মঙ্গলবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ন্যাম সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য: আশা-নিরাশার দোলাচলে বিশ্ব শান্তি

পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৬ 

news-image

ভেনিজুয়েলায় সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তরের মধ্যদিয়ে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন বা ন্যামের ১৭তম শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলনে দেয়া ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি ন্যামের প্রত্যাশা ও সক্ষমতার বিষয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের কথা উল্লেখ করেছেন।

প্রথমত, ইরানের প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে বিরাজমান সুযোগ ও সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানোর যে লক্ষ্যমাত্রা এই জোট ঠিক করেছে তার সফলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন এখনো এই জোট তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

প্রেসিডেন্ট রুহানি দ্বিতীয় যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তা হচ্ছে, জাতিসংঘের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম এই আন্তর্জাতিক জোট বিশ্বে বিরাজমান বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন এখন পর্যন্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অর্থাৎ আজ পর্যন্ত  কোনো সমস্যারই সমাধান করতে পারেনি এই জোট।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন বা ন্যামের নীতিমালা ও লক্ষ্য উদ্দেশ্যগুলো এমনভাবে বিন্যাস করা হয়েছে যে, সেসবের সঠিক বাস্তবায়ন সম্ভব হলে বিশ্বে টেকসই শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নতি সম্ভব। এ ব্যাপারে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, জোটের নীতিমালা অনুসরণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বহু সংকট, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব।

গত কয়েক বছরে সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লিবিয়াসহ আরো অনেক দেশে বহু রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনভুক্ত দেশগুলোরই নাগরিক। কিন্তু বৃহৎ শক্তিগুলোর চাপিয়ে দেয়া নানাবিধ সংকট মোকাবেলায় এ জোট দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।  

জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন বা ন্যাম এরআগে শীতল যুদ্ধ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে নতুন যুগে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিরাজমান চ্যালেঞ্জ আরো বেশি ভয়াবহ রূপে সামনে এসেছে। বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ, দখলদারিত্ব ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। কিন্তু এ সংকট মোকাবেলায় জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন নিজস্ব যোগ্যতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।

ভেনিজুয়েলায় এমন সময় ন্যাম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বিশ্বে শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য আরো বেশি ঐক্য ও সংহতির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

গত চার বছরে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে ইরান নিষ্ক্রিয় অবস্থান থেকে এই জোটকে বের করে আনার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে এ দায়িত্ব ইরান ভেনিজুয়েলার কাছে অর্পণ করেছে।

সূত্র: পার্সটুডে