মঙ্গলবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

প্রেসিডেন্ট রুহানির ইরাক সফর; সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে চায় ইরান

পোস্ট হয়েছে: মার্চ ১৩, ২০১৯ 

news-image

ইরাকের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বাগদাদ সফরে গেছেন। রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা এ সফরকে ইরান ও ইরাকের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন আরো শক্তিশালী করার উপযুক্ত সুযোগ বলে বর্ণনা করেছেন।

তার এ সফরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার উপায় পর্যালোচনা করা হবে। সেইসঙ্গে দু’দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করাও হবে এ সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সফরে ইরানের খোররামশাহর থেকে ইরাকের বসরা পর্যন্ত রেললাইন চালুর পাশাপাশি দু’দেশের নাগরিকদের ভিসা পদ্ধতি ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে সহযোগিতা বিষয়ক বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরাক ও সিরিয়ায় দায়েশ’সহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় তেহরানকে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

ইরাকে নিযুক্ত সাবেক ইরানি রাষ্ট্রদূত হাসান কাজেমি কোমি বলেছেন, ইরান ও ইরাকের মধ্যকার সহযোগিতা বর্তমানে কৌশলগত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই সহযোগিতা দু’দেশের সম্পর্ককেও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করবে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী এই দু’দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের শত্রুরা বসে নেই। এই মহলটি ‘ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইরান হস্তক্ষেপ করছে’ বলে অভিযোগ তুলে বাগদাদ-তেহরান সম্পর্কে ফাটল ধরানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের সে প্রচেষ্টা যে হালে পানি পাচ্ছে না ইরান ও ইরাকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ে তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক খাতে সহযোগিতাকে ইরাক প্রাধান্য দিচ্ছে। ইরাকে পণ্য পরিবহণের ট্রানজিট রুট হিসেবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সেইসঙ্গে ইরাকের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদার একটা বড় অংশও ইরান পূরণ করার সক্ষমতা রাখে। এ ছাড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত খাতেও ইরান যথেষ্ট উন্নতি সাধন করায় তেহরান এই খাতের অভিজ্ঞতা দিয়ে বাগদাদকে সহযোগিতা করতে পারে।

পাশাপাশি প্রায় দুই দশকের যুদ্ধ শেষে ইরাকের পুনর্গঠন কাজে ইরান অংশ নিতে পারে। আর বাগদাদ ও তেহরানের মধ্যে সহযোগিতার সবচেয়ে বড় সুযোগ রয়েছে পর্যটন খাতে। বিশেষ করে প্রতি বছর দু’দেশে অবস্থিত ওলি আউলিয়াদের মাজার জিয়ারতের জন্য লাখ লাখ নাগরিক পরস্পরের দেশ ভ্রমণ করেন।

ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ সম্প্রতি ইরান সফরে এসে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সাক্ষাতে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, তার দেশ চায় ইরাক একটি শক্তিশালী, স্বাধীনচেতা ও উন্নত দেশে পরিণত হোক এবং এই কাজে বাগদাদকে সবরকম সহযোগিতা করতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে।  ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বোঝা যায়, তেহরান ও বাগদাদের মধ্যে সহযোগিতা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইরান কোনো সীমা-পরিসীমা মেনে চলবে না বরং এ সম্পর্ককে যতটা সম্ভব উন্নত করার চেষ্টা করবে তেহরান। – পার্সটুডে।