সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নজরুল সাহিত্যে ফারসির প্রভাব’ শীর্ষক সভা

পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৬ 

news-image

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সাহিত্যসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

thumbnail_IMG_4322

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আব্দুস সবুর খান এর সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের হাফিজ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত ‘নজরুল সাহিত্যে ফারসির প্রভাব’ শীর্ষক  এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের সম্মানিত রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী।আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর জনাব সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনী, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান, সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু মুসা আরিফ বিল্লাহ, ইরানি ভিজিটিং প্রফেসর ড. ফরহাদ দরুদগারিয়ান প্রমুখ।

thumbnail_IMG_4302

বিভিন্ন বর্ষের ছাত্রছাত্রীরা ফারসিতে বক্তৃতা, কবিতা পাঠ, কবি নজরুলের কবিতার ফারসি অনুবাদ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে হৃদয়গ্রাহী করে তোলে। বিভাগের নবীন শিক্ষক মেহেদি হাসান কবি নজরুলের ‘আল্লাহতে যার পূর্ণ ঈমান, কোথা সে মুসলমান’ গানটিকে একই সুরে বাংলা ও ফারসিতে উপস্থাপন করেন।অনুষ্ঠানে বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।সম্প্রতি ইরানে ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের ওপর মানোন্নয়ন কোর্সে পুরুষদের বিভাগে প্রথম স্থান অধিকারী মো: ইব্রাহীম খলিল ও মেয়েদের বিভাগে প্রথম স্থান অধিকারী মেহজাবিন ইসলামকে বিভাগের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও ইরানি রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়।এছাড়া ফারসি ভাষার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা তৎপরতার ওপর এ বিভাগের ছাত্র সাকিবুল হাসানের নির্মিত শর্টফিল্ম  ‘ দ্য নিউ সানসাইন’ এর জন্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

thumbnail_img_4280

অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান তাঁর বক্তৃতায় বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখনী ছিল সাম্প্রদায়িকতার উর্ধ্বে ও প্রগতিশীল। নজরুল কাব্যে ধর্মের উদার নীতির কথা ফুটে ওঠেছে। বাংলাদেশ হল সুফি সাধকদের লালনভূমি। এদেশে ধর্মের নামে উগ্রবাদী কোন ব্যাখ্যার গ্রহণযোগ্যতা নেই।
thumbnail_img_4275
ইরান দূতাবাসের  রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অতিথিবৎসল। এদেশে ফারসি সাহিত্য সংস্কৃতিবান্ধব পরিবেশে আমরা নিজ গৃহে অবস্থানের মতই অনুভব করি। তিনি বলেন, কবি নজরুলের জীবন ও সাহিত্যকর্মের ওপর দৃষ্টিপাত করলে বুঝা যায় যে পৃথিবীতে এ পর্যায়ের সার্থক সাহিত্যস্রষ্টাগণ তাদের জীবনের আর্থিক দীনতার মাঝেও শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম উপহার দিয়েছেন। তিনি হাফিযের সাহিত্যের সাথে নজরুল সাহিত্যের মিলের উল্লেখ করেন ও কবি নজরুলের ‘ খোদার প্রেমে শরাব পিয়ে…’ গানের একটি অংশের ফারসি অনুবাদ তুলে ধরেন।
thumbnail_img_4332
 
জনাব সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনী বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আরো বেশিসংখ্যক ছাত্রছাত্রী আগামীতে ইরানে ফারসি মানোন্নয়নে কোর্সে অংশগ্রহণ করে ফারসিতে উৎকর্ষ অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রফেসর ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ফারসি সাহিত্য-সংস্কৃতির লালনভূমি ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের পর বাংলাদেশের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এবং ফারসির অনেক যোগ্য শিক্ষক ও গবেষক তৈরি হয়েছে।
thumbnail_img_4289
প্রফেসর ড. দরুদগারিয়ান কবি নজরুল কর্তৃক মহাকবি হাফিয ও ওমর খৈয়ামের সার্থক বাংলা অনুবাদের কথা তুলে ধরেন।
ড. আবু মুসা আরিফ বিল্লাহ বলেন, কবি নজরুল ছিলেন মূলত ইসলামি চেতনার কবি। কবি নজরুলের উচ্চাঙ্গের সাহিত্য বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি প্রভাবিত ও সংস্কৃত প্রভাবিত দু’ধারার সাহিত্যিকদের একীভূত করেছে।
thumbnail_img_4267
ড. আব্দুস সবুর খান বলেন, কবি নজরুল ফারসি সাহিত্যকে সরাসরি ফারসি থেকে অনুবাদ করেছেন। এছাড়া তার সাহিত্যের একটি বড় অংশ ছিল ফারসির ভাব থেকে বাংলায় নবসৃষ্টি।
thumbnail_img_4231