রবিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং, ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

সংবাদ বিচিত্রা

পোস্ট হয়েছে: মে ১৬, ২০১৮ 

নওরোয উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট রুহানির অভিনন্দনবার্তা : নতুন ইরানি বছরে বিশ্ব হোক শান্তি ও সুবিচারে পরিপূর্ণ

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন ড. হাসান রুহানি ইরানি নতুন বছরের প্রথম দিন নওরোয উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের নিকট অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।
গত ২১শে মার্চ (২০১৮) ইরানি জনগণের মধ্যে হিজরি সৌরবর্ষ হিসেবে সমধিক পরিচিত ইরানি নতুন বছর ১৩৯৭ শুরু হয়। এ উপলক্ষে ২০শে মার্চ প্রেসিডেন্ট রুহানি বিশেষভাবে নওরোয উৎসব পালনকারী দেশ আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, পাকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আর্মেনিয়া, তুরস্ক, কাযাকিস্তান, ভারত, কিরগিযিস্তান, ইরাক ও উযবেকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানগণ বরাবরে আলাদাভাবে প্রেরিত একটি বাণীতে তাঁদেরকে ও তাঁদের নিজ নিজ দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান।
প্রেসিডেন্ট রুহানি তাঁর এ বাণীতে বলেন, নওরোযের আগমন শান্তি ও বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি নিয়ে। তিনি বলেন, আমি আশা করি যে, সৌন্দর্য ও সম্ভারে পরিপূর্ণ নওরোয উৎসব থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে বিশ্ব সকল জনগণের জন্য শান্তিপূর্ণ হবে এবং সহিংসতা, চরমপন্থা ও যুদ্ধ থেকে দূরে থাকবে, সেই সাথে আমাদের সরকারগুলো ও রাজনীতিবিদগণ আমাদের জনগণের জন্য শান্তি, ঐক্য ও সুবিচার নিয়ে আসার লক্ষ্যে দৃঢ়তার সাথে কাজ করতে সক্ষম হবে।
প্রেসিডেন্ট রুহানি তাঁর এ বাণীতে বলেন, সুপ্রাচীন ও গূঢ় তাৎপর্যবহ নওরোয উৎসব হচ্ছে আমাদের সুসভ্য পূর্বপুরুষদের সুগভীর চিন্তা-চেতনা, সমৃদ্ধ সভ্যতা ও সমুন্নত সংস্কৃতি থেকে উৎসারিত আনন্দ ও সুখ-শান্তিতে পরিপূর্ণ একটি বিরাট উপলক্ষ- যাঁরা আমাদের জন্য এ ধরনের একটি মুল্যবান উত্তরাধিকার রেখে গিয়েছেন।
ড. রুহানি তাঁর বাণীতে আরো বলেন, রং ও সুগন্ধ নিয়ে বসন্ত ও নওরোযের আগমন- যা আমাদের কাছে সৌন্দর্য ও আনন্দের বাণী, সতেজ প্রকৃতি এবং শান্তি ও বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বসন্তের আগমনের সাথে সাথে বিশ্ব সাধারণভাবে সকল মানুষের জন্য ও বিশেষভাবে এতদঞ্চলের জনগণের জন্য ঐক্য, সংহতি ও সততা নিয়ে আসবে, সমস্ত রকমের জাতিগত ও ধর্মীয় বিরোধের অবসান ঘটাবে, আর বিশ্ব হবে শান্তিপূর্ণ এবং যে কোনো ধরনের সহিংসতা, চরমপন্থা ও যুদ্ধ থেকে মুক্ত।
প্রেসিডেন্ট রুহানি তাঁর বাণীর শেষে নতুন হিজরি সৌরবর্ষ ১৩৯৭ সংশ্লিষ্ট সকল দেশের জনগণের জন্য একটি শুভ নতুন বছর হোক- এই কামনা করেন।
এছাড়া জাতির উদ্দেশে দেয়া নওরোযের ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর হাসান রুহানি বলেন, শত্রুদের নানা ষড়যন্ত্র ও তৎপরতা সত্ত্বেও গত ফারসি বছরে ইরানি জাতি নানা বিজয় ও সাফল্য অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, ইরানি জাতির ঐক্য দেখে শত্রুরা বিস্মিত হয়েছে এবং তারা এই মহান জাতির পরাক্রমের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।
ভূমিক¤েপ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত কেরমানশাহ শহরে এক সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানি জাতি ইরাকি, সিরীয় ও লেবাননি জাতির পাশে থেকে এ অঞ্চলে আগের চেয়েও বেশি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে।
ড. রুহানি আরও বলেন, যেমনটি সর্বোচ্চ নেতা নওরোজ-বার্তায় বলেছেন, নতুন ফারসি বছর হবে জাতীয় উৎপাদন, ইরানি পণ্যের প্রতি সহায়তা, কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির বছর।

 ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত

গত ১ এপ্রিল ইরানে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র দিবস। ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের মাত্র দুই মাস পর ১৯৭৯ সালের এই দিনে এক ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণভোটের মাধ্যমে ইরানের জনগণ ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেন। জনগণ ইসলামি প্রজাতন্ত্র চায় কি না জানতে চেয়ে এই গণভোটের আয়োজন করা হয়। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী-আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, শত্রুদের প্রত্যাশার বিপরীতে ইসলামি বিপ্লবের চল্লিশতম বছরটি হবে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সাফল্যমণ্ডিত। নানা ক্ষেত্রে ইরানের অব্যাহত সাফল্যের কারণেই ইহুদিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি শত্রুতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে আইআরজিসি প্রধান মন্তব্য করেন।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রশ্নে ঐতিহাসিক গণভোটের প্রাক্কালে ইসলামি ইরানের অবিসংবাদিত নেতা ও ইসলামি বিপ্লবের মহান রূপকার মরহুম ইমাম খোমেইনী (রহ.) বলেছিলেন, ‘এই গণভোট আমাদের জাতির ভাগ্য নির্ধারণ করবে। এ গণভোট হয় আপনাদের স্বাধীনতা ও মুক্তি দেবে তথা ইসলামি গণতান্ত্রিক শাসন উপহার দেবে অথবা অতীতের মতোই পরাধীনতা এবং রাজতান্ত্রিক স্বৈরশাসন বজায় থাকবে। আপনারা এ দুই পথের যে কোনো একটি পথ বেছে নিতে পারেন। এটা এখন আপনাদের স্বাধীন ইচ্ছার বিষয়।’
বিপ্লবের সময় ইরানি জনগণ শাহ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন দাবি-দাওয়া জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিত। এরকম একটি  স্লোগান ছিল ‘মুক্তি, স্বাধীনতা এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র।’
বিপ্লব বিজয়ের পর অনুষ্ঠিত ওই গণভোটে জনগণের এ দাবির পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটে। এতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পক্ষে ৯৮.২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এরপর ১৯৭৯ সালের ১ এপ্রিলকে (ফারসি ১২ ফারভারদিন) ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
ঐতিহাসিক ওই গণরায়ের মধ্য দিয়ে ইরানে রাজতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়া হয় এবং ইরানের জনগণ রাজতন্ত্রকে চিরদিনের জন্য প্রত্যাখ্যান করে। এ ছাড়াও এর ফলে ইরানে নিষিদ্ধ হয় মানবরচিত মতাদর্শভিত্তিক সব ধরনের শাসনব্যবস্থা। সেই থেকে প্রতি বছরের ১ এপ্রিল ইরানে পালিত হচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র দিবস।
প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র দিবসে ইমাম খোমেইনী (রহ.) এক বাণীতে বলেছিলেন, ‘পৃথিবীতে যাদেরকে হীনবল করা হয়েছে মহান আল্লাহ তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন বলে সূরা আল কাসাসের ৫ নম্বর আয়াতসহ কুরআনের নানা আয়াতে ওয়াদা করেছেন। মহান ইরানি জাতির প্রতি আমার আন্তরিক অভিনন্দন যারা রাজতন্ত্রের যুগে শাসকগোষ্ঠী ও রাজাদের জুলুমের কারণে অপমানিত হয়েছেন এবং দুর্ভোগ সহ্য করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সম্মানিত করেছেন, তাঁর শক্তিশালী হাত দিয়ে জালিম শাসককে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আল্লাহর শক্তিই বঞ্চিত ও শোষিত শ্রেণি তথা মুস্তাদআফদের শক্তি।
তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্র কায়েম করে দিয়ে ইরানি জাতিকে তাদের ন্যায়সঙ্গত উত্তরাধিকার দান করেছেন।’

ক্রীড়া দৃঢ়তা ও সুস্বাস্থ্য এবং জাতিসমূহের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সহায়ক : প্রেসিডেন্ট রুহানি

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল্-মুসলিমীন ড. হাসান রুহানি ক্রীড়ার প্রতি তাঁর দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, ক্রীড়া দৃঢ়তা ও সুস্বাস্থ্য এবং জাতি সমূহের মধ্যে ঐক্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক। তিনি গত ১ মার্চ (২০১৮) ফেডারেশন অব্ ইর্ন্টান্যাশন্যাল্ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন্স্ (ফিফা)-এর প্রেসিডেন্ট গিযান্নী ইন্ফ্যান্তিনোকে তেহরানে প্রদত্ত সাক্ষাতে এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, জাতি সমূহের জন্য, বিশেষ করে তরুণদের জন্য ফুটবলের বিশেষ আবেদন রয়েছে। এ কারণে ফিফা জাতি সমূহকে পরস্পরের সাথে ঘনিষ্ঠতর করে তোলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রেসিডেন্ট রুহানি আরো বলেন, সৌভাগ্যবশত ইরানি জনগণ, বিশেষ করে কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম ক্রীড়ার প্রতি, বিশেষ করে ফুটবলের প্রতি খুবই আগ্রহী। তিনি বলেন, ইরানিদের কাছে ক্রীড়ার ইভেন্টসমূহ খুবই আবেগ-উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাসের বিষয়; আর এটা আপনি তেহরানের সর্বাধিক জনপ্রিয় দু’টি ফুটবল ক্লাবের মধ্যে প্রতিযোগিতার সময় ভালোভাবে দেখতে পাবেন।
প্রেসিডেন্ট রুহানি উল্লেখ করেন যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকার ক্রীড়া ক্ষেত্রের জন্য উত্তরোত্তর বেশি সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে চেষ্টা করে আসছে। তিনি বলেন, এর ফলে আমাদের দেশে আজ সাধারণ জনগণের মধ্যে ও পেশাদার ক্রীড়াবিদদের মধ্যে ক্রীড়া তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় টীমসমূহ বৈশ্বিক পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ করছে, বিশেষ করে ইরানের জাতীয় ফুটবল টীমগুলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ের সবগুলো ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।
ড. রুহানি বিশেষ করে ইরানি নারীদের বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া ক্ষেত্রে, বিশেষত ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রতি ফিফা-র প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ইরানি নারীরা অধিকতর প্রাণবন্তভাবে ক্রীড়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করছেন, বিশেষ করে ফুটবলের ক্ষেত্রে ইরানে নারী ক্রীড়াবিদের সংখ্যা বর্তমানে ২৩ হাজার।
ইরানি প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসমূহের ও ক্রীড়া টীমসমূহের জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান একটি নিরাপদ দেশ। তিনি উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর জাতি সমূহের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করা উচিত। তিনি আরো বলেন, সব দেশের জনগণ যাতে তাদের নিজ নিজ দেশের স্টেডিয়ামসমূহে তাদের প্রিয় টীমসমূহের খেলা দেখার অধিকার ভোগ করতে পারে সে লক্ষ্যে ফিফার পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো প্রয়োজন।
ফেডারেশন অব্ ইর্ন্টান্যাশন্যাল্ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন্স্ (ফিফা)-এর প্রেসিডেন্ট গিযান্নী ইন্ফ্যান্তিনো তাঁর বক্তব্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাৎ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ফুটবলের বিশ্বব্যাপী একটি ভূমিকা রয়েছে এবং নিঃসন্দেহে ইরানি জনগণ বিশ্বের মধ্যে ফুটবলের সর্বাধিক আবেগময় ভক্ত।
গিযান্নী ইন্ফ্যান্তিনো আরো বলেন, ফিফা সব সময়ই ক্রীড়ার মাধ্যমে বিশ্বের অবস্থাকে উন্নততর করার জন্য চেষ্টা করে আসছে এবং ইরানে ফুটবলের মান উন্নততর করণে সহায়তা দানের ক্ষেত্রে ফিফা মোটেই দ্বিধা করবে না।
তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় ফুটবল টীমকে একটি শক্তিশালী টীম বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, অন্যান্য দেশের জনগণের ন্যায় ইরানি জনগণেরও স্টেডিয়ামসমূহে তাদের টীমের সপক্ষে আবেগ-উচ্ছ্বাস প্রকাশের ও স্বীয় টীমকে উৎসাহ প্রদানের অধিকার রয়েছে এবং আমরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসমূহের আন্তর্জাতিক ফেডারেশন হিসেবে তাদের এ অধিকারের প্রতিরক্ষা করে যাব।

 ৮০ লাখ দর্শনার্থীর পদচারণায় শেষ হলো নওরোজ উৎসব

ইরানে টানা দুই সপ্তাহব্যাপী ব্যাপক অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে গত ২ এপ্রিল শেষ হলো নওরোজ উৎসব তথা ফারসি নববর্ষ। এবারের নওরোজের ছুটিতে দেশটির ঐতিহ্যবাহী জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে ভ্রমণ করেছেন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী। সরকারি তথ্য মতে, উল্লিখিত সময়ে প্রায় ৮০ লাখ দর্শনার্থী দেশটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে ঘুরাঘুরি করেছেন।
শনিবার ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, হস্তশিল্প ও পর্যটন সংস্থার (সিএইচএইচটিও) মিউজিয়াম ও ঐতিহাসিক স¤পত্তি বিষয়ক পরিচালক মোহাম্মাদ রেজা কারজার এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ইরানের জাদুঘর ও অন্য স্থাপনাগুলোতে প্রায় ৮০ লাখ লোখ ভ্রমণ করেছে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, হস্তশিল্প ও পর্যটন সংস্থার আওতাধীন এসব জায়গাতে ঘুরাঘুরি করতে প্রবেশ ফি দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
রেজা কারজার বলেন, আগের বছরের তুলনায় এবারে দর্শনার্থীর সংখ্যা ১৫ শতাংশ বেশি ছিল। ফারস প্রদেশে ইরানের সর্বোচ্চ সংখ্যক মিউজিয়াম থাকায় সেখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।
এছাড়া রাজধানী তেহরানের ল্যুভর প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল রেকর্ড সংখ্যক। একদিনের প্রদর্শনীতে এসেছে ১৫ হাজার ৬শ’ ভ্রমণাকারী। ইরানের জাতীয় জাদুঘরে চলমান ল্যুভর শো চলবে আগামী ৮ জুন পর্যন্ত।

ইরান জুড়ে পালিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রকৃতি দিবস

ইসলামি প্রজাতন্ত্রে ইরানে গত ২ এপ্রিল উদ্যাপিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রকৃতি দিবস। ইরানি পঞ্জিকায় বছরের প্রথম মাস ফারভারদিনের ১৩ তারিখ প্রকৃতি দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়। সরকারি ছুটির এই দিনটি ইরানি নওরোজের শ্রেষ্ঠতম দিনগুলোর একটি।
নওরোজের প্রথম ১২ দিন অতিক্রান্ত হবার পর ইরানিরা অন্যদের সঙ্গে আনন্দ ও প্রফুল্লতা প্রকাশের জন্য এইদিন সপরিবারে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটায়।
প্রকৃতির নবজাগরণ দেখে তারা আল্লাহর সর্বশক্তিমান ক্ষমতা এবং পুনরুজ্জীবনের কথা স্মরণ করে।

ইরানে পালিত হলো পরমাণু প্রযুক্তি দিবস; উন্মোচিত হলো ৮৩ সাফল্য

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে গত ৯ এপ্রিল জাতীয় পরমাণু প্রযুক্তি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত বিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। মূল অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল রাজধানী তেহরানে। সেখানে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি উপস্থিত ছিলেন।
প্রেসিডেন্ট সরাসরি চারটি সাফল্য উন্মোচন করেন। এছাড়া ৭৯টি সাফল্য ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উন্মোচন করা হয়।
২০০৬ সালের এ দিনে ইরান নিজস্ব সক্ষমতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে পরমাণু জ্বালানি চক্র সংক্রান্ত প্রযুক্তি পুরোপুরি আয়ত্ব করার বিষয়টি ঘোষণা করেন। এরপর থেকে ইরানে ফারসি ২০ ফারভারদিন জাতীয় পরমাণু প্রযুক্তি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতসহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইরানের ওপর পাশ্চাত্যের কয়েক দশকের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তেহরান নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই অত্যাধুনিক ও জটিল প্রযুক্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
পরমাণু ক্ষেত্রে এ সাফল্য ইরানের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কারণ, নানা ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। এ জন্যই আজকাল বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের উন্নয়ন কর্মসূচিতে পরমাণু প্রযুক্তি অর্জনের বিষয়টি ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদস্য হয়েছিল ১৯৫৮ সালে এবং ১৯৬৮ সালে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (এনপিটি) সই করে। ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা গঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। আর ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের পর ইরান পরমাণু ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন এবং পরমাণু জ্বালানি চক্র পুরোপুরি আয়ত্ব করার ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দেয়। এরপরই বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা, শিল্প ও কৃষিকাজে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একের পর এক সাফল্য আসতে থাকে।

বাংলাদেশ ও ইরানের বন্ধন আরও মজবুত করতে হবে : আয়াতুল্লাহ আ’রাফি

‘বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ইরান এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’ গত ২৯ মার্চ ঢাকায় বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সাথে বৈঠকের সময় ইরানের আল-মোস্তফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর এবং জাতীয় মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আয়াতুল্লাহ আলি রেজা আ’রাফি এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। তবে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিনিময়ের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও উন্নত করা সম্ভব। এ বিষয়ে দুই দেশকে এগিয়ে আসতে হবে। ধর্মমন্ত্রী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ইরানের শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এছাড়া ইরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন এবং ক্বিরাত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশী প্রতিযোগীর সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
আয়াতুল্লাহ আ’রাফি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি শিক্ষা খাতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এর আগে গত ২৭ মার্চ আয়াতুল্লাহ আ’রাফি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর সাথে বৈঠক করেন। এ সময় তাঁরা দ্বিপক্ষীয় স¤পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আলেম সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে পৃথক কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
আয়াতুল্লাহ আ’রাফি ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি মাদ্রাসার পাঠাগারের উন্নয়নের জন্য ইরানের আল-মোস্তফা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুই হাজার ইউরো প্রদান করেন। এছাড়া রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য তিনি ২০ হাজার ডলার অনুদান প্রদান করেন।

ইরান ও তুর্কমেনিস্তানের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

সম্প্রতি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও মধ্য এশীয় প্রতিবেশী দেশ তুর্কমেনিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির তুর্কমেনিস্তান সফরের সময় তাঁর ও তুর্কমেনিস্তানের প্রেসিডেন্ট ক্বোরবান আলী র্বাদী মোহাম্মাদভ্-এর উপস্থিতিতে দু’দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এ সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট রুহানি একটি উচ্চপদস্থ ইরানি প্রতিনিধিদলসহ দুই দিনের সফরে গত ২৭শে মার্চ (২০১৮) তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশকাবাদে উপনীত হন এবং পরদিন ২৮শে মার্চ সেখান থেকে আযারবাইজান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাকু গমন করেন।
ইরান ও তুর্কমেনিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এসব সমঝোতা স্মারকে দু’দেশের মধ্যে সংস্কৃতি, চিত্রকলা, বিজ্ঞান ও শিক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিনিময়, বিমান চলাচল বিনিময় এবং বাণিজ্য ও শিল্প ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়াও প্রেসিডেন্ট রুহানির তুর্কমেনিস্তান সফর শেষে যুগপৎভাবে তেহরান ও আশ্কাবাদ্ থেকে একটি যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়।

 ইরান ও আযারবাইজান প্রজাতন্ত্রের মধ্যে ৮টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও প্রতিবেশী দেশ আযারবাইজান প্রজাতন্ত্রের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৮টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির আযারবাইজান সফরকালে গত ২৮শে মার্চ (২০১৮) আযারবাইজান প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট ইল্হাম্ আলীয়েভ্-এর উপস্থিতিতে এসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
ইরান ও আযারবাইজানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকসমূহে পরিবার, নারী, যুব, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার, স্বাস্থ্য, তেলশিল্প ও অর্থনীতি বিষয়ক পরস্পরিক সহযোগিতা এবং রাশ্ত্-আস্তারা যৌথ রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সমঝোতা স্মারক সমূহ স্বাক্ষর শেষে দুই দেশের প্রেসিডেন্টদ্বয় একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মিলিত হন। এ সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এ মর্মে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও আযারবাইজান প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে কেবল এ দু’টি দেশই লাভবান হবে না, বরং আঞ্চলিক দেশ সমূহ ও সমগ্র বিশ্ব লাভবান হবে।

ইরান ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে ওষুধবিজ্ঞান বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে গত ৭ই এপ্রিল ওষুধ বিজ্ঞান ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. সাইয়্যেদ হাসান গ্গাযীযাদে  ও ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ র্আরিয়াযা মর্ন্ত্সেরাত্-এর উপস্থিতিতে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ সমঝোতা স্মারকে ইরান থেকে ভেনেজুয়েলায় ওষুধ রফতানি ও সে দেশে ইরানি ওষুধের রেজিস্ট্রেশন ও উৎপাদন এবং ওষুধ বিজ্ঞান ক্ষেত্রে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণসেবা প্রদানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে ড. গ্গাযীযাদে বলেন, ওষুধবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বর্তমান সক্ষমতা ও বিরাট সম্ভাবনার বিষয়টি সকলেরই জানা আছে। তিনি বলেন, অনেক বছর যাবতই ওষুধ ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান শীর্ষ অবস্থানের অধিকারী। তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ভেনেজুয়েলা ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণাদির ক্ষেত্রে পরস্পরের সাথে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করতে পারে।
ইরানি স্বাস্থ্য মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের সমাপ্তিতে ভেনেজুয়েলায় ইরানের স্বাস্থ্য ও ওষুধ উৎপাদন ক্ষেত্রে সক্ষমতা বিষয়ক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, আমরা আশা করি যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ড্রাগ, ভ্যাকসিন্ ও ওষুধ উৎপাদন ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলাকে সাহায্য করতে সক্ষম হবে।
ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ র্আরিয়াযা মর্ন্ত্সেরাত্ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইরানের সাথে আমাদের সহযোগিতার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুফল অর্জন করা। ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণাদি উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে চিকিৎসা ক্ষেত্রে সহযোগিতা শক্তিশালী করার ওপর ভেনেজুয়েলা বিরাট গুরুত্ব আরোপ করে।
তিনি আরো বলেন, ইরান ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ওষুধ ও ড্রাগ উৎপাদনের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

চারটি ইউরোপীয় প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘরের সাথে ইরানের সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর

সম্প্রতি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় যান্জন্ প্রদেশের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার, হস্তশিল্প ও পর্যটন সংস্থা এবং চারটি ইউরোপীয় প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘরের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
উক্ত সংস্থার প্রধান জনাব ইয়াহ্ইয়া রাহ্মাতী জানান যে, যান্জনের বিভিন্ন প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চেহ্রাবাদ্ লবণ খনি সংক্রান্ত চতুর্থ প্রত্নতাত্ত্বিক ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা গবেষণার আওতায় যান্জন্ প্রদেশের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার, হস্তশিল্প ও পর্যটন সংস্থা এবং পশ্চিম জার্মানির বচুম্ শহরস্থ জার্মান মাইনিং মিউজিয়াম, পশ্চিম জার্মানির মেইন্য্ শহরস্থ সেন্ট্রাল মিউজিয়াম অব্ রোমান্ জার্মান, ফ্রাঙ্ক্ফুর্টের আর্কিওলোজক্যিাল মিউজিয়াম ও অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাস্থ ন্যাচার‌্যাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের মধ্যে স্বাক্ষরিত এ চুক্তিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও জার্মানিতে একাধিক প্রত্নতাত্ত্বিক প্রদর্শনী আয়োজনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে গত ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তেহরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জনাব আলী জান্নাতী ও ইরানস্থ তৎকালীন জার্মান রাষ্ট্রদূত মাইকেল ফ্রেইর্হা ভন্ উন্গ্রেন্ স্টার্নবুর্গ-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দু’দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সহযোগিতা অধিকতর সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। উক্ত বৈঠকে জনাব জান্নাতী উল্লেখ করেন যে, ইরান ও জার্মানির মধ্যে দূর অতীত কাল থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, এর ভিত্তিতে আমাদের দু’দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য চেষ্টা চালানো প্রয়োজন এবং টেকসই সাংস্কৃতিক সম্পর্ক দু’দেশের মধ্যে শক্তিশালী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের হেফাযতের নিশ্চয়তা বিধান করতে সক্ষম হবে।

ইরানে বাড়ি পেল সাড়ে ৩ হাজার প্রতিবন্ধী পরিবার

ইরানে সাড়ে ৩ হাজার পরিবারকে বাড়ি দেয়া হয়েছে যাদের অন্তত এক বা একাধিক প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছেন। ইরানের ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের পরিচালক আনোউশিরভান মোহসেনি-বান্দপেয় গত ১৭ মার্চ এ তথ্য জানান। তেহরান টাইমসকে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী সদস্যদের কল্যাণের দিকটি বিবেচনা করেই এসব পরিবারের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এধরনের আবাসন প্রকল্পে ১১ হাজার পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাদের এক বা একাধিক প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে। আর বাসস্থানের জন্য পরিবার পিছু তাদের দেয়া হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার মার্কিন ডলার।
গত জানুয়ারি মাসে ইরানের সংসদে প্রতিবন্ধী রয়েছে এমন পরিবারের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে এধরনের সহায়তার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদের বিনামূল্যে যাতায়াত সুবিধা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিমা, গৃহ ঋণ, অপেক্ষাকৃত কম সময়ের কর্মঘণ্টা সহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করতে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

ইস্পাত রফতানিতে ইরানের আয় ৬.৯ বিলিয়ন ডলার

গত ফারসি বছরে ইরান ইস্পাত রফতানি করে আয় করেছে ৬.৯ বিলিয়ন ডলার। দেশটির শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদন প্রতিষ্ঠান মোবারাকেহ স্টিল কোম্পানি একাই রফতানি করেছে ৩.১৬ বিলিয়ন ডলার। ইরানের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের পর এবং বিশ্ব বাজারে ইরানি ইস্পাতের চাহিদা বৃদ্ধিতে এধরনের সহায়ক ইস্পাত বাজার পেয়েছে দেশটি। ইরানের সাতটি ইস্পাত রফতানি প্রতিষ্ঠান গত ফারসি বছরে ১৯.২৫ মিলিয়ন টন ইস্পাত রফতানি করে। যা আগের বছরের তুলনায় ১৬ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইরানের ট্রানজিট রাজস্ব বেড়েছে ২০ শতাংশ

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ট্রানজিট থেকে রাজস্ব বেড়েছে ২০ শতাংশ। গত ২০ মার্চ শেষ হওয়া ইরানি অর্থ বছরে এই ট্রানজিট রাজস্ব প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।
ট্রেন্ড নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা (টিপিও) জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ২০ মার্চ থেকে এ বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১১ মাসে ইরানের ট্রানজিট রাজস্বের পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের বছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
এর আগে টিপিও এর ট্রানজিট দপ্তরের প্রধান মোহসেন রাহিমি বলেছিলেন, ইরাকের কুর্দি অঞ্চল থেকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইমাম খোমেইনী বন্দরে ফুয়েল (জ্বালানি) ট্রানজিটের পরিমাণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়াই ট্রানজিট রাজস্ব বৃদ্ধির মূল কারণ। তিনি জানান, ফুয়েল ট্রানজিটের পাশাপাশি আফগানিস্তানে কার্গো ট্রানজিট ইরানি বন্দরগুলোতে তেল পণ্যের লোড-আনলোড বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। সেই সাথে সামুদ্রিক ট্রানজিটও বেড়েছে।
সড়ক ট্রানজিট থেকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির। যার পরিমাণ ছিল ৭৭ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে এয়ার ট্রান্সপোরটেশন। এ থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে মেরিন ও রেল ট্রানজিট।

গাড়ি ও যন্ত্রাংশ রফতানিতে ইরানের আয় ৯৮ মিলিয়ন ডলার

গাড়ি ও যন্ত্রাংশ রফতানি করে ইরান আয় করেছে ৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত ১১ ফারসি মাসে এ ধরনের গাড়ি ও যন্ত্রাংশের মধ্যে কৃষি যন্ত্রাংশ ছিল উল্লেখযোগ্য। একই সময়ে ইরাকে এধরনের পণ্য রফতানি হয় ৬২ মিলিয়ন ডলারের। আফগানিস্তানে ৯.৯ মিলিয়ন ডলারের গাড়ি ও যন্ত্রাংশ রফতানি করে দেশটি। রাশিয়াতে রফতানি করে ২.৬ মিলিয়ন ডলার পণ্য।

ইরানে বিমানের জন্য উন্নততর হাইড্রোলিক সিস্টেম তৈরি হচ্ছে

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিজ্ঞান গবেষকগণ বিভিন্ন ধরনের বিমানে ব্যবহারোপযোগী হাইড্রোলিক সিস্টেম নির্মাণ করেছেন। এ ধরনের হাইড্রোলিক সিস্টেম ব্যবহারের ফলে বিমানের, বিশেষত ট্যুরিস্ট হেলিকপ্টারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অধিকতর শক্তিশালী হবে।
হাইড্রোলিক সিস্টেম এবং নিউম্যাটিক পার্ট্স্ ও ইকুইপমেন্ট উৎপাদন ক্ষেত্রে কর্মরত ইরানি গবেষকগণ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ফিল্টারেশন সিস্টেম ও হাইেেড্রালিক সার্কিট কন্ট্রোলের বাণিজ্যিক ভিত্তিক উৎপাদনযোগ্য ডিজাইন করতে সক্ষম হয়েছেন।
এ প্রকল্পে কর্মরত অন্যতম ইরানি গবেষক রেযা আবিদী বলেন, বর্তমানে সমস্ত হেলিকপ্টার ও বিমানই উন্নততর মানের হাইড্রোলিক সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে- যা বিমান ও হেলিকপ্টারের এতদসংক্রান্ত প্রয়োজনের সিংহ ভাগই পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে। আর বর্তমানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিমান শিল্প উন্নততর হাইড্রোলিক সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে।
তিনি বলেন, এ সিস্টেম বিভিন্ন উচ্চতায় বিমান বিধ্বস্ত হওয়া প্রতিরোধ করে- যা এ সিস্টেমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। তিনি জানান যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে উদ্ভাবিত এ উন্নততর হাইড্রোলিক সিস্টেম বর্তমানে ইরানের বিভিন্ন ধরনের বিমানে ব্যবহারের জন্য ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এ প্রকল্পে কর্মরত দুই জন ইরানি গবেষক রেযা আবিদী ও মোহম্মাদ হেম্মাতী ৩১তম আন্তর্জাতিক খাওয়ারিয্মী পুরস্কার (আইকেএ)-এর জন্য শীর্ষ গবেষক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।
আরো উল্লেখ্য যে, বিজ্ঞান সামগ্রী নির্মাণকারী সংশ্লিষ্ট ইরানি কোম্পানিটি হেলিকপ্টারের জন্য হাইড্রোলিক ফিল্টারেশন মডিউল্ সহ বিমান শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের ২০টি বৈজ্ঞানিক সামগ্রী উৎপাদন করছে।

ইরানি বিজ্ঞান গবেষক কেএফএএস্ অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অন্যতম বিজ্ঞান গবেষক মোহাম্মাদ ইবরাহীম খামসেহ্ ৯ম কুয়েত ফাউন্ডেশন র্ফ দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব্ সায়েন্স (কেএফএএস) অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছেন। ইবরাহীম খামসেহ্ ইরান ইউনিভার্সিটি অব্ মেডিক্যাল্ সায়েন্সেস্-এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট্ অব্ এন্ডোক্রিনোলোজি অ্যান্ড্ মেটাবোলিজম্ (আইইএম)-এর প্রধান। ডায়াবেটিস্-এর ক্ষেত্রে এন্ডোক্রিনোলোজি ও মেটাবোলিজম্ বিষয়ক গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখার কারণে তাঁকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর আঞ্চলিক কমিটির ৬৪তম অধিবেশনের সাইড্লাইনে ইবরাহীম খামসেহ্-কে কেএফএএস অ্যওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করা হয়। তাঁকে আগামী ১৫ থেকে ১৮ই অক্টোবর পর্যন্ত সুদানে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কমিটির ৬৫তম অধিবেশনে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে।

 ফ্রান্সে ক্বাজার আমলের ইরানি চিত্রকর্মের প্রদর্শনী

সম্প্রতি উত্তর ফ্রান্সের লুভ্র্ লেন্স্-এর জাদুঘরে ইরানের ক্বাজার শাসনামলের (১৭৮৬ – ১৯২৫) চিত্রকর্মের প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তেহরানের গোলেস্তান্ প্যালেস্ ওয়ার্ল্ড্ হেরিটেজ্ সাইট্-এর ব্যবস্থাপক জনাব মাসউদ নুসরাতী বলেন, ফ্রান্সের লুভ্র্ লেন্স্ মিউজিয়ামে ‘দ্য রোজ্ এম্পার্য়া : মাস্টারপিসেস অব পার্সিয়ান আর্ট্ ফ্রম দ্য নাইন্টিন্থ সেঞ্চুরি’ শিরোনামে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে ইরানের ক্বার্জা শাসনামলের এ চিত্রকর্মগুলোর প্রদর্শনী একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, কারণ, এ গুরুত্বপূর্ণ চিত্রকর্মগুলোর প্রতি ইতিপূর্বে যথাযথ দৃষ্টি দেয়া হয় নি।
গত ২৮শে মার্চ এ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে এবং আগামী ২৩শে জুলাই শেষ হবে। এ প্রদর্শনীতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষ থেকে ক্বাজার আমলের ১৯টি চিত্রকর্ম প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্বাজার আমলের যেসব চিত্রকর্ম রয়েছে সেগুলোও এ প্রদর্শনীতে প্রদর্শন করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, গত ৫ই মার্চ (২০১৮) থেকে বহু সংখ্যক ইরানি ও ফরাসি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতিতে তেহরানস্থ ইরান জাতীয় জাদুঘরে ফ্রান্সের লুভ্র্ মিউজিয়ামের ৫০টি চিত্রকর্মের একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়- যা আগামী ৩রা জুন পর্যন্ত চলবে। ইতিপূর্বে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষ ও লুভ্র্ মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ইরান ও ফ্রান্সে কতগুলো পারস্পরিক প্রদর্শনী আয়োজন ও কতগুলো প্রত্নতাত্ত্বিক প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তেহরানের ইরান জাতীয় জাদুঘরে ফ্রান্সের লুভ্র্ মিউজিয়ামের চিত্রকর্ম প্রদর্শনী ও উক্ত মিউজিয়ামে ক্বাজার আমলের ইরানি চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর আয়োজন উক্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতারই অংশবিশেষ।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর থেকে ইউরোপ ও আমেরিকার বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটার পর লুভ্র্ মিউজিয়াম আয়োজিত এ চিত্রকর্ম প্রদর্শনী হচ্ছে সর্বপ্রথম ইউরোপের একটি শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত ইরানি শিল্পকর্মের প্রদর্শনী।
এছাড়াও চুক্তির আওতায় লুভ্র্ ইসলামিক ডিপার্টমেন্ট পূর্ব ইরানে অবস্থিত প্রাচীন সিল্ক রোডের একটি এলাকার খননকার্য পরিদর্শনের জন্য ইরানে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক প্রতিনিধিদল পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইরানে চালু হল নতুন চ্যানেল ‘আইফিল্ম-২’

‘আইফিল্ম-২’ নামে ইরানে নতুন একটি টেলিভিশন চ্যানেল উদ্বোধন করা হয়েছে। চ্যানেলটি ইরান, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ফার্সি ভাষাভাষীদের জন্য চালু করা হয়েছে।
গত ১৭ মার্চ ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি’র প্রধান ড. আলী আসকারি এ নতুন চ্যানেলের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইআরআইবি বিশ্বকার্যক্রমের প্রধান ড. পেয়মান জেবেলি। চ্যানেলটি ২৪ ঘণ্টা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ২০১০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ইরানে আইফিল্ম টিভি চ্যানেল চালু হয়।

ইরানি প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক পুরসস্কার লাভ

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘বফান্দেগনে খিঅল্’ (কল্পনার বয়নকারীরা) সম্প্রতি পর্তুগালের ভিলা রিয়া-য় অনুষ্ঠিত ৪র্থ ইন্টারন্যাশন্যাল ডকুমেন্টারি ফিল্ম ফেস্টিভাল অ্যান্ড্ ট্রান্সমেডিয়া (আরআইওএস)-এ অংশগ্রহণ করে গ্র্যান্ড প্রিক্স পুরস্কার লাভ করেছে। গত ২১ থেকে ২৪শে মার্চ (২০১৮) পর্যন্ত এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
মোহাম্মাদ সাদেক্ব জা‘ফারী কর্তৃক পরিচালিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘কল্পনার বয়নকারীরা’ উক্ত উৎসবে অংশগ্রহণকারী আরো ২৪টি চলচ্চিত্রের সাথে প্রতিযোগিতা করে গ্র্যান্ড্ প্রিক্স পুরস্কার জয় করতে সক্ষম হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী অপর চলচ্চিত্রগুলো ছিলো স্পেন, পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, পেরু, মিসর, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ব্রাজিল, পোল্যান্ড ও রাশিয়ায় নির্মিত।
‘কল্পনার বয়নকারীরা’ চলচ্চিত্রে এমন একদল লোকের জীবনধারা তুলে ধরা হয়েছে দৃশ্যত যাদের জীবনধারার মধ্যে পারস্পরিক মিল নেই, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা একত্রিত হয়ে কার্পেট বয়ন করছেন। ‘কল্পনার বয়নকারীরা’ চলচ্চিত্রে এ সহজ-সরল বাস্তবতাটির প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে যে, একত্রে কাজ করার কারণে কীভাবে তাদের সকলের অন্তঃকরণ এক বিরাট সুখানুভূতিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, সাদেক্ব জা‘ফারীর চলচ্চিত্র ‘কল্পনার বয়নকারীরা’ ইতিপূর্বে ভারতে অনুষ্ঠিত এক চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায়ও শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া এটি ২০১৭ সালে ব্রিটেনের ওয়েল্সে অনুষ্ঠিত কার্ডলিফ্ ইন্টারন্যাশন্যাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করে শ্রেষ্ঠতম বিদেশী চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কৃত হয়।

ইরানি ফিচার ফিল্মের আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে নির্মিত ফিচার ফিল্ম ‘একুশ দিন পর’ (বিস্তো ইয়েক্ রুয্ বাদ্) সম্প্রতি জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ২৫তম কির্ন্ডা কিনো ফেস্টিভাল্ (কিকিফে)-এ অংশগ্রহণ করে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করেছে। গত ১৯ থেকে ২৫শে মার্চ (২০১৮) পর্যন্ত দক্ষিণ জার্মানির স্কোয়াবিচ্গ্মুন্দ শহরে এ চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
মোহাম্মাদ রেযা খেরাদ্মান্দা পরিচালিত ‘একুশ দিন পর’ চলচ্চিত্রের গল্পটি মোরতাযা নামক একটি কিশোরের জীবনসংগ্রামকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে যাকে তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বহু রকমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়।
উল্লেখ্য, কির্ন্ডা কিনো ফেস্টিভাল্ (কিকিফে) দক্ষিণ জার্মানির শ্রেষ্ঠ শিশু-কিশোর চলচ্চিত্র উৎসব। উক্ত উৎসবের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত সংবাদ অনুযায়ী তিনটি প্রধান ক্যাটেগরিতে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এ ক্যাটেগরিগুলো হচ্ছে : (১) শিশু ও কিশোরদের পারফরম্যান্স বিশিষ্ট দেশী ও বিদেশী চলচ্চিত্র- যা প্রতিযোগিতা, প্যানোরামা ও রেট্রোসপেকটিভ্ নামে তিনটি সেকশনে বিভক্ত; (২) চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মিডিয়া শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিশু ও কিশোরদের দ্বারা নির্মিত শর্ট ও অ্যানিমেটেড্ ফিল্ম; (৩) কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা আনন্দজনক ও তথ্যবহুল সহযোগী প্রোগ্রাম এবং কতক নির্বাচিত ফিল্মের শিক্ষা উপকরণ তৈরি ও বাস্তবায়ন।

ফজর ফিল্ম ফেস্টিভালে দুই বাংলাদেশি তরুণ নির্মাতা

ইরান তথা মধ্যপ্রাচ্যের সব থেকে বড় চলচ্চিত্র উৎসব ‘ফজর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল’। প্রতি বছর তেহরানে সাত দিনব্যাপী চলে এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় পঞ্চাশটি দেশ থেকে ক্যাম্পাস ভিত্তিতে ট্যালেন্ট খোঁজে ‘ট্যালেন্ট ক্যাম্পাস’ ক্যাটাগরির আওতায়। এই ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতায় যারা নির্বাচিত হন তাদের জন্যে ‘ফজর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল’ এর পক্ষ থেকে করানো হয় বিশেষ কর্মশালা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো চলতি মাসের ১৭ তারিখ শুরু হয়ে ২৩ তারিখ শেষ হয় ‘ফজর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল-২০১৮’ এর ৩৬তম আসর। এই চলচ্চিত্র উৎসবে এবারের ‘ট্যালেন্ট ক্যাম্পাস’ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের দুই স্বাধীন সিনেমা নির্মাতা কাজী মাহাদী মুনতাসির ও জোসেফ মেহেদী।
এই চলচ্চিত্র উৎসবে পঞ্চাশটি দেশ থেকে ‘ট্যালেন্ট ক্যম্পাস’ এর আওতায় যাঁরা যোগদান করেন তাঁদের জন্যে বিশেষ বৃত্তির ব্যাবস্থা রাখে ‘ফজর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল’। এই বৃত্তির আওতায় দুই তরুণ নির্মাতা কাজী মাহাদী মুনতাসির ও মেহেদী পাচ্ছেন ইরানের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠানে মাস্টার্স ক্লাস ও কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ।
তেহরানে অনুষ্ঠিত এই চলচ্চিত্র উৎসবের ‘ট্যালেন্ট ক্যাম্পাস’ বৃত্তি প্রদানের উদ্দেশ্য হচ্ছে, মূলত ইরানের চলচ্চিত্র উন্নয়ন ও নতুন ধারার চলচ্চিত্রের সঙ্গে বিশ্বের তরুণ চলচ্চিত্রকারদের পরিচয় ঘটানো।
মাহাদী মুনতাসির পেশায় একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে জাতীয় চলচ্চিত্র অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখন। ইতিপূর্বে কাজী মাহাদী মুনতাসির নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মিসিং’ দেশে-বিদেশে বেশ ক’টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে এবং সেই সাথে সুনামও কুড়িয়েছেন তিনি।
একই ক্যাটাগরিতে এই উৎসবে যোগ দিয়েছেন জোসেফ মেহেদী। তিনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগে। তার প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পোস্টার’। এই তরুণ নির্মাতা প্রথম কোন সাফল্য পান ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভালে। ২০১১ সাল থেকে মিডিয়াতে একজন ক্যামেরা ম্যান হিসেবে কাজ করছেন তিনি। বর্তমানে স্বাধীন এই নির্মাতা ব্যস্ত আছেন ‘প্রতিবন্ধী শিশু’ ও ‘সাকরাইন’ এর ওপর বিশেষ ডকুমেন্টারি নির্মাণে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩৫তম আসরেও বাংলাদেশ থেকে একই ক্যাটাগরিতে মধ্যপ্র্যাচ্যের এই বৃহৎ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি ডিপার্টমেন্টের (এমসিটি) শিক্ষার্থী সৈয়দ মিনহাজ হোসেন।
মূলত ফজর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল (এফআইএফএফ) এমন একটি অনুষ্ঠান, যেখানে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি বিনিময় করা হয় এবং ইরানও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে। প্রতি বছর খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালকদের পাশাপাশি নবীন চলচ্চিত্র পরিচালকরা তাঁদের নির্মিত চলচ্চিত্র এ উৎসবে প্রদর্শন করেন। বরাবরের মতো এবারোও ৩৬তম এফআইএফএফ উৎসব তত্ত্বাবধান করছেন ইরানের স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা রেজা মিরকারিমি।

বিশ্ব তাইকোয়ান্দো যুব চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতল ইরান 

বিশ্ব তাইকোয়ান্দো যুব চ্যাম্পিয়নশিপে নয়টি পদক পেয়ে শিরোপ জিতেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। ইরানি তাইকোয়ান্দো টিম এ প্রতিযোগিতায় সাতটি স্বর্ণ ও দু’টি ব্রোঞ্জপদক জিতেছে। ইরানের অর্জিত মোট পয়েন্ট ১০৭। এর মধ্য দিয়ে ইরান দীর্ঘ সাত বছর পর যুব চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতল।
তিউনিশিয়ার হাম্মামেত শহরে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৯ এপ্রিল থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে ১৩ এপ্রিল তা শেষ হয়।
এ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার্স-আপ হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি একটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও দুটি ব্রোঞ্জপদক জিতেছে। দ্বিতীয় রানার্স-আপ হয়েছে তুরস্ক। তুরস্ক জিতেছে একটি স্বর্ণ ও দু’টি রৌপ্যপদক।

ইউএসএ কারাতে ওপেনে সোনা জয় আহমাদির

ইউএসএ কারাতে ওপেনে সোনা জিতেছেন ইরানি অ্যাথলেট সাইদ আহমাদি। জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লাসভেগাসে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টে দারুণভাবে ইতি টানতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
গত ১ এপ্রিল আহমাদি পুরুষদের ৭৫ কেজি ওজনশ্রেণির কারাতে প্রতিযোগিতায় ইরানের পক্ষে অংশ নেন। টুর্নামেন্টের ফাইনালে আমেরিকান কারাতে টম স্কটকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জয় লাভ করেন তিনি।
ফাইনাল পর্বে আসার আগে আহমাদিকে বেশ কয়েকটি ধাপ পাড়ি দিতে হয়। তিনি পানামার প্রতিপক্ষকে ৬-১ পয়েন্টের ব্যবধানে, ইকুয়েডরের প্রতিপক্ষকে ৭-২ পয়েন্টের ব্যবধানে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষকে ৪-১ ব্যবধানে পরাজিত করেন। পরে সেমিফাইনালে চিলির প্রতিপক্ষকে ৩-১ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেন আহমাদি।
যুক্তরাষ্ট্রের লাসভেগাস অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত এবারের (২০১৮) কারাতে ওপেনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সহস্রাধিক অ্যাথলেট অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতা ৩০ মার্চ শুরু হয়ে শেষ হয় ১ এপ্রিল।

বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় ইরানের নারী শুটার-এর স্বর্ণপদক জয়

সম্প্রতি সম্মিলিত আরব আমীরাত (ইউএই)-এর আল-‘আইন শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড্ শুটিং প্যারা স্পোর্ট্স্ ওয়ার্ল্ড্ কাপ প্রতিযোগিতা ২০১৮-এ অংশগ্রহণ করে ইরানি মহিলা শুটার সারাহ্ জাভার্ন্মাদী একটি স্বর্ণ পদক জয় করেছেন।
৫০ মিটার দূরত্বের রাইফেল ক্যাটেগরির এ শুটিং প্রতিযোগিতায় ইরানি শুটার সারাহ্ জাভার্ন্মাদী ও মাহ্দী যামানী প্রথমে সর্বশীর্ষ ৮ জন শুটারের মধ্যে তালিকাভুক্ত হতে সক্ষম হন এবং ফাইনালে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেন। ফাইনাল ম্যাচে সারাহ্ জাভার্ন্মাদী ২২০.৬ পয়েন্ট লাভ করে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং তাঁর দু’জন চীনা প্রতিযোগী যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান লাভ করেন।
এর পাশাপাশি ইন্টারন্যাশন্যাল ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট্স্ ফেডারেশন (এফআইএস্আই) আয়োজিত ওয়ার্ল্ড্ ইউনিভার্সিটি শুটিং চ্যাম্পিয়নশীপ ২০১৮ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আরেক জন ইরানি নারী শুটার নাজ্মাহ্ খেদ্মাতী চমৎকার দক্ষতা প্রদর্শন করেন এবং একটি ব্রোঞ্জপদক জয় করেন।

ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসের সাঁতারে ইরানের ১৪ মেডেল

ইয়ুথ অলিম্পিক গেমস ২০১৮ এর সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দারুণ পারফরমেন্স করেছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাঁতারুরা। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে ১৪টি মেডেল জয় করেছে ইরানি অ্যাথলেটরা।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ১১ এপ্রিল টুর্নামেন্টের ফাইনালে অংশ নেন ইরানের আলী জাফরি। তিনি ৫২.৭২ সেকেন্ড সময় নিয়ে পুরুষদের ১শ’ মিটারের ফ্রি স্টাইল বিভাগে রৌপ্যপদক লাভ করেন।
এছাড়া ইরানি অ্যাথলেট আলি সারাভান্দ পুরুষদের ৫০ মিটারের ইভেন্টে অংশ নিয়ে রৌপ্যপদক জয় করেন। তিনি ৫০ মিটার সাঁতারে সময় নেন ২৯.৭৭ সেকেন্ড।
অন্যদিকে, পুরষদের ৫০ মিটারের বাটারফ্লাই সেকশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্বর্ণপদক ঘরে তুলেছেন ইরানের মেহদি আনসারি। এর আগে টুর্নামেন্টে পুরুষদের ১০০ মিটারের ফ্রি স্টাইল বিভাগে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ইরানি অ্যাথলেট সিনা গোলামপুর। ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী পুরুষদের ২০০ মিটার ফ্রি স্টাইল ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় স্থান দখল করেন জাফরি, ছিনিয়ে নেন রুপার মেডেল।
পুরুষদের ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ইভেন্টে সোনার মেডেল জয় লাভ করেন আলি ফাথি। পুরুষদের ৫০ মিটারের ব্রেস্টস্ট্রোক বিভাগে অংশ নিয়ে ব্রোঞ্জপদক ঘরে তোলেন আনসারি।
থাইল্যান্ডে ২০১৮ ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসের সাঁতার প্রতিযোগিতা ৭ এপ্রিল শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ এপ্রিল।