রবিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

বই পরিচিতি

পোস্ট হয়েছে: জুন ১৫, ২০১৬ 

ইরানের পথে প্রান্তরে
রচনা : মোঃ মুমিত আল রশিদ
প্রকাশক : এ কে নাহির আহমেদ সেলিম
কাকলী প্রকাশনী
৩ ও ৪, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০
প্রচ্ছদ- অনন্ত আকাশ
বর্ণবিন্যাস- সূচনা কম্পিউটার্স
মুদ্রণ : এঞ্জেল প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স
প্রকাশকাল : বইমেলা-২০১৬
মূল্য : ৩০০ টাকা মাত্র

‘ইরানের পথে প্রান্তরে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মুমিত আল রশিদ রচিত একটি সমৃদ্ধ ইরান গবেষণাগ্রন্থ। গ্রন্থটিতে ইরান ভ্রমণসহ ইরান সম্পর্কিত বহুবিধ তথ্য একত্রে গ্রন্থাবদ্ধ হয়েছে। ইরানের পথ-ঘাটের বর্ণনা ছাড়াও লেখক ধারাবাহিক ভাবে মজাদার শব্দাবলির আড়ালে তত্ত্ব ও তথ্যের ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করেছেন। সেই সাথে গেঁথে দিয়েছেন ইরানের সাথে বাংলাদেশের সুমধুর অতীত সম্পর্ক ও বর্তমান সময়ের সকল সরকারের সুসম্পর্কের বিষয়-আশয়। বইটি ইরান-প্রেমিক জনগণ তা বটেই, যে কোন ইরান-গবেষককে আকৃষ্ট করবে।
ইরান সম্পর্কে কিছুই জানেন না এমন ব্যক্তিও দু’শ’ ত্রিশ পৃষ্ঠার এই বইতে পেয়ে যাবেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি সামগ্রিক চিত্র। ইসলাম-পূর্ব ইরানের শাসনকাল, পাহলভী শাসনামল পর্যন্ত রাজনৈতিক অবস্থা, ইসলামি বিপ্লব ও বর্তমান ইরানের সাংবিধানিক ব্যবস্থা, ইরানি লোকজনের শিষ্টাচার, ঐতিহ্যবাহী ইরানি খাবার, উৎসব ইত্যাদি বিষয়ের বর্ণনা। নওরোজ, বায়েজিদ বোস্তামির শহর, মার্কোপোলোর নন্দিত স্বর্গ পারসেপোলিশ বা তাখতে জামশীদ, চোগাযানবিল, ইরানের প্রাচীনতম বিশ্ব ঐতিহ্য বাম নগরী, সোলেমানের সিংহাসন, জরথুস্ত্র ও অগ্নি মন্দির, ইরানের বিয়ের রীতি, শবেবরাত, আশুরা, ইরানে ঈদ উৎসব ইত্যাদি বিষয় বর্ণনার ফাঁকে ফাঁকে প্রাসঙ্গিক খুঁটিনাটি বিষয়গুলোও বাদ যায়নি। বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলসমূহ ভ্রমণ করতে করতে ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, প্রাকৃতিক বিষয়ের সাথে আবহাওয়া ও জলবায়ুর বর্ণনা দিতেও ভুলেননি লেখক। মাঝে মাঝে বর্ণিত হয়েছে টুকরো স্মৃতি। হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত পারস্য তথা ইরান নিয়ে জানার আকাক্সক্ষার কমতি ছিল না কোন কালেই। বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাস পারস্য সভ্যতা ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত শাসক জুলকারনাইনও ইরান শাসন কারছেন। জুলকারনাইনের শান্তিরাজ্য ব্যাপক বিস্তৃত ছিল বলে কথিত আছে। গোলাপের দেশ, কবি ও কবিতার দেশ, হাফিজ, সাদী, খৈয়াম, রুমীর দেশ বলে সকলেই ইরানকে জানে।
ইসলামের আগমনে ইরানি ঐতিহ্য যেমন আরো উজ্জ্বল হয়েছে তেমনি হাজার বছর পর বিংশ শতাব্দীতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবও মানবতার কল্যাণে ইরানীদের অবদানকে বিশ্বমাঝে আরেকবার উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলা ভাষায় ইরানের উপর বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে। মুমিত আল রশিদ রচিত আলোচ্য গ্রন্থটিও বাংলাভাষী পাঠকদের ইরান ভাবনাকে আরো সমৃদ্ধ করবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আমরা বইটির বহুল প্রচার কামনা করছি।
আমিন আল আসাদ