বুধবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

প্রেসিডেন্ট রুহানির সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর এক নযর

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ৬, ২০১৬ 

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে ২০১৩ সালের ১৪ই জুন তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণের সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল্-মুসলিমিন ড. হাসান রুহানি দেশের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন। এরপর ঐ সালের ৩রা আগস্ট তারিখে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ ও সরকার গঠন করেন। প্রেসিডেন্ট রুহানির সরকার বিগত তিন বছরে দেশে যেসব উন্নয়ন ও সেবামূলক এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তার অংশবিশেষ সংক্ষেপে নিম্নে তুলে ধরা হলো :

বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
০ প্রথম বারের মতো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বিজ্ঞানবিষয়ক উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হারের বিচারে বিশ্বের বুকে প্রথম স্থান অধিকার করে এবং প্রথম বারের মতো ইরানের ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাসংস্থা বিশ্বের শতকরা এক ভাগ শেষ্ঠতম বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাসংস্থার তালিকায় স্থানলাভ করেছে।
০ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে Ñ যার ফলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ ১৩৯৪ ইরানি সালে (২১শে মার্চ ২০১৫ থেকে ২০শে মার্চ ২০১৬) বিশ্বের এক হাজার ৪৮৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ লাভ করেন এবং অন্যান্য দেশের সাথে যৌথভাবে ১৪১টি গবেষণা প্রকল্পের কাজ ও ৩টি অত্যন্ত বড় আকারের প্রকল্পের কাজ আঞ্জাম দেন। এর ফলে ইরান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞান গবেষণাকারী দেশ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।
০ ইরানের জ্ঞান-বিজ্ঞান উৎপাদনসমূহ রফতানির মূল্য বার্ষিক ৫০ লক্ষ ডলার থেকে বেড়ে এক কোটি বিশ লক্ষ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
০ ১৩৯৪ ইরানি সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সরকারের সেবা গুণগত ও পরিমাণগত উভয় দিক দিয়ে শতকরা ১১০ ভাগ প্রবৃদ্ধির অধিকারী হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণ তহবিলের আয়ের পরিমাণ শতকরা ৭৮ ভাগ বৃদ্ধি পায়।

তেল মন্ত্রণালয়
০ দক্ষিণ পর্স্ যৌথ গ্যাস ক্ষেত্রে গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
০ দক্ষিণ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রের ১২, ১৫, ১৬ ও ১৭ নং ফেসের উৎপাদন ক্ষমতা পরিপূর্ণরূপে কাজে লাগানো হয় এবং এর ফলে দৈনিক তেল শোধন ক্ষমতা ১৬ কোটি ঘন মিটার বৃদ্ধি পায়। এছাড়া দেশের গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতাও দৈনিক ১৪ কোটি ঘন মিটার বৃদ্ধি পায়।
০ দেশের বার্ষিক গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতা যেখানে ১৩৯১ ইরানি সালে (২১শে মার্চ ২০১২ থেকে ২০শে মার্চ ২০১৩) ৬২ কোটি ২০ লাখ ঘন মিটার ছিল সেখানে ১৩৯৪ ইরানি সালে (২১শে মার্চ ২০১৫ থেকে ২০শে মার্চ ২০১৬) তা বৃদ্ধি পেয়ে ৭১ কোটি ৪০ লক্ষ ঘন মিটারে দাঁড়ায়।
০ দক্ষিণ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রে ঘনীভূত গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ যেখানে ১৩৯১ ইরানি সালে ২৪ কোটি ১০ লক্ষ ঘন মিটার ছিল সেখানে ১৩৯৪ ইরানি সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ কোটি ৬০ লক্ষ ঘন মিটারে দাঁড়ায়।
০ দক্ষিণ পার্স গ্যাস ক্ষেত্র থেকে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ যেখানে ১৩৯১ ইরানি সালে শতকরা ৩৭ দশমিক ৮ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছিল সেখানে ১৩৯৪ ইরানি সালে তা শতকরা ৫০ ভাগ বৃদ্ধি পায়।
০ প্রধান প্রধান শিল্প-কারখানাসমূহে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ যেখানে ১৩৯২ ইরানি সালে (২১শে মার্চ ২০১৩ থেকে ২০শে মার্চ ২০১৪) দৈনিক ৮ কোটি ১৫ লাখ ঘন মিটার ছিল সেখানে ১৩৯৪ ইরানি সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক ৯ কোটি ৮ লাখ ঘন মিটারে দাঁড়ায়।
০ দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঐসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তেলজাত তরল দ্রব্যাদির ব্যবহার হ্রাস পায় এবং এ পদক্ষেপ দেশে বায়ূ দূষণের মাত্রা হ্রাসের ক্ষেত্রে বিরাট প্রভাব বিস্তার করে।
০ ১৩৯২ ইরানি সালে যেখানে দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির মধ্যে তরল জ্বালানির পরিমাণ ছিল শতকরা ৪৩ ভাগ, সেখানে ১৩৯৪ ইরানি সালে তা হ্রাস পেয়ে শতকরা ১৮ ভাগে দাঁড়ায়। পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে যে, চলতি ১৩৯৫ ইরানি সালে (২১শে মার্চ ২০১৬ থেকে ২০শে মার্চ ২০১৭) দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে তরল জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ আরো হ্রাস পেয়ে মোট ব্যবহৃত জ্বালানির শতকরা ৯ ভাগে দাঁড়াবে এবং এর ফলে তা বায়ূ দূষণ রোধের ক্ষেত্রে আরো উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করবে।
০ দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ১৩৯২ ইরানি সালে যেখানে ৩ হাজার ৬২০ কোটি ঘন মিটার ছিল সেখানে ১৩৯৪ ইরানি সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৮০০ কোটি ঘন মিটারে দাঁড়ায়। পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে যে, চলতি ১৩৯৫ ইরানি সালে এর পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেয়ে ৬ হাজার ৮৫০ কোটি ঘন মিটারে দাঁড়াবে, আর এ পরিমাণ ১৩৯১ ইরানি সালের তুলনায় শতকরা ৯০ ভাগ বেশিতে দাঁড়াবে।
০ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে দেশের যানবাহনে তেল ও গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ শতকরা ৯ দশমিক ৫ ভাগ হ্রাস পেয়েছে।

অশোধিত তেল ও তরল গ্যাসজাত দ্রব্যাদির উৎপাদন ও রফতানি বৃদ্ধি
০ ১৩৯২ ইরানি সালের প্রথম পাঁচ মাসের গড় অনুযায়ী ঐ সময় দেশে দৈনিক অশোধিত তেল উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২৭ লক্ষ ব্যারেল, আর চলতি ১৩৯৫ ইরানি সালের খোরদাদ মাসের (২২শে মে থেকে ২১শে জুন ২০১৬) উৎপাদনের গড় অনুযায়ী তা বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক ৩৮ লক্ষ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে- যা দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হওয়ার আগেকার উৎপাদনের পরিমাণের কাছাকাছি।
০ ১৩৯২ ইরানি সালের প্রথম ছয় মাসের গড় অনুযায়ী দেশে মোট তরল গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ ছিল দৈনিক ৩ লাখ ৮৬ হাজার ব্যারেল এবং ১৩৯৪ ইরানি সালে গড়ে দৈনিক এর উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ২৮ হাজার ব্যারেল, আর একই সালের (১৩৯৪) ইসফান্দ্ মাসে (বছরের শেষ মাসে) গড়ে এর দৈনিক উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ৯৬ হাজার ব্যারেল।
০ ১৩৯২ ইরানি সালের প্রথম পাঁচ মাসের গড় অনুযায়ী দেশের অশোধিত তেল রফতানির পরিমাণ যেখানে গড়ে দৈনিক ৯ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল ছিল সেখানে চলতি ১৩৯৫ ইরানি সালের খোরদাদ মাসে এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে গড়ে দৈনিক ২০ লক্ষ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, ১৩৯৪ ইরানি সালের প্রথম দশ মাসে অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আগে দেশের অশোধিত তেল রফতানির পরিমাণ ছিল গড়ে দৈনিক ১০ লক্ষ ৮০ হাজার ব্যারেল।
০ কারূন্ নদীর পশ্চিম তীরবর্তী যৌধ তেল ক্ষেত্রসমূহকে কেন্দ্রীভূত করার ফলে দেশের তেল উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ তেল ক্ষেত্রে যেখানে ১৩৯২ ইরানি সালের খোরদাদ মাসে গড়ে দৈনিক ৭০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয় সেখানে চলতি ১৩৯৫ সালের খোরদাদ মাসে এখানে গড়ে দৈনিক তেল উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ১০ হাজার ব্যারেল। পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে যে, চলতি ১৩৯৫ ইরানি সালের শেষ নাগাদ এখানে তেল উৎপাদনের পরিমাণ গড়ে দৈনিক ২ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়াবে।

পেট্রো-রসায়ন দ্রব্যাদির উৎপাদন ও রফতানি বৃদ্ধি
০ দেশে পেট্রো-রসায়ন দ্রব্যাদির উৎপাদন ও রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৩৯২ ইরানি সালে যেখানে পেট্রো-রসায়ন দ্রব্যাদি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৬ লাখ টন সেখানে ১৩৯৪ ইরানি সালে এর উৎপাদন শতকরা ১৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ কোটি ৬৩ লক্ষ টনে দাঁড়ায়। অন্যদিকে ১৩৯২ ইরানি সালে যেখানে পেট্রো-রসায়ন দ্রব্যাদি রফতানির পরিমাণ ছিল এক কোটি ২৮ লক্ষ টন সেখানে ১৩৯৪ ইরানি সালে এর রফতানি শতকরা ৪৬ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে এক কোটি ৮৭ লক্ষ টনে দাঁড়ায়।
০ পেট্রো-রসায়ন সংস্থাসমূহে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ১৩৯২ ইরানি সালে দৈনিক গড়ে ৩ কোটি ৫৬ লক্ষ ঘন মিটার ছিল এবং চলতি ১৩৯৫ ইরানি সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক গড়ে ৪ কোটি ২৬ লক্ষ ঘন মিটারে দাঁড়িয়েছে।
০ প্রায় ১৩৫ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত নতুন পাঁচটি পেট্রো-রসায়ন প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে। এ প্রকল্পগুলোতে চলতি ১৩৯৫ ইরানি সালের খোরদাদ মাস (২২শে মে থেকে ২১শে জুন) নাগাদ যে হারে উৎপাদন হয়েছে সে হিসেবে বছরের শেষ নাগাদ এ প্রকল্পগুলোতে (১৩৯০ ইরানি সালের শেষের মূল্যের হিসেবে) ১৩৪ কোটি ডলার মূল্যের পেট্রো-রসায়ন দ্রব্যাদি উৎপাদিত হবে।
০ ৫৫০ কোটি ডলার পুঁজি বিনিয়োগ করে নির্মিত আরো ১৪টি প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী বছর (১৩৯৬ ইরানি সাল)-এর মাঝামাঝি নাগাদ এ সব প্রকল্পে উৎপাদনের পরিমাণ (১৩৯০ ইরানি সালের শেষের মূল্যের হিসেবে) ৫৭০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে।
০ দেশে উৎপাদিত পেট্রোল ও অয়েল গ্যাসের মান উন্নত করা হয়েছে এবং এর ফলে জীব পরিবেশে উন্নততর হয়েছে।
০ দেশে ব্যবহার্য পেট্রোলের সাথে মেশানোর জন্য স্ট্যান্ডার্ড বহির্ভূত হাইড্রোকার্বন উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং এর পরিবর্তে এ কাজে ব্যবহারের জন্য আমদানিকৃত ইউরো-প্রেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছে Ñ যা অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও কম ব্যয় সাপেক্ষ। দেশে এ পণ্যের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ইউরো-প্রেট্রোল আমদানির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও ইউরো-পেট্রোল উৎপাদন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ৭টি বড় শহরে এ ধরনের পেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে ঐসব শহরের জীব পরিবেশের উন্নতি হয়েছে।
০ দেশে পেট্রোল উৎপাদনের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমান সরকারের আমলে দেশের তেল শোধনাগারসমূহে সুর্পা ফুয়েল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলেছে। ফলে, বর্তমান সরকার দায়িত্বে আসার আগেকার ছয় মাসে (১৩৯২ ইরানি সালের প্রথম ছয় মাসে) যেখানে সুপার ফুয়েল উৎপাদনের পরিমাণ ছিল গড়ে দৈনিক ২১ লক্ষ লিটার, সেখানে ১৩৯৪ ইরানি সালে তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক উৎপাদনের পরিমাণ গড়ে ২ কোটি ৫০ লক্ষ লিটারে উন্নীত হয়েছে।

তেল ও গ্যাস শোধন বৃদ্ধি
০ পরিচালনা, শেয়ার-হোল্ডার, ও আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘সেতারেহ্ খালীজে ফারস্’ (পারস্য উপসাগরের নক্ষত্র) শোধনাগার প্রকল্পের কাঠামো সংশোধন করা হয়েছে এবং এ শোধনাগার থেকে যত শীঘ্র সম্ভব উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্যে এর বাস্তবায়নে অধিকতর গতি সঞ্চার করা হয়েছে। ১৩৯২ ইরানি সালের মেহ্র্ মাস (২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে ২২শে অক্টোবর ২০১৩) পর্যন্ত এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজের আনুমানিক সর্বোচ্চ শতকরা ৬৯ দশমিক ৫ ভাগ অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল এবং এটির ফিজিক্যাল প্রগ্রেসের কাজ এ পর্যন্ত মোটামুটি শতকরা ৮৮ ভাগ অর্জিত হয়েছে; চলতি ১৩৯৫ ইরানি সালে এ শোধনাগারের ১ নম্বর ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরু হবে।
০ আস্লাভীয়াহ্ এলাকায় মোট প্রায় তিনশ’ কোটি ডলার পুঁজি বিনিয়োগ সাপেক্ষ প্রতিটি ৬০ হাজার ব্যারেল শোধন ক্ষমতাসম্পন্ন ছোট আকারের ৮টি তরল গ্যাস উৎপাদনের শোধনাগার নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয় এবং এতে অংশগ্রহণকারী বেসরকারি কোম্পানিসমূহের মধ্য থেকে আটটি কোম্পানিকে নির্বাচন করা হয়েছে। এই প্রথম বারের মতো এ ধরনের প্রকল্পে কোনোরূপ সরকারি পুঁজি বিনিয়োগ ছাড়াই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছেÑ যাতে নির্বাচিত কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই তাদের কারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য জমি বুঝে পেয়েছে এবং এ প্রকল্পের বেসিক ডিজাইন পর্যালোচনার কাজও সমাপ্তির পথে। এ প্রকল্পে উৎপাদিত সমস্ত তরল গ্যাস দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহার করা হবে। এটা হবে অশোধিত গ্যাস বিক্রি প্রতিরোধ করার নীতি বাস্তবায়নের পথে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তেমনি এটা প্রতিরোধের অর্থনীতির নীতি বাস্তবায়নের পথেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
০ প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদনের পথে বিদ্যমান বাধাসমূহ অপসারণের লক্ষ্যে প্রণীত আইনের ১২ নম্বর ধারার আওতায় গ্রামাঞ্চলে গ্যাস পৌঁছানোর প্রকল্পের ডিজাইন প্রণয়ন ও অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে এবং তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
০ ১৩৯২ ইরানি সালের খোরদাদ মাস (২২শে মে থেকে ২১শে জুন ২০১৩) পর্যন্ত যেখানে দেশের শতকরা ৫৫ ভাগ গ্রামে গ্যাস পৌঁছানো সম্ভব হয়েছিল সেখানে চলতি ১৩৯৫ ইরানি সালের উর্দিবেহেশত্ মাস (২১শে এপ্রিল থেকে ২১শে মে ২০১৬) পর্যন্ত দেশের প্রায় শতকরা ৬৭ ভাগ গ্রামকে গ্যাস পৌঁছানোর আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে দেশের শতকরা ৯০ ভাগ জনগণ প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ লাভ করছেন। দেশের গ্রাম এলাকায় গ্যাস পৌঁছানোর জন্য যে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তার ভিত্তিতে আগামী ১৩৯৬ ইরানি সালের মাঝামাঝি (২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৭) নাগাদ দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ জনগণ গ্যাস সরবরাহ নেটওয়ার্কের আওতায় আসবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের মরুময় ‘সিস্তান ও বেলুচিস্তান’ প্রদশেও গ্যাস পৌঁছানোর প্রকল্পের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে।
০ ১৩৯২ ইরানি সালের শুরু (২১শে মার্চ ২০১৩) থেকে ১৩৯৪ ইরানি সালের শেষ (২০শে মার্চ ২০১৬) পর্যন্ত নতুন ৬ হাজার ২০০ গ্রামে ও নতুন ৬০টি শহরে গ্যাস পৌঁছানোর কাজ আঞ্জাম দেয়া হয়েছে।

জীব পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা
০ দেশের বড় বড় শহরের- যাতে তিন কোটিরও বেশি মানুষ বসবাস করছেন- বায়ুর মানোন্নয়ন ঘটানো হয়েছে। এসব শহরে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী দূষণ উপাদানসমূহের পরিমাণ স্ট্যান্ডার্ড মানের চেয়েও শতকরা ৮০০ ভাগ কমিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া ইস্ফাহানে সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন দিবস পালনের সংখ্যা ১৩৯২ ইরানি সালের তুলনায় তিন গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অধিকন্তু দেশের শিল্প-কারখানাসমূহের জন্য নতুন বায়ুমান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নযরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রণালয়
০ দেশের হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রসমূহে চিকিৎসার জন্য আগত রোগীদের কাছ থেকে ফী গ্রহণের পরিমাণ শতকরা ২০ ভাগ হ্রাস করা হয়েছে। সেই সাথে এসব হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে বেডের সংখ্যা শতকরা ২০ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ১০ হাজার ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়ে দেশের সর্বত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
০ দেশের এক কোটি দশ লাখ কম আয়ের অধিকারী লোকের জন্য স্বাস্থ্যিিবমার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং শহরগুলোতে অস্থায়ীভাবে বসবাসকারী অপেক্ষাকৃত নিম্ন মানের জীবনযাপনকারী এক কোটি লোকের জন্য চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
০ দেশের সুবিধাবঞ্চিত জায়গাগুলোর জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আড়াই হাজার ডিসপেন্সারী ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।
০ দেশের ৫৭০টি হাসপাতালের প্রতিটিতে দুই হাজার বর্গ মিটার আয়তনের উন্মুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন করা হয়েছে। দেশের পরিসংখ্যান সংস্থা কর্তৃক যে জনমত জরীপ করা হয়েছে তাতে দেখা যায় যে, এতে জনগণ খুবই সন্তুষ্ট।
০ দেশে ওষুধশিল্পের অধিকতর প্রসার ও ওষুধ উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে ওষুধ আমদানির ব্যয় বছরে ৪০ কোটি ডলার হ্রাস পেয়েছে, অধিকন্তু বিদেশে ওষুধ রফতানির পরিমাণ দুই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

শহীদ ও যুদ্ধাহতদের সংক্রান্ত ফাউন্ডেশনের কর্ম তৎপরতা
০ দীর্ঘ নয় বছর স্থগিত থাকার পর যুদ্ধাহতদের প্রতি সেবা প্রদান সংক্রান্ত আইনের বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
০ ১৩৭৬ থেকে ১৩৯০ ইরানি সাল পর্যন্ত যুদ্ধাহতদের যে ভাতা প্রদান বাকি পড়েছিল তা প্রদান করা হয়েছে।
০ যুদ্ধাহতদের প্রায় ৩০ হাজার সন্তানের জন্য কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
০ দেশের প্রাদেশিক রাজধানী সমূহে যুদ্ধাহতদের জন্য ১৬টি ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত ও সেগুলোর উদ্বোধন করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
০ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষত আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের দেশসমূহে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নিরাপত্তাবিরোধী সভা-সমাবেশের অপচেষ্টা বানচাল করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া যায়নবাদী ইসরাঈলের ইরান-আতঙ্ক সৃষ্টিকারী প্রকল্পকে অকেজো করে দেয়া হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাসীর পক্ষে ওয়াহাবি চরমপন্থীদেরসহ মানবতার জন্য প্রকৃত বিপজ্জনক গোষ্ঠী সমূহকে চিনতে পারা সম্ভব হয়েছে।
০ বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর শুরু থেকেই আলোচনার মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের সমস্ত পারমাণবিক সাফল্যের হেফাযত করা সম্ভব হয়েছে, অন্যদিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়া সম্ভব হয়েছে এবং একই সাথে, ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত প্রস্তাবসমূহের ও অন্যায়ভাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাসমূহের সমাপ্তি ঘটানো সম্ভব হয়েছে।
০ যথাযথ ব্যবস্থাপনা পদক্ষেপের ফলে এনার্জি, যোগাযোগ ও পরিবহন এবং বিমার ওপরকার নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেয়া হয়েছে এবং আর্থিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাবলির নিরসনের পথে যাত্রা শুরু হয়েছে। তেমনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের নিষেধাজ্ঞাসমূহের অবসান ঘটানোর জন্য তাদের বিরুদ্ধে সুসংগঠিত চাপ সৃষ্টির পদক্ষেপ এগিয়ে চলেছে।
০ বিভিন্ন দেশের সাথে ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের সকল এলাকা ও অঞ্চল থেকে বহু রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী এবং বহু রাজনৈতিক, সংসদীয় ও বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল ইরান সফর করেছেন।

সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার, হস্ত শিল্প ও পর্যটন সংস্থা
০ ইতিপূর্বে বিদেশিদের দ্বারা ইরান থেকে বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক দ্রব্যের চারটি চালান প্রথম বারের মতো দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এসব দ্রব্য বেলজিয়াম, আমেরিকা ও ইতালি থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তিনটি নতুন নিদর্শন ইউনেস্কো কর্তৃক বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
০ বর্তমান সরকারের সুচিন্তিত ব্যবস্থাপনার ফলে দেশে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি পাচ্ছে- যার ফলে সরকারের মেয়াদের প্রথম তিন বছরে দেশে বিদেশি পর্যটক আগমন বৃদ্ধির হার বার্ষিক শতকরা ৯ ভাগে দাঁড়িয়েছে- যা বিশ্বের সকল দেশে গড়ে বার্ষিক বিদেশি পর্যটক আগমন বৃদ্ধির হারের দ্বিগুণ; এটি দেশের পর্যটন শিল্পের জন্য বিরাট আশাবাদ সৃষ্টির কারণ হয়েছে।
০ জাতীয় উন্নয়ন তহবিল থেকে ৭০টি অসমাপ্ত প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করার জন্য যথাযথ প্রযোজন অনুযায়ী ৮ হাজার কোটি তুমান বরাদ্দ প্রদানের ফলে বিগত তিন বছরে ৩৪টি ৪ তারকা ও ৫ তারকা হোটেলের নির্মাণকাজ সমাপ্ত ও সেগুলোকে চালু করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে দেশে ৪ তারকা ও ৫ তারকা হোটেলের সংখ্যা ১২৫টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৯টিতে দাঁড়িয়েছে।
০ দেশে হস্তশিল্পের অধিকতর প্রসার ঘটানো হয়েছে এবং এর মান ও আকর্ষণ বৃদ্ধি করা হয়েছে; এ ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যসমূহ হচ্ছে :
(ক) নতুন ২ হাজার ৮০০টি উৎপাদনকারী কারখানা প্রতিষ্ঠা ও চালু করা হয়েছে।
(খ) বিগত দুই বছরে হস্তশিল্প সামগ্রী রফতানির পরিমাণ শতকরা ৬০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
(গ) দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিক্রয়ের মার্কেট সম্প্রসারণের মাধ্যমে হস্তশিল্পের বাজারজাতকরণ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
০ নিম্নলিখিত পদক্ষেপ সমূহের মাধ্যমে দেশের পর্যটন র্শিল্পে নতুন সামর্থ্য সৃষ্টি করা হয়েছে :
০ প্রাকৃতিক নিদর্শনাদি দর্শনকারী পর্যটকদের অবস্থানের সুবিধার্থে আগে যেখানে মাত্র ৪০টি রেস্ট হাউস ছিল, বিগত তিন বছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ২৮০টিতে দাঁড়িয়েছে।
০ বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সৌধ সমূহের মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজকে দ্রুতায়ন করা হয়েছে।
০ দেশে পর্যটকদের জন্য ভিসা সুবিধার সম্প্রসারণ করা হয়েছে, বিশেষ করে বিমান বন্দর থেকে ইস্যুকৃত ভিসায় ইরানে প্রবেশের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
০ বেসরকারি খাতের সহায়তা কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২০টিরও বেশি তথ্য সরবরাহ ও পর্যটক আকর্ষণকারী দফতর খোলা হয়েছে।

বিদ্যুত ও জ্বালানি
০ দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে, ১৩৯২ ইরানি সালে যেখানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ৬৯ হাজার মেগাওয়াট ছিল সেখানে ১৩৯৪ ইরানি সালে তা ৭৫ হাজার মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিক থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সমূহের মধ্যে এক নম্বরে ও সারা বিশ্বের মধ্যে ১৪ নম্বরে উন্নীত হয়েছে।
০ ১৩৯২ ইরানি সালে যেখানে দেশে বিদ্যুৎ বিতরণজনিত সিস্টেম লসের হার ছিল শতকরা ১৫ দশমিক ৫ ভাগ, সেখানে ১৩৯৪ ইরানি সালে তা হ্রাস পেয়ে শতকরা ১১ ভাগে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে দেশে বিদ্যুৎ বিতরণ থেকে সুবিধা লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশে এনার্জি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরাট সাশ্রয় হয়েছে।
০ দেশের ১৫টি প্রদেশে প্রতিটি ৪০০ কিলোভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন ১৪টি বিদ্যুৎ টাওয়ার উদ্বোধন করা হয়েছে ও ব্যবহার করা হচ্ছেÑ যেগুলোর মোট ক্ষমতা ৭ হাজার ৮৪০ মেগাভোল্ট এমপিআর।
০ দেশের ১৯টি প্রদেশে প্রতিটি ২৩০ কিলোভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন ১৯টি বিদ্যুৎ টাওয়ার উদ্বোধন করা হয়েছে ও ব্যবহার করা হচ্ছেÑ যেগুলোর মোট ক্ষমতা ৭ হাজার ৮ মেগাভোল্ট এমপিআর।
০ দেশের ১৩টি প্রদেশে প্রতিটি ১৩২ কিলোভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩৭টি বিদ্যুৎ টাওয়ার উদ্বোধন করা হয়েছে ও ব্যবহার করা হচ্ছেÑ যেগুলোর মোট ক্ষমতা ২ হাজার ৫৪৩ মেগাভোল্ট এমপিআর।
০ দেশের ২৪টি প্রদেশে প্রতিটি ৬৩ থেকে ৬৬ কিলোভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন ৮৫টি বিদ্যুৎ টাওয়ার উদ্বোধন করা হয়েছে ও ব্যবহার করা হচ্ছেÑ যেগুলোর মোট ক্ষমতা ৫ হাজার ৬০৪ মেগাভোল্ট এমপিআর।
০ দেশে প্রতিটি ৫৮ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৯টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

পানি সংরক্ষণ, শোধন ও সরবরাহ এবং সুয়ারেজের পানি শোধন ও অপসারণ
০ প্রায় ৪৭৫ কোটি ঘন মিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ১৯টি বাঁধকে পানি ধারণ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্বোধনের পর সেগুলোতে সঞ্চিত পানি কাজে লাগানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
০ ৯ হাজার হেক্টর জমিতে পানি সেচন ও পানি অপসারণ মেইন নেটওয়ার্ক এবং ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
০ দৈনিক মোট ৮ লাখ ১৪ হাজার ঘন মিটার পানি শোধনের ক্ষমতাসম্পন্ন ১৪টি পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছে এবং সেগুলোতে পানি শোধনের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া শহরাঞ্চলের সুয়ারেজের পানি শোধনের লক্ষ্যে দৈনিক মোট ৭ লাখ ১০ হাজার ঘন মিটারেরও বেশি পানি শোধনের ক্ষমতাসম্পন্ন আরো ২৬টি শোধনাগার নির্মাণ ও চালু করা হয়েছে।
০ দেশের ৯টি প্রদেশে বছরে সর্বমোট ১৫ কোটি ৪০ লক্ষ ঘন মিটার সরবরাহক্ষমতাসম্পন্ন ১২টি পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
০ সর্বমোট ৪১ হাজার ঘন মিটার উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন ১১টি মিঠা পানি উৎপাদনের প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
০ ২ হাজার ৫০০ গ্রামে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের নেটওয়ার্ক পৌঁছানো হয়েছে।
দেশজ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ
দেশজ প্রযুক্তি সম্পর্কিত গবেষণা এবং তার ব্যবহার ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ আঞ্জাম দেয়া হয়েছে :
০ দেশের অভ্যন্তরে প্রথম বারের মতো পানির টারবাইনের ডিজাইনিং ও তা তৈরি করা হয়েছে।
০ দেশের অভ্যন্তরে প্রথম বারের মতো বিদ্যুৎকেন্দ্রের গভর্নর যন্ত্র ডিজাইনিং ও তৈরি করা হয়েছে।
০ দেশের অভ্যন্তরে প্রথম বারের মতো স্মার্ট মিটার ডিজাইনিং ও তৈরি করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ এবং ‘পানি ও বিদ্যুৎ’ শিল্পের সরঞ্জাম রফতানি
দেশ থেকে বিদেশে বিদ্যুৎ, ‘পানি ও বিদ্যুৎ’ শিল্পের সরঞ্জামাদি এবং এসব ক্ষেত্রে কারিগরি ও প্রকৌশল সেবা রফতানির ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত সাফল্য সমূহ অর্জিত হয়েছে :
০ ২ লাখ ৭৩ হাজার গিগাওয়াট ঘণ্টা পরিমাণ বিদ্যুৎ রফতানি করা হয়েছে।
০ ৮৬৩ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের ‘পানি ও বিদ্যুৎ’ শিল্পের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি এবং এতদসংশ্লিষ্ট কারিগরি ও প্রকৌশল সেবা রফতানি; এ রফতানি অংশত সম্পন্ন হয়েছে ও অংশত বাস্তবায়নের পথে।

কৃষি জিহাদ মন্ত্রণালয়
বর্তমান সরকারের আমলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের কৃষি জিহাদ মন্ত্রণালয়ের সাফল্যসমূহ (প্রধান প্রধান খাতে) নিম্নোক্ত চার্ট থেকে (যা মিলিয়ন টনের হিসাবে দেখানো হয়েছে) সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাবে :

খাত ১৩৯২-এ উৎপাদন ১৩৯৩-এ উৎপাদন ১৩৯৪-এ উৎপাদন ১৩৯২-র তুলনায় ১৩৯৪-এ প্রবৃদ্ধি
কৃষি ক্ষেতের উৎপাদন ৬৮.৭ মিঃ টন ৭৪ মিঃ টন ৮১ মিঃ টন ১৮%
ফল ১৬ মিঃ টন ১৬.৫ মিঃ টন ১৭ মিঃ টন ৬%
পশু ও পাখি সম্পদ ১২ মিঃ টন ১২.৫ মিঃ টন ১৩ মিঃ টন ৮%
মৎস্য সম্পদ ০.৯ মিঃ টন ০.৯৫ মিঃ টন ১ মিঃ টন ১১%
মোট কৃষিজাত উৎপাদন ৯৭ মিঃ টন ১০৪ মিঃ টন ১১২ মিঃ টন ১৫.৫%

০ ওপরের চার্টে দেখা যাচ্ছে যে, ১৩৯২ ইরানি সালে যেখানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে মোট কৃষিজাত দ্রব্যাদির উৎপাদন ছিল ৯ কোটি ৭০ লক্ষ টন সেখানে বর্তমান সরকারের আমলে গত ইরানি সালে (১৩৯৪) কৃষিজাত দ্রব্যাদির উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ২০ লক্ষ টনে। অর্থাৎ ১৩৯২ ইরানি সালের তুলনায় ১৩৯৪ ইরানি সালে দেশে কৃষিজাত দ্রব্যাদির উৎপাদন শতকরা ১৫ দশমিক ৫ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
০ কৃষকদের স্বার্থের হেফাযতের লক্ষ্যে ১৩৯২ ইরানি সালে যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের কাছ থেকে ৪৮ লক্ষ টন গম ক্রয় করা হয়েছিল সেখানে উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে ১৩৯৪ ইরানি সালে তাঁদের কাছ থেকে গম ক্রয়ের পরিমাণ শতকরা ৬৮ দশমিক ৭৫ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে ৮১ লক্ষ টনে দাঁড়ায়।
০ আশা করা হচ্ছে যে, চলতি ১৩৯৫ ইরানি সালে দেশের কৃষকদের কাছ থেকে গম ক্রয়ের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেয়ে এক কোটি টনে দাঁড়াবে। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন ও ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে আশা করা হচ্ছে যে, চলতি ইরানি সালের শেষে দেশ গমের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সাবলম্বী হতে সক্ষম হবে।
০ দেশে ১৩৯২ ইরানি সালে মোট ১১ লক্ষ ৩০ হাজার টন চিনি উৎপাদিত হয়; ১৩৯৪ সালে চিনি উৎপাদনের পরিমাণ শতকরা ৩৩ ভাগ (৩ লাখ ৮০ হাজার টন) বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ লক্ষ টনে দাঁড়ায়।
০ ১৩৯২ ইরানি সালে যেখানে দেশে ২৮ লক্ষ টন যব উৎপাদিত হয় সেখানে ১৩৯৪ ইরানি সালে তা শতকরা ১৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে ৩২ লক্ষ টনে দাঁড়ায়।
০ জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা কর্তৃক স্থায়ী মূল্যের ভিত্তিতে যে হিসাব করা হয়েছে তাতে দেখা যায় যে, দেশে কৃষি খাতে মোট উৎপাদনের পরিমাণ মূল্যের বিচারে শতকরা ৫ দশমিক ৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
০ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের হিসাব অনুযায়ী দেশের মোট উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধিতে (বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে) কৃষি খাতের বর্ধিত আয় ১৩৯৩ ইরানি সালে ছিল শতকরা ৩২ দশমিক ৫ ভাগ।
১৩৯২ থেকে ১৩৯৪ ইরানি সাল পর্যন্ত দেশের কৃষিজাত দ্রব্যাদির (খাদ্যশস্য) মূল্য ভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যালেন্স নিম্নরূপ :
০ ১৩৯২ ইরানি সালে কৃষিজাত খাদ্যশস্য আমদানি-রফতানির ভারসাম্য : Ñ ৮১০ কোটি ডলার (ঘাটতি)।
০ ১৩৯৩ ইরানি সালে কৃষিজাত খাদ্যশস্য আমদানি-রফতানির ভারসাম্য : Ñ ৫৪৫ কোটি ডলার (ঘাটতি)।
০ চলতি বাজার দরের হিসাবে ও দেশি মুদ্রার মূল্যে ১৩৯২ ইরানি সালে দেশে উৎপাদিত কৃষিজাত দ্রব্যাদির মোট মূল্য ছিল এক লক্ষ ৫১ হাজার বিলিয়ন তুমান, আর ১৩৯৪ ইরানি সালে দেশে উৎপাদিত কৃষিজাত দ্রব্যাদির মোট মূল্য দাঁড়ায় ২ লক্ষ ১০ হাজার বিলিয়ন তুমান অর্থাৎ ২ বছরের ব্যবধানে দেশে ৫৯ হাজার বিলিয়ন তুমান মূল্যের কৃষিজাত দ্রব্যাদির উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
০ মূল্যের হিসাবে ১৩৯৪ ইরানি সালে দেশে কৃষিজাত দ্রব্যাদি ও খাদ্য উপাদান আমদানির পরিমাণ পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় শতকরা ১০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে।
০ যথাক্রমে ১৩৯২ ও চলতি ১৩৯৫ ইরানি সালের শুরুতে দেশে মোট খাদ্যদ্রব্যের মওজুদের পরিমাণ (হাজার টনের হিসাবে) নিচের চার্টে দেয়া হলো :
খাদ্যদ্রব্যের নাম ১৩৯২ ১৩৯৫
গম ১৭০০ ৫৯৬০
চাল ৬৬ ২১০
ভোজ্য তেল ২৪২ ১৭০
চিনি ৪৪০ ২৪০
মুরগী ৪২ ৭৮

কৃষি অবকাঠামো নির্মাণ তৎপরতা
০ ১৩৯২ ইরানি সালে নতুন ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে পানি সেচ ও জলাভূমির পানি নিষ্কাশনের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করা হয়, অন্যদিকে ১৩৯৪ ইরানি সালে নতুন ৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে এ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করা হয়; এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পরিমাণ শতকরা ১১২ দশমিক ৫ ভাগ।
০ ১৩৯২ ইরানি সালে সেচের ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক উপায়-উপকরণ ব্যবহার ৪৬ হাজার হেক্টর জমিতে সম্প্রসারিত করা হয়। ১৩৯৪ ইরানি সালে এক লাখ ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে এ ধরনের উপায়-উপকরণ ব্যবহার সম্প্রসারিত করা হয় Ñ যা ১৩৯২ ইরানি সালের তুলনায় শতকরা ১৬৮ দশমিক ৫ ভাগ বেশি।
০ ১৩৯২ ইরানি সালে ৩ লাখ ৯১ জাজার হেক্টর জমিতে পানি ব্যবস্থাপনা তৎপরতা চালানো হয়; ১৩৯৪ ইরানি সালে ৫ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে এ তৎপরতা চালানো হয়Ñ যা ১৩৯২ ইরানি সালের তুলনায় শতকরা ৪৩ ভাগ বেশি।

স্থল পথ ও নগরায়ন মন্ত্রণালয়
স্থল পথ ও নগরায়ন মন্ত্রণালয় অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে যেসব কাজ আঞ্জাম দিয়েছে তার চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো :
০ ৪৫৭ কিলোমিটার রেল-লাইন সম্প্রসারণ এবং ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি রেল-লাইনের ট্র্যাক্ তৈরির কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
০ তুর্কমানিস্তান ও কাজাকিস্তান থেকে পণ্য ট্রানজিটের রেল-লাইনের বাইরে র্গোগান থেকে ইন্জেহ্ পর্যন্ত রেলা-লাইন নির্মাণ প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে।
০ ১০ হাজার ৬৪২ কিলোমিটার মহাসড়ক অবকাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে; এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে : ২১৭ কিলোমিটার ফ্রি-ওয়ে, ২ হাজার ৭৯২ কিলোমিটার মহাসড়ক, এক হাজার ৭৮৩ কিলোমিটারের বেশি মেইন রোড এবং নব নির্মিত ৫ হাজার ৮৫০ কিলোমিটার গ্রাম্য রাস্তা।
০ দেশের বাণিজ্যিক বন্দরগুলোতে জাহাযে পণ্য উত্তোলন ও খালাসের ক্ষমতা শতকরা ১৬ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে ২০ কোটি ৯০ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
০ দেশের বাণিজ্যিক বন্দরগুলোর যাত্রী স্থানান্তর ক্ষমতা শতকরা ৩০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে এক কোটি ৮২ লাখ জন স্থানান্তর ক্ষমতায় উপনীত হয়েছে।
০ বন্দর সম্প্রসারণ এবং বন্দরসমূহের যন্ত্রপাতি ও উপায়-উপকরণ সম্প্রসারণ সম্পর্কিত ৪৮০ বিলিয়ন তুমান ব্যয় সাপেক্ষ ৬৩টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন করে সেগুলো থেকে উপকারিতা হাসিল করা হচ্ছে এবং বন্দরসমূহে ১৭৫০ বিলিয়ন তুমান বেসরকারি পুঁজি বিনিয়োগের লক্ষ্যে ৪৬টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
০ দেশের বিমান বন্দরগুলোতে মোট ৫৪ হাজার বর্গ মিটার আয়তনবিশিষ্ট প্রান্ত নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে। এছাড়া বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে মোট ৮ হাজার ৫০০ বর্গ মিটার আয়তনবিশিষ্ট বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে।
০ দেশের গ্রামাঞ্চলে মোট ১১ হাজার ২৬৩ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন ও পীচ ঢালাই করা হয়েছে।

ট্রানজিট সুবিধার সম্প্রসারণ
০ ১৩৯২ ইরানি সালের শেষ ছয় মাস থেকে শুরু করে ১৩৯৪ ইরানি সালের শেষ পর্যন্ত দেশের রেল-লাইনসমূহের মাধ্যমে মোট ২৪ লক্ষ টন ট্রানজিট পণ্য স্থানান্তর করা হয়েছে এবং রেল-লাইনের মাধ্যমে ট্রানজিট পণ্য স্থানান্তর আরো বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে নয়টি স্থল বন্দর থেকে সম্মতিপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।
০ ১৩৯২ ইরানি সালের শেষ ছয় মাস থেকে শুরু করে ১৩৯৪ ইরানি সালের শেষ পর্যন্ত দেশের মহাসড়কসমূহের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ৮৮ লক্ষ টন ট্রানজিট পণ্য স্থানান্তর করা হয়েছে।

পরিবহণ ক্ষেত্রে নিরাপত্তার পরিমাণগত ও মানগত উন্নয়ন কর্মসূচি
০ ৮৯৭ কিলোমিটার রেল-লাইনের মানোন্নয়ন ও পুননির্মাণ করা হয়েছে।
০ বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে মহাসড়ক সমূহে দুর্ঘটনার ফলে গড়ে বছরে যে পরিমাণ জান ও মালের ক্ষয়ক্ষতি হতো সে তুলনায় বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ১৩৯৪ ইরানি সালের শেষ নাগাদ তার পরিমাণ শতকরা ১০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে।
০ যেসব জায়গায় অনেক বেশি দুর্ঘটনা সংঘটিত হতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহের এমন এক হাজার ৬৯১টি অংশ ও চৌরাস্তা বিলুপ্ত বা সংশোধন করা হয়েছে।

বেসরকারি খাতের অংশীদারীসহ যোগাযোগ ও পরিবহন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য আর্থিক সংস্থান
০ ৫২০ কোটি ডলার ব্যয়সাপেক্ষ তেহরান-ক্বোম-ইস্ফাহান দ্রতগামী ট্রেন চলাচলের লক্ষ্যে ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল-লাইন নির্মাণের জন্য এল.সি. খোলা হয়েছে এবং বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে।
০ ইঙঞ পদ্ধতিতে ৩ হাজার বিলিয়ন তুমান ব্যয় সাপেক্ষ তাব্রীয্-মারান্দ্-বর্যাগণ্ ২৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রি-ওয়ে নির্মাণের জন্য চুক্তি সম্পাদনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।

সাধারণ পরিবহণ খাতে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণ বৃদ্ধি
০ এক বছরে সমুদ্র পথে এক কোটি ৭০ লক্ষ যাত্রী বহন করা হয়েছে- যা শতকরা ৪৫ ভাগ বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।
০ দেশের বিমান বন্দরসমূহের যাত্রী স্থানান্তর ক্ষমতা শতকরা ৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে ৮ কোটি ৮০ লক্ষে দাঁড়িয়েছে।
০ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিমান ট্রানজিট ফ্লাইটের সংখ্যা শতকরা ৯১ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে (১৬৫ ফ্লাইটের স্থলে ৩১৫ ফ্লাইটে দাঁড়িয়েছে)।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট হুজ্জাতুল্ ইসলাম ওয়াল্-মুসলিমিন্ ড. হাসান রুহানি দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার সকল ক্ষেত্রে যে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম আঞ্জাম দিয়েছেন ওপরে পরিসংখ্যানের দৃষ্টিকোণ থেকে তার অংশবিশেষ তুলে ধরা হয়েছে। স্মর্তব্য যে, বর্তমান সরকারের সমস্ত উন্নয়ন কার্যক্রমের বর্ণনা দিতে গেলে তার আয়তন অনেক দীর্ঘ হবে বিধায় এখানে তার অংশবিশেষ উল্লেখ করা হয়েছে- যা থেকে এখানে অনুল্লিখিত খাত সমূহেও যে ব্যাপক উন্নয়ন তৎপরতা চালানো হয়েছে সে সম্পর্কে ধাারণা করা যেতে পারে।
* * *