বৃহস্পতিবার, ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

তেহরান : প্রাচীন গ্রাম থেকে আধুনিক নগরী

পোস্ট হয়েছে: মে ২, ২০১৭ 

news-image

রাশিদুল ইসলাম: দু’শ’ বছর আগে ইরানের রাজধানী তেহরানের গোড়াপত্তন হয়। ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত এ শহরের পরিধি ছিল অপেক্ষাকৃত ছোট এবং তাতে পাশ্চাত্যের কিছু কিছু বৈশিষ্ট্যও বিদ্যমান ছিল। এককালে তেহরানের পরিবেশ ও ভাবধারা ছিল প্রাচ্যের একটি মফম্বল শহরের মতো। আর এখন এ শহরে বাস করছে শুধু মেট্রোপলিটন এলাকায় সত্তর লাখ মানুষ। আর এর বাইরে অর্থাৎ পুরো তেহরান জুড়ে মানুষ বাস করছে এক কোটি কুড়ি লাখ। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এক শহরে পরিণত হয়েছে তেহরান। তাই তেহরানকে নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা পাল্টে যাচ্ছে দ্রুত। বলা যায়, তেহরান এক বিশ্ব সাংস্কৃতিক নগরী। প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো বিষয়ে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট শুরু হচ্ছে, না হয় শেষ হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত প্রতিনিধি এ উপলক্ষে আসা যাওয়া করছেন এ মহানগরীতে।

তেহরানকে বায়ু দূষণমুক্ত করতে ইতিমধ্যে চালু হয়েছে ইলেকট্রিক কার, মোটর সাইকেল। পাতাল রেলের টিকিট কিনতে যাত্রীরা যাতে ভীড় এড়াতে পারেন সেজন্যে টিকিট ভেনডিং মেশিন বসছে। সবুজায়ন প্রকল্পে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। ভিন্ন ভিন্ন শহুরে উন্নয়ন পরিকল্পনার তিন ধাপে অবকাঠামোগত ডিজাইন, উন্নয়ন ও ভূমি ব্যবহারে আইন করে উন্নয়ন নীতিকে এমন করা হয়েছে যাতে শতাব্দীর পর শতাব্দী তেহরান শহর আধুনিক থেকে আরো অত্যাধুনিক হয়ে ওঠে।

এমনিতে তেহরান শহরের এক আবেদন আছে গ্লোবাল কনস্ট্রাকশন মার্কেট হিসেবে। নতুন অসংখ্য পাঁচ তারকা হোটেলের নির্মাণ কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তেহরানে ছুটে আসছে বিশাল ধরনের বিনিয়োগ সুযোগ গ্রহণ করতে। তাদের আকৃষ্ট করতে প্রযুক্তি ও পুঁজির বিশাল মিশেলে এক সহায়ক বিনিয়োগ আবহ তেহরান নগরীকে দিন রাত ২৪ ঘণ্টা সচল রাখছে। তেহরানভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ চলছে প্রতিনিয়ত। সর্বশেষ প্রযুক্তিকে করায়ত্ত করতে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে তেহরানের বাসিন্দাদের আগ্রহ লক্ষ্য করার মতো।

ইতিহাসবিদরা ইরানের বর্তমান রাজধানীকে নবম শতাব্দীকালের একটি ছোট গ্রাম বলে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু গ্রামটি কালক্রমে তার পার্শ্ববর্তী আলবোর্জ পাহাড়ের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকণ্ঠের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর- শাহরে রেই এর সাথে একীভূত হয়ে পড়ে। মোঙ্গল শাসকদের ব্যাপক ভাঙাগড়ার মধ্যে তেহরান ক্রমেই সমৃদ্ধ হতে থাকে। তাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে যেসব লোক বেঁচে যেতে সক্ষম হয় তারা তেহরানে চলে আসে। প্রকারান্তরে বহু বছর ধরেই তেহরান একটি প্রাদেশিক শহর হিসাবে পরিচিতি পেয়ে আসছিল।

বিশ্বের সর্বাধিক বিখ্যাত শহরগুলো সম্পর্কে লেখা ইয়াকুত হামারীর সুপরিচিত গ্রন্থ ‘মুজামুল বুলদান’ এ ইরানের রাজধানী সম্পর্কে বেশ কিছু মজার কথা লেখা রয়েছে। বলা হয়েছে : তেহরান ছিল একটি বৃহৎ গ্রাম, যার কাঠামো নির্মিত হয়েছে ভূগর্ভে এবং বাসিন্দারা অনুমতি না দিলে কেউ ঐ গ্রামে প্রবেশ করতে পারত না।

তেহরান কিভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করল এবং ধীরে ধীরে আজকের এই বড় শহরে রূপ নিল? শাসক শাহ ইসমাইলের পুত্র শাহ তাহমাসব সাফাভী যখন সিংহাসনে আরোহণ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র দশ বছর। তিনি প্রায়ই সাফাভী রাজবংশের শাসকদের প্রথম রাজধানী কাজভীন বেড়াতে যেতেন। এছাড়া তাঁর প্রপিতামহ মরহুম সাইয়্যেদ হামজার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রেই শহরের শাহ আবদুল আজিমের মাযারে যেতেন। ফেরার পথে তিনি তেহরান হয়ে যেতেন এবং শিকার করতেন। ধীর ধীরে তিনি সে স্থানটির বিশেষ অনুরাগী হয়ে ওঠেন এবং ঐ শহরের চারদিকে দুর্গ প্রাচীরের মতো বেষ্টনী গড়ে তোলেন। দুর্গ প্রাচীরটির পরিধি ছিল পনের হাজার ফুট।

বাদশাহর ধর্মবিশ্বাস ছিল প্রবল। তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা সংখ্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নগরীর চারিদিকে ১১৪টি টাওয়ার নির্মাণের আদেশ দেন। নির্মিত প্রতিটি টাওয়ারে পবিত্র কুরআনের এক একটি সূরা লিপিবদ্ধ করা হয় যাতে ঐ শহর এবং শহরের বাসিন্দারা দৈব-দুর্বিপাক থেকে রক্ষা পায়। এছাড়া নির্মাণ করা হয় দু’টি তোরণ এবং দুর্গ প্রাচীরের অভ্যন্তরে দু’টি জায়গা থেকে মাটি সরিয়ে দু’টি গহ্বর সৃষ্টি করা হয়। গহ্বর দু’টির একটির নাম দেয়া হয় ‘চালে ময়দান’ (স্কোয়ার গহ্বর) এবং অপরটির নাম দেয়া হয় ‘চালে হেসার’ (দুর্গ গহ্বর)। আজকের দিনে ঐ গহ্বর দু’টি ভরাট হয়ে গেলেও ঐ জায়গাগুলোর নাম আগের মতোই রয়ে গেছে।

কাজার শাসনামলের বিশিষ্ট লেখক ও রাজনীতিবিদ আবদুল্লাহ মোস্তাফী তাঁর ‘দি স্টোরি অব মাই লাইফ’ গ্রন্থে লিখেছেন, তাহমাসব প্রাচীর ধ্বংস এবং শহরটি বেড়ে উঠলে পর কাজার শাহীবংশের প্রতিষ্ঠাতা আগা মুহাম্মাদ খান নগরীর চারিদিকে একটি নতুন দেয়াল নির্মাণ করেন। তিনি তাঁর অভিষেকের দিন ১৭৮৩ সালের ২১ মার্চ তেহরানকে রাজধানী ঘোষণা করেন। তখন তেহরানের লোক সংখ্যা ছিল মাত্র দশ থেকে বিশ হাজার।

১৯২৫ সালে রেজা শাহ ক্ষমতায় আরোহণ করে তেহরানকেই রাজধানী হিসাবে বহাল রাখেন এবং শহরটিকে আধুনিকায়নের প্রচেষ্টা চালান।

১৯৪৫ সাল থেকে তেহরান শহর উত্তরদিকে সম্প্রসারিত হতে থাকে। আলবোর্জ পাহাড়ের পাদদেশে তেহরান ও শেমিরানের মধ্যবর্তী এলাকায় নতুন নতুন উপশহর সৃষ্টি হতে থাকে।

পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে উপশহর ও বড় বড় ভবন গড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে তেহরান একটি বিভিন্নমুখী আধুনিক মেট্রোপলিটন শহর হিসাবে বেড়ে উঠতে থাকে। দক্ষিণে মরুভূমি ও পতিত জমি অঞ্চলে আবহাওয়া অতি উষ্ণ থাকায় নগরায়ন বৃদ্ধি পায় নি। তবে ছোট ছোট শিল্প গড়ে উঠেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এবং বিশেষ করে দ্রুত নগরায়ণের প্রয়োজনীয় ইট ও অন্যান্য সামগ্রীর কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই অঞ্চলে ব্যাপক শিল্প চুল্লির জন্যে বায়ূ দূষিত হয়ে পড়ে এবং সেখানে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাত্রা খানিকটা অসুবিধাজনক।

এই অবস্থার মধ্যে প্রাদেশিক শহর এবং অন্যান্য মফস্বল এলাকা থেকে হাজার হাজার লোক নির্মাণ কাজে অংশ নিতে এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় ব্যবসা ও শিল্পখাতে আকৃষ্ট হয়ে তেহরান শহরের দিকে বসতি গড়তে থাকে।

তেহরানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইরানের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও অন্য দেশ থেকেও ছাত্ররা পড়তে আসে। এখানে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য হাজার হাজার ছাত্র আসে মফস্বল এলাকা থেকে। বিত্তশালী পরিবারগুলো আরো ভালো ব্যবসা-বাণিজ্য এবং তাদের ছেলেমেয়েদের লেখা পড়ার সুবিধার্থে তেহরানে এসে বসবাস করতে শুরু করে।

বিগত চার দশকে তেহরান বিশ্বের একটি দ্রুতবর্ধমান রাজধানী শহরে পরিণত হয়েছে। গগনচুম্বী অট্টালিকা, প্রশস্ত জনপথ, বড় বড় হোটেল-রেস্তোরাঁ, দোকান-পাট, সিনেমা হল, বাড়িঘর এবং সেগুলোর সাথে ঘোরানো পেঁচানো উঁচুনিচু পাহারি ঢাল বেয়ে রাস্তায় ধাবমান যানবাহন। ত্রিশ বছর আগে এই শহরের আকৃতি যা ছিল তার তুলনায় বর্তমান আকার পাঁচগুণ। সন্ধ্যার পর যে কেউ তেহরানের মিলাদ টাওয়ারে উঠলে পুরো তেহরানের নজরকাড়া সৌন্দর্য তার চোখ এড়াতে পারে না। ৩৬০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এ টাওয়ারটি নির্মাণ হওয়ার পর পর্যটকদের বেশ নজর কেড়েছে। আজাদি স্কয়ার, তাবিয়াত ব্রিজের মতো স্থানে নগরবাসীরা অবসর সময় কাটাতে ভালোবাসেন।

জাপানের রাজধানী টোকিওর পর এখন তেহরানই বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল শহর। এখানে রয়েছে বিপুল সংখ্যক মোটরগাড়ি আর বিপুল সংখ্যক কল-কারখানা। পরিস্থিতি এমন যে, যানবাহন চলাচলের ভীড় এড়ানোর জন্য সরকারকে একটি নয়া ট্রাফিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। এই পরিকল্পনা মোতাবেক দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী বাসসমূহের টার্মিনালসমূহ নগরীর কেন্দ্রীয় এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত ট্রাফিক জোনগুলোতে সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত বেসরকারি যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

১৯৯১ সালের মার্চ মাসের মধ্যে পূর্বের পনের হাজার হেক্টরের স্থলে ২৫ হাজার হেক্টর জমিকে রাজধানী শহরের গ্রীন-বেল্ট হিসাবে গড়ে তুলেছে।

চলতি পাঁচসালা পরিকল্পনায় প্রাথমিক পর্যায়ের কর্মসূচিতেই রয়েছে তেহরানের পয়ঃনিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্প। এই প্রকল্পের অধীনে রয়েছে রাজধানীর আট হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু এবং উত্তর ও দক্ষিণ তেহরানে দু’টি বিশাল আকৃতির পয়ঃনিষ্কাশন লাইন স্থাপন। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তেহরান, কারাজ, ভারামিন ও শাহরিভারের খামার জমিতে ব্যবহার উপযোগী একশ কোটি ঘনমিটার নিষ্কাশন লাইন প্রতিষ্ঠিত হবে।

তেহরানে প্রতি বছর ৬০ কোটি ঘনমিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। জনসংখ্যার ক্রমবৃদ্ধি এবং নগর উন্নয়নের ফলে প্রয়োজনীয় খাবার পানির চাহিদা মেটানোর জন্যে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে আরো ১৫ কোটি ঘন মিটার পানি উত্তোলনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এছাড়া জনসাধারণের বিনোদন সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বর্তমান পার্কগুলোর উন্নতি সাধন নতুন একটি পার্ক প্রতিষ্ঠা এবং একশ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠাসহ অন্যান্য পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

তেহরানকে বলা হয় ফুলের শহর। পাহাড়ঘেরা তেহরানের প্রকৃতি অনেকটা মরুময়। অথচ রাস্তার দুই পাশে নানা ধরনের গাছগাছালি, ফুল, লতা-গুল্মের বিপুল সমারোহ। মুক্তোর দানার মতো ছড়িয়ে পড়ে গোলাপের হাসি। যেখানে সেখানে হাত বাড়ালেই গোলাপ। তেহরান সিটি করপোরেশন থেকে রাস্তার  আইল্যান্ডে ঝুলিয়ে দেয়া থাকে ফুলের ঝাঁপি। বিয়ে, জন্মদিন থেকে শুরু  করে নানা উৎসব অনুষ্ঠানে ইরানিরা ফুল ব্যবহার করে। মোড়ে মোড়ে ফুলের দোকান।

বিশেষ করে অর্থনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী ইরান গড়ে তুলতে তেহরান নগরীর রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। দীর্ঘদিন দেশটির ওপর অবরোধ আরোপ থাকায় তা প্রত্যাহারের পর নতুন করে যেন তেহরান জেগে উঠেছে বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটকদের পদচারণায়। শত শত বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে, এসব বিমান অবতরণে একাধিক বিমান বন্দরের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ চলছে। ইউরোপ থেকে মধ্যএশিয়ার দেশগুলো ঘুরে পাঁচ তারকা মানের পর্যটন রেল ইতিমধ্যে তেহরানে বেশ কয়েকবার যাত্রা বিরতি করেছে। পার্ক, বাগ-বাগিচা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশি বিদেশি খাবার, ফুল, ফল ও সব্জি ছাড়াও দুগ্ধজাত পণ্য যেমন সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা দেয় তেমনি মনোমুগ্ধকর স্থাপত্যরীতি, নিয়াভারান, গোলেস্তান ও সা’দাবাদের মতো ঐতিহাসিক স্থান ও ঐতিহ্যের অফুরন্ত ভা-ার সবসময় বিমোহিত করে রাখে তেহরানবাসীকে।

তেহরান পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘনবসতিপূর্ণ শহর এবং মধ্যপ্রাচ্যে সেদিক থেকে তৃতীয়। বিশ্বের মধ্যে ২৯তম ঘনবসতিপূর্ণ মেট্রোপলিটন শহর। ১৩শ’ শতকে মঙ্গলদের আগ্রাসনে তেহরান বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে ইরানের রাজধানী অনেকবার পরিবর্তন হয়। ৩২তম রাজধানী হিসেবে তেহরান আজো তার মর্যাদা বজায় রেখেছে।

তেহরানের বাসিন্দাদের ৯৯ ভাগ ফারসি ভাষায় কথা বলেন। কিন্তু নগরীতে আযারবাইজানী, আর্মেনিয়ান, লোর ও কুর্দরা ফারসি ভাষাকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহার করেন। তেহরানের বাসিন্দাদের মধ্যে সরকারি খাতের ৩০ ভাগ কর্মজীবী রয়েছেন ও ৪৫ ভাগ শিল্প এ শহরে গড়ে উঠেছে। তেহরান স্টক এক্সচেঞ্জে এখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ বাড়ছে। ঐতিহাসিক, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক জাদুঘরগুলোতে অনুসন্ধিৎসু মানুষের পদচারণা সরব হয়ে থাকে। ন্যাশনাল মিউজিয়াম, মালেক মিউজিয়াম, ফেরদৌস গার্ডেন, গ্লাসওয়ার, সিরামিক মিউজিয়াম, মিউজিয়াম অব দি কাজার প্রিজন, কার্পেট মিউজিয়াম, মিউজিয়াম অব দি গ্লাস পেইন্টিং ও কনটেমপোরারি আর্ট যেন নগরীর বাসিন্দাদের অতীত ও বর্তমান সময়ের মিলন কেন্দ্র। ভ্যানগগ, পাবলো পিকাসো, অ্যান্ডি ওয়ারলের মতো বিখ্যাত শিল্পীদের শিল্পকর্ম সেখানে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে।

তেহরানের আরেক পরিচয় কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে নামি দামি মণিমুক্তার সংগ্রহশালা হিসেবে। হিরা, চুনি, পান্নার বিশাল সংগ্রহশালা কেবল নয়, সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরান রাজকীয় মণিমুক্তার সংগ্রহ দর্শণার্থীদের সামনে উপস্থাপন করে। আর তেহরানের আন্তর্জাতিক বই মেলা কিংবা চলচ্চিত্র উৎসবের জন্যে তাবৎ বিশ্বের অনেকেই অপেক্ষায় থাকে। এমনকি দেয়ালে বিশেষ ধরনের চিত্র অংকন যা ‘গ্রাফিতি’ হিসেবে পরিচিত তা পশ্চিমা বিশ্বের মতই তেহরানে সমান জনপ্রিয়।