রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ঢাকায় ইমাম রেযা (আ.)-এর জন্মদিবস উদযাপন

পোস্ট হয়েছে: আগস্ট ১২, ২০১৬ 

news-image

মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর পবিত্র আহলে বাইতের অষ্টম ইমাম রেযা (আ.)-এর জন্মদিবস উপলক্ষে গত ১১ আগস্ট ২০১৬ ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে একটি আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী, ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালাচারাল কাউন্সেলর জনাব সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনী ও ডেপুটি কালচারাল কাউন্সেলর জনাব আসগার খসরুয়াবাদী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরানের মাশহাদ নগরীতে অবস্থিত ইমাম রেযা (আ.)-এর মাযারের বিশিষ্ট আলেম হুজ্জাতুল ইসলাম মারভীয়ান, মাযারের খাদেম জনাব হাক্বপানাহ্ ও কর্মকর্তা জনাব ইঞ্জিনিয়ার মালেকী এবং তাঁর দু’জন সফরসঙ্গী।

thumbnail_IMG_3834জনাব মারভীয়ান বলেন, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে আল্লাহর দিবসসমূহ সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহর দিবস বলতে নবী-রাসূলগণের জন্ম দিন, তাঁদের নবুওয়াত ঘোষণার দিন, ঈদের দিন, নবী-রাসূলগণের শাহাদাতের দিন ইত্যাদি বুঝায়। আশুরাও আল্লাহর দিন, ইমামগণের জন্মদিনও আল্লাহর দিন। তিনি আরো বলেন, মহানবী (সা.) দুইজন মহান মানবকে তাঁর দেহের অংশ বলে ঘোষণা করেছিলেন। তাঁদের একজন হলেন হযরত ফাতেমাতুয যাহরা (আ.), অপরজন হলেন ইমাম রেযা (আ.)।

thumbnail_2nd Cover Imam Reza A.

ইমাম রেযা (আ.)-এর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জনাব মারভীয়ান বলেন, ইমাম রেযা (আ.) প্রতি দশ দিনে একবার করে কুরআন মজীদ খতম দিতেন, তিনি রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগিতে রত থাকতেন আর গরীবদেরকে সাহায্য করতেন। তিনি গোলামদের সাথে বসে খাবার গ্রহণ করতেন। ইমাম রেযা (আ.) ছিলেন অতুলনীয় জ্ঞানের অধিকারী। তিনি বিভিন্ন ভাষাভাষী ইহুদি-খ্রিস্টান পণ্ডিতদের সাথে তাঁদের ভাষায় ও তাঁদের গ্রন্থ থেকে জবাব দিতেন।

জনাব আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী বলেন, ইমাম রেযা (আ.) ছিলেন মহানবী (সা.)-এর আহলে বাইতের অষ্টম ইমাম। তাঁর পবিত্র জন্মদিবস উপলক্ষে একত্রিত হওয়া ও আনন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা একটি সৌভাগ্যের ব্যাপার। আমাদের প্রত্যেকের উচিত এমন সৌভাগ্যের অধিকারী হওয়ার কারণে মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

জনাব সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনী অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, যিলকদ মাসের ১১ তারিখে ইমাম রেযা (আ.)-এর জন্ম আর তাঁর বোন হযরত মাসুমার জন্ম ১ যিলকদ। এই দুই মহান ব্যক্তিত্বের স্মরণে ইরানে যিলকদ মাসের শুরুতে ‘কারামাতের দশ দিন শীর্ষক’ আনন্দ উৎসব পালন করা হয়ে থাকে। যদিও মূল উৎসব পালিত হয় যিলকদ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত, কিন্তু যিলকদ মাসের ১ম দিন থেকেই আনন্দ উৎসব শুরু হয়ে যায়। ইরানে এ উৎসব উদ্যাপিত হওয়ার দিনগুলোতে ইরানের মাশহাদ নগরীতে অবস্থিত ইমাম রেযা (আ.)-এর পবিত্র মাযার থেকে অতিথিবৃন্দ বাংলাদেশে আসায় তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আহলে বাইতপ্রেমিক জনগণের সাথে ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বন্ধন আরো দৃঢ় হবে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের মাঝে ইমাম রেযা (আ.)-এর মাযার থেকে আনীত তাবাররুক বিতরণ করা হয়।