রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

জালাল উদ্দিন রূমির কাব্য ও দর্শন

পোস্ট হয়েছে: ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ 

news-image

ড. মো. কামাল উদ্দিন: ফারসি সাহিত্যাঙ্গনে উদিত নক্ষত্ররাজির মাঝে যাদের আলোকচ্ছটায় বিশ্বসাহিত্য গৌরবান্বিত জালাল উদ্দিন রূমি তাদের অন্যতম। কবি হাকিম সানায়ি ও ফরিদ উদ্দিন তার অগ্রদূত। সানায়ি থেকে সূচিত আধ্যাত্মিক চিন্তাধারা ফরিদ উদ্দিন আত্তারের মাধ্যমে বিকশিত হয়ে জালাল উদ্দিন রূমির দ্বারা তা ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়ে ওঠে। শৈশবে উপযুক্ত পরিবেশে লালিত-পালিত হয়ে পরিণত বয়সে শাম্স তাবরিযির সান্নিধ্য তাঁকে আধ্যত্মিকতার পথ পরিভ্রমণে অনুপ্রাণিত করে। কালের আবর্তনে জালাল উদ্দিন রূমিই হয়ে ওঠেন ফারসি সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সুফিকবি। আলোড়িত করেন বিশ্ববাসীর হৃদয়কে, অনুপ্রাণিত করেন ভাষা, বর্ণ, কালের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের মননকে। আজো পৃথিবীর অসংখ্য ভাষায় অনূদিত হয়ে মানুষের অন্তরে সাড়া জাগিয়ে আসছে তাঁর কবিতা।

ফারসি সাহিত্যের এ মহান কবির জন্ম ইরানের খোরাসান প্রদেশের বাল্খ্ শহরে ৬ রবিউল আউয়াল ৬০৪ হিজরি মোতাবেক ১২০৭ খ্রিস্টাব্দে। মূল নাম মোহাম্মদ, উপাধি জালাল উদ্দিন। পিতার নাম মোহাম্মদ সুলতান বাহা উদ্দিন ওয়ালাদ। পিতা ছিলেন সমকালীন একজন বিখ্যাত জ্ঞানী, ধার্মিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তৎকালীন অত্যাচারী শাসকদের নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে হাজার হাজার মানুষ বাল্্খ ত্যাগে বাধ্য হন। তাঁর পিতাও তেমনিভাবে মাতৃভূমির মায়া বিসর্জন দিয়ে হেরাত ও তুসের পথ ধরে পথ চলতে চলতে ১২১৯ খ্রিস্টাব্দে নিশাপুরে এসে উপনীত হন। ফরিদ উদ্দিন আত্তারের সাথে সাক্ষাৎ লাভের পর তিনি রূমির পিতাকে ছেলের ব্যাপারে সতর্ক ও যতœশীল হতে পরামর্শ দেন। এছাড়াও তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন

اين فرزند را گرامی دار، زود باشد که از نفس گرم، آتش در سوختگان عالم زند.

অর্থাৎ ‘এই সন্তানের যতœ নিও, অচিরেই তাঁর উষ্ণ নিঃশ্বাসে উত্থিত প্রেমের আগুনে এই ধরণীর প্রেমিকদের পোড়াবে।’

এছাড়াও আত্তার তাঁর আসরারনামা কাব্যের একটি কপি রূমিকে ¯েœহাশীষ হিসেবে উপহার দেন।

রূমি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় পশ্চিম তুরস্কের কুনিয়ায় অতিবাহিত করেন। ১২৩০ খ্রিস্টাব্দে পিতার মৃত্যুতে স্বীয় ওস্তাদ সাইয়্যেদ বুরহান উদ্দিনের সংস্পর্শে এসে আধ্যাত্মিকতার পথে ধাবিত হতে থাকেন। আর যে মনীষীর সান্নিধ্য লাভের ফলে রূমির জীবনে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয় তিনি হলেন শাম্স তাবরিযি। অধিকাংশ গবেষকের মতে, তিনি ১২৪৪ খ্রিস্টাব্দে কুনিয়ায় আগমন করেন। তাঁর সাথে রূমির সাক্ষাতের বিষয়ে বিভিন্ন মতভেদ থাকলেও এটি প্রণিধানযোগ্য যে, শাম্স তাবরিযির সান্নিধ্যই রূমিকে আধ্যাত্মিকতার জগতে নব দিগন্ত উন্মোচিত করে দেয়। রূমির জীবনে তাঁর প্রভাব এতই বেশি ছিল যে, তাঁকে ছাড়া তিনি কিছুই কল্পনা করতে পারতেন না। এমনকি তাঁর বিরহে রূমি দিওয়ানে শাম্স তাবরিযি রচনা করেন। ফারসি সাহিত্যের এই শ্রেষ্ঠ কবি মাত্র ৬৮ বছর বয়সে ১২৭৩ খ্রিস্টাব্দে এ ধরণীর মায়া ত্যাগ করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে গমন করেন এবং কুনিয়াতেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।

জালাল উদ্দিন রূমির কাব্যের মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ তাঁর মসনবি। যা উপমহাদেশে মসনবিয়ে রূমি হিসেবে খ্যাত, যদিও ইরানে তা মসনবিয়ে মওলাভি বা মসনবিয়ে মা‘নাবি নামে সমধিক পরিচিত। এ বিশাল মসনবির পঙ্ক্তি সংখ্যা নিয়ে গবেষকগণের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন মত পরিলক্ষিত হয়। অধ্যাপক নিকলসনের মতে, ছয় খ-ের পূর্ণাঙ্গ মসনবিতে সর্বমোট ২৫,৬৩২টি পঙ্ক্তি রয়েছে। ড. যবিহ উল্লাহ সাফার মতে, এ গ্রন্থে পঙ্ক্তি সংখ্যা ২৬,০০০টি। আর সমকালীন সাহিত্য সমালোচক ড. তাওফিক হা. সোবহানির মতে, ৬ খ-ের পূর্ণাঙ্গ মসনবিতে সর্বমোট ২৬,০৩২টি পঙ্ক্তি রয়েছে। তন্মধ্যে প্রথম খ-ে ৪,০০৩টি, দ্বিতীয় খ-ে ৩,৮১০টি, তৃতীয় খ-ে ৪,৮১০টি, চতুর্থ খ-ে ৩,৯৫৫টি, পঞ্চম খ-ে ৪৬৩৮টি এবং ষষ্ঠ খ-ে ৪,৯১৬টি পঙ্ক্তি। রূমির অপর এক কাব্য দিওয়ানে শাম্স তাবরিযি। ড. মোহাম্মদ মুঈনের মতে, এ গ্রন্থের পঙ্ক্তি সংখ্যা ৫০,০০০। অপরদিকে ড. তাওফিক হা. সোবহানির মতে, এতে গযল ও তারজিবান্দ পঙ্ক্তির সংখ্যা ৩৬,৩৬০টি, রুবাঈ পঙ্ক্তির সংখ্যা ৩,৬৭৬টি, আর সর্বমোট পঙ্ক্তি সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ৪০,০৩৬টি। তাছাড়া তিনি রচনা করেন ফিহ মা ফিহ, মাকাতিব ও মাজালেসে সাব‘আ।

জালাল উদ্দিন রূমির কাব্যপ্রতিভা বিকশিত হবার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী দু’জন খ্যাতিমান কবি হাকিম সানায়ি ও ফরিদ উদ্দিন আত্তারের প্রভাব অপরিসীম। ফারসি সাহিত্যে সুফিদর্শনের বিকাশে সানায়ি ও আত্তারের ধারা অনুসরণ করেই রূমি কাব্যচর্চা ও সুফিদর্শন পূর্ণতাদানে ভূমিকা রাখেন। স্বীয় জীবনে তাঁদের প্রভাব সম্পর্কে রূমি বলেন,

عطار روح بود و سنائی دو چشم او ما از پی سنائی و عطار آمديم

অর্থাৎ ‘আত্তার ছিল প্রাণ এবং সানাঈ তাঁর দু’টি চক্ষু; আমরা আত্তার ও সানায়ির পদাঙ্ক অনুসরণ করে এসেছি।’

মসনবিয়ে রূমি বিশ্বসাহিত্যের এক অমূল্য রতœভা-ার। মসনবির মূল সূর বা কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় প্রেম। এ প্রেমেই বিশ্বজাহানের সৃষ্টি। প্রেমের আকর্ষণেই নব নব দিগন্তের উন্মোচন। গতিশীল জীবনের মূলে রয়েছে প্রেম। বিরহ-বিচ্ছেদের যাতনা, মিলনের তীব্র আকাক্সক্ষা প্রেমানুভূতিকে শাণিত করে। পরমাত্মার কাছ থেকে বিরহের অনল হৃদয়-মনকে প্রতিনিয়ত দগ্ধীভূত করে। জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাড় খাড় করে দেয়। মিলনের তীব্র বাসনা সব সময় মনের গভীরে বেজে ওঠে। বৈষয়িক সকল চাহিদা, ভোগ-বিলাস, লোভ-লালসার ইতি ঘটিয়ে চিরন্তন প্রেমাস্পদের সান্নিধ্যে পৌঁছার বিশেষ অনুভূতি ঝংকৃত হয় হৃদয়ের কর্ণকুহরে। এ হৃদয়ানুভূতি ক্ষণস্থায়ী কোনো ভালোবাসা নয়; যা অতি সহজেই নিঃশ্বেষ হয়ে যাবার মত। বরং ক্রমেই তা বৃদ্ধি পেতে থাকে, অস্থিরতা সৃষ্টি হয় মননের গভীরে। প্রতিকূলতাকে জয়ের আত্মিক শক্তিও বাড়তে থাকে। বৈষয়িক চাহিদা হয়ে ওঠে গৌণ। তাইতো দেখা যায় পার্থিব বিষয়াদির আকর্ষণ কবিকে বিমূখ করতে পারে নি স্বীয় চিন্তাচেতনা থেকে। তিনি একমনে অবিনশ্বর ¯্রষ্টার প্রতি অনুপ্রাণিত করেছেন জগদ্বাসীকে। এমনই অনুভূতিসম্পন্ন হৃদয়ের প্রত্যাশাই ভেসে উঠেছে তাঁর কবিতার ছন্দের তালে তালে। কবির কণ্ঠে ধ্বনিত হয়-

بشنو از نی چون حکايت می کند از جدايی ها شکايت می کند

کز نيستان تا مرا ببريده اند در نفيرم مرد و زن ناليده اند

سينه خواهم شرحه شرحه از فراق تا بگويم شرح درد اشتياق

অর্থাৎ ‘শ্রবণ কর, বাঁশি কী অবস্থা বর্ণনা করছে, বিরহ-বিচ্ছেদের অভিযোগ প্রকাশ করছে। যখন থেকে আমাকে বাঁশবন থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, আমার কান্না ও আর্তনাদে নারী-পুরুষ সকলেই ক্রন্দন করেছে। বিরহ বেদনায় ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়ের আমি প্রত্যাশী, যেন আমার প্রেম-বেদনার অনুভূতি ব্যক্ত করতে পারি।’

আধ্যাত্মিক প্রেম এক চিরন্তন অনুভূতি। আল্লাহর সাথে রূহের যে সম্পর্ক তা অবিচ্ছেদ্য। ক্ষণিকের তরে তা বিস্মৃত হলেও পরক্ষণেই হৃদয়ের গভীরে বেজে ওঠে সেই সূর। একদিকে যেমন মানুষ এ ধরনীতে এসে চাকচিক্যময় পরিবেশে লাভ করেছে শান্তিময় জীবন, অনুরূপভাবে রূহ বা আত্মাকে প্রতি মুহূর্তে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে করতে হচ্ছে সংগ্রাম। এ সংগ্রামে কখনো বা নাফ্সের চাহিদা তাকে পরাভূত করে ফেলে আবার কখনো বা রূহ শক্তিশালী হয়ে প্রভাব বিস্তার করে সম্মুখপানে এগিয়ে নিয়ে চলে। জীবনযুদ্ধের এ টানাপোড়েনে আত্মা চায় অতি শীঘ্রই পরমাত্মার সান্নিধ্যে গিয়ে একাকার হয়ে যেতে। পরমাত্মার সাথে আত্মার মিলনের যে অধীর আগ্রহ, দীর্ঘ প্রতীক্ষা সে কল্পনানুভূতির অভিব্যক্তির বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় মসনবির ছন্দে ছন্দে। কবির ভাষায়-

هرکسی کو دور ماند از اصل خويش باز جويد روزگار وصل خويش

سر من از نالهء من دور نيست ليک چشم و گوش را آن نور نيست

অর্থাৎ ‘যে কেউ তার মূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, পুনরায় সে তার মিলনযুগ অনুসন্ধান করে। আমার গোপন রহস্য আমার ক্রন্দন ও আবেগ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, কিন্তু চক্ষু ও কর্ণের সেই জ্যোতি নেই তা অনুভব করার।’

সুফিকবি রূমির মতে, দেহ, মানবাত্মা ও পরমাত্মার মিলনের ক্ষেত্রে অন্তরায়, দেহের ধ্বংসেই আত্মার মুক্তি। এতে অনায়াসে পৌঁছতে পারে কাক্সিক্ষত পরমাত্মার সান্নিধ্যে। দেহের অভ্যন্তরে যে কামনা-বাসনা, লোভ-লালসা, মোহ মানুষকে সত্যপথ হতে বিচ্যুত করে, রূমির ভাষায় তার নাম নাফ্স। নাফ্সের ধ্বংসই দেহের কর্তৃত্বের অবসান ও আত্মার স্বাধীনতার পূর্ণতা। নাফ্সের বিরুদ্ধে আত্মার এ সংগ্রাম জীবনব্যাপী। এ জন্য প্রয়োজন আত্মিক শক্তি, সামর্থ্যÑ যা দিয়ে নাফ্সকে পরাভূত করে রূহের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে। এ সংগ্রামের অবসান হবে সেদিন যেদিন নাফ্স সম্পূর্ণরূপে রূহের আজ্ঞাবহ হবে। আত্মার চলার পথে অন্তরায় না হয়ে বাহন হিসেবে পরিগণিত হবে। আর এ অবস্থার নাম ‘ফানা’- বিলয়। এই স্তর অতিক্রম করে যখন আল্লাহতে পূর্ণ সমাপ্তি প্রাপ্ত হওয়া যায় তখন এক নব জীবনের অধিকারী হওয়া যায়। আর এই অবস্থার নাম ‘বাকা’। রূমির আধ্যাত্মিক বিষয়াবলি একান্ত তাঁর নিজস্ব চিন্তাচেতনার বহিঃপ্রকাশ, যা ইতঃপূর্বে এত সুন্দরভাবে কারো কারো কাব্যে দৃশ্যমান হয়নি। অভিনব রচনাশৈলী ও আধ্যাত্মিক পথ পরিক্রমার বর্ণন এতদুভয়ের সার্থক সমাহার ঘটেছে তাঁর মসনবিতে। এ প্রসঙ্গে The New Encyclpaedia Britannica বলা হয়েছে :

“Jalal ad-Din ar-Rumi also called MAWLANA, the greatest Sufi mystic, and poet in the Persian language, famous for his lyrics and for his didactic epic Masnavi-ye Manavi (spiritual couplets) which widely influenced Muslim mystical thought and literature.”

বিশ্বব্যাপী জালাল উদ্দিন রূমির খ্যাতি ও পরিচিতির মূলে হলো তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ মসনবি। এতে রয়েছে সুফিদর্শন ও আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে মহান ¯্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের পথনির্দেশনা। সুফিতত্ত্বের মূলকথা মহান আল্লাহর অস্তিত্ব, রূহ বা আত্মার প্রকৃতি, জীবন-মৃত্যু ও জগতের সাথে সম্পৃক্ত। প্রতিটি বিষয়ের অভিব্যক্তি রয়েছে এ মসনবিতে। বাস্তব ও কল্পিত কাহিনী, উপকথা, নীতিগল্প, রূপক কাহিনী ও গভীর চিন্তাধারার সমাহারে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বিষয়সমূহ হয়ে উঠেছে সহজবোধ্য ও সাবলীল।

সাহিত্যিক ভাবধারার সমাহারে নৈতিক চিন্তাধারার বিশ্লেষণ ও কাব্যিক উপস্থাপনা ইসলামি বিশ্বে বিরল। পার্থিব বিষয়াবলির উপমা প্রদানের মাধ্যমে বৈষয়িক ভোগ-বিলাস, লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ প্রভৃতির অনীহা সৃষ্টি এবং পারলৌকিক জীবনের প্রতি অনুগামী করে তুলতে অনুপ্রেরণার উৎসমূল হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে রূমির এ মসনবি। যা মুসলিম বিশ্বের সাহিত্যসাধনা, ইসলামি সংস্কৃতি ও দর্শনের বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকায় অবতীর্ণ। ফারসি ভাষায় যেন কুরআনীয় নৈতিক শিক্ষার সমাহার ঘটেছে এ মসনবিতে। কবির ভাষায়-

مثنوی معنوی مولوی هست قرآن در زبان پهلوی

অর্থাৎ ‘মৌলভির আধ্যাত্মিক বিষয় সম্বলিত মসনবি পাহলভি (ফারসি) ভাষায় কুরআন (এরই ব্যাখ্যারূপ)।’

দেশ-কাল-জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বমহলে সমাদৃত কবি জালাল উদ্দিন রূমির কবিতা। ভাষা ও ভৌগোলিক সীমারেখা এবং কালের গ-ি এর আবেদনকে সীমায়িত করতে পারে নি। আধ্যাত্মিক চিন্তাধারা, কাব্যিক অনুভূতি, কল্পনার অভিব্যক্তি সাবলীল ভাষায় ছন্দের তালে তালে ঝংকৃত হয় তাঁর কবিতায়। যা পাঠে পরম আনন্দ ও বিশেষ অনুভূতি জেগে ওঠে হৃদয়ের গভীরে। পরম প্রেমের অনাবিল আবেশে স্বীয় সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য লাভের আকাক্সক্ষা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। কাহিনীর বুনন, রূপকালঙ্কার, উপমা-উৎপ্রেক্ষার প্রয়োগ, ভাষার গাঁথুনি এসবই তাঁর কবিতাকে করেছে মহিমান্বিত। সাড়া জাগিয়েছে বিশ্ববাসীর হৃদয়ে। তাঁর কাব্যিক আকর্ষণ ও আধ্যত্মিক তত্ত্ব হাজার বছর ধরে পৃথিবীর মানুষকে আকৃষ্ট করে রেখেছে এবং অনাগত কালেও বিশ্বমানবতাকে পথ প্রদর্শন করবে।

প্রফেসর, ভাষা বিভাগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়