রবিবার, ২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ঢাকায় ইসলামী ঐক্য ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) শীর্ষক আলোচনা সভা

পোস্ট হয়েছে: ডিসেম্বর ১, ২০১৬ 

news-image

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে ১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে জাতীয় মিলাদ কমিটি বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

জাতীয় মিলাদ কমিটির চেয়ারম্যান আল্লামা আলহাজ্ব শাহ সূফী সৈয়দ নাঈম উদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ধর্ম ও পানি সম্পদমন্ত্রী এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ ও ঢাকাস্থ ইরানি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেল সায়্যেদ মূসা হুসাইনি। সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম।এখানে সন্ত্রাস বা সহিংসতার কোন স্থান নেই। অথচ কতিপয় বিপথগামী ইসলামকে অপব্যবহার করে হত্যাকা- ঘটাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত মুসলমানরা ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত এ ধরনের কোন কর্মকা- করেছে এর কোন নজির নেই। নবী জন্মের সময় তাঁর পিতামাতা তাঁর নাম রেখেছিলেন মুহাম্মদ। যার অর্থ হলো প্রশংসতি। জন্মের পর থেকে তার সততা ও সত্যবাদিতার জন্য নবুওত প্রাপ্তীর আগেই  তিনি আল আমিন উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি মুখে যা বলতেন তাই করতেন। তিনি যখন বললেন আমি আল্লাহর নবী। তখন কিছু মানুষ সঙ্গে সঙ্গে তা মেনে নিয়েছেন। আবার কিছু মানুষ তাকে মেনে নেন নি। তবে যারা তখন মুহাম্মদ (সা.)কে নবী হিসেবে মেনে নেন নি তারাও কিন্তু কিন্তু বলতে পারেন নি যে তিনি মিথ্যা বলছেন। কারণ জন্মের পর থেকেই তিনি সত্যবাদিতার প্রমাণ দিয়েছেন।

তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যখন আক্রান্ত হয়েছেন তখন তিনি যুদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলতেন। আর তা হলো, যুদ্ধক্ষেত্রে কোন নারী, শিশু ও বৃদ্ধকে হত্যা করা যাবে না, নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করা যাবে না এবং গাছ কাটা যাবে না অর্থাৎ প্রকৃতির কোন ক্ষতি করা যাবে না।

অথচ আজ ইসলামের নামে কিছু বিপথগামী নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে। তাদের হাত থেকে নারী ও শিশুরা পর্যন্ত রেহায় পাচ্ছে না। হাসানুল হক ইনু বলেন, চলতি মাসের শেষ নাগাত সৌদি আরবে বিশ্বের ৫৪ টি দেশের তথ্যমন্ত্রীদের এক সম্মেলন হবে। সেখানে ইসলাম যে শান্তির ধর্ম তা বিশ্ববাসীর কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। সম্মেলনে কিভাবে ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ বন্ধ করা যায় সে বিষয়েও আলোচনা হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইসলামে নিজের উপর জুলুম করাকে যেমন হারাম করা হয়েছে তেমনি অন্যের উপর জুলুম করাকেও হারাম করা হয়েছে। যেমন ইসলামে বলা হয়েছে আত্মহত্যা মহাপাপ। সুতরাং আজ যেসব বিপথগামী ইসলামের নাম করে আত্মঘাতি হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করছে তারা দুইটা বড় ধরনের অপরাধ করছে। প্রথমত তারা নিজের উপর জুলম করছে এবং দ্বিতীয়ত আত্মঘাতি হামলার মাধ্যমে মানুষ হত্যা করে তারা আরেকটি অপরাধ করছে। সুতরাং পরকালে তাদের স্থান হবে জাহান্নাম।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে মানুষ পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয়। আইন ছাড়া কেউই তাকে আঘাত করতে পারবে না। কুরআনের কোথাও সন্ত্রাসকে সমর্থন করে নি।

রাসুল (সা). এক হাদিসে বলেছেন, শোন হে মুসলমান তোমরা পরস্পর ভাই ভাই। আমার মৃত্যুর পরে তোমরা একে অপরকে হত্যা করার মতো কুফরি কাজে লিপ্ত হইয়ো না।

অনুষ্ঠানে ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সৈয়দ মূসা হুসাইনি বলেন,আমরা এমন একটি দিবস উপলক্ষে এখানে উপস্থিতি হয়েছি যেদিন পৃথিবীতে রহমত, দয়া ও ঐক্যের প্রতীক সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা) এর শুভাগম ঘটেছে। কাজেই এই দিনটি নি:সন্দেহে আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

মহানবী (সা) এর পবিত্র জন্মদিন উপলক্ষ্যে এ ধরনের আয়োজন মুসলমানদের জন্য এমন একটি সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় যাতে মানুষকে হেদায়েতের  জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুলের কাছে যেসব বাণী নাজিল হয়েছে সেই  খোদায়ী বাণী ও রাসুলের জীবানাদর্শনী বাস্তবায়নে আমরা আরো বেশি কাজ করতে পারি।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী সম্পর্কে বলেছেন,আমি রাসুলকে মানুষের জন্য রহমত স্বরুপ প্রেরণ করেছি। এই রহমতের কথা এখানে কেবল তার অনুসারিদের জন্য বলা হয় নি বরং এটা বলা হয়েছে সমস্ত মানব জাতির জন্য।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য আজ জরুরী হয়ে পড়েছে।

আল্লাহ মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে  বলেছেন, ওয়াতাসিমু বেহাবলিল্লাহি জামিয়াও  ওলা ওতাফাররাকু । আর্থৎ আমাদের মুসলমানদেরকে অনৈক্য দূর করে আল্লাহর রশিকে শক্ত করে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সবাই আল্লাহর রশিকে শক্ত করে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়োনা। অপর এক আয়াতে রাসুলের অনুসারীকে একক ও ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামের নবীও মুসলমানদেরকে মানুষের একটি দেহের সাথে তুলনা করেছেন এবং তার উম্মতদের কাছে সবসময় ঐক্যের দাওয়াত দিতেন।  তিনি বলেন, আজকের এই পবিত্র দিনে আমারা মহান আল্লাহর কাছে কামনা করছে আমরা যেন নিজেদের মধ্যকার সকল মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে পারি এবং ইসলামের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্রকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে পারি।

অনুষ্ঠানে আবেদ আলী বলেন, মহানবী (সা.) এর আগমনে গোটা পৃথিবী যখন আনন্দ করে তখন শয়তান বেজার হয়ে যায়। কারণ রাসুলের আদর্শ বাস্তবায়িত হলে সকল অন্যায় দূরিভূত হবে। তিনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক ধর্ম ও পানি সম্পদমন্ত্রী এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, আল্লামা আলহাজ্ব খন্দকার গোলাম মওলা নকশেবন্দী, শাহজাদা সৈয়দ রায়হান শাহ রহমানপুরী পীর সাহেব প্রমুখ।