মঙ্গলবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

নজরুলের কবিতায় কোরবানি ও ঈদ-উল-আযহা

পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ 

আমিন আল আসাদ

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমগ্র সাহিত্যকর্ম আমাদের জাতীয় জীবনের নানাবিধ অধ্যায় ও বৈশিষ্ট্যকে পূর্ণরূপে ধারণ করে আছে। কবি নজরুল ইসলাম এমন এক বিস্ময়কর কাব্যমেধার নাম যাঁকে কোন দেশ-কাল-পাত্রের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি সর্বজনীন ও বিশ্বজনীন। তাঁর কবিতা ও গান প্রথমত স্পর্শ করেছে মানবতাকে। দেশাত্মবোধ, স্বজাত্যবোধ, অসাম্প্রদায়িকতাবোধ সহ সামাজিক ও মানবিক জীবনের বিভিন্ন দিক ও বিভাগকে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন তাঁর লেখনিতে। নজরুল জীবনের বহুমাত্রিকতাই তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে যেমন করেছে মহিমান্বিত, তেমনি আন্তর্জাতিকতা প্রাপ্তও হয়েছেন তিনি। নজরুলের কবিতা ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, ফারসি, ফরাসি, রুশ ও চৈনিক ভাষাতে অনূদিত হয়েছে। বিশ্বজন কর্র্তৃক তিনি সমাদৃত হয়েছেন বলেই বিগত ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে পারস্যের কবিদের গুল বাগিচায় ইরান-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নজরুল সম্মেলনে ইরানের সাংস্কৃতিক মন্ত্রী বলতে বাধ্য হয়েছেন, ‘নজরুল আমাদেরই সম্পদ। প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া নজরুলকে আমাদের মাঝখান থেকে বাংলাদেশের কাদামটিতে ফেলে দিয়েছে।’ জাতীয় জীবনের মতো আন্তর্জাতিকতা তাঁর সাহিত্যে স্থান পেয়েছে বলেই ভিন্ন দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে নজরুলকে নিজের মনে হয়। নজরুল ইসলাম হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়কে নিয়েই ভেবেছেন এবং তাঁর সে ভাবনা তাঁর রচনায় ফুটে উঠেছে। এদিক দিয়ে তিনি ছিলেন সাম্প্রাদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি অসাম্প্রদায়িক ছিলেন মানে এই নয় যে, তিনি নিজের ধর্ম সম্প্রাদায়কে উপেক্ষা করেছেন। অসাম্প্রদায়িকতা মানে এই নয় যে, নিজের ধর্মীয় জীবন-দর্শন, বোধ-বিশ্বাস, ধর্মীয় নৈতিকতা, আচার-আচরণ ও ধর্মের মূল দর্শনের অন্তর্নিহিত সত্যকে অস্বীকার করতে হবে বা পাশ কাটিয়ে চলতে হবে। তাই নজরুল নিজের দ্বীন-দর্শনকে সম্মান করেছেন এবং অন্যকেও মর্যাদার সাথে পাশে অবস্থান দিয়েছেন।
নজরুল ধর্মের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যকে মানবতার সৌন্দর্যরূপে পেশ করেছেন। ধর্মের ভেতরের মানবিক মূল্যবোধকে বের করে এনেছেন। ধর্মের তথাকথিত ধ্বজা নয় এবং আচারস্বর্বস্ব বক-ধার্মিকতা নয় বরং ধর্মের সঙ্গে যে নৈতিকতার প্রসঙ্গটি জড়িত সেই নৈতিকতাকে সকল অন্যায়-অবিচার, জুলুমের বিপক্ষে সংগ্রামে অসি ও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন নজরুল। বাজিয়েছেন পরাধীনতা থেকে জাতির মুক্তির রণবাদ্য।
ধর্মীয় উপলক্ষসমূহের ভেতর যে দর্শন কাজ করে বা কোন ঐতিহাসিক ঘটনা যা ধর্মের উপলক্ষ হিসেবে স্মরণীয় বা চর্চিত হয়ে এসেছে এর ভেতরের চেতনাকে গণমুক্তির চেতনা হিসেবে নজরুল তাঁর ভাষায় প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। আর যেহেতু ইসলাম শুধু কতিপয় আচারসর্বস্ব ধর্ম নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান যার রয়েছে একটি সামাজিক অবকাঠামো যা বিশৃঙ্খল আরব জাতিকে করেছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সারিবদ্ধ করেছিল ঐক্যের মন্ত্রে। পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সে ঐক্যের বিকল্প নেই।
নজরুলের যুগটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্যাস্থ না যাওয়ার যুগ। নজরুল নানাভাবে বাংলার হিন্দু-মুসলমানকে যুগপৎভাবে জাগিয়ে দিতে চেয়েছেন পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বেড়িয়ে আসার জন্য। মুসলমানদেরকে জাগানোর জন্য তিনি লিখেছেন, ‘মোহররম’, ‘কোরবানী’, ‘বকরিদ’, ‘শহীদী ঈদ’ সহ অনেক কবিতা।
ইসলামের অনন্য উৎসব ঈদ-উল-আযহা। বিশ্বের মুসলমানরা যে মুসলিম পরিচয় বহন করে, সেই পরিচয়ের প্রতিষ্ঠাতা হলেন হযরত ইবরাহীম (আ.)। তাই মুসলিম জাতিকে বলা হয় ‘মিল্লাতে ইবরাহীম’ বা ইবরাহীমের জাতি। ইবরাহীম (আ.) হচ্ছেন মুসলিম জাতির পিতা। ত্যাগের পরীক্ষায় বহুবার তিনি হয়েছিলেন পরীক্ষিত। প্রাণের চেয়ে প্রিয় পুত্রকে আল্লাহর রাহে কোরবানি করতে একটুও ছিল না দ্বিধা-সংকোচ। মানবতাকে বধ করা ছিল নার উদ্দেশ্য। উদ্দেশ্য ছিল ইবরাহীমের হৃদয় পরখ। উত্তীর্ণ হলেন ইবরাহীম (আ.) সেই পরীক্ষায়। আল্লাহ পাঠিয়ে দিলেন দুম্বা। ইসমাইল (আ)-এর পরিবর্তে সেই দুম্বা জবাই হয়ে গেল। সেই থেকে অদ্যাবধি চলছে ঈদুল আযহায় পশু কোরবানি। কিন্তু এ ঘটনায় অন্তর্নিহিত শিক্ষা যে ত্যাগ, তা ভুলে গিয়ে আমরাও কি আচারস্বর্বস্ব হয়ে যাই নি? আমাদের আচরণের ভেতর যে দর্শন বিচরণের কথা ছিল তা কোথায়? নজরুল তো সেই কথাই বলেছেন তাঁর ‘কোরবানী’ কবিতায়-
‘ওরে হত্যা নয় আজ ‘সত্যগ্রহ’ শক্তির উদ্বোধন
দুর্বল ভীরু চুপ রহো ওহো খামখা ক্ষুব্ধ মন
ধ্বনী ওঠে রণি দুরবানীর
আজিকার এ খুন কোরবানীর
দুম্বাশির-রুমবাসীর
শহীদের শির সেরা আজি।’ [কোরবানী]
পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য যে জীবন দানের প্রয়োজন। সে জন্য ইবরাহীমের মতো পুত্র কোরবানি প্রয়োজন। জাতির জন্য হাজেরা মায়েদের পড়াতে হবে বলির বসন তাদের প্রিয় পুত্রকে। তবেই স্বাধীনতা আসতে পারে।
‘আস্তানা সিধা রাস্তা নয়
আযাদি মেলে না পস্তানোয়
দস্তা নয় সে সস্তা নয়।’’ [কোরবানী]
সেজন্য দরকার আলীর জুলফিকার-
“চরেছে খুন আজ খুনিয়ারার
মুসলিমে সারা দুনিয়াটার
জুলফিকার’ খুলবে তার
দুধারী ধার, শেরে খোদার
রক্তে পুত-বদন
ওরে শক্তি হস্তে মুক্তি, শক্তি রক্তে সুপ্ত শোন
ওরে হত্যা নয় আজ ‘সত্যগ্রহ’ শক্তির উদ্বোধন।”
[ কোরবানী]
নজরুল তাঁর সংগ্রামী চেতনার ভেতরেই ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানির ঈদের তাৎপর্য খুঁজে পেয়েছেন। সেটাই তিনি তাঁর ‘বকরীদ’ কবিতায় বলতে চেয়েছেন।
‘শহীদানদের ঈদ এলো বকরীদ
অন্তরে চির নৌ-জোয়ান যে তারি তরে এই ঈদ
আল্লার রাহে দিতে পারে যারা আপনারে কোরবান
নির্লোভ নিরহংকার যারা যাহারা নিরভিমান
দানব দৈত্যে কতল করিতে আসে তলোয়ার লয়ে
ফিরদাউস হতে এসেছে যাহারা ধরায় মানুষ হয়ে
অসুন্দর ও অত্যাচারীরে বিনাস করিতে যারা
জন্ম লয়েছে চির-নির্ভীক, যৌবন মাতোয়ারা
তাহাদেরি শুধু আছে অধিকার ঈদগাহে ময়দানে
তাহারাই শুধু বকরীদ করে জান-মাল কোরবানে।”
[বকরীদ/কাব্যগ্রন্থ জাগরণ]
আবার বলেছেন-
“ইব্রাহিমের মতো পুত্রেরে আল্লার রাহে দাও
নৈলে কখনো মুসলিম নও মিছে শাফায়াত চাও
নির্যাতিতের লাগি’ পুত্রেরে দাও না শহীদ হতে
চাকুরীতে দিয়া মিছে কথা কও- ‘যাও আল্লার পথে’?
বকরীদি চাঁদ করে ফরিয়াদ দাও দাও কোরবানী
আল্লারে পাওয়া যায় না করিয়া তাহার না-ফরমানী
——————————————–
ওমরে, খালেদে, মুসা ও তারেকে বকরীদে মনে কর
শুধু সালওয়ার পরিও না, ধর হাতে তলোয়ার ধরো।’’
[বকরীদ]
এভাবে নজরুল কোরবানি বা ত্যাগের মর্মকে উপলব্ধি করেছেন এবং মুসলিম বীরদেরকে জাতীয় জাগরণের প্রতীক ও প্রেরণা হিসেবে তুলে ধরেছেন। মহান বীরদের ও তাঁদের কোরবানি ও প্রচেষ্টাসমূহকে স্মরণ করেছেন যে প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়েই জুলুম-জালিম উৎখাত হবে।
সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্ব, জালিম-মজলুমের সংঘাত, শোষক-শোষিতের লড়াই, নিপীড়ক-নিপীড়িতের যুদ্ধ, ধর্ম-অধর্মের জিহাদ হচ্ছে মানব জাতির ইতিহাস। সত্যের সুরে অসুরকে বিদূরিত করতে আলোর গানে অন্ধকারকে বিদূরিত করতে জমায়েত হতে হবে শহীদের ঈদগাহে। উৎসর্গ করতে হবে আল্লার রাহে অর্থাৎ ন্যায়ের পথে সংগ্রামে জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বস্তুকে।
‘‘শহীদের ঈদ এসেছে আজ
শিরোপরি খুন লোহিত তাজ
আল্লার রাহে চাহে সে ভিখ
জিয়ারার চেয়ে পিয়ারা যে
আল্লার রাহে তাহারে দে
চাহি না ফাঁকির মণি মানিক ।।

চাহিনা ক’ গাভী দুম্বা উট
কতটুকু দান? সে দান ঝুট
চাই কোরবানী চাই না দান
রাখিতে ইজ্জত ইসলামের
শির চাই তোর তোর ছেলের
দেবে কি? কে আছো মুসলমান?’’ [শহীদি ঈদ]
সা¤্রাজ্যবাদী শোষণের অক্টোপাশ থেকে মুক্ত হতে হলে প্রয়োজন জীবনের চেয়ে দীপ্ত মৃত্যু। কোন এক দেশের বিপ্লবী নেতা বলেছিলেন, ‘আদর্শ বাস্তবায়ন বা স্বদেশেকে মুক্ত করা অথবা রক্ষা করা আমার কাজ নয়। আমার দায়িত্ব হচ্ছে আমার মাটিতে দুশমন পা রাখার আগে তাকে প্রতিরোধে দেশ ও আদর্শের জন্য আমার জীবন দিয়ে দেয়া’,’ যেমনিভাবে করি ফররুখ বলেছিলেন :
‘জীবনের চেয়ে দীপ্ত মৃত্যু তখনি জানি
শহীদী রক্তে হেসে ওঠে যবে জিন্দেগানী।’
কেননা, বাঁচার জন্য প্রয়োজন মৃত্যু। যারা বাঁচার জন্য ছোটে তারা বাঁচতে পারে না। যারা মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে মরার জন্য ছোটে তারাই বেঁচে থাকে। তারাই মৃত্যঞ্জয়। নজরুল ইসলামও তাই বলেন–
‘শুধু আপনারে বাঁচায় যে
মুসলিম নহে ভ- সে
ইসলাম বলে বাঁচ সবাই
দাও কোরবানী জান ও মাল
বেহেশত তোমার কর হালাল
স্বার্থপরের বেহেশত নাই।’ [শহীদী ঈদ]
নজরুল আহ্বান করেছেন- ‘শির দে, খুন দে, বৎস শোন’
কেননা- ‘গোলামীর চেয়ে শহীদী দরজা অনেক উর্ধে জেনো
চাপরাশীর ওই তকমার চেয়ে তরবারী বড়ো মেনো।’
কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরও তাই বলেছেন :
‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ভয় নাই ওরে ভয় নাই
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।’
আর যারা অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে শহীদ হতে পারে তারাই লাভ করতে পারে মুক্তি। উত্তর পুরুষের জন্য রেখে যায় স্বাধীনতা ও মুক্ত আবাসভূমি আর নিজেরা লাভ করে জান্নাত। ঈদের জামাত তো তাদেরি—-
‘আমাদের নয় তাদের ঈদ
বীর-সুত যারা হল শহীদ
অমর যাদের বীরবাণী।’ [শহীদী ঈদ]
নজরুল বলেছেন যখন পূর্ণ-আজাদ হবে স্বদেশভূমি, তখন পশু কোরবানি করো। আর পশু যদি জবাই করতেই হয় তবে মনের পশুকে আগে জবাই করো। তারপর প্রতীকি পশু জবাই করো আর গোশত খাও তাতে আপত্তি নাই।
‘মনের পশুরে কর জবাই
পশুরাও বাঁচে বাঁচে সবাই।’
একই ভাবাদর্শে আরেক কবি লিখেছেন-
‘আত্মত্যগের ঈদ হলো ভাই
ঈদুল আযহা কোরবানীর ঈদ
আত্মত্যাগের আদর্শে আজ
জাগিয়ে দাও ভাঙ্গিয়ে নিদ

শুধু পশু কোরবানী নয়
তারই সাথে করবো জবাই
মনের ভেতর পুষে রাখা
পশুটাকে আজকে সবাই।’
নজরুল বলেছেন। পশু কোরবানি দাও ভালো কথা। কিন্তু পশু কোরবানি স্বার্থক হবে তখন যখন দেশ মুক্ত হবে। দেশকে শত্রুর শৃঙ্খলে আবদ্ধ রেখে আযাদীর পায়ে ডাণ্ডা বেড়ি রেখে কেবল পশু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতার দরকার কী?
পশু কোরবানি তখন দিও যখন দেশ ও সমাজ মুক্ত হবে সা¤্রাজ্যবাদী জুলুম থেকে।
‘পশু কোরবানী দিস তখন
আজাদ মুক্ত হবি যখন
জুলুম মুক্ত হবে রে দ্বীন
কোরবানীর আজ এই যে খুন
শিখা হয়ে যেন জ্বালে আগুন
জালিমের যেনো রাখে না চিন
আমিন রাব্বিল আলামিন।
আমিন রাব্বিল আলামিন ।।’’
যে পৃথিবীতে আজ আমাদের বসবাস। সে পৃথিবীতে রয়েছে বিভিন্ন দেশ, জাতি, ভাষা, ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, গোত্র, দল, মত, মাজহাব, তরীকা ও অঞ্চলভেদে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মানুষ। কিন্তু জালিমের কোন ধর্ম, মত, দল ও রাজনৈতিক পরিচয় নাই। তদ্রƒপ নিপীড়িতেরও নেই কোন দল-মত-গোষ্ঠী। সৃষ্টির আদিকাল থেকে এ পর্যন্ত প্রেক্ষাপট বদল হয়েছে, পরিবর্তন এসেছে পৃথিবীতে, কিন্তু জালিম-মজলুমের লড়াই আজো অব্যাহত আছে। বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র, মাজহাব, তরীকা, বর্ণ, দল ও রাজনৈতিক মতাদর্শের নামে চলেছে মানুষের মুক্তির প্রচেষ্টা, তেমনি বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র, মাজহাব, তরীকা, বর্ণ, দল ও রাজনৈতিক মতাদর্শের নামে চলছে জুলুমও। একমতের মানুষ কর্র্তৃক অন্য মতের মানুষকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা অতীতেও ছিল, আজো আছে। পৃথিবীর ইতিহাস হচ্ছে যখনি কোন মতের মানুষ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে ও ক্ষমতার শীর্ষে উঠেছে তখনি ভিন্নমতের মানুষকে নিষ্পেষণ করার চেষ্টা করেছে। আজকের বিশ্বের মুসলিম-অমুসলিম দেশসমূহে যা দৃশ্যমান তা কোন ভিন্ন চিত্র নয়। আবার একপেশে নির্যাতিত মানুষরাও যখন উল্টোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং ক্ষমতাসীনকে হটিয়ে দিয়ে দখল করে নিয়েছে সেই শীর্ষ ক্ষমতা তখন তারাও মানবতা ও ন্যায়নীতি দেখায় নি পতিত শ্রেনিগোষ্ঠীর প্রতি। এটাই বিশ্বের নির্মম ইতিহাস। একমাত্র মহানবী (সা.) কর্তৃক মক্কা বিজয়ের ঘটনা ব্যতীত। সেদিন মহানবী (সা.)-এর নেতৃত্বে মক্কার বিজয়ী মুসলিম শক্তি বিজিত শক্তির ওপর কোন জুলুম তো করেই নি; বরং ক্ষমা করে দিয়েছেন সবাইকে। এটা কেবল তাঁর পক্ষেই সম্ভব। কারণ, তিনি আল্লাহর নবী। কিন্তু আমাদেরকেও শিখতে হবে আল্লাহর নবীর কাছ থেকেই। সামগ্রিক মানবতাকে রক্ষা করতে হলে দরকার যে ত্যাগের, দরকার যে কোরবানির, সে কোরবানির নাম স্বার্থত্যাগ। সে কোরবানির নাম শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। সে কোরবানির নাম ন্যায়নীতির প্রতিষ্ঠা। আমাদের ঈদ-উল-আযহা বা বকরীদ তবেই স্বার্থক হবে ইনশাআল্লাহ।