বৃহস্পতিবার, ১৯শে জুলাই, ২০১৮ ইং, ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

ন্যানো জ্বালানি কোষ তৈরি করলেন ইরানি গবেষক

পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ১, ২০১৮ 

news-image

নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম উল্লেখযোগ্য উৎস ফুয়েল সেল বা জ্বালানি কোষের প্রোটন বিনিময় ঝিল্লি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন একদল ইরানি বিজ্ঞানী। এর ফলে ঝিল্লিতে প্রোটনের রূপান্তর প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর প্রোটন রূপান্তর প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির মাধ্যমে জ্বালানি ও পরিবেশগত সঙ্কটের সমাধান হবে বলে আশা গবেষকদের। কেননা, প্রোটন বিনিময় ঝিল্লিকে জ্বালানি সেলের অন্তর বলা হয়।

প্রসঙ্গত, পরমাণু- ইলেকট্রন প্রোটন ও নিউট্রন নামক কণিকা নিয়ে গঠিত।পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে প্রোটন ও নিউট্রন।আর চতুর্দিকে কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান থাকে ইলেকট্রন। প্রোটন ধনাত্মক চার্জযুক্ত, নিউট্রন চার্জবিহীন।ইলেকট্রন ঋণাত্মক চার্জযুক্ত। অন্যদিকে জ্বালানি কোষ হচ্ছে এমন একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ যেখানে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় সরাসরি ডিসি কারেন্ট হয় এবং বাই প্রোডাক্ট হিসেবে পানি এবং তাপ উৎপন্ন হয়।

ইরানের আমির কবির ইউনিভার্সিটির গবেষক মেহদি সদরজাহানি এ নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তিনি ন্যানো-জীবন কাঠামোর ভিত্তিতে আয়ন বিনিময় ঝিল্লিতে আয়নিক পরিবাহিকতা নিয়ে এই গবেষণা পরিচালনা করেন যা জ্বালানি কোষে প্রয়োগ করা যাবে। এই প্রযুক্তি জ্বালানি ও পরিবেশগত সঙ্কটের সমাধান এনে দেবে বলে জানান তিনি।

সদরজাহানি জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, জ্বালানির প্রাকৃতিক উৎসের ব্যবহার পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি করে। তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেক্ষেত্রে ফুয়েল সেল পরিচ্ছন্ন জ্বালানি তৈরি করতে পারে। এটা এমন একটি পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়া যেখানে ইলেকট্রো-রাসায়নিক যন্ত্র জ্বালানিকে পানিতে রূপান্তর করে।

তিনি বলেন, যেকোনো জ্বালানি কোষের ক্ষেত্রে অন্যতম সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে প্রোটন বিনিময় ঝিল্লি যাকে জ্বালানি কোষের অন্তর বলা হয়। প্রোটন (+এইচ আয়নস) পরিচালনার একটি ভিত্তি হিসেবে প্রোটন বিনিময় ঝিল্লি কাজ করে থাকে এবং কোষের মধ্যে চুল্লিকে বিভাজিত করে। এটা ফুয়েল সেলের জ্বালানি কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইরানি এই গবেষক আরও জানান, তার গবেষণা প্রোটন বিনিময় ঝিল্লিতে প্রোটনের পরিবাহিকতা বিকাশে একটি বড় পদক্ষেপ। তিনি বলেন, প্রোটন পরিচালনা করতে ন্যানো উপকরণের মধ্যে ন্যানো ফাইবারকে একটি উপযুক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানো যাবে।

সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি।