সোমবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

পূর্ব থেকে পশ্চিমে ইরানি চলচ্চিত্রের জয়জয়কার

পোস্ট হয়েছে: জুন ১৩, ২০১৭ 

news-image

রাশিদ রিয়াজ: সাংহাই থেকে সিয়াটল, ইরানের ফারসি চলচ্চিত্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজস্ব আসন করে নিচ্ছে। সর্বস্তরের দর্শক সমাদৃত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। শক্তিশালী চিত্রনাট্য , অসাধারণ ও অভূতপূর্ব অভিনয়, কলাকুশলির মনকাড়া আবেদন ছাড়াও বিশ্বমানের কারিগরি মান ও বিশ্বনন্দিত হওয়ার কারণে ইরানি সিনেমা শীর্ষ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে পুরস্কৃত হচ্ছে।

এখন স্পেনে চলছে মাদ্রিদ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের তৃতীয় আসর। গত ৮ জুন থেকে শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে ১৭ জুন পর্যন্ত। এ উৎসবে ইরানি চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ আয়োজন থাকছে। ইরানে দেশটির চলচ্চিত্র ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করলেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ চলচ্চিত্র নিয়ে জানার অনেক সুযোগ এখনো রয়ে গেছে। এবারের স্পেন চলচ্চিত্র উৎসবে ইরানি কৌতুক ও নিষ্ক্রিয় চলচ্চিত্র বিশেষ বিভাগে প্রদর্শন হচ্ছে।

ইরানি চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তুগুলো সম্পর্কে পশ্চিমা দর্শকরাও খুব একটা অবহিত নন। তারা ইরানের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আব্বাস কিয়ারোস্তমি, জাফর পানাহি ও আসগর ফারহাদির চলচ্চিত্র সম্পর্কে বেশ অবহিত। তবে ফিলমাদ্রিদের এ আয়োজনের লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। কৌতুক সেখানে সামাজিক সমালোচনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অনেক চলচ্চিত্র পরিচালক তা করে থাকেন।

স্পেনে এ চলচ্চিত্র উৎসবে ৮টি ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে, ‘দি টিন্যান্টস’(১৯৮৬),‘মামস গেস্ট’(২০০৪), ‘এ ড্রাগন এ্যারাইভস’(২০১৬), ‘মডেস্ট রিসেপসন’(২০১২),‘ মেন অ্যাট ওয়ার্ক’(২০০৬), ‘আবাদান’ (২০০৩), ‘ফিশ অ্যান্ড ক্যাট’ (২০১৩) ও ‘অ্যাটমিক হার্ট’(২০১৪)।

ইরানের চলচ্চিত্র পরিচালক মোহসেন আব্দোলভাহাবের ‘বিং বর্ন’ চলচ্চিত্রটি বেশ নজর কাড়ছে। গ্রানাডা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে এ চলচ্চিত্রটি অন্য দেশের ৯টি চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। গর্ভপাত নিয়ে যে সর্বজনীন সমস্যা ও মানবশিশুর জন্ম অধিকার নিয়ে এ চলচ্চিত্রে আবেদনময়ী বক্তব্য উঠে এসেছে। মৃদু অন্তরঙ্গতা ও আবেগের নিখুঁত প্রতিচ্ছবি উঠে এসেছে ‘বিং বর্ন’চলচ্চিত্রে। এতে অভিনয় করেছেন ইরানের শক্তিমান অভিনেতা হেদায়েত হাশেমি, এলহাম কোরদা, এসমায়েল পোওরেজা, রেজা মোর্তাজাভি, রয়া জাভিদনিয়া, নিকি নাসিরিয়ান ও আইদা সারশার প্রমুখ। কঠিন বাস্তবতা ও মানবতার সংমিশ্রণ ‘বিং বর্ন’এ দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভিজুয়াল ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে চলচ্চিত্রটি জুরি প্রাইজ পেয়েছে।

এদিকে রোমানিয়ায় ১৬তম ট্রান্সসিলভানিয়া ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে (জুন ২-১১) ইরানের ৪টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। এ ফেস্টিভালে আবেদ আবেস্তের ‘সিমুলেশন’ চলচ্চিত্রটি ১১টি চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে শীর্ষ পুরস্কার পায়। এছাড়া মেহদি ফার্দ কাদরির ‘ইমমর্টালিটি’ ও আব্বাস কিয়ারোস্তমির শেষ স্বল্পদৈর্ঘ ছবি ‘টেক মি হোম’ বেশ আলোচিত হচ্ছে। টেক মি হোমে আব্বাস কিয়ারোস্তমির ২৫ বছরের সম্পর্ক উঠে এসেছে চুলচেরা বিশ্লেষণে।

৪৩তম সিয়াটল ইন্টারনাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে ইরানের ৬টি চলচ্চিত্র অংশ নিচ্ছে। এ উৎসব যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র উৎসব। ২৫ দিনের এ উৎসবে ৪শ’টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে। ৬টি ইরানি চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘এ ড্রাগন অ্যারাইভস’, ‘ইনভার্সন’, ‘গোলাম’, ‘টেস্ট অব চেরি’, ‘ লোনলি ক্যাট মাওনিং’ ও এ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘দি সার্ভেন্ট’।

ওদিকে চীনের ২০তম সাংহাই ফিল্ম ফেস্টিভালে ইরানের দীর্ঘ নাটক ‘ইয়েলো’ অংশ নিয়েছে। পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় এ চলচ্চিত্রের আসর শুরু হচ্ছে ১৭ জুন, চলবে ২৬ জুন পর্যন্ত।