শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

জ্ঞান-বিজ্ঞানে ইরানের সাফল্য

পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ 

news-image

সাইদুল ইসলাম
‘তাভনা’ বুভাদ, হার কি দনা’, বুভাদ’ অর্থাৎ ‘সেই শক্তিশালী যে জ্ঞানী’। ১০০০ বছরেরও বেশি সময় আগে বিখ্যাত এই উক্তিটি করেছিলেন বিশ্বখ্যাত ইরানি কবি ও সাহিত্যিক ফেরদৌসি। যাঁরা এই উক্তিটি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছেন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করেছেন তাঁরাই সফলকাম হয়েছেন। আর যাঁরা মনে করেছেন জোর যার মল্লুক তার বা যে বিত্তশালী সেই শক্তিশালী তাদের অনেকেই ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। আর সেকারণেই আজ যাঁরা বিশ্বে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চান তাঁদের সবাই ছুটছেন জ্ঞানের সন্ধানে। কারণ, জ্ঞান-বিজ্ঞান ছাড়া আজকের বিশ্বে নেতৃত্ব তো দূরের কথা সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাও অসম্ভব।
একটি দেশ তথা জাতির উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে জ্ঞান-বিজ্ঞান। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যে জাতি যত বেশি এগিয়ে সে জাতি তত উন্নত। বলা হয়ে থাকে, জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ কোন জাতি যেকোন সময় যে কোন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম। আর এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়েই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার নির্দেশে দেশটির বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদরা চরম আত্মত্যাগ ও সাধনার মাধ্যমে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ইরানের অগ্রগতি আজ সবার নজরে এসেছে। বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে ইরানের বিজ্ঞানীদের অগ্রগতি সমগ্র বিশ্বের বিজ্ঞানীদের গড় অগ্রগতির চেয়ে ১১ গুণ দ্রুততর (ঋধংঃবংঃ)। ইরানের বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, সর্ব-সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে বৈজ্ঞানিক গবেষণার দ্রুত অগ্রগতি বা প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইরান শীর্ষ স্থানে রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বৈজ্ঞানিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে এমন ২৫টি দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ইরান ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে এক্ষেত্রে শীর্ষ স্থানে রয়েছে। আর এক্ষেত্রে রাশিয়া দ্বিতীয় ও চীন রয়েছে তৃতীয় স্থানে। বিগত এক বছরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ইরান যেসব সাফল্য অর্জন করেছে তা নিয়ে সম্প্রতি একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর বইটি প্রকাশ করে। এতে গত এক বছরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরান যেসব অর্জন করেছে তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বইটির নাম ‘সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইন ইরান: এ ব্রিফ রিভিউ’। এতে ২০১৭ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের অর্জনগুলো পাঠকদের জন্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
বইটি শুরু করা হয়েছে ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাস দিয়ে। এরপরেই বইটিতে বর্ণনা করা হয়েছে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে ইরানের জাতীয় নীতি। প্রথম অধ্যায়ে বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার দিক দিয়ে বিশ্বে ইরানের অবস্থান উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি দেশটির সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরিসংখ্যানের ওপর একটি পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়।
বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ন্যানো প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, স্টেম সেল প্রযুক্তি, জ্ঞানীয় বিজ্ঞান, ওষুধি উদ্ভিদ এবং ঐতিহ্যগত ওষুধ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ১৩টি ক্ষেত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্য, উপাত্ত ও পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ‘সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইন ইরান : এ ব্রিফ রিভিউ’তে সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্প, মহাকাশ, বিমানচালনা প্রযুক্তি, সামুদ্রিক শিল্প, পানি, খরা, ক্ষয় এবং পরিবেশগত প্রযুক্তি, প্রচলিত জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। বইটির প্রতিটি অধ্যায় পাঁচটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। তা হলো ইতিহাস ও পটভূমি, লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও কলাকৌশল, ধারণ ক্ষমতা ও সক্ষমতা, অথোরিটিজ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
বইটির শুরুতে এক নজরে ইরানের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে অর্জনগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দেশটিতে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রী, স্নাতক ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০০৫-৬ শিক্ষাবর্ষে ইরানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছাত্রছাত্রী ছিল ২৩ লাখ ৮৯ হাজার ৮৬৭ জন। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে এটা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪ লাখ ১১ হাজার ৫৮১ জনে। ২০০৫-৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকধারীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ২৪৬ জন, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৩৮ হাজার ২৬০ জনে। এসময়ে পিএইচডি ছাত্রছাত্রী ১৯ হাজার ২৩৭ জন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩২৪ জনে।
২০০৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যে বৈজ্ঞানিক প্রকাশনায় ইরানের অবদান ছিল ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৪-১৫ সালে অবদান বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০০৫ সালে বৈজ্ঞানিক প্রকাশনায় মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অবস্থান ছিল তৃতীয়তম, সেখানে ২০১৪-১৫ সালে একেবারে শীর্ষ স্থান দখল করেছে দেশটি।
ইরানের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১৫৪টি, পাবলিক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৫৮টি, বেসরকারি ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় ৫৬৭টি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৩৫৪টি। এরমধ্যে বিশ্ব সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ইরানের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়। ইনফরমেশন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের (আইএসআই) এক জরিপে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর শিক্ষা কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ইরানের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে তেহরান মেডিকেল সায়েন্স ইউনিভার্সিটি, ইরান পলিমার অ্যান্ড পেট্রোকেমিকেল ইনস্টিটিউট, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় ও আমির কবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অন্যতম।
ইরানে ২০১৪ সালে জ্ঞানভিত্তিক ফার্ম ছিল ৫২টি, ২০১৭ সালের মে পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০৩২টিতে। এসব কোম্পানিতে ৯০ হাজার ব্যক্তির কর্মসংস্থান হয়েছে, রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ইরানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পার্কের সংখ্যাও উল্লেযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০২ সালে যেখানে মাত্র ১টি পার্ক ছিল এখন সেখানে রয়েছে ৩৯টি।
ইরানের প্রযুক্তিভিত্তিক রপ্তানিও বেড়েছে। ২০০৪ সালে দেড় বিলিয়ন ডলার প্রযুক্তিভিত্তিক রপ্তানি হয়েছে দেশটির, ২০০৯ সালে সেখানে হয়েছে ৭ বিলিয়ন ডলার ও ২০১৪ সালে হয়েছে ১২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পার্কের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক পণ্য সামগ্রীর রপ্তানি বেড়েছে। ২০১৩ সালে যেখানে ৪৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের এসব পণ্য রপ্তানি হয়েছে, ২০১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে।
এদিকে, তেহরান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে ন্যানো প্রযুক্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, জাপান ও ফ্রান্সের মতো দেশকে টপকিয়ে ৪র্থ স্থান দখল করেছে ইরান। এই খাতে ৮ হাজার ৭৯১টি আর্টিকেল প্রকাশ করে দেশটি এই অবস্থান অর্জন করে। এই র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে ওয়েব সায়েন্স। এই তালিকায় চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
বৈজ্ঞানিক উৎপাদনে সম্প্রতি ১৮ ধাপ উপরে উঠে এসেছে ইরান। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ইরানের অবস্থান যেখানে ছিল ৩৪, সেখান থেকে উন্নতি লাভ করে বর্তমানে ১৬তম অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। ইরান-ইউরোপ সহযোগিতা বিষয়ক দ্বিতীয় কনফারেন্সে এ কথা জানান ইরানের প্রযুক্তি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট সোরেনা সাত্তারি।
ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল ইরান-ইউরোপ ইকোনোমিক অ্যান্ড টেকনোলজি কনফারেন্সে বক্তৃতাকালে সাত্তারি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অর্জনগুলো তুলে ধরেন।
গত ২১ জুন শুরু হওয়া দু’দিনব্যাপী এই কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইরানের প্রযুক্তি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট। এসময় তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ায় বৈজ্ঞানিক উৎপাদনে ইরান প্রথম স্থানে রয়েছে।
সাত্তারি বলেন, ইরান জৈবপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং স্টেম কোষ সম্পর্কিত গবেষণায় বিশাল অগ্রগতি লাভ করেছে। অন্যদিকে জৈব ওষুধ উৎপাদনে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সবার শীর্ষে রয়েছে বলে জানান তিনি।
সাত্তারি আরও বলেন, বিশ্বের সর্বাপেক্ষা সফল জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইরানের জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি অন্যতম। কোম্পানিটির রয়েছে তরুণ ও দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাঁদের গড় বয়স ৩৩ বছর। বিশ্বের দশটি দেশে কোম্পানিটি জৈব ওষুধ রপ্তানি করে বলে জানান তিনি।
মুসলিম বিশ্বে বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের মানের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। গত দশ বছরে দেশটির বিভিন্ন গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিকভাবে ১৭ লাখ ৭০ হাজারের অধিক বার উদ্ধৃত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র উদ্ধৃতের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।
বিশ্বব্যাপী বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের গুণাগুণ বিচার ও জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল সায়েন্স ইনডিকেটরসের (ইএসআই) র‌্যাঙ্কিংয়ে এই চিত্র দেখা গেছে। এ তথ্য জানিয়েছেন আইএসসির পরিচালক মোহাম্মাদ জাভেদ দেহকানি।
বিজ্ঞান ও প্রকৌশল গ্রাজুয়েটদের তালিকায় ইরান বিশ্বে দ্বিতীয়। গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স ২০১৬ অনুযায়ী ইরান ১২৮টি দেশের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল গ্রাজুয়েটদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আর মেধা বিকাশে ইরান রয়েছে ২৬তম স্থানে।
তেহরানে অবস্থিত জাতিসংঘের তথ্য কেন্দ্র জানিয়েছে, করনেল ইউনিভার্সিটি, আইএনএসইএডি বিজনেস স্কুল এবং দি ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন সম্প্রতি এ গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স ২০১৬ প্রকাশ করেছে।
বিজ্ঞানের আরো যেসব শাখায় ইরান উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে তার কিছু দিক নিচে তুলে ধরা হলো।

মহাকাশবিজ্ঞানে মধ্যপ্রাচ্যে শীর্ষে ইরান

ইরানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মহাকাশবিজ্ঞানে র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রয়েছে ইরান। এছাড়া এক্ষেত্রে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ১১তম স্থান অর্জন করেছে দেশটি। ইরানের উপ আইসিটি মন্ত্রী মোরতেজা বারারি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে মহাকাশবিজ্ঞানে ইরান প্রথম স্থানে রয়েছে। মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সক্ষম দেশের মধ্যে ইরানের অবস্থান নবম।
মহাকাশ অর্থনীতির বিকাশের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপ আইসিটি মন্ত্রী বলেন, নিজেদের মহাকাশ কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা একটি অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ। যদিও বর্তমানে মহাকাশ অর্থনীতিতে আমাদের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা গবেষণা উপগ্রহের নকশা প্রণয়ন, উৎপাদন ও তা উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছি। তবে এসবের সঠিক ব্যবহার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ক্ষেত্রে আমাদের আরো কাজ করতে হবে। আমরা বর্তমানে এ অঞ্চলে মহাকাশ বিজ্ঞানে প্রথম স্থানে রয়েছি। তবে যখন মহাকাশ প্রযুক্তি কর্মক্ষম হবে তখন আমাদের রূপান্তর ও পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হবে। কেননা, মহাকাশবিজ্ঞান কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে।

বিমানের টারবোজেট ইঞ্জিন তৈরিতে ইরানের সাফল্য

সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে বিমানের টার্বোজেট ইঞ্জিন তৈরি করেছে ইরান। ইঞ্জিনটির নকশা ও কারিগরি দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন ইরানি প্রকৌশলীরা। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী হোসেইন দেহকান এ তথ্য জানিয়েছেন। এধরনের টার্বোজেট ইঞ্জিন বিমানে সংযোজন করা হলে তা ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড্ডয়ন করতে পারবে। এমন বিমানের বহন ক্ষমতা থাকবে ১০ টন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো জানান, আটটি দেশ যারা বিমানের ইঞ্জিন বানাতে পারে ইরান তাদের অন্তর্ভুক্ত হলো। ইরানের প্রতিরক্ষা ও নিজস্ব সক্ষমতার দিক থেকেও এধরনের কৃতিত্ব উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে।
সামরিক ট্যাঙ্ক তৈরি করতে সক্ষম এ দেশটি ১৯৯২ সাল থেকে আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার, ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার, যুদ্ধ জাহাজ, সাবমেরিন ও জঙ্গি বিমান ছাড়াও দূরপাল্লার ড্রোন তৈরি করে থাকে।
পার্সেল ডেলিভারির ড্রোন তৈরিতে ইরানের সাফল্য
কেবল স্থলপথ নয়, এবার আকাশপথেও খুব সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে যাবে পার্সেল। আর সে কাজটি করবে ড্রোন। ইরানের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র (আইএসআরসি) ড্রোনটি তৈরি করেছে। পার্সেল ডেলিভারির কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যে তৈরি এ ড্রোনটি ইতোমধ্যে উন্মোচন করা হয়েছে ইরানে।

রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম দূর পাল্লার ড্রোন তৈরিতে সাফল্য
ইরান হালকা এবং রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম দূরপাল্লার নতুন একটি ড্রোন তৈরি করেছে। ড্রোনটির সর্বোচ্চ ১০ হাজার ফুট উঁচু দিয়ে ওড়ার সক্ষমতা রয়েছে। সম্প্রতি ইরানের বিমান এবং মহাকাশ শিল্প সংস্থার সর্বশেষ সাফল্য প্রদর্শনের অংশ হিসেবে নতুন এ ড্রোন উন্মোচন করা হয়।
সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার মেশিন তৈরি
ইরানের একদল গবেষক নতুন এমন এক ধরনের যন্ত্র তৈরি করেছেন, যা দিয়ে সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করে পানযোগ্য করা যাবে। পানির মেমব্রেন ব্যবহার করে এই যন্ত্র দিয়ে সমুদ্রের লবণাক্ত পানিকে মিষ্টি পানিতে পরিণত করা যাবে। যন্ত্রটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন ইরানের আমির কবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির একদল গবেষক।

পানির মান পরীক্ষায় টেস্টিং কিট তৈরি
পানির গুণগত মান পরীক্ষার জন্য বহুমুখী প্র্যাকটিক্যাল টেস্টিং কিট তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন ইরানি গবেষকরা। ন্যানো-টেক স্টার্টআপের অংশ হিসেবে তারা টেস্টিং কিটটি বানাতে সক্ষম হয়েছেন।

ন্যানো জ্বালানি কোষ তৈরি
নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম উল্লেখযোগ্য উৎস ফুয়েল সেল বা জ্বালানি কোষের প্রোটন বিনিময় ঝিল্লি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন একদল ইরানি বিজ্ঞানী। এর ফলে ঝিল্লিতে প্রোটনের রূপান্তর প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর প্রোটন রূপান্তর প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির মাধ্যমে জ্বালানি ও পরিবেশগত সঙ্কটের সমাধান হবে বলে আশা গবেষকদের।
ন্যানো-প্রযুক্তিতে কীটনাশক তৈরিতে সাফল্য
ইরানি এক গবেষক ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কীটনাশক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ প্রকল্পের পরিচালক ড. নার্গিস মেমারিজাদেহ জানিয়েছেন, ন্যানো প্রযুক্তিতে তৈরি এ কীটনাশক দিয়ে ক্ষতিকারক পোকামাকড় মারা যাবে, কিন্তু পরিবেশে তার কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না।

ন্যানো-প্রযুক্তি খাতে ইরানি অধ্যাপিকার ইউনেস্কোর পদক লাভ
ইরানের তাবরীয বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা-রসায়ন বিজ্ঞানের অধ্যাপিকা ডক্টর সুদাবেহ দবারান ন্যানো-প্রযুক্তি খাতে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর পদক পেয়েছেন।

ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন সমন্বিত থেরাপি পদ্ধতির উদ্ভাবন
ইরানের ইসলামিক আজাদ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান ও গবেষণা শাখার গবেষকরা সমন্বিত থেরাপি পদ্ধতির মাধ্যমে ক্যান্সার মোকাবিলা করার নতুন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। ফটো ডাইনামিক থেরাপি (পিডিটি) ও ঠাণ্ডা বায়ুম-লীয় প্লাজমার (সিএপি) সমন্বয়ে নতুন এ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। যা ক্যান্সার মোকাবিলায় অধিক কার্যকর বলে জানাচ্ছেন এসব গবেষক।

ক্ষতস্থানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওষুধ লাগানোর স্মার্ট ব্যান্ডেজ তৈরি
সম্প্রতি একদল গবেষক এমন একটি স্মার্ট ব্যান্ডেজ তৈরি করেছেন যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষতস্থানে ওষুধ লাগাবে। ইউনিভার্সিটি অফ নেবরাস্কা-লিংকন, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এবং এমআইটি’র একদল ইরানি গবেষক ব্যান্ডেজটি তৈরি করেছেন। ত্বকের ক্ষত দ্রুত সারাতে স্মার্ট ব্যান্ডেজটি তৈরি করার পর এটির পরীক্ষা চালাচ্ছেন তাঁরা।

বেদনানাশক ক্রিম তৈরিতে ইরানের সাফল্য
বেদনানাশক ক্রিম তৈরি করেছেন ইরানের একদল গবেষক। দেশটির জ্ঞানভিত্তিক একটি কোম্পানির গবেষকরা জীবাণুবিরোধী উপাদান সংবলিত এই ক্রিম উৎপাদন করেছেন। এটা বাতগ্রস্ত রোগীরা ব্যবহার করতে পারবেন।

নিরাপদ কোয়ান্টাম যোগাযোগ প্রযুক্তি অর্জনে ইরানের সাফল্য
বর্তমানে বিজ্ঞানীদের কাছে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে নিরাপদ কোয়ান্টাম যোগাযোগ প্রযুক্তি। এই নতুন ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো। আর এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান। সম্প্রতি দেশটির বিজ্ঞানীরা এই অত্যাধুনিক প্রযুুক্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম।
শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় রোবটের খেলাঘর তৈরি
খেলার ছলে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করিয়ে দিতে রোবটের খেলনাঘর তৈরি করেছেন গবেষকরা। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘রোবোকিড্স’। সম্প্রতি ইরানের আমির কবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (এইউটি) গবেষকরা রোবটের এই খেলনাঘর তৈরি করেছেন।
আমির মোগুয়েই নামে প্রকল্পটির এক ব্যবস্থাপক সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি দিয়ে রোবটের খেলনাঘর ‘রোবোকিড্স’ নকশা ও নির্মাণ করা হয়েছে। এই খেলাঘরটি নির্মাণের উদ্দেশ্য হলো শিশুদের বিনোদন দেওয়ার পাশাপাশি রোবট প্রযুক্তি সম্পর্কে আকর্ষণীয় পন্থায় পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
অগ্নি নির্বাপক ড্রোন তৈরিতে ইরানের সাফল্য
ইরানের শরীফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত একটি কোম্পানি অগ্নিনির্বাপণে ব্যবহাযোগ্য ড্রোন তৈরি করেছে। কোনো রকম বিদেশি প্রযুক্তি ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে কোম্পানিটি এধরনের ড্রোন তৈরি করে। এ ড্রোনের নাম দেওয়া হয়েছে হুদহুদ থ্রি। একাধিক বা মাল্টিরোটর সংযুক্ত এ ড্রোনটি উল্লম্বভাবে চলতে পারে। একটি সহজ যন্ত্রের সাহায্যে ড্রোনটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ওষুধশিল্পের প্রযুক্তি রপ্তানিতে সাফল্য
বিশ্বে ওষুধ শিল্পের বৃহত্তম প্রযুক্তি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। সেদেশের সবচেয়ে বড় ওষুধ কোম্পানি সিন্নাজেন ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. হালেহ হামেদিফার এই তথ্য জানিয়েছেন।
তেহরান চেম্বার অব কমার্স, ইন্ডাস্ট্রিজ, মাইনস অ্যান্ড এগ্রিকালচার (টিসিসিআইএমএ) এর রিপ্রেজেনটেটিভ বোর্ডের ৩৪তম বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, ইরানে প্রথম বারের মতো সিন্নাজেন ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ ওষুধ শিল্পের নেতৃস্থানীয় রপ্তানিকারক ফার্ম হিসেবে পরিচিত হতে যাচ্ছে। প্রথম বারের মতো এই ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপটির প্রযুক্তি মালয়েশিয়া ও আর্জেন্টিনায় রপ্তানি করা হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

ইরানের প্রযুক্তিগত ও প্রকৌশলসেবা রপ্তানিতে সাফল্য
চলতি ইরানি বছরের প্রথম আট মাসে ইরানের প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সেবা রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ৮০ শতাংশ। ইরানের বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থার (টিপিও) এক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই তথ্য জানিয়েছেন।
টিপিও এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ এসকান্দারি বলেন, বছরের প্রথম ৮ মাসে ইরান থেকে ৫৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সেবা রপ্তানি হয়েছে। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ে তুলনায় এ সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ৮০ শতাংশ। আগের বছরের প্রথম ৮ মাসে এ রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৩০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ভবন নকশায় ইরানি স্থপতির স্বর্ণপদক জয়
ইরানি স্থপতি মোহাম্মদ রেজা কানেই’এর নকশায় তৈরি ভবন মিলানে নকশা প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতেছে। কানেই’এর ভবনটি আবাসিক। ইরানের ইসফাহানে পলশির আর্কিটেক্ট প্রতিষ্ঠান ওই ভবনটি নির্মাণ করে। যা ইতালিতে আর্কিটেকচার, বিল্ডিং অ্যান্ড স্ট্রাকচার ডিজাইন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে।

মধ্যপ্রাচ্যে শীর্ষ ৫ ইরানি প্রকৌশলী
মিডিল ইস্ট প্রিমিয়ার ওয়েবসাইট ফর আর্কিটেকচার অ্যান্ড ইন্টেরিওর ডিজাইন যে প্রভাবশালী ৫০ জন প্রকৌশলীর নাম ঘোষণা করেছে তার মধ্যে ৫ শীর্ষ প্রকৌশলীই ইরানি। লেবানন থেকে ইরান পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে এ ৫০ জন প্রকৌশলীর নির্মাণ স্থাপত্য উন্নয়নে এক নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করেছে।

বিশ্বের সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী বিজ্ঞানীদের তালিকায় ৭ ইরানি
বিশ্বের সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী বৈজ্ঞানিক গবেষকদের তালিকায় নাম রয়েছে ইরানের সাত বিজ্ঞানীর। ‘২০১৭ হাইলি সাইটেড রিসারচারস’ শীর্ষক তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন এসব ইরানি বিজ্ঞানী। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ও অ্যাকাডেমিক গবেষণাবিষয়ক কোম্পানি ক্লারিভেট অ্যানালিটিক্স প্রকাশিত তালিকায় এই চিত্র উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত ইরানি বিজ্ঞানী
ইরানের বিজ্ঞানি ও স্ট্রিং তত্ত্ববিদ কারমান ভাফা আরো তিন বিজ্ঞানীর সঙ্গে মৌলিক পদার্থ বিদ্যায় ব্রেকথ্রু প্রাইজ ২০১৭ পেয়েছেন। এসব বিজ্ঞানী স্ট্রিং তত্ত্ব ব্যবহার করে বিশ্বের চার মৌলিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে আসছেন। এ চারটি মৌলিক শক্তি হচ্ছে বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় শক্তি, সবল পারমাণবিক শক্তি, দুর্বল পারমাণবিক শক্তি ও মহাকর্ষ। বিজ্ঞানীদের মধ্যে অ্যান্ড্রু স্ট্রমিঙ্গার ও কারমান ভাফা হার্ভার্ড ভার্সিটি এবং জোসেপ পোলসিনিস্কি ক্যালিফোর্নিয়া ভার্সিটি থেকে যৌথভাবে এ পুরস্কার লাভ করেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানের আরো অনেক শাখায় ইরান একের পর এক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। একটিমাত্র লেখার মধ্যে এসব সাফল্যের সম্পূর্ণ তথ্য তুলে ধরা সম্ভব নয়। তবে এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, জ্ঞান-বিজ্ঞানে ইরানের সফলতার এই ধারা অব্যাহত থাকলে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দেশটি বিশ্বের প্রথম ৫টি দেশের মাঝে স্থান করে নেবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এক গবেষণা কেন্দ্র পরিদর্শন করে বলেছিলেন, বিজ্ঞান ও গবেষণাই অগ্রগতি অর্জনের চাবিকাঠি। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের অর্জিত জ্ঞান-বিজ্ঞান আয়ত্ত করাকে তিনি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রাথমিক যাত্রা হিসেবে অভিহিত করেন এবং এ যাত্রাকে প্রাথমিক পর্যায়েই সীমিত না রাখার আহ্বান জানান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, কোনো কোনো বৃহৎ শক্তি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে একচেটিয়া কর্তৃত্বাধীনে রাখতে চাইছে এবং বিশ্বকে উন্নত ও পশ্চাদপদ এ দুই অংশে চিরকালের জন্য বিভক্ত করে রাখতে আগ্রহী। জাতিগুলোর জাগরণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জনের মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বের ওপর চাপিয়ে রাখা এই আধিপত্যকামী ব্যবস্থা পরিবর্তন করা সম্ভব। আর এক্ষেত্রে সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য, প্রতিভা ও উন্নত সংস্কৃতির অধিকারী ইরানের মুসলিম জাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানি গবেষকদের বিস্ময়কর সব সাফল্য ওই কাঙিক্ষত আত্মবিশ্বাস, প্রতিভা ও শক্তিমত্তারই প্রমাণ।