সোমবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

English

চিকিৎসা বিজ্ঞানে ইরানের সাফল্য

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ৬, ২০১৬ 

news-image

সাইদুল ইসলাম

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের পর থেকেই জ্ঞান-বিজ্ঞানে ধাপে ধাপে এগিয়ে চলেছে ইরান। বিশেষ করে চিকিৎসা বিজ্ঞানে গত ৩৭ বছরে দেশটির সাফল্য চোখে পড়ার মতো। বিপ্লবের আগে যে দেশটির অনেক শহরে ইরানি ডাক্তার খুঁজে পাওয়া দুরূহ ব্যাপার ছিল সে ইরানের নাম এখন চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত থমসন রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সেরা ১ ভাগ চিকিৎসা গবেষকদের মধ্যে অন্তত ৩৬ জন ইরানি গবেষক স্থান করে নিয়েছেন। থমসন রয়টার্স প্রতিনিয়ত বিশ্বের চিকিৎসা গবেষকদের একটি তালিকা আপডেট করে থাকে। গত ১০ বছরের চিকিৎসা গবেষণার কর্ম থেকে গবেষকদের এ ধরনের তালিকা করা হয়েছে।
যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষকরা ইরানের হয়ে এ তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তার মধ্যে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ জন, ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন, তাবরিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন, শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২ জন, সিরাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২ জন, মাশহাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২ জন, তেহরান বাকিয়াতাল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ জন, ইরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ জন ও জানজান বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ জন গবেষক।
বার্তা সংস্থা ইরনার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরান বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ওষুধ উৎপাদনকারী দেশের একটি। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের ৪৪টি দেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম রপ্তানি করছে। সম্প্রতি ইরানের চিকিৎসা সরঞ্জাম রপ্তানিকারকদের ইউনিয়নের সচিব মোহাম্মাদ রেযা জানিয়েছেন, প্রতি বছর বিশ্বের ৪৪টি দেশে তিন কোটি ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম ইরান থেকে রপ্তানি হয়। রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়ানোর ইচ্ছে রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ইরানের চিকিৎসা সরঞ্জাম জার্মানি ও ইতালিসহ ইউরোপের দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়। এসব সরঞ্জাম ইউরোপীয় মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিই-র অনুমোদনপ্রাপ্ত।
এদিকে, ইরানের চিকিৎসা খাতে ব্যবহৃত জৈব পণ্য উৎপাদন এবং রপ্তানি সংস্থার পরিচালক আমির হোসেইন কারাগাহ্ জানিয়েছেন, ইরান কেবল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে তাই নয় একই সাথে দেশটি জৈব ওষুধ প্রস্তুত সংক্রান্ত প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞতাও রপ্তানি করছে। তিনি বলেন, এ জাতীয় প্রযুক্তি রপ্তানির মধ্য দিয়ে ইরানের জৈব ওষুধ উৎপাদনের উচ্চ সক্ষমতাই ফুটে উঠেছে। বর্তমানে ইরান এ জাতীয় ওষুধ ও ওষুধ নির্মাণের প্রযুক্তি তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইরাক, আর্মেনিয়া, কাযাকস্তান এবং রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ রপ্তানি করছে।
গত কয়েক বছরে ইরান প্রায় এক ডজনের বেশি জৈব ওষুধ উৎপাদন করেছে। এতে ইরান প্রায় ৭০ কোটি ডলারের বেশি পরিমাণে অর্থ বিদেশে যাওয়া থেকে সাশ্রয় করতে পেরেছে।
এ ছাড়াও ইরানি বিজ্ঞানীরা শক্তিশালী মৌলিক কোষ তৈরি করতে সক্ষম হওয়ায় ইরান এ ক্ষেত্রে বিশ্বের ৫টি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। বিশ্বের খ্যাতনামা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী মৌলিক কোষ নির্মাণে ইরানের সাফল্যের কথা স্বীকার করেছে। ফলে ইরান এক্ষেত্রে বিশ্ব অঙ্গনে জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও চীনের পরই নিজের বিজয় পতাকা উড্ডীন করতে সক্ষম হয়।
শক্তিশালী মৌলিক কোষ থেকে মানব দেহের প্রতিটি অঙ্গের কোষই তৈরি করা যায়। আর এর মাধ্যমে মৌলিক ভ্রুণ কোষগুলোকে কার্যক্ষম করা সংক্রান্ত অনেক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। এ ছাড়াও মৌলিক কোষের মাধ্যমে জেনিটিক চিকিৎসা, ওষুধের মান উন্নয়ন, ভ্রুণের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা ও বংশগতি বা জিন সংক্রান্ত গবেষণা করা যায়।
মৌলিক কোষ ও শক্তিশালী মৌলিক কোষ নির্মাণ গবেষণা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের সবচেয়ে জটিল বা অত্যাধুনিক ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই প্রযুক্তি গত কয়েক দশকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে, বিশেষ করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের নষ্ট হয়ে-যাওয়া কাঠামো মেরামত ও বিভিন্ন অঙ্গের জোড়া লাগানোর কাজে বড় ধরনের বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। ভ্রুণের মৌলিক কোষ এমন কিছু প্রাথমিক কোষ যেগুলো বিভিন্ন কোষে রূপান্তরিত হবার ক্ষমতা রাখে। গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেখা গেছে ভ্রুণের মৌলিক কোষ শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত বা আঘাতপ্রাপ্ত অংশের কাঠামোয় জোড়া লেগে যায়। জোড়া লেগে যাবার পর কোষগুলো ঐ বিশেষ অঙ্গের কোষে পরিণত হয়। এ ছাড়াও এই কোষগুলো থেকে নতুন অনেক কোষ তৈরি করা যায় এবং নতুন এই কোষগুলোকে শরীরের বিভিন্ন অংশের কাঠামোয় ব্যবহার করা যায়। মৌলিক কোষগুলো এত শক্তিশালী যে, সেগুলো সংখ্যা বৃদ্ধির সময় ও বিভিন্ন অঙ্গে বা স্থানে প্রতিস্থাপনের সময় নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।
ক্যান্সার চিকিৎসায়ও ইরানি বিজ্ঞানীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তেহরানের কে এন তূসি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন একটি যৌগ আবিষ্কার করেছেন যার সাহায্যে মানবদেহে ক্যান্সার চিহ্নিত করা যাবে। এধরনের যৌগ উৎপাদন করা যাবে বেশ সস্তায় এবং এতে অপেক্ষাকৃত কম খরচে ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা স¤পন্ন করা যাবে। ইরানের ন্যানোটেকনোলজি ইনিশিয়েটিভ কাউন্সিল এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানায়,ক্যান্সার রোগীর দেহে আবিষ্কৃত এ যৌগটি ব্যবহার করে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে।
আবিষ্কৃত যৌগটির উচ্চ পরিশোষণ ক্ষমতার কারণে মানবদেহের কোষ থেকে তা সহজেই ক্যান্সার জীবাণুকে চিহ্নিত করতে পারে। যা এধরনের চিকিৎসাকে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করছেন ইরানের বিজ্ঞানীরা। হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও ইরানি চিকিৎসকদের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। ইরান বছরে প্রায় ১০০ হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার করে থাকে। পঞ্চম আন্তর্জাতিক ইরানি হার্ট ফেইলিউর সামিট থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ইরান ডেইলিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বাবাক শারিফ-কাশানি এ তথ্য জানিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরান হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন ও হৃদরোগ চিকিৎসায় শীর্ষে অবস্থান করছে। তিনি বলেন, ইরানে ৭৫ ভাগ হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন সফল হচ্ছে। এধরনের অস্ত্রোপচার করার পর রোগীরা পুনরায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।
বাবাক শারিফ-কাশানি বলেন, তেহরানের মাসিহ দানেশভারি হাসপাতাল, ইমাম খোমেইনী হাসপাতাল, আয়াতুল্লাহ তালেঘানি হাসপাতাল ও শারিয়তি হাসপাতালে এধরনের হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন ও হৃদরোগের বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার স¤পন্ন হচ্ছে। ইরানের বিভিন্ন প্রদেশের হাসপাতালগুলোতে এধরনের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি ইরানের হৃদরোগ সার্জনদের বিশ্বের অন্যতম সেরা চিকিৎসক হিসেবে দাবি করেন।
এদিকে, ইরানে গত বছরে ৩৩শ’ মানুষের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অঙ্গ প্রতিস্থাপনে দেশটির চিকিৎসকরা বেশ পারদর্শী হওয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিস্থাপন ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ কাজেমেইনি বলেছেন, ইরানের চিকিৎসকরা এধরনের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মধ্য দিয়ে বেশ দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন।
গত বছর আড়াই হাজার মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ৭১৬ জনের যকৃত ও ১০২ জনের হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হয়েছে একই সময়ে। তবে ৫৭ ভাগ কিডনিদাতাই ছিলেন মৃত ব্যক্তি। এই মাত্র মারা গেছেন বা ক্লিনিক্যালি ডেথ এমন ৮শ’ রোগীর কাছ থেকে অন্তত ২৩শ’ প্রত্যঙ্গ জীবন্ত মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে কিডনি ছিল ১৪শ’। ইরানে বর্তমানে ২৯টি কিডনি প্রতিস্থাপন কেন্দ্র, যকৃত প্রতিস্থাপনে ৭টি কেন্দ্র, ৮টি হৃদযন্ত্র ও ২টি ফুসফুস প্রতিস্থাপন কেন্দ্র কাজ করছে।
নিঃসন্তান দম্পতিদের চিকিৎসার জন্যও ইরান হয়ে উঠতে পারে সঠিক গন্তব্য। এধরনের চিকিৎসায় ইরানের চিকিৎসকরা বেশ সফলতা অর্জন করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে ইরান ডেইলিকে প্রখ্যাত চিকিৎসক সাঘার সালেপুর জানান, বিশ্বের অত্যাধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে ইরানে। বিশ্বের আধুনিক ইনফার্টিলিটি ট্রিটমেন্ট মেথড অনুসরণ করা হচ্ছে। পারস্য উপসাগরের দেশগুলো থেকে অনেক নিঃসন্তান দম্পত্তি ইরানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। আজারবাইযান ও ইরাক থেকে প্রচুর রোগী আসছে। চিকিৎসা খরচ মোটামুটি কম হওয়ায় অনেকে এ সুযোগ গ্রহণ করছেন।
সাঘার সালেপুর শুধু যে একজন নারী গায়নোকোলজিস্ট তাই নয়, তিনি একই সঙ্গে মিডিল ইস্ট ফার্টিলিটি সোসাইটির একজন স্বনামধন্য সদস্য। তিনি জানান, বিশ্বে অন্তত ১৫ ভাগ দম্পতি সন্তান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইরানে এধরনের দম্পতির হার ১৩ ভাগ। অর্থাৎ প্রতি ৬টি দম্পতির মধ্যে একটি দম্পতি এধরনের সমস্যায় রয়েছে। আর সন্তান না হওয়ার মতো সমস্যার জন্য ৪০ ভাগ নারী ও ৬০ ভাগ পুরুষ দায়ী। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারী বা পুরুষ কেউ দায়ী নন, পরিবেশ দূষণসহ অন্য কোনো কারণেও তাঁরা সন্তান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ধুমপান, বায়ু দূষণ, খাদ্যে বিষক্রিয়া, রাসায়নিক মিশ্রণ, অতিরিক্ত মদ্যপান, কীটনাশকের মতো প্রভাবেও এধরনের সমস্যা হতে পারে।
মেডিক্যাল ট্যুরিজম শিল্পে ইরান এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাতারে রয়েছে। এখন সারা বছর জুড়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য ইরানে আসছেন। বেশিরভাগ রোগী হলেন ব্রিটেন, সুইডেনসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য নীতিতে চিকিৎসা ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ কারণে ইরানে যে-কোনো অপারেশনের ব্যয় তুরস্ক, ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক চতুর্থাংশের মতো। তবে চিকিৎসার গুণগত অবস্থা বিশ্বমানের। সেজন্যেই বিদেশি রোগীরা ইরানের চিকিৎসার মানের ব্যাপারে সন্তুষ্ট। এছাড়া ইরানি অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক এবং সাধারণ চিকিৎসকগণ বেশ দক্ষ। বিদেশি সহযোগীরা সবসময়ই তাঁদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এশিয়ার দেশগুলোর মাঝে মেডিক্যাল ট্যুরিজম ক্ষেত্রে কঠোর প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রতিযোগিতায় ইরানের অবস্থান বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দশটি দেশের মধ্যে রয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মেডিক্যাল ট্যুরিজম ক্ষেত্রে এশীয় দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরও করেছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ২ লাখ রোগী মেডিক্যাল ট্যুরিজমের লক্ষ্যে ইরান সফরে আসে এবং ইরানের উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে উপকৃত হচ্ছে। ইরানের অন্তত ষাটটি হার্ট অপারেশোন কেন্দ্রে ওপেন হার্ট সার্জারি হচ্ছে। ইরানের এই চিকিৎসা সেবা বিশ্বের চিকিৎসকগণকে আকৃষ্ট করছে। কেবল ওপেন হার্ট সার্জারিই নয় আরো বহু জটিল ও মারাত্মক রোগের চিকিৎসা এখন বেশ উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে করা হচ্ছে।