সোমবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

বাংলাদেশে জমে উঠেছে পৌষ মেলাসহ শীতকালীন বিভিন্ন উৎসব

পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ১৯, ২০১৭ 

news-image

বারো মাসে তের পার্বনের দেশ বাংলাদেশ। সারা বছরই লেগে থাকে নানা উৎসব, পালা-পার্বন। আর সেটা জমে ওঠে শীতকালে। পৌষ সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আয়োজন করা হয়েছে পৌষ মেলা, পিঠা উৎসব, যাত্রা পালা ও লোক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এই তো গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর হাজারীবাগ ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির মাঠে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে ঢাকাবাসী সংগঠন ও বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশন যৌথভাবে আয়োজন করে ঘুড়ি উৎসবের।

এ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শিশু-কিশোররা ঘুড়ি উৎসবে অংশগ্রহণ করে। রঙ-বেরঙের ঘুড়িতে পৌষের আকাশ রঙিন হয়ে উঠে। ঘুড়িগুলোর মধ্যে ছিল-কালা পাহাড় ঘুড়ি, চোখদার, চুমকিদার, সাপ ঘুড়ি, ড্রাগন ঘুড়ি, লেজদার ঘুড়ি, লাল পাহাড়, মালাদারসহ বিভিন্ন ঘুড়ি। ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

4bmt198424f901losd_800C450

ওদিকে বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁওয়ের লোকশিল্প জাদুঘর প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কারুশিল্প মেলা ও লোক গানের আসর।

দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ঐতিহ্যের সব উপকরণ যেসব গান বা লোকজ উপাদান সেসব ছোট্ট ছোট্ট বিষয় এসে জড়ো হয়েছে সোনারগাঁওয়ের লোকশিল্প জাদুঘর চত্বরে।

এখানে বাংলার লোক গানের আসর যেমন বসেছে তেমনি রয়েছে কারুশিল্পীদের শিল্পকর্ম। সব মিলিয়ে বাঙালির লোক- সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত কারুশিল্পী, কারুপণ্যের ক্রেতা,  শিল্প সংগ্রাহক,  গবেষক ও বিনোদন প্রেমীদের এক মিলন মেলা।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এই মেলার আয়োজন করেছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত এ মেলা। চলবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এ প্রসঙ্গে ফাউন্ডেশনের পরিচালক রবীন্দ্র গোপ রেডিও তেহরানকে জানান এ মেলার গুরুত্বের কথা।

মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কারুশিল্পীদের পণ্য বিক্রির জন্য ১৯৩টি স্টল স্থান পেয়েছে। মেলার পাশাপাশি লোকজ মঞ্চে প্রতিদিন বাউলগান, কবিগান, পালাগান, জারি-সারি ও ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া গান এবং লোক জীবন প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলবে। মেলা চত্বরে খেলার মাঠে বিভিন্ন ধরনের হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ খেলার প্রদর্শনীও চলবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৫৪ জন কারুশিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাদের শিল্পকর্ম তৈরি, প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য। এদের মধ্যে রয়েছে ঝিনাইদহ ও মাগুরার শেলা শিল্প, রাজশাহীর শখের হাড়ি, চট্টগ্রামের তালপাতার হাতপাখা, রংপুরের শতরঞ্জি, সোনারগাঁওয়ের কাঠের পুতুল, কাঠের কারুশিল্প ও নকশী কাঁথা, সিলেটের শীতল পাটি, ধামরাইয়ের তামা কাঁসা ও পিতলের কারুশিল্প, বান্দরবান ও রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কারু পণ্য ও টাঙ্গাইলের বাঁশের কারুশিল্প।

4bmt5308664f2closs_800C450

শনিবার এই লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসবের উদ্বোধন করে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, জঙ্গিবাদ রুখতে রাজনৈতিক লড়াইতো আমরা করছি, আমাদের প্রকৃত লড়াই হচ্ছে সংস্কৃতি রক্ষার লড়াই।

ওদিকে নড়াইলে রোববার থেকে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী সুলতান মেলা।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯২তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সুলতান মঞ্চে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা চলবে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ মেলায় গ্রামীণ খেলাধুলাসহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে রয়েছে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, চিত্র প্রদর্শনী, সেমিনার, সুলতান স্বর্ণপদক প্রদান, পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান।

এ উপলক্ষে প্রতিদিনই থাকছে বরেণ্য এ শিল্পীর জীবন ও কর্মের ওপর সেমিনার, শিল্প বিষয়ক সেমিনার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাত দিনের এ মেলায় অর্ধশতাধিক স্টলে বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।