মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৭ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

বিপ্লব রক্ষায় আল্লাহর ওপর নির্ভরতার গুরুত্ব সম্পর্কে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

পোস্ট হয়েছে: মে ২৬, ২০১৬ 

news-image

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী তেহরানে মিলিটারি একাডেমির সেনা সদস্যদের মাঝে গ্রাজুয়েট ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রতিরোধ, জিহাদ, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত না করা এবং ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেকোনো বিপ্লব টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন বিপ্লবী মূল্যবোধ রক্ষা, শক্তি অর্জন করা এবং এ বিপ্লবের ধারা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়া। তাই ইরানের ইসলামী বিপ্লবের লক্ষ্য উদ্দেশ্যও এর ব্যতিক্রম নয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা গত দশকগুলোতে সংঘটিত কোনো বিপ্লবই টিকে না থাকার কারণ হিসেবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সেসবের গুরুত্ব কমে আসা, মূল্যবোধের সঙ্গে চিন্তাবিদদের দূরত্ব সৃষ্টি হওয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য শক্তি অর্জনের কোনো উদ্যোগ না থাকাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের ইসলামী বিপ্লব ঐশী মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং এটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব হিসেবেও পরিচিত। এ কারণে ঐশী মূল্যবোধ বজায় রাখা এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এ বিপ্লব পৌঁছে দেয়ার জন্য শক্তি অর্জন জরুরি। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী মূল্যবোধ ব্যাখ্যা করা এবং এ বিপ্লব পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিভাগ ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে। বহিঃশত্রুর হাত থেকে বিপ্লব রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এ ছাড়া, অসংখ্য শিক্ষাকেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পাশাপাশি যুবকদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও ধর্মীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইমাম খোমেনি(র.) সবসময় আল্লাহর ওপর ভরসা করতেন এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীও যে কোনো বিষয়ে একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করে থাকেন। তারা মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইরাকের চাপিয়ে দেয়া আট বছরের যুদ্ধে এবং বিশেষ করে খোররাম শহর মুক্ত করার ঘটনায় যুবকদের সাফল্যের মূল রহস্য ছিল আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতা। সাদ্দামের দখল থেকে খোররাম শহর মুক্ত করার পর ইমাম খোমেনি(র.) বলেছিলেন, মহান আল্লাহই খোররাম শহর মুক্ত করেছেন।

ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীও তেহরানে মিলিটারি একাডেমির সেনা সদস্যদের সমাবেশে উদাহরণ দিতে গিয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখার প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি ইরানের ইসলামী বিপ্লবকে ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য গত ৩৮ বছর ধরে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর শত ষড়যন্ত্র সত্বেও তাদের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতার কারণেই আমাদের বিজয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরো বলেছেন, জনগণ বিপ্লবী চেতনা ধরে রেখেছে এবং বিপ্লব রক্ষার জন্য যুবকরা নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও পিছ পা হবে না। তিনি বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধকে অসম যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এ যুদ্ধে দু’পক্ষেরই শক্তি সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু প্রতিপক্ষের যে জিনিস নেই তা হচ্ছে আল্লাহর শক্তি ওপর ভরসা, বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ এবং মুমেন মানুষের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের অকুতোভয় যোদ্ধারা আট বছর ধরে এমন এক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে যাদের পেছনে পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের ৫৮টি দেশ অর্থ, অস্ত্র, প্রচার মাধ্যম ও কূটনৈতিক সহযোগিতা দিয়েছে। রাজতন্ত্র শাসিত আরব দেশগুলো সাত হাজার কোটি ডলার দিয়ে সাদ্দামকে সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এতো কিছুর পরও শত্রুরা ইরানকে কাবু করতে পারেনি। আল্লাহ যে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার ওপর ভিত্তি করেই ইরানের জনগণ এতো বড় বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।সূত্র: পার্স টুডে