মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

নয় মাসে ৫ লাখ বিদেশি পর্যটক টেনেছে ইসফাহান

পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ১৪, ২০১৮ 

news-image

অনেকে বলে থাকেন ইরানের ইসফাহান শহর দেখলেই যেন পৃথিবীর অর্ধেক সৌন্দর্য দেখা হয়ে যায়। ফারসিতে যাকে বলা হয়ে থাকে ‘শাহরে ইসফাহান, নেসফে জাহান’। প্রাকৃতিক মহুয়া বন, জনশূন্য বিরান মরুভূমি আর এবড়ো-থেবড়ো সুউচ্চ পাহাড়ের কোল ঘেঁষে অবস্থান করছে ইরানের এই প্রদেশটি। প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্যের কারণে প্রতিনিয়তই মধ্য অঞ্চলীয় এই প্রদেশটিতে বেড়েই চলেছে বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা।

এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি ইরানি বছরের প্রথম নয় মাসে ইসফাহান প্রদেশ ভ্রমণ করেছেন অন্তত পাঁচ লাখ বিদেশি পর্যটক। ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, হস্তশিল্প ও পর্যটন সংস্থার (আইসিএইচএইচটিও) প্রাদেশিক কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

এতে দেখা যায়, ইসফাহান প্রদেশের সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইমাম মসজিদ (মাসজিদ-ই-জামে নামে পরিচত), আলি কাপু প্যালেস ও শেখ লুতফুল্লাহ মসজিদ। এছাড়াও বেশি ভ্রমণ করা হয়েছে চেহেল সোতুন ও ফিন গার্ডেনে।

আইসিএইচএইচটিও এর ইসফাহান অফিসের প্রধান ফেরেইদুন আল্লাহায়ারি বলেন, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এ বছর ফ্রান্সের পর্যটকরা সবচেয়ে বেশি ইসফাহান ভ্রমণ করেছেন। গত বছর একই সময়ে এ প্রদেশে জার্মানি থেকে সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসেছেন। এই প্রতিবেদন মতে, ফ্রান্স ও জার্মানির পর সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসেছেন ইতালি, স্পেন ও চীন থেকে।

ইসফাহান প্রদেশে ২২ হাজার ঐতিহাসিক এলাকা ও স্মৃতিবিজড়িত স্থান রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয়ভাবে নিবন্ধনপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক এলাকা রয়েছে ৮৫০টি আর জাতিসংঘের বিজ্ঞান ও ঐতিহ্য বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোতে নিবন্ধন পেয়েছে চারটি এলাকা। ইউনেসকোর ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পাওয়া জায়গাগুলো হলো নাকশ-ই জাহান স্কোয়ার, ইমাম মসজিদ, চেহেল সোতুন ও ফিন গার্ডেন। এসব ঐতিহ্যবাহী এলাকা ঘিরে রয়েছে ৯০টি হোটেল ও ৬৫টি গেস্ট হাউজ।

ইসফাহানের উঁচু পাহাড়গুলোর মধ্যে রয়েছে বিদকান এবং সিমানসাফে। সাফাভি শাসনামলের ইরানের রাজধানী ইসফাহানের সৌন্দর্যের নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলি আর ইমাম স্কয়ারে ইমাম মসজিদের কারুকার্যময় দেয়ালচিত্র ও চোখধাঁধানো রং-বেরঙের হাজারও বাতির আলোর নাচন কিংবা ‘নাকশে জাহান’-এর স্ফটিকশুভ্র আলোগুলো যেকোন পর্যটককে মুগ্ধ করবে। সূত্র: ফিনানসিয়াল ট্রিবিউন।