বুধবার, ১৬ই আগস্ট, ২০১৭ ইং, ১লা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

English

বছরের সেরা নাবিক হলেন ইরানের রাহেলে

পোস্ট হয়েছে: জুলাই ১৭, ২০১৭ 

news-image

জাহাজ চালানো পেশীবহুল কাজ বলে সাধারণত নারীরা এ কাজে এগিয়ে আসেন না। ইরানের হোরমোজগান প্রদেশের নারী রাহেলে থামাসেবি সারভেস্তানি তার ব্যতিক্রম। বছরের সেরা নারী নাবিক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ইরানের যে কয়েকজন নারী নাবিক রয়েছেন তাদের মধ্যে রাহেলে অন্যতম। সকল বাধা উপেক্ষা করে তিনি জাহাজ চালানোর মত ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় এসেছেন।

ফারসি বার্তা সংস্থা ইসনাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে রাহেলে বলেন, জাহাজ চালানোর প্রতি তার ভালবাসা দীর্ঘদিনের। ১৯৮৪ সালে জন্ম রাহেলের। ৫০০ থেকে ৩ হাজার টনের যুদ্ধ জাহাজ চালিয়ে বেশ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট রাহেলে। প্রশিক্ষণের সময় ‘সাগর’ নামে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ চালিয়েছেন তিনি। এরপর একের পর এক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়েছে তাকে সামরিক জাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে। নাবিক হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করার পর ১৬ বছর ধরে অব্যাহত প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে আজকের রাহেলা এখন ক্যাপ্টেন হবার জন্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তারপর আরো অনেক প্রশিক্ষণ বাকি যা অর্জনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ রাহেলে।

রাহেলে ছোটবেলায় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হতে চেয়েছিলেন। একবার খোঁজ পান মেয়েদের নাবিক হবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ব্যাস সুযোগ গ্রহণে কার্পণ্য করেননি তিনি। প্রশিক্ষণ শেষ করে রাহেলের সাহস আরো বেড়ে যায়। অনেকেই এধরনের কাজ বা প্রশিক্ষণ নিতে সাহস পান না যা নারীদের গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। ক্যাপ্টেন হিসেবে কোনো জাহাজ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি আর দূরে নয় বলেই রাহেলে জানান। সমুদ্রের প্রতি ভালবাসাও এধরনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করার আরেক কারণ বলে মনে করেন এই ইরানি নারী। ভালবাসা কখনই কোনো দায়িত্ব পালন থেকে নিজেকে অব্যাহতি দেবার সুযোগ দেয় না বলে মন্তব্য করেন রাহেলে।

তিনি জানান, ইরানি নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে বা বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করে জাহাজ চালনার মত পেশায় আসতে পারেন। এধরনের প্রশিক্ষণ বেশ কঠিন, তবে নারীরা চাইলেই তা অনায়াসে আয়ত্তে আনার যোগ্যতা রাখেন বলেও জানান রাহেলে।

একদিন নারীদের নাবিক হবার প্রশিক্ষণ দেওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন রাহেলে। প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় তিনি ইরানের প্রথম নারী নৌ কমান্ডার হওয়ার স্বপ্নও দেখছেন। আইএফপি