বুধবার, ১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সমাবেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা

পোস্ট হয়েছে: আগস্ট ৩১, ২০১৬ 

news-image

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, শত্রুদের এটা জেনে রাখা উচিৎ তারা যদি হামলা চালায় তাহলে অত্যন্ত কঠোর জবাব দেয়া হবে।

তিনি ইরানের খাতামুল আম্বিয়া বিমানঘাঁটির কমান্ডার ও কর্মকর্তাদের সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, শত্রুরা ইরানি জনগণের স্বাধীনচেতা মনোভাবের বিরোধী। তিনি আরো বলেছেন, শত্রুরা ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তাই আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর উচিৎ হবে নিজেদের শক্তিমত্তা বাড়ানো যাতে শত্রুরা ইরানে আগ্রাসন চালানোর চিন্তা করারও সাহস না পায়।

ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরান নানা ক্ষেত্রে শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও হুমকি মোকাবেলা করে আসছে। ইরানে ইসলামী বিপ্লবের অর্থই হচ্ছে পরা শক্তিগুলোর আধিপত্য খর্ব করা। ইরানের জনগণ মহান বিপ্লবের মাধ্যমে সারা বিশ্বে এ বার্তাই পৌঁছে দিয়েছে যে, ইরান একটি স্বাধীন ও বিপ্লবী দেশ। ইরানের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদীদের শত্রুতার ধরণ প্রচলিত যুদ্ধবিগ্রহ বা শত্রুতার মতো নয় যে এখানে রাজনৈতিক বা সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা যাবে। বরং ইরানের এ প্রতিরোধ জুলুমের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান। ইরান একটি শয়তানি ও প্রতারক শক্তির সঙ্গে লড়াই করছে যার মূলে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, স্বাধীনতা ও দুর্দমনীয় ইরানি জনগণ। আর এটাই শত্রুদের ক্ষোভের প্রধান কারণ।

ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে গত ৩৭ বছর ধরে ইরান সাম্রাজ্যবাদী ও বলদর্পী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে আসছে। ইরানের বিরুদ্ধে ইরাকের সাবেক সাদ্দাম সরকারের চাপিয়ে দেয়া আট বছরের যুদ্ধ, প্রতিরক্ষা শিল্পের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, সামরিকসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ইরানের উন্নতি দমিয়ে রাখা এসবই ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুদের ষড়যন্ত্রের অংশ।

শত্রুরা কোনোভাবেই চায় না ইরান স্বাধীন থাকুক এবং তারা ইরানের জনগণের প্রতিরক্ষার অধিকারকেও মেনে নিতে পারছে না। অথচ নিজ প্রতিরক্ষা শক্তি গড়ে তোলা সব জাতিরই অধিকার। বিদেশী শক্তির আগ্রাসন ও হুমকি মোকাবেলা করা সব দেশ ও জনগণেরই মৌলিক অধিকার। এ ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, শত্রুদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, তারা ইরানকে দুর্বল করে রাখতে চায় যাতে ইচ্ছে মত যখন তখন ইরানে হামলা চালানো যায়।

খাতামুল আম্বিয়া বিমানঘাঁটির কমান্ডার ও কর্মকর্তাদের সমাবেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শত্রুদের ষড়যন্ত্রগুলো চিহ্নিত করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে আট বছর আগে এই বিমান ঘাঁটিটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল।

ইরানের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে খাতামুল আম্বিয়া বিমানঘাঁটির গুরুত্ব অপরিসীম। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, এটি প্রতিরক্ষার মূল স্তম্ভ এবং এর গুরুত্ব সবারই উপলব্ধি করা উচিৎ। শত্রুদের যে কোনো আগ্রাসনের মোকাবেলায় নিজেদের দৃঢ় অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরার ওপর জোর দেন তিনি। সূত্র: পার্সটুডে