মঙ্গলবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং, ৯ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

বায়ু দূষণ রোধে সাহায্য করবে স্মার্ট প্রযুক্তি ও আইওটি

পোস্ট হয়েছে: ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭ 

news-image

শ্বাসরুদ্ধকর বায়ু দূষণ ও পীড়াদায়ক তীব্র যানজট সহ বড় বড় সব নগরায়ন সমস্যা মোকাবেলায় এবার সাহায্য করবে স্মার্ট প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) অ্যাপ। একইসাথে তা স্মার্ট শহর গড়ে তুলতেও সাহায্য করবে নগর কর্তৃপক্ষকে। বিশ্বের অন্যতম মেগাসিটি তেহরানের তীব্র বায়ু দূষণ ও যানজট মোকাবেলায় সম্প্রতি এসব প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেছে ইরান।

তেহরান পৌরসভার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান মোহাম্মাদ ফারজুদ এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বায়ু দূষণ ও তীব্র যানজট সমস্যা এবং তেহরানের মতো মেগাসিটিগুলোয় বিদ্যামান কষ্টদায়ক অন্যান্য অনেক সমস্যা মোকাবেলায় আশীর্বাদ হতে পারে আধুনিক এই প্রযুক্তি।

বিশ্বব্যাপী শহরগুলোতে বসবাসরত নাগরিকদের স্বাস্থ্যে বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে। আর এই ধরনের উদ্বেগ প্রশমনে দূষণ পরিমাপে আইওটি ব্যবহার করে প্রচেষ্টার বিকাশ ঘটিয়েছে বিশ্বের অনেক শহর।

যেভাবে দূষণ প্রতিরোধে সাহায্য করবে স্মার্ট প্রযুক্তি ও আইওটি

‘ইন্টারনেট অব থিংস’ বা ‘সব যন্ত্রেই ইন্টারনেট’ এখন বহুল আলোচিত একটি বিষয়। বিষয়টিকে সংযোগ সুবিধা যন্ত্র যেমন গাড়ি, পোশাক বা গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত যন্ত্রগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট আন্তসংযোগ হিসেবে বোঝানো হয়। প্রতিটি যন্ত্র যাতে তারবিহীন যোগাযোগ পদ্ধতিতে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে এবং বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে পারে ও সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দিক-নির্দেশনা দিতে পারে, সেই নেটওয়ার্কই ‘ইন্টারনেট অব থিংস’। যাকে সংক্ষেপে আইওটি বলা হয়। সহজভাবে বলা হয় বিভিন্ন জিনিসপত্রের সাথে ইন্টারনেটের সংযোগ।

ইন্টারনেটভিত্তিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরস্পর সংযুক্ত থাকা ডিভাইসগুলো বিশ্বব্যাপী কয়েকটি শহরে স্থাপন করা হয়েছে। এই ডিভাইসগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে থাকে। সংগৃহীত এসব তথ্য ব্যবহার করে সিটিগুলো উচ্চ মাত্রার দূষণ এলাকাগুলো শনাক্ত করে এবং সময়ের সাথে সাথে এর পরিবর্তনও নজরে রাখতে পারে। অতঃপর যন্ত্রগুলো সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দূষণকারীদের শনাক্ত করে। সেই সাথে দূষণ মোকাবেলার সম্ভাব্য উপায়ও বাতলে দেয়।

তেহরানে ক্রমেই নগরমুখী জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় সেখানকার পাবলিক পরিবহন সেবা অপ্রতুল। তাই বেসরকারি পরিবহনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত ভাবে। দৃশ্যতই তীব্র যানজটে বিপর্যস্ত রাজধানী শহর তেহরান।গত সপ্তাহে তেহরানে বায়ু দূষণ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে। তীব্র ধোয়ায় ছোট ছোট শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দেয়ায় শহরের স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হয় টানা কয়েকদিন।

এসব সমস্যা মোকাবেলা প্রসঙ্গে তেহরান পৌরসভার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান ফারজুদ বলেন, কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিক প্রযুক্তির অ্যাপগুলো ও অনলাইন সেবাগুলো ব্যবহার করার এখনই উপযুক্ত সময়। যা শুষ্ক পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের সাহায্য করবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের দৃষ্টান্ত টেনে ইরানি এই কর্মকর্তা জানান, শহরের দূষণ ও যানজট সমস্যা মোকাবেলায় দুবাইয়ে আইওটি অ্যাপলিকেশনের যাত্রা শুরু হয়েছে অনেক আগে। যা তেহরানেও প্রয়োগ করা যেতে পারে।

ফা্রজুদ দূষণ প্রতিরোধ ও যানজট মোকাবেলায় কাজ করতে তেহরান পৌরসভায় প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: ফিনানসিয়াল ট্রিবিউন।