মঙ্গলবার, ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ট্রাম্পের পরমাণু চুক্তি বাতিলের হুমকি, বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ১৬, ২০১৭ 

news-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর পরমাণু চুক্তি বাতিলের হুমকি দেয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসে দেয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সাথে পুরমাণু চুক্তি আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ চুক্তি এবং তিনি যখনই প্রয়োজন মনে করবেন তখনই এটি বাতিল করে দেবেন। তিনি ইরানকে পরমাণু সমঝোতার ‘চেতনা’ লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে  দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও হুমকি দেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চুক্তি স্বাক্ষর করা অন্য দেশগুলো। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে যৌথ এক বিবৃতিতে জানান, ‘আমরা আশা করি যে, মার্কিন প্রশাসন এবং কংগ্রেস কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যেটা যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি স্বরূপ, সেগুলো বিবেচনা করবে; বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চুক্তি থেকে সরে এসে নিষেধাজ্ঞা জারির ব্যাপারে।’

ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোঘেরিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে করা চুক্তি আন্তর্জাতিক এবং চাইলেই কোনো একক দেশ সেই চুক্তি শেষ করতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনেক ক্ষমতা আছে কিন্তু এ চুক্তি বাতিলের ক্ষমতা নেই।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানান, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে হুমকি দেয়া এবং আক্রমণাত্মক কিছু বলার জায়গা নেই। পরমাণু চুক্তি অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে চুক্তি হিসেবে ট্রাম্পের মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তে ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরবও।

তবে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাস ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নয়ায়নে অনেকটাই অাশাবাদী। জাতিসংঘ মহাসচিবের একজন মুখপাত্র এ কথা জানিয়েছেন।

ট্রাম্পের মন্তব্যের আগেই ইরান জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে সেই চুক্তির অবসান ঘটবে। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর রুহানি বলেন, আজকে যা শুনলাম তা ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ছাড়া কিছুই না।ইরানের প্রেসিডেন্ট ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমেরিকার হস্তক্ষেপের কিছু উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ইরানের জনগণ কোনো উৎপীড়ক শাসকের খিস্তিখেউড়ের সামনে মাথা নত করার জাতি নয় এবং এদেশের জনগণ কোনো ধরনের হুমকির সামনে নতি স্বীকার করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

হাসান রুহানি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য প্রমাণ করছে তিনি নির্বাচনি প্রচারাভিযানের সময় যতটা মনে করেছিলেন পরমাণু সমঝোতা তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী। তার বক্তব্য আরো প্রমাণ করেছে, পরমাণু সমঝোতাকে কেন্দ্র করে ইরান বিদ্বেষী ভূমিকার ক্ষেত্রে আমেরিকা সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ট্রাম্পের এ বক্তব্য প্রমাণ করেছে ঐতিহাসিক বাস্তবতা থেকে আমেরিকা অনেক দূরে রয়েছে। বাস্তবতা থেকে ওয়াশিংটন এত দূরে সরে গেছে যে, সে নিজের ইউরোপীয় মিত্রদের কথা শুনতেও রাজি নয়।

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার শর্তে ২০১৫ সালে দেশটির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানি।

সূত্র : আল জাজিরা, প্রেসটিভি ।