছেন, তার নমুনা তুরে ধরছি :

১. বর্তমান বিশ্বের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের দৃষ্টিতে ইমামের মর্যাদা

* ডক্টর মুস্তাফা আইয়ুব (আমেরিকান মুসলমান) আমেরিকার থাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিলিজিয়াস স্টাডিজ বিভাগের গবেষক ও পরিচালক :

ইমাম খোমেইনী বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান বিশ্বের ইসলামী আন্দোলনসমূহের জন্য একটি অনুসরণীয় আদর্শ।

* ডক্টর হাসান আল যীন, লেবানীজ ম্যাগাজিন ‘আল-ইরফানের’ নির্বাহী পরিচালক

সম্ভবত ইতিহাসে এটিই প্রথম বারের ঘটনা যে, একটি বিপ্লবকে একজন ব্যক্তি থেকে পৃথক করা যায় না। ইমাম হচ্ছেন সেই ইসলামী বিপ্লব আর ইসলামী বিপ্লব বলতেও বুঝায় তাঁকেই।

* ডক্টর উমর ইউসুফ হামযা (কাতার, মুসলমান) কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআনিক সাইন্স এর অধ্যাপক ও গবেষক

ইমাম খোমেইনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি ছিল তিনি ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রভাবকে বিশ্বের অনেক দেশে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন এবং মুসলিম যুবকদের জাগৃতির কারণ হয়েছেন।

* প্রফেসর ইলিয়াস কিয়াতী কারাই (থাইল্যান্ড, মুসলমান) থাইল্যান্ডের সীলী পাকুর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক

বৈশ্বিক আঙ্গিনায় ইমাম খোমেইনী যে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি আঞ্জাম দিয়েছেন তাহলো তিনি মুসলমানদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, বিদেশনীতির লক্ষ্যসমূহের ক্ষেত্রে ইসলামের কল্যাণের বিষয়গুলোর অগ্রাধিকার রয়েছে। আর জাতীয় স্বার্থের গুরুত্ব রয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ে। এই বাস্তবতাটি ছিল সর্বাধিক আকর্ষণ, যা ইরানের ইসলামী বিপ্লবকে মুসলমানদের অন্তরে স্থান করে দিয়েছে।

* রীনান আরন রাগসাল (থাইল্যান্ড, খৃস্টান) ইসলামী বিষয়াদির অনুবাদক ও থাই পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য

ইমাম খোমেইনী একজন নেতা হিসেবে মুসলমানদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, যদি নিজেদের ব্যাপারে সতর্ক থাকে এবং ইসলামের দুশমনদের মোকাবিলায় ঈমান, প্রতিরোধ, ন্যায় ও ঐক্যের অস্ত্র নিয়ে রুখে দাঁড়ায় তাহলে অবশ্যই বিজয়ী হবে।

* আহমদ ওয়ারসী (বৃটিশ, মুসলমান) লেখক ও মুসলিম নিউজ ম্যাগাজিনের সম্পাদক

ইমাম খোমেইনী মুসলিম সমাজে যে প্রভাব রেখেছেন, তা অকল্পনীয়। তাঁর গুণাবলী একজন স্বাভাবিক মানুষের ঊর্ধ্বে। তবে একই সাথে তিনি একজন আলেম, মরমীবাদী, মুত্তাকী ও সর্বোপরি একজন নেতা ছিলেন।

* ডক্টর রফিক আলীয়াভ (আযার বাইজান, মুসলমান) গবেষক ও বাকু শহরের ইসলামী গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক

ইমাম খোমেইনী বিগত বছরগুলোর মধ্যে ইসলামী জাহানের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। ইমাম, আধুনিক প্রগতি ও বিবর্তনসমূহকে বিবেচনায় রেখে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী জাহানের সামনে পথ পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

* হাসান জাবের (লেবানন, মুসলমান) বৈরুত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লেবানীজ ম্যাগাজিন আল-মানতিক এর নির্বাহী সম্পাদক

ইমাম খোমেইনী ইসলামী ফিকাহর ইতিহাসে এক বিরাট যুগ সন্ধিক্ষণের সৃষ্টি করেছেন এবং আজকের দুনিয়ার প্রশ্নসমূহের উত্তর দিয়েছেন।

* আলী বূলাচ (তুরস্কের অধিবাসী, মুসলমান), গবেষক-লেখক ও জার্নালিস্ট

ইমামের শ্রেষ্ঠ কাজ এটিই ছিল যে, তিনি মানুষকে বিশ্ব পর্যায়ে মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের রণাঙ্গনে কাতারবদ্ধ করতে পেরেছেন আর জনগণের সমর্থনও ছিল ইমামের এই মাহাত্ম্যের জবাবস্বরূপ।

* আলী হুফমান (অস্ট্রিয়া, মুসলমান), ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ইসলামের প্রভাব অত্যন্ত হ্রাস পেয়েছিল। ইমাম খোমেইনী খাঁটি মুহাম্মদী ইসলামের প্রত্যাবর্তন করে ইসলামকে একটি রাজনৈতিক শক্তিতে পরিবর্তিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

* মরিয়ম আরলা (অস্ট্রিয়া, মুসলমান), লেখক ও জার্নালিস্ট

ইমাম খোমেইনী মুমিনদের অন্তরকে বিভিন্ন ভাষণ বিবৃতি ও সরল সহজ জীবন যাপনের মাধ্যমে জয় করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। ইমাম একজন সত্যিকার নেতা হিসেবে মুমিনদের মাঝে আত্মবিশ্বাস জন্মাতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি তরুণ প্রজন্মের শিক্ষক ছিলেন।

* প্রফেসর কুরাতোলা (ইতালী, খৃস্টান), ইতালীর উদীনা বিশ্বব্যিালয়ের ইসলামী শিল্পকলার অধ্যাপক

আমার মতে ইমাম খোমেইনীর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ কাজ হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী ইসলামকে পুনরায় আলোকিত করা এবং বিশ্ব জনমতকে পবিত্র ইসলাম ধর্মের প্রতি নিবদ্ধ করা।

* ডক্টর ইদ্রিস কাত্তানী (মরক্কো, মুসলমান), লেখক ও সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক বিখ্যাত গবেষক

আমার মতে, ইমাম খোমেইনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও পদক্ষেপ হচ্ছে, ইরানের বিপ্লব বিজয় লাভের পর তা ইসলামী হিসেবে অক্ষুণ্ণ রাখা।

* ডক্টর কামাল উদ্দীন দাজানী (গ্রীক, মুসলমান), কবি, লেখক ও সাহিত্যিক

ইমাম খোমেইনীর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লব প্রকৃতপক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। যা এতদঞ্চলে শুধু নয়, বরং গোটা মানব জাহানে সংঘটিত হয়েছে। ইমাম খোমেইনী কেবল ইরান সমাজের নেতা ছিলেন না, বরং ইসলামী জাহানের নেতৃত্ব তাঁর হাতে ছিল।

* সাইয়্যেদ হানী ফাহস (লেবাননী, মুসলমান), গবেষক ও লেখক

ইমাম খোমেইনী ছিলেন ইরানের ইসলামী নেতা ও প্রেরণার উৎস। তিনি নিজ থেকে বিপ্লবী অবিচলতার সমুন্নত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

* উমর হাসান বশীর, সুদানের প্রেসিডেণ্ট

ইমাম খোমেইনীর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবের বিজয় আধুনিক ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ইসলামী ঘটনা।

* গোলাম ইসহাক খান, পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট

ইমাম খোমেইনীর আলোক উজ্জ্বল উত্তরাধিকার বিশ্ব মুসলিমের চিরন্তন ঝর্নার উৎস ও প্রেরণা হয়ে থাকবে।

* শেখ আব্দুল আলী নাসের (কেনিয়ার আলেম)

ইমাম খোমেইনী ইসলামী হুকুম-আহকাম বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইসলামী জাহানের জাগরণ ও ঐক্যের ক্ষেত্র প্রস্ত্তত করেছেন।

* আলাকাত এনায়েত শাকের, পাকিস্তানের ইসলামী ভ্রাতৃত্ব আন্দোলনের দায়িত্বশীল

ইমাম খোমেইনী ছিলেন খাঁটি মুহাম্মদী ইসলামের ঝান্ডাবাহী। আর ইরানের ইসলামী বিপলব সংঘটিত হওয়া মুসলমানদেরকে সাহস যুগিয়েছে ও সম্মান দান করেছে।

* আলী হাসান মুঈনী, তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট

ইমাম খোমেইনী ছিলেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবের স্থপতি, যিনি আমাদের যুগে দাম্ভিক শক্তির ওপর হীনবল মুস্তাজআফদের শক্তিমত্তা ও বিজয়কে বাস্তবে রূপায়িত করেছেন।

* ইব্রাহিম বাবা নাগিয়ে দা, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট

ইমাম খোমেইনী ছিলেন ইসলামী জাহানের মহান নেতা ও শান্তির প্রতীক।

কার্ডিনাল কাপূচী, বায়তুল মুকাদ্দাসের গ্রান্ড কার্ডিনাল

ইমাম খোমেইনী কেবল ইরানের সাথে সম্পর্কিত নন, দুনিয়ার সকল মুস্তাজআফ মানুষ (মুসলমান অমুসলমান নির্বিশেষে) তাঁকে নিজেদের পরিত্রাতা হিসেবে জানে।

* পোপ, বিশ্বের ক্যাথলিক খৃস্টানদের ধর্মীয় নেতা

ইমাম খোমেইনী তাঁর দেশে এবং বিশ্বের বিশাল অংশে যা সম্পাদন করেছেন, সে সম্পর্কে বিরাট সম্মানের সাথে ও গভীর চিন্তাভাবনা করে মতামত প্রকাশ করতে হবে।

* উমর কেরামী, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বে মুসলমানদের জাগরণ ইমাম খোমেইনীর অভ্যুত্থানের কাছে ঋণী।

কীম ইল সুং, উত্তর কুরিয়ার প্রেসিডেন্ট

ইরানী জনগণের সংগ্রামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং তাদের বিজয় কামনা করছি। ইরানের জনগণ আয়াতুল্লাহ খোমেইনীর নেতৃত্বে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় অখন্ডতার প্রতিরক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

* আববাস মাদানী, আলজেরিয়ার ইসলামী মুক্তি আন্দোলনের নেতা

ইমাম খোমেইনী যে প্রদীপ জ্বালিয়েছেন তা আমাদের অন্তরসমূহকে আলোকিত করেছে। আলজেরিয়ার জাতি, ইরানী জাতির পাশে একই কাতারে দাঁড়িয়ে আল্লাহু আকবর এর ঝান্ডা উত্তোলন করার জন্য প্রস্ত্তত রয়েছে।

* শীতা রো আবে, জাপানের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী

আমি নিকট থেকে নতুন ও দীর্ঘস্থায়ী ইরান নির্মাণের জন্য ইরানের জনগণের ইসলামী বিপ্লবের অর্জনগুলো প্রত্যক্ষ করেছি। এ বিষয়টিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতার প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের কাছে ঋণী বলে মনে করি।

* বেনজির ভূট্টো, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

ইমাম খোমেইনীর বাণীসমূহ ভবিষ্যতেও মুসলমানদের হেদায়াতের আলোকবর্তিকা। মুসলিম জাতিসমূহ ভবিষ্যতেও ইমামের সুমন্নত চিন্তাধারার নূরানী ঝলক থেকে ফায়দা গ্রহণ করবে।

* অধ্যাপক ইয়াকুব ইয়াহিয়া, নাইজেরিয়ার ইসলামী আন্দোলনের নেতা

ইরানের বিপ্লবে ইমামের নেতৃত্ব ছিল বিজ্ঞতাপূর্ণ। ইমামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা, বীরত্ব, জিহাদ ও প্রচেষ্টা।

* প্রফেসর আনীস আমীন কারীচ, বসনিয়ার সংস্কৃতি ও শিক্ষামন্ত্রী

বিশ্বে ইমাম খোমেইনীর ব্যক্তিত্বের আত্মপ্রকাশ প্রমাণ দিয়েছে যে, পাশ্চাত্যের ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ কোনো সঠিক বিজ্ঞান নয়।

* জুমা আলী খান, কিরগিজিস্থান এর সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

ইমাম খোমেইনী এক শক্তিমান ও দূরদর্শী নেতা, একজন মহান ও নিস্কলুষ মানুষ, যিনি স্বচ্ছ ও কলুষমুক্ত আত্মার অধিকারী ও সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত স্বভাবধারী ছিলেন। আমার মতে ইসলামী বিষয়াদি ও বৈশ্বিক সমস্যা ও জটিলতা সম্পর্কে তাঁর নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনা আল্লাহরই দান ছিল।

* সৈয়দ সদরুদ্দীন, আলজেরিয়ার সমকালীন চিন্তাবিদ

ইমাম খোমেইনী ছিলেন একজন ব্যতিক্রমধর্মী মানুষ। তিনি ছিলেন মুসলমানদের জন্য আল্লাহর উপহার যাতে তিনি ইসলামের পথে তাদের পথচলাকে সংশোধন করে দিতে পারেন।

প্রিন্ট মিডিয়ার দৃষ্টিতে ইমামের ব্যক্তিত্ব

* তাশরীন, সিরিয়া (১৫ খোর্দাদ ১৩৬৮/৫ জুন ১৯৮৯ইং)

ইমাম খোমেইনীর ইন্তেকালে ইরানের ইসলামী বিপ্লব একজন নজিরবিহীন নেতাকে হারিয়েছে। তিনি ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদী ও যায়নবাদীদের দোসর স্বৈরাচারী শাহকে ইরান থেকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

* টাইমস, জাপান (১৭ খোরদাদ ১৩৬৮/৭ জুন ১৯৮৯ ইং)

ভবিষ্যৎ যুগের ঐতিহাসিকরা নিশ্চিতভাবেই আয়াতুল্লাহ খোমেইনীকে বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় ও সর্বাধিক সংগ্রামী নেতা হিসেবে চিহ্নিত করবেন। তিনি এমন নেতা, ইতিহাসের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের মাঝে তাঁর সমকক্ষ খুব কমই আছে।

* আল-সাফীর, বৈরুত (১৫ খোরদাদ ১৩৬৮ ফারসি/৫ জুন ১৯৮৯ ইং)

বর্তমান দশককে ‘খোমেইনীর যুগ’ নামে আখ্যায়িত করতে হবে। আল্লাহর ইচ্ছায়, এই যুগ ইমামের ইন্তেকালের পরও অবশিষ্ট থাকবে।

* ডেইলি মুসলিম, পাকিস্তান (১৫ খোরদাদ ১৩৬৮ ফারসি/৫ জুন ১৯৮৯ ইং)

ইমাম খোমেইনী (বিপ্লবী নেতা ও ধর্মীয় পন্ডিত) ছিলেন, দুনিয়ার বুকে জুলুম, অন্যায় ও অবিচারের সত্যিকার বিরোধী।

* দৈনিক আমল, লেবানন (১৮ খোরদাদ ১৩৫৮ ফারসি/৮ জুন ১৯৮৯ ইং)

ইমাম খোমেইনী হচ্ছেন কুরআন মজীদের সূরা আল-ফাতাহ এর শেষ আয়াতের প্রতিপাদ্য, যিনি কাফেরদের ওপর মারমুখো হন এবং সাথি ও আপনজনদের মাঝে দয়াপরবশ। ইমাম খোমেইনী তাঁর বিপ্লবী তৎপরতার মাধ্যমে পশ্চিমা জনগণের অন্তরে ভয় ও আতঙ্কের সঞ্চার করেছিলেন এবং তাঁর জাতির মাঝে প্রেম ও দয়ামায়ার প্রকাশস্থল ছিলেন।

* দৈনিক আফতাব, পাকিস্তান, ১২ খোরদাদ ১৩৬৮ ফারসি/২ জুন ১৯৮৯ ইং)

ইমাম খোমেইনী নির্ভেজাল ইসলামের উপস্থাপন এবং ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে বিংশ শতাব্দীতে ইসলামের মাহাত্ম্য ও মুসলমানদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

* সাপ্তাহিক বীলীৎজ, ভারত (১৮ খোরদাদ ১৩৬৮ ফারসি/৮ জুন ১৯৮৯ ইং)

ইমাম খোমেইনী কেবল ইরানের নেতা নন, বরং বিশ্বের মুসলমান ও বিপ্লবীদের নেতা ছিলেন। যিনি মানুষের হৃদয় জগতের ওপর রাজত্ব করছিলেন।

* ডেইলি নিউজ, তাঞ্জানিয়া (১৫ খোরদাদ ১৩৬৮ ফারসি/৫ জুন ১৯৮৯ ইং)

ইমাম খোমেইনী ছিলেন ইরান ও বিশ্বের মুস্তাজআফ (বঞ্চিত) মানুষের নেতা ও দিশারী। দুনিয়ার প্রগতিশীল বিপ্লবীরা মুস্তাজআফ মানুষের মুক্তির জন্য তাদের আন্দোলনের ক্ষেত্রে এই ব্যক্তিত্বের শূন্যতা অনুভব করছে।

* দৈনিক আশশা’ব, আলজেরিয়া (১৮ খোরদাদ ১৩৬৮ ফারসি/৮ জুন ১৯৮৯ ইং)

ইমাম খোমেইনী ইসলামী শরীয়তের বিধি-বিধানের আলোকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ইসলামী সংবিধান প্রণয়ন করে বিশ্বের বুকে জুলুম-অত্যাচারের স্তম্ভে কাঁপন ধরিয়েছেন। তাঁর ইন্তেকালে ইসলামী উম্মাহ একজন মহামূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য রত্নকে হারিয়েছে।

হেরাল্ড ট্রিবিউন, বৃটেন (১৫ খোরদাদ ১৩৬৮ ফারসি/৫ জুন ১৯৮৯ ইং)

ইমাম খোমেইনী ছিলেন একজন নিরলস বিপ্লবী। তিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইরানে একটি ইসলামী হুকুমত ও সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।

* অবজার্ভার, প্যারিস (১৮ খোরদাদ ১৩৬৮/ ৮ জুন ১৯৮৯ ইং)

ইমাম খোমেইনী ছিলেন একজন সফল নেতা। মতামতের স্থিরতা আর এই দৃঢ়চিত্ত সৎ ধর্মজ্ঞ অন্যায়ের কাছে নত না হওয়াটা তাঁর জন্য মর্যাদা ও সম্মান বয়ে এনেছে।

* গার্ডিয়ান, ফ্রান্স (১৮ খোরদাদ ১৩৬৮/৮ জুন ১৯৮৯ ইং)

ইরানের মহান বিপ্লবে আয়াতুল্লাহ খোমেইনীর ভূমিকা সীমাহীনভাবে কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি ছিলেন এই বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি।

* আল-ফিকাহ আল-আরবী, সাইপ্রাস (২০ খোরদাদ ১৩৬৮/১০ জুন ১৯৮৯ ইং)

ইমাম খোমেইনী ছিলেন বর্তমান শতকের সর্বশেষ ইতিহাস প্রবর্তক, যিনি পাশ্চাত্যের ক্ষমতাকে পর্যুদস্ত করে দিয়েছেন।

* নাইজার টাইমস, নাইজেরিয়া (১৬ খোরদাদ ১৩৬৮/৬ জুন ১৯৮৯ ইং)

ইমামের ভূমিকা বিশেষ করে আফ্রিকার মজলুম মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা বিশ্বাস করি যে, ইমামের পথ আল্লাহর পথ।

* দৈনিক ইল জর্নো, ইতালী

ইসলামী বিপ্লবের তাৎপর্য ও আয়াতুল্লাহ খোমেইনীর চিন্তাধারা খুবই গভীর। পশ্চিমা বিশ্ব এখনও তা উপলব্ধি করতে অক্ষম রয়েছে।

* দৈনিক গ্যাজেটে, তুরস্ক

ইমাম খোমেইনী প্রমাণ করেছেন যে, মুসলমানরা একটি বড় বিপ্লব সংগঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতার অধিকারী।

* দৈনিক আল-আখবার, মিশর

ইমাম খোমেইনীর ব্যতিক্রমধর্মী ব্যক্তিত্ব খুবই সম্মানীয় ও প্রশংসনীয়। তিনি সমকালীন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।

গ্রন্থের নাম : একজন সত্যনিষ্ঠ মানুষের কথা (ইমাম সাইয়্যেদ রুহুল্লাহ মুসাভী খোমেইনী), নবম অধ্যায়

মূল  : সাঈদ আযারমী, অনুবাদ : মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী