শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

English

ঢাকা উত্তর ও তেহরান সিটি মেয়রের অনলাইন সংলাপ

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ৫, ২০২০ 

news-image

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, তেহরান সিটি মেয়রের সাথে পরিচিত হতে পেরে আনন্দ বোধ করছি। আমি এ মিটিংয়ের জন্য অধীর আগ্রহী ছিলাম।  তিনি বলেন, ঢাকা এমন একটি রাজধানী শহর যেখানে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ বাস করে। এটি দুটি সিটি কর্পোরেশনে বিভক্ত- উত্তর ও দক্ষিণ। অর্থাৎ প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনে প্রায় এক কোটি পঁচিশ লক্ষ লোক বাস করে। প্রতি বর্গকিলোমিটারে বসবাসকারী লোকের সংখ্যা ৪৯ হাজার। তাই এটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ নগরী।


উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে কূটনৈতিক যোন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাসস্থান রয়েছে। ইরান দূতাবাস থেকে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অফিস মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ। অন্যদিকে এটি বাণিজ্যিক এলাকাও বটে।
তিনি আরো বলেন, পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে গ্রামের লোকেরা তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে ফেলছে। ফলে তারা কর্মসংস্থানের জন্য শহরমুখী হচ্ছে। এটি একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনেক ডাক্তার ইরানে গিয়েছেন। সেখানে তাঁরা দায়িত্ব পালন করেছেন।ইরান সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ একটি দেশ। আমরা চাই দুটি সিটির মধ্যে সংস্কৃতির বিনিময়।
ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র বলেন, বর্তমান মাদকাসক্তি নতুন জেনারেশনের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। এর কারণে যুবসমাজ বিপথে যেতে বসেছে। কিভাবে আরো বেশি সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় এ বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করতে পারি।
তিনি আরো বলেন, আমি গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ছিলাম। সেদিক থেকে আমি বলতে চাই গার্মেন্ট রফতানির ক্ষেত্রে আমরা একটি ভালো সিদ্ধান্তে আসতে পারি। চীনের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও ইরান পোশাক আমদানি করতে পারেন। আমরা গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে আশাবাদী।


তেহরানের মেয়র পিরোজ হানাচি বলেন, ঢাকা একটি বড় রাজধানী, তেহরানও অনেক বড় শহর। বাসস্থানের সমস্যা প্রতিটি বড় মেট্রোপলিটন সিটিতেই রয়েছে।  এর পাশাপাশি রয়েছে ট্রাফিক সমস্যা। বর্তমানে প্রতিটি শহর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তবে বর্তমানে করোনা মহামারির কারণে অর্থনৈতিকভাবে একটি সংকটকাল চলছে। সেজন্য আমাদেরকে বিষয়টি বৈশ্বিকভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন। সপ্তম শতাব্দীতে মহাকবি শেখ সাদী বলে গিয়েছেন যে, সকল মানুষ একটি দেহের মতো, যদি একটি অঙ্গে আঘাত লাগে তাহলে প্রতিটি অঙ্গ তা অনুভব করে। যদি তা না করে তাহলে সে মানুষ হতে পারে না।
আমরা এখন করোনার সেকেন্ড ওয়েভের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছি। এটি প্রথম ধাক্কার চেয়েও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সরকার এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আর আমরা অবরোধের কারণেও অনেক চাপের মধ্যে রয়েছি। আমরা আমাদের পণ্য রফতানি করতে পারছি না, আমদানিও করতে পারছি না। এমনকি প্রয়োজনীয় ওষুধও আমরা আমদানি করতে পারছি না। তবে আমাদের জনগণ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন করেছে। আমি আশা করি আমরা নিকট ভবিষ্যতে সামনাসামনি কথা বলতে পারব। আমি আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
জবাবে ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরাও করোনা মহামারিকে মোকাবিলা করছি। আমাদের ৫৪ জন পুরুষ কাউন্সেলর ও ১৮ জন নারী কাউন্সেলর অর্থাৎ ৭২ জন্য কাউন্সেলর মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। শীতকাল সমাগত। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলায় সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আশা করি করোনা পরবর্তী সময়ে আপনি ঢাকায় এলে আমরা পরস্পরের দৃষ্টিভঙ্গির বিনিময় করতে পারব। আমি অনেক বিষয় আপনার সাথে শেয়ার করব এবং আপনি আপনার বিষয় শেয়ার করবেন। যা আমাদের উভয় পক্ষের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।


ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর ড. সাইয়্যেদ হাসান সেহাত বলেন, এ আলোচনার মাধ্যমে ইরান-বাংলাদেশের মধ্যে একটি ভালো সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে। তিনি জনাব আতিকুল ইসলামের আরেকটি পরিচয় তুলে ধরে বলেন, তিনি বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ড. সেহাত সকলকে ধন্যবাদ জানান।
পরিশেষে জনাব আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ত্ব পালন করছি। আমাদের ভলিবল দলে ইরানের নাগরিক আলীপুর উরুজি প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই আমাদের মধ্যে অধিকতর ক্রীড়াগত সহযোগিতা গড়ে উঠতে পারে। এসময় তেহরানের মেয়র পিরোজ হানাচিও নিজের অপর পরিচিতি তুলে ধরে বলেন যে, তিনি সাঁতার ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দুই সিটি মেয়র দুটি সিটিকে ক্রীড়ানগরীতে পরিণত করার ব্যাপারেও একমত পোষণ করেন।পরস্পরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে আলোচনা সভা শেষ হয়।