রবিবার, ৩রা জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

English

জাঞ্জান প্রদেশের নলবন্দন গ্রামে গোলাপজল উৎসব

পোস্ট হয়েছে: জুন ১৩, ২০২২ 

news-image

গোলাপজল উৎসব ইরানের একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব যা সাধারণত ‘গোলাব-গিরি’ নামে পরিচিত। শুক্রবার পশ্চিম-মধ্য জাঞ্জান প্রদেশের নলবন্দন গ্রামে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয় এই উৎসব।স্থানীয় বিভিন্ন খেলার আয়োজন, হস্তশিল্পের প্রদর্শণী ও ভেষজ পানীয় বিক্রি ছিল উৎসবের অন্যতম অকর্ষণ। শনিবার স্থানীয় পর্যটন প্রধান মাসুমে শিরি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোলাপ সংগ্রহ পদ্ধতি ও কম পরিচিত এলাকাকে পরিচিত করানোর পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যটনের সক্ষমতাকে তুলে ধরাই এই উৎসবের প্রধান লক্ষ্য।

গোলাপজল একটি বিশেষ ধরনের গোলাপ থেকে পাওয়া যায়, যা ইরানে মোহাম্মদী গোলাপ নামে পরিচিত। ফুল সংগ্রহ গোলাপজল উৎপাদন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত খুব সাবধানে ফুলগুলো বাছাই করা হয়। পাপড়িগুলিকে তামার পাত্রে রেখে সিদ্ধ করা হয় এবং তারপরে তোলা জল বিশেষ বোতলে রাখা হয়। পাতন যত দীর্ঘ হবে, গোলাপজলের গুণমান তত ভালো হবে।

গোলাব দেশব্যাপী বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে ব্যবহৃত হয় বা ধর্মীয় সুগন্ধি হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।ইরানে ফুল ও ভেষজ পাতনের গভীর ইতিহাস রয়েছে। অনেকে বিশ্বাস করে যে ঐতিহ্যগতভাবে পাতিত গোলাপজল কারখানায় উত্পাদিত হওয়ার চেয়ে উচ্চ মানের হয় সম্ভবত ফসল কাটা এবং পাতন অনুশীলনের মধ্যে অল্প সময়ের ব্যবধানের কারণে।

গোলাপজলের মন মাতানো সৌরভ শুধু দেশেই নয় সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে গেছে বিশ্বব্যাপী। প্রতিবছর মে এর শুরু থেকে জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইরানে গোলাপ ফুল থেকে গোলাপজল প্রস্তুতিকরণের কার্যক্রম শুরু হয়।

গোলাপজল উৎসবের এই সময়টায় আকাশ-বাতাশে ছড়িয়ে থাকা গোলাপের সুবাস মানুষের মন জুড়িয়ে দেয়। ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে, সুমিষ্ট ঘ্রাণ নিতে আশপাশের লোকজন তো ছুটে আসেই। দৃষ্টিনন্দন উৎসবের আকর্ষণে ছুটে আসেন লাখ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক। ফুল বাগানের সৌন্দর্যে আর সুমিষ্ট ঘ্রাণে ব্যাকুল হন দর্শনার্থীরা।  সূত্র: তেহরান টাইমস।