মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

জি-৭৭ গ্রুপের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে ইরান

পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৭ 

news-image

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ইরান জি-৭৭ গ্রুপের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান যে একটি প্রভাবশালী দেশ- তা আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে।

শুক্রবার ভিয়েনায় জাতিসংঘের ইউরোপীয় সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে এই সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি রেজা নাজাফি এক বছরের জন্য জি-৭৭ গ্রুপের সভাপতি নির্বাচিত হন।  এর আগে ২০০১ সালেও একবার ইরান এই গ্রুপের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিল।

১৯৬৪ সালের ১৫ জুন তৎকালীন উন্নয়নশীল ৭৭টি দেশ নিজেদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জি-৭৭ গঠন করে।  জাতিসংঘ পদ্ধতির আওতায় জি-৭৭ গ্রুপ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ আন্তঃসরকারি সংস্থা। বর্তমানে এই সংস্থার সদস্য সংখ্যা ১৩৪। সদস্য বেড়ে ১৩৪ হলেও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এর মূল নাম জি-৭৭ই রয়ে গেছে।

গত এক দশকে ইরান নানা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে অজুহাত করে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়া ছিল এসব ষড়যন্ত্রের অন্যতম। আমেরিকাসহ কিছু ইউরোপীয় দেশ এই এক দশকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে ইরানকে কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা করে। আমেরিকার বিরোধিতার কারণে কোনো কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য পর্যন্ত হতে পারেনি ইরান।

কিন্তু এতসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইকো এবং ডি-এইটের মতো অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থাগুলোতে ইরান উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। সেইসঙ্গে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন বা ন্যামের মতো একটি বিশাল আন্তর্জাতিক সংস্থার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছে তেহরান। এবার জি-৭৭-এর সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর সম্মিলিত স্বার্থ রক্ষা, অর্থনীতি বিষয়ে জাতিসংঘে সদস্য দেশগুলোর কথা বলার ক্ষমতা জোরদার এবং নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা শক্তিশালী করা হচ্ছে বর্তমানে জি-৭৭ গ্রুপের অন্যতম কিছু প্রধান লক্ষ্য।  জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সভাপতির দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইরান আগামী এক বছর সাফল্যের সঙ্গে জি-৭৭ গ্রুপের নেতৃত্ব দেবে বলে  পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন। সূত্র: পার্সটুডে।