সোমবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

English

বিপ্লবের কারণে অনেক বড় বড় শক্তি ইরানের কাছে পরাজিত: ড. সাইফুল ইসলাম খান

পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৭ 

news-image

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে রেডিও তেহরানকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো আজ অনেক কথা বলার সাহস পাচ্ছে। বিস্তারিত সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো। আর সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।

রেডিও তেহরান: জনাব ড. সাইফুল ইসলাম খান-ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনীর নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লব সফল হওয়ার ৩৮তম বার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে। ৩৮ বছর পর এসে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আপনি এ বিপ্লবকে কীভাবে দেখছেন? কতটা সময়োপযোগী ছিল সে বিপ্লব?

ড.সাইফুল ইসলাম খান: দেখুন, ইরানের ইসলামি বিপ্লব ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। ইরানের ইসলামি বিপ্লব আজ থেকে ৩৮ বছর আগে যখন হয়েছিল তখন আমি নিজে হাইস্কুলের ছাত্র। সৌভাগ্যক্রমে তখনই আমার সুযোগ হয়েছিল ইরানের বিপ্লবকে প্রকাশনার মাধ্যমে বোঝার। পরবর্তীতে আজ প্রায় চারদশক হতে চললো ইরানের ইসলামি বিপ্লব। এককথায় বললে বলা যায়- ইরানের ইসলামি বিপ্লব একটি সফল এবং সমযোপযোগী বিপ্লব। এটি একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছিল, আত্মমর্যাদা রক্ষার বিপ্লব ছিল।

ইরানের বিপ্লব ছিল পরাশক্তির বিরুদ্ধে। যারা বিভিন্ন অপকৌশলে সারা বিশ্বকে বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশ এবং এশিয়ার দেশগুলো থেকে তাদের সম্পদ আহরণের জন্য নানাভাবে তাদেরকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করে সেই পরাশক্তির বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর নেতৃত্বে বিপ্লব সংগঠিত হয়েছিল।

ইরানের ইসলামি বিপ্লব ছিল প্রকৃতপক্ষে মজলুমের পক্ষে জালিমের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম। আজকে পৃথিবীর ৫৭ টি মুসলিম রাষ্ট্রের দিকে তাকালে তাদের জ্ঞান, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, তথ্য-প্রযুক্তিসহ সামগ্রিক বিবেচনায় উপলব্ধি করলে বোঝা যায় যে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবের দ্বারা তারা অনেকেই প্রভাবিত। আর এ আলোকে স্পষ্টভাবে বলা যায় ইরানের ইসলামি বিপ্লব ছিল একটি সফল বিপ্লব।

ইরানের কারণেই আজকে বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে  কিছু কথা বলে। তারা ইরানের ইসলামি বিপ্লব থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এসব কথা বলার সাহস দেখায়।

‌ইসলামি ইরান সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আজ থেকে ৩৮ বছর আগে যে সংগ্রাম  শুরু করেছিল আজও সে সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে।

আর্তমর্যাদা রক্ষার জন্য এবং একটা জাতির মাথা উচুঁ করে দাঁড়ানোর জন্য ইরানি জাতি কত ত্যাগ স্বীকার করেছে তা ভাবলে বিস্মিত হতে হয়। ইরানের ইসলামি বিপ্লব থেকে অনুকরণীয় অনেক কিছু আছে গোটা বিশ্বের মুসলমি রাষ্ট্রগুলোর।

রেডিও তেহরান:  ইরানের ইসলামি বিপ্লবের অন্যতম প্রধান দিক ছিল- সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক অবস্থান গড়ে তোলা। ইরান কতটা সফলতার সঙ্গে সে অবস্থান গড়ে তুলতে পেরেছে বলে আপনার মনে হয়?

ড.সাইফুল ইসলাম খান: শক্র ও বন্ধু বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে ইরানের কৌশল  সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে। তাদের এই আদর্শিক অবস্থান কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে  খুবই স্পষ্ট। আমাদের কাছে মনে হয় বিপ্লবের কারণে পরাশক্তি বিশেষ করে আমেরিকা আজও ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সেই পুরনো অবস্থানের মধ্যেই আছে। একসময় ব্রিটেন, জার্মানি এবং ফ্রান্সও ইরানের প্রচণ্ড বিপক্ষে ছিল এবং তারা আমেরিকার সাথে মিশে ইরানের বিরুদ্ধে র‍্যালি করেছে। কিন্তু আজকে ইরানের শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতা ও আদর্শিক অবস্থানের মাধ্যমে বিশ্বকে এটা বুঝাতে সক্ষম হয়েছে যে তারা ইসলামের নামে কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতাকে সমর্থন করে না এবং কোনোরকম ইসলামি সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সাথেও তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আর ইরানের সাথে কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতার যে সম্পর্ক নেই এটা আজ বিশ্বে প্রমাণিত।

আমি মনে করি- ইরান তার সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে  আদর্শিক যে ইতিবাচক ম্যাসেজ বিশ্বকে দিয়েছে এবং তা কার্যত বাস্তবায়ন করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সে কারণে অনেক বড় বড় শক্তি এরইমধ্যে ইরানের কাছে পরাজিত হয়েছে। ইরান সম্পর্কে বিশেষ করে ইরানকে নিয়ে তথাকথিত  ইসলামি সন্ত্রাসবাদের সাথে জড়িয়ে যেসব কথা বলা হয় সেগুলো যে অপবাদ সে বিষয়টি বিশ্ব বুঝেছে। এটি কিন্তু ইরানের অনেক বড় বিজয়।

তবে বর্তমান সময় আমরা মনি করি, শুধুমাত্র আমেরিকা ইরানের বিরোধীতা করছে। আর ইহুদিবাদী ইসরাইল তো শুধুমাত্র ইরানের নয় গোটা বিশ্বমানবতার দুষমনের ভূমিকায় রয়েছে। তো সার্বিক বিবেচনায়  ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে যেভাবে সাম্রাজ্যবাদের মোকাবেলা করেছে ইরান সেটা তাদের অনেক বড় সফলতা। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ইরানের এই আদর্শিক মোকাবেলা এবং বিশ্বে মজলুমের পক্ষের যে মিশনে তারা আছেন তার বহুলাংশে ইরান সফল হয়েছে  বলে আমি মনে করি।

রেডিও তেহরান:  আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রভাব কতটা পড়েছে বলে আপনি মনে করেন?

ড.সাইফুল ইসলাম খান: আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক উভয় ক্ষেত্রেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এ প্রভাব বিপ্লবের সময়ে পড়েছিল একভাবে এবং বর্তমানে পড়ছে আরেকভাবে। ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের ৩৮ বছর পর আজ ইসলামি ইরান আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে সফল হয়েছে।  আঞ্চলিক ক্ষেত্রে  বলব-যেসব ইসলামি রাষ্ট্র ভুল করছে তারা ইরানের বিভিন্ন ধরনের স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম দেখে নিজেদেরকে সঠিক জায়গায় আনার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের ধর্মীয় নেতা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব যেসব স্টেটমেন্ট করছেন তা আঞ্চলিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে আমি মনে করি।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবকেন্দ্রিক যে আদর্শ সেই আদর্শকে ধারণ করে ইরান আজ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনেক বেশি অগ্রসর হয়েছে। ইরানের শরীফ সানাত বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অন্যতম তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি। মধ্যপ্রাচ্যে নিজ দেশে প্রযুক্তি  উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও আবিষ্কারের  ক্ষেত্রে ইরানের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। এক্ষেত্রে ইরানের নেতৃত্ব একটি আদর্শিক অবস্থানে থেকে অভাবনীয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। ফলে সামগ্রিক বিবেচনায় ইরানে একটি আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক  সফল বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার কারণে আঞ্চলিক তো বটেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ইরানের স্বীকৃতি সারা পৃথিবী সঠিকভাবে মূল্যায়ন করছে।

সাম্প্রতিককালে ৫ যোগ ১ গ্রুপের যে চুক্তিটি হয়েছে সেটি আমার কাছে মনে হয়েছে, রাসুল সা. হুদাইবিয়ার সন্ধির মতো অদূর ভবিষ্যতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। এটি শুধু ইরানের জন্য নয় মানুষের মানবতার জন্য বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে আগামী দিনগুলোতে।

রেডিও তেহরান:  সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে বলে আপনার মনে হয়?

ড.সাইফুল ইসলাম খান: দেখুন, আবারও আমি বলব- সমাসাময়িক প্রেক্ষাপটেও ইরানের ইসলামি বিপ্লবের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বলব আমরা ছাত্রজীবন দেখে আসছি- ইরানের ইসলামি বিপ্লবের বিজয় বার্ষিকীর অনুষ্ঠান, ইসলামি ঐক্য সপ্তাহসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান ইরান পালন করে আসছে এবং তার প্রভাবও সমসাময়িক বিশ্বে বিভিন্ন মুসলিম দেশে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী র. ইরানের আদর্শিক বিপ্লবকে সমুন্নত ও শক্তিমান করার জন্য ধর্মীয়ভাবে সারা পৃথিবীর মানুষকে তিনি ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। আর সেই আহ্ববানের প্রভাব আমরা সারা বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কমবেশি লক্ষ্য করছি। আমি যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে যাই তখন মনে হয় ইরানের ইসলামি বিপ্লবের একটি শক্তিশালী সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে সেসব দেশে।

আমরা দেখেছি ইসলামের শেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সা.এর পৃথিবীতে আগমনের মাস রবিউল আউয়াল এলেই ইরানে যে সপ্তাহব্যাপী ‘ইসলামি ঐক্য’ সপ্তাহ পালন করা হয় এটি সত্যিই বিশ্ব মুসলিমের ঐক্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশ্বে শিয়া-সুন্নি ফেরকাগত বিভেদ কমিয়ে আনার জন্য যে নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে ইরান- তা অবিস্মরণীয়।

তাছাড়া আদর্শিক প্রচার ও প্রসারে গত প্রায় তিন দশকে যে পরিমাণ প্রচার ও প্রসার ঘটেছে তা সত্যিকারার্থে নতুন একটি লিটারেচার জন্ম দিয়েছে। ইরানের বিপ্লবকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর বহুদেশে লিটারেচার তৈরি হয়েছে। অনেক দেশে ইরানের ইসলামি বিপ্লব নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে। ফলে ইরানের ইসলামি বিপ্লব থেকে বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর অনেক কিছু শেখার ও বোঝার  সুযোগ  হয়েছে।

রেডিও তেহরান:  মুসলিম বিশ্বের জন্য ইরান আরো কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

ড.সাইফুল ইসলাম খান: দেখুন, ইরান বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমানে ভূমিকা রাখছে। এর বাইরে আরো যেসব বিষয়ে ইরান ভূমিকা রাখতে সে সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে আমি বলব, পৃথিবীতে যারা ইরানের বিরোধীতা করে-তারা শিয়া-সুন্নি ফেরকাগত বিষয়কেই বেশি বেশি করে হাইলাইট করে থাকে। সেটা কখনও ইসলামের লেবেলে করে থাকে আবার কখনও বা  ইসলামের বিরোধী লেবেলে করা হয়ে থাকে।

দেখুন, আব্দুল ওয়াহাব নাজদির যে দর্শন- যাকে আমরা ওয়াহবিয়াত বলছি সেই দর্শন  কোটি কোটি ডলারের বিনিময়ে সারা পৃথিবীতে প্রচার করা হচ্ছে। বিশেষ করে গত এক দশকে মুসলিম দেশগুলোর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়াহবিয়াত যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে তা অভাবনীয়। দেখা যাচ্ছে শিয়াদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জন্য ওয়াহবিরা শিয়া বিরোধী বক্তব্যের স্বপক্ষে উচ্চ শিক্ষার নামে পিএইচডি পর্যন্ত দিচ্ছে ডজনে ডজনে। এই বিষয়টি কিভাবে কমানো যায় তার প্রতি ইরানের দৃষ্টি দেয়া দরকার।

ওয়াহবিয়াতের বিপরীতে জ্ঞানগতভাবে কিভাবে ইতিবাচক দৃষ্টিতে এগোনো যায় সেদিকে ইরানের যত্নশীল হওয়া দরকার। ইসলামে উগ্রবাদ বা ওয়াহবিয়াত গত একদশক ধরে পৃথিবীর প্রতিটি মুসলিম সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢোকার চেষ্টা করছে। ওয়াবিয়াতের অনুসারীরা ইরান বিরোধী এবং শিয়াবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে সর্বত্র এমনকি তারা কুরআন হাদিস থেকে কোড করে বোঝানোর চেষ্টা করছে।

আমার মনে হয়- পারস্য সভ্যতা যেহেতু মানবসভ্যতার একটি বড় অংশ। ফলে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে এ বিষয়টির দিকে দৃষ্টি দেয়া এবং প্রচারে উদ্যোগী হওয়া দরকার। ইরানের ধর্মীয় স্কলার যাঁরা আছেন তাদেরকে ব্যাপকভাবে জ্ঞান জগতের বিষয় নিয়ে আরো বেশি প্রচারে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে ইসলামে যে মিথ ইন্টারপ্রেট হচ্ছে এবং প্রচুর অর্থ ব্যয় করে শিয়াদের নিয়ে সমাজে যেধরনের নেতিবাচক কথা প্রচার করা হচ্ছে সে ব্যাপারে তাদেরকে সোচ্চার হতে হবে এবং ভুল ব্যাখার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। আর পরাশক্তিগুলোর সহায়তায় ওয়াহবিরা অপপ্রচারের কাজটি কিন্তু অবলীলায় চালিয়ে যেতে পারছে। পরাশক্তিগুলোও এ সুযোগ নিচ্ছে। তারা মিসাইল তৈরি করে মুসলমানদের হাতে তুলে দিচ্ছে। আর মুসলমানরা তা বহন করে বেড়াচ্ছে। এসব জায়গাতে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে বলে আমি মনে করি।