মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ফজর উৎসবে সেরা ঢাকায় শুটিং হওয়া ছবি ‘দ্য নাইট হোয়েন দ্য মুন ওয়াজ ফুল’

পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯ 

news-image

‘দ্য নাইট হোয়েন দ্য মুন ওয়াজ ফুল’ বা শাবি কে ম’হ ক’মেল শোদ, বাংলায় যার অর্থ যে রাতে চাঁদ পূর্ণতা পেয়েছিল। ইরানের এই ছবির ২০ ভাগ শুটিং হয়েছে বাংলাদেশে। পরিচালক নার্গিস অবইয়ার প্রথম আলোকে বলেছেন, ছবিতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রেমের এই ছবিতে নায়ক-নায়িকাসহ কয়েকজন বাংলাদেশে পাড়ি জমান। তাঁদের উদ্দেশ্য, বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হিসেবে ইউরোপের কোনো দেশে স্থায়ীভাবে চলে যাবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় চলতে গিয়ে নানা বাধাবিপত্তি আসে তাঁদের জীবনে। নায়ক কাজ নেন ঢাকার নিউমার্কেটের একটি কসমেটিকসের দোকানে, নায়িকাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ান ঢাকার কিছু দর্শনীয় স্থানে, নায়িকা বাংলাদেশি পোশাক পরেন।

‘দ্য নাইট হোয়েন দ্য মুন ওয়াজ ফুল’ ছবির শুটিংয়ের জন্য ইরান থেকে বাংলাদেশে আসে ২২ সদস্যের একটি দল। ইরানের নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা নার্গিস অবইয়ার যে দলটি নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন, এই দলে আট মাসের শিশুশিল্পী থেকে শুরু করে ছিলেন ইরানের এ সময়ের জনপ্রিয় ও ব্যস্ত অভিনয়শিল্পীরা। গত বছরের আগস্ট মাসের মাঝামাঝি ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছবিটির শুটিং হয়েছে। এই যেমন তাঁরা কখনো কাজ করেছেন ধানমন্ডির লেকের পাড়ে, কখনো কারওয়ান বাজারের গলি-ঘুপচিতে, কখনো আবার মাওয়া ঘাটে।

এবার নার্গিস অবইয়ারের ‘দ্য নাইট হোয়েন দ্য মুন ওয়াজ ফুল’ ছবিটি ইরানের উৎসবে একসঙ্গে সাতটি পুরস্কার পেয়েছে। জানা গেছে, ইরানের ঐতিহ্যবাহী ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৩৭ তম আসরে ‘দ্য নাইট হোয়েন দ্য মুন ওয়াজ ফুল’ ছবিটি সেরা ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা (হুতান শাকিবা), সেরা অভিনেত্রী (এলনাজ শাকেরদুস্ত), সেরা সহ-অভিনেত্রী (ফেরেশতে সদর ওরাফায়ি), সেরা মেকআপ ও সেরা পোশাক ডিজাইনের পুরস্কার জিতেছে।

ইরানের তেহরানে ১০ দিনের এই উৎসবের শুরু হয়েছিল ৩১ জানুয়ারি। সোমবার সন্ধ্যায় তেহরানের মিলাদ টাওয়ারে উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এখানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী।

এলনাজ শাকেরদুস্ত ও হুতান শাকিবা ইরানের এ সময়ের বাণিজ্যিক ছবির জনপ্রিয় তারকা। অন্যদিকে নার্গিস অবইয়ারও ইরানের বাণিজ্যিক ঘরানার ছবির ব্যস্ত নির্মাতা। এর আগে তাঁর নির্মিত ‘ট্র্যাক ১৪৩’ ছবিটি ইরানের ঐতিহ্যবাহী ফজর চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী ছবি হওয়ার মর্যাদা অর্জন করে। এ পর্যন্ত নার্গিস তিনটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও তিনটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। ইরানে সাহিত্যিক হিসেবেও তাঁর রয়েছে বিশেষ সুনাম। লিখেছেন ৩১টি উপন্যাস।