শনিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ঢাকার মঞ্চে ‘শেখ সাদী’

পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ 

news-image

ইতিহাস ও কাব্য পারস্যের মহাকবি শেখ সাদীর জীবনের সঙ্গে মিশে আছে। তার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ছন্দময়। সাহিত্য থেকে ইসলামী দর্শন- সব কিছুতেই মুনশিয়ানার ছাপ রেখেছিলেন জগদ্বিখ্যাত এই কবি, তাত্ত্বিক ও সুফি সাধক। ভুবনবিখ্যাত এই মনীষীর জীবন ও কর্মের খানিকটা নিয়ে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে ২৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার মঞ্চস্থ হয়েছে নাট্যদল চন্দ্রকলা থিয়েটারের ইতিহাসভিত্তিক একক নাটক ‘শেখ সাদী’।

‘শেখ সাদী’ নাটকের কাহিনী এক ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ঘিরে। দিল্লির যুবরাজ মুহম্মদ বুলবন তার সময়কালে এক বিশ্বকবি সম্মেলনের আয়োজন করেন। যেখানে মুখ্য কবি হিসেবে আমন্ত্রণ পান শেখ সাদী। শেখ সাদীর প্রাণাধিক প্রিয় বন্ধু দিল্লির কবি আমীর খসরু আমন্ত্রণ পত্র রচনা করেন এবং শেখ সাদীর আগমন নিশ্চিত করতে হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং বন্ধুর আহ্বানে উৎফুল্ল শেখ সাদী সম্মানিত এবং আনন্দে আপ্লুত হলেও বার্ধক্যজনিত কারণে বিগত সময়ে একাধিকবার দিল্লি ভ্রমণ করলেও সে বার ওই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দিল্লি আসতে পারেননি। সশরীরে না যাবার ক্ষেত্রে অপরাপর আরেকটি কারণ ছিল, শেখ সাদী চেয়েছিলেন তার অন্তিম বেলা কাটুক শিরাজ নগরীতে যেখানে তার জন্ম- শৈশব-কৈশোর ও যৌবনে বেড়ে ওঠা। ফলে শিরাজ ত্যাগ করে দিল্লির সে যাত্রায় শেখ সাদী না গেলেও যুবরাজ ও কবিবন্ধুর প্রতি সম্মানার্থে শেখ সাদী তার রচিত গুলিস্তা, বুলিস্তাসহ অন্যান্য রচিত গ্রন্থ তুলে দিয়েছিলেন শিরাজেতে অভ্যাগত দিল্লির রাষ্ট্রীয় অতিথিদের হাতে। ইতিহাসের এই সত্যকে ঘিরেই নাটকটি শুরু হয়।

মহাকবি শেখ সাদী তার সৃজন সাহিত্যের সম্ভার নিয়ে দাঁড়িয়ে শিরাজের নিজ গৃহে, পারস্য থেকে দিল্লিগামী মুসাফিরদের আসার অপেক্ষায়। ফজরের আজান শেষে ভোরের আলো ফোটার মাহেন্দ্রক্ষণের মধ্যবর্তী অপেক্ষমাণ শেখ সাদীর সময়টুকু নিয়েই নাটক ‘শেখ সাদী’। পোশাকের পকেটে খাবার পুরার বহুল প্রচলিত কাহিনীর পাশাপাশি পারস্যের কবি রুদকী, ফেরদৌসী, জালাল উদ্দীন রুমি, ওমর খৈয়ামসহ পূর্বসূরি ও সমসাময়িক সাহিত্যিকদের সমান্তরাল পথচলা, যাপিত জীবনকে তুলে ধরা এবং নিজ সাহিত্য সৃজনের প্রেক্ষাপটকে মনোজগতে পুনরায় ফিরে দেখার এবং অপেক্ষার অবসানে শেখ সাদীর আত্মোপলব্ধির নাটক ‘শেখ সাদী’।

বক্তৃতা করছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ

তারুণ্যনির্ভর নাট্যদল চন্দ্রকলা থিয়েটারের ১৮তম প্রযোজনা ‘শেখ সাদী’ নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয় বৃহস্পতিবার। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মূল হলে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের  সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ, ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সিলর ড. মাহদী হোসেইনি ফায়েক ও  ‘শেখ সাদী’ নাটকের প্রযোজনা উপদেষ্টা মো. সাইদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চন্দ্রকলা থিয়েটারের সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন। আলোচনা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মঞ্চস্থ হয় ‘শেখ সাদী’।

বক্তৃতা করছেন ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সিলর ড. মাহদী হোসেইনি ফায়েক

পারস্যের মহাকবি শেখ সাদীর জীবন ও কর্ম আশ্রিত নাটকটি রচনা করেছেন অপূর্ব কুমার কুণ্ডু। নাটকটি নির্দেশনার পাশাপাশি নাম ভূমিকায় একক অভিনয় করেন চন্দ্রকলা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এইচ আর অনিক। নাটকের প্রযোজনা অধিকর্তা মামুনুর রশীদ মামুন, সঙ্গীত হামিদুর রহমান পাপ্পু, মঞ্চ ফজলে রাব্বি সুকর্ণ, মঞ্চ সহযোগী মাহমুদুল হাসান মাসুম, আলো এসএম অঙ্গন, কাজী নজরুল ইসলাম, মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সৈকত, নিশি, পপি, গোলাম সারোয়ার, আনিস, অবনী, মেহেদী, রিজু, নাহিয়ান, মেকাপ জনি সেন, শিল্প নির্দেশনা সুজন মাহাবুব। নাটকটির প্রযোজনা সহযোগী হিসেবে ছিল ঢাকাস্থ ইরান কালচারাল সেন্টার। এ ছাড়া পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বক্তব্য রাখছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের  সভাপতি গোলাম কুদ্দুস

 

বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ