রবিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

দুরন্ত টিভির বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিনিধির অংশগ্রহণ

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ৮, ২০১৮ 

news-image

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু  ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরসহ দেশী-বিদেশী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ৭ই অক্টোবর রবিবার পালিত হলো দেশের একমাত্র শিশুতোষ টেলিভিশন চ্যানেল দুরন্ত’র প্রথম বর্ষপূর্তি। টেলিভিশন কর্তৃপক্ষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে অনুষ্ঠানে হাজির হন ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিনিধি ড. কাজেম কাহদূয়ী। এসময় ড. কাহদূয়ীকে স্বাগত জানান টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। এরপর টেলিভিশনের কর্ণধার ও দেশের বর্তমান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সাথে সাক্ষাত করেন তিনি। এসময় প্রতিমন্ত্রী তার টেলিভিশনে ইরানের শিশুতোষ বিষয়ক অনুষ্ঠানমালা প্রচারে আগ্রহ প্রকাশ করলে ড. কাহদূয়ী এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরে তিনি বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শিশু কিশোরদের জন্য টেলিভিশনের অনুষ্ঠানমালার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ড. কাহদূয়ী ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা ইমাম খোমেইনী (র.)-এর টেলিভিশনের গুরুত্ব সম্পর্কে এক বক্তব্যের উদ্ধৃত করে বলেন, টেলিভিশন হলো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো। টেলিভিশনের শিক্ষণীয় ও গঠনমূলক অনুষ্ঠানমালা শিশু কিশোরদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যেমনটি ইমাম খোমেইনী (র.) বলেছেন, আমরা যদি শিশুদের সঠিকভাবে প্রতিপালন করতে পারি তাহলে নতুন প্রজন্ম কম সমস্যার সম্মুখীন হবে। ড. কাহদূয়ী একইভাবে একটি হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন,  সকল শিশুই একটি পবিত্র ফেতরাত নিয়ে দুনিয়ায় আসে এবং বাবা মা তাদের নিজ নিজ ধর্মের দিকে ধাবিত করে। অর্থাৎ দীর্ঘ অতীতকাল থেকে পরিবার শিশুর প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমান দুনিয়ার গণমাধ্যম শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। কারণ, বর্তমান যুগের গণমাধ্যম শিশুদের বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হওয়ায় তারা এর ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। আজ শিশু তার মায়ের কোলে আসার পর থেকেই বলতে গেলে শিশুর সুস্থ বিনোদন ও প্রতিপালনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের বিশেষ করে ভিডিও মাধ্যমের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আমি শুনেছি যে দুরন্ত টেলিভিশন তাদের আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানমালার জন্য এই অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ জনপ্রিয়তা অজর্ন করতে সক্ষম হয়েছে। আজকের শিশুদের আগামী দিনের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে ও বাংলাদেশকে আগামী দিনে আরো সুন্দর সমাজ উপহার দিতে দুরন্ত টেলিভিশন আরো সুন্দর ও আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান উপহার দিবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কয়েকজন খুদে অভিনয়শিল্পী তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে। যাদের বয়স ৬ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। প্রত্যেকেই দুরন্ত টিভির বিভিন্ন ধারাবাহিকে অভিনয় করেছে। অনুভূতি বলতে গিয়ে একজন বলল, ‘আমি স্কুলে গেলে সবাই জানতে চায়, কবে আমার নাটক প্রচার হবে?’ আরেকজন বলল, ‘ কোথাও  বেড়াতে গেলে অনেকে আমার সঙ্গে ছবি  তোলে।’ আরেকজন মাইক্রোফোন হাতে নিয়েই বলল, ‘আমাকে এখন আর কেউ আসল নামে ডাকে না, ডাকে বান্টি নামে।’

উল্লেখ্য বাংলাদেশের একমাত্র শিশুদের টেলিভিশন চ্যানেলটির বর্ষপূর্তির আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ৭ অক্টোবর বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এক আনন্দ আড্ডার আয়োজন করে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুরু হয় নতুন কিছু ধারাবাহিক। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বৈচিত্র্যপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে দুরন্ত টেলিভিশন সব সময় চেষ্টা করে থাকে। আগামীতেও সে ধারা অব্যাহত থাকবে।