শুক্রবার, ২৫শে মে, ২০১৮ ইং, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

চলচ্চিত্র শিল্পে ইরানের সাফল্য

পোস্ট হয়েছে: ডিসেম্বর ২১, ২০১৭ 

news-image

সাইদুল ইসলাম :

চলচ্চিত্র একটি সৃজনশীল গণমাধ্যম। এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে সাংস্কৃতিক উপাদানসমূহ। যে দেশে তা নির্মিত হয় সে দেশেরই জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে চলচ্চিত্রটি। শিল্পকলার প্রভাবশালী মাধ্যম, শক্তিশালী বিনোদন মাধ্যম এবং শিক্ষার অন্যতম সেরা উপকরণ হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে চলচ্চিত্রের। গণযোগাযোগ বা সাধারণ মানুষের কাছাকাছি খুব সহজে পৌঁছার ক্ষেত্রেও চলচ্চিত্রের ভূমিকা অপরিসীম। আবার সৃষ্টিশীল মানুষ ও আলোকিত সমাজ উপহার দেয়ার ক্ষেত্রেও এর রয়েছে জাদুকরি প্রভাব।
চলচ্চিত্রের মূল ধারক হচ্ছে এর গল্প বা চিত্রনাট্য। একটি সহজ, বাস্তবসম্মত এবং শিক্ষামূলক গল্প একটি ভাল চলচ্চিত্রের প্রাণ। এছাড়াও থাকে অভিনয়, চিত্রায়ন, সংগীত, প্রেক্ষাপট এবং সম্পাদনা। এই প্রতিটি অনুষঙ্গ যখন যথোপযুক্তভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয় তখনই সেই চলচ্চিত্রটি হয়ে ওঠে একটি সফল ও পূর্ণাঙ্গ শিল্প। আর সফল চলচ্চিত্র নির্মাণে যে দেশ যত উন্নত সেই দেশের সংস্কৃতিও তত সমৃদ্ধ। আর এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্প-সাহিত্যে সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। গত ১২ সেপ্টেম্বর নানা আয়োজনে দেশটিতে পালিত হলো জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। এ উপলক্ষে ইরানের বিশাল চলচ্চিত্র পরিবারের প্রতি অভিনন্দন বার্তা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাশেমি। এ বার্তায় কাশেমি বলেন, ‘পথচলার একশ’ বছরে ইরানি সিনেমা নজিরবিহীন, প্রশংসনীয় ও চিরস্থায়ী চলচ্চিত্র কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। যারা এই ভূখ-ের সংস্কৃতি ও শিল্পের জন্য আবেগ-অনুভূতি ভাগাভাগি করে নেয় তাদের স্মৃতিতে দিনটি চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
তিনি বলেন, অসংখ্য আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ইরানি সিনেমার হৃদয়স্পর্শী ও প্রভাবশালী উপস্থিতি বিশ্বে ইরানি সংস্কৃতি ও শিল্পের স্বচ্ছ ও অগাধ ভাবমূর্তিকে তুলে ধরেছে।
উল্লেখ্য, ইরান ২০০০ সাল থেকে ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস হিসেবে উদ্যাপন করে আসছে। এ বছর ইরানি চলচ্চিত্রের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে একটি উৎসবের আয়োজন করা হয়। ১৯০০ সালে শুরু হয় ইরানি চলচ্চিত্রের পথচলা।
বর্তমানে দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ২০০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে এ পর্যন্ত গত ৩৮ বছরে দেশটিতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে ৩৫টি চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ চলচ্চিত্রের মানোন্নয়ন ও এর পরিচিতি বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের অত্যাধুনিক চলচ্চিত্র নির্মাণকৌশল এবং নতুন নতুন চলচ্চিত্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়াই এই চলচ্চিত্র উৎসব উদ্যাপনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের পর থেকে বিগত বছরগুলোতে ইরানের চলচ্চিত্র শিল্প বিশ্বের চলচ্চিত্র জগতে দর্শক ও বোদ্ধাদের কাছে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্বের অধিকাংশ চলচ্চিত্র নির্মাতা যখন জৈবিক আকর্ষণকে তাঁদের বাণিজ্যিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অতি সহজে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তখন ইরানের চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাঁদের পেশাগত দক্ষতা ও নান্দনিক শিল্পকর্মকে কাজে লাগিয়ে এবং সামাজিক, চারিত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধগুলোকে ব্যবহার করে চলচ্চিত্র জগতে দর্শকের কাছে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন। তাই তো বিশ্বব্যাপী আজ ইরানি চলচ্চিত্রের এমন জয়জয়কার।
শক্তিশালী চিত্রনাট্য, অসাধারণ ও অভূতপূর্ব অভিনয়, কলাকুশলির মনকাড়া আবেদন ছাড়াও বিশ্বমানের কারিগরি কৌশলের কারণে বিশ্বের সর্বত্র আজ ইরানি সিনেমা ব্যাপকভাবে দর্শক সমাদৃত হচ্ছে। সেইসাথে পুরস্কৃত হচ্ছে শীর্ষ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত ও সম্মানজনক পুরস্কার অস্কার থেকে শুরু করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার ঘরে তুলে নিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটি। চলতি বছরেই অস্কারের ৮৯তম আসরে সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার জিতে নেয় ইরানি ছবি ‘দ্য সেল্সম্যান’। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার অস্কার জিতলেন ছবিটির পরিচালক আসগর ফারহাদি। এর আগে ‘অ্যা সেপারেশন’ তাঁকে এনে দেয় এই সম্মাননা। তবে আগেরবারের মতো এবারের ট্রফি নিজের হাতে গ্রহণ করতে অস্কার আসরে উপস্থিত ছিলেন না আসগর ফারহাদি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সাতটি দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদে আগেই অস্কার অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন ফারহাদি ও তাঁর চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী তারানেহ আলীদুস্তি।
দেশটি অস্কারের আগামী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এরই মধ্যে ১০টি চলচ্চিত্র চূড়ান্ত করেছে। ইরানের ৯ জন চলচ্চিত্র তারকার সমন্বয়ে একটি মূল্যায়ন কমিটি বাছাই করে এসব চলচ্চিত্র। বিদেশি ভাষার ক্যাটাগরিতে চলচ্চিত্রগুলো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। ইরানের ওই ১০টি চলচ্চিত্র হচ্ছে, ‘দি মিডডে ইভেন্ট’, ‘দি ভিলা টেন্যান্টস’, ‘টুয়েন্টি-ওয়ান ডেজ লেটার’, ‘সাবডিউয়েড’, ‘রেড নেইল পলিশ’, ‘মাই ব্রাদার খসরু’, ‘এ হাউস অন ফোরটি ওয়ান স্ট্রিট’, ‘ম্যালেরিয়া’, ‘ব্রেথ’ ও ‘ইনভারসন’। এই ছবিগুলোর মধ্যে এবার এক ইরানি নারী চলচ্চিত্রকারের ছবিও স্থান পেয়েছে। নারগেস আবিয়ার পরিচালিত যুদ্ধবিরোধী ছবিটির নাম ‘ব্রেথ’। প্রশংসিত চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছেন নারগেসের স্বামী মোহাম্মাদ হোসেইন কাশেমি। এ ছবিতে চারটি শিশুর কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে, যাদের মা কয়েক বছর আগে মারা যায়। ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে ইরান-ইরাক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি করা হয়েছে ছবিটি। মায়ের মৃত্যুর পর তাদের বাবা যুদ্ধে নিয়োজিত ইরানি স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ছবিটি এর আগে বেশ কয়েকটি ইরানি ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রশংসিত হয়েছে।
৯০তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়াড্র্স অনুষ্ঠান আগামী বছর ৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে শুরু হবে। অস্কার আয়োজনে চলচ্চিত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২ অক্টোবর।
পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এবং প্রভাবশালী চলচ্চিত্র উৎসব কান চলচ্চিত্র উৎসবেও ইরানের সরব উপস্থিতির কথা নিশ্চয়ই কারো অজানা নয়। এই উৎসবের ৭০তম আসরে সিনেফন্ডেশন পুরস্কার জিতেছে ইরানি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘অ্যানিম্ল’। বাহরাম ও বাহমান আর্ক পরিচালিত ছবিটি এবারের আয়োজনের ২০তম সিনেফন্ডেশন বিভাগে দ্বিতীয় পুরস্কার জিতেছে। ‘সিনেফন্ডেশন’ মূলত শিক্ষার্থী নির্মাতাদের বিভাগ।
কান চলচ্চিত্র উৎসবের সিনেফন্ডেশন বিভাগের ২০তম আসরে জমা পড়েছিল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ৬২৬টি ফিল্ম স্কুলের ২ হাজার ৬০০টি ছবি।
উৎসবে ‘অ্যানিমেশন দ্যাট ম্যার্টাস অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছে ইরানের অপর ছবি ‘রিলিজ ফ্রম হেভেন’। ২৩ মে ইরানের অ্যানিমেশন নির্মাতাদের সঙ্গে জাপানের শিনিচিরো কিমুরা, ফ্রান্সের মিখায়েল ফুজেলিয়ার ও ইতালির বাবাব পায়ামির হাতে তুলে দেওয়া হয় এ অ্যাওয়ার্ড। ইরানের ৭৬ মিনিটের এ অ্যানিমেশন ছবির চিত্রনাট্য করেছেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মাজিদ আসোদেগান, পরিচালনা করেছেন অ্যানিমেটর আলী নুরি অস্কুরি এবং সহপ্রযোজনা করেছেন সাইয়্যেদ ভাহিদ ওলিয়াই।
ইরানি অ্যানিমেশন চিত্রটির বাস্তব্য মূল্য ও বার্তা বিবেচনা করে অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়েছে, যেখানে মানুষ হিসেবে দুনিয়ায় জন্মের সার্থকতা তুলে ধরা হয়েছে। অ্যানিমেশন চিত্রটিতে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে একজন শিক্ষক যাঁর নাম সারেহ, তাঁর দুই ছাত্রকে এমন পথ বাৎলে দেন যাতে তাদের জীবন পাল্টে যায়। চিন্তাশক্তি, গল্পের শক্তিশালী কাহিনী ও বাস্তবতা এবং বিস্ময়কর অ্যানিমেশন প্রযুক্তি ও কারিগরি শৈলী মিলে ‘রিলিজ ফ্রম হেভেন’ জিতে নেয় এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘অ্যানিমেশন দ্যাট ম্যার্টাস অ্যাওয়ার্ড’।
উৎসবে ‘উন সার্টেন রিগার্ড’ ক্যাটাগরিতে সেরা ছবির পুরস্কার জিতেছে ইরানের আরো একটি চলচ্চিত্র। মোহাম্মাদ রাসুলফ পরিচালিত ছবিটির নাম ‘এ ম্যান অব ইন্টেগ্রিটি’। ‘উন সার্টেন রিগার্ড’ ক্যাটাগরিতে তরুণ প্রতিভা ও সৃজনশীল চলচ্চিত্র তৈরির স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
২০১৭ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘উন সার্টেন রিগার্ড’ বিভাগে ২২টি দেশের ১৮টি চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল।
সিনেমা জগতের আরেক মর্যাদাপূর্ণ উৎসবের নাম ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব। এই উৎসবের ৭৪তম আসরে দুই অ্যাওয়ার্ড জয় করে ইরানি চলচ্চিত্র ‘নো ডেট, নো সিগনেচার’। ছবিটির জন্য সেরা পরিচালকের অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন এর পরিচালক চলচ্চিত্রকার ভাহিদ জলিলভান্দ এবং সেরা অভিনেতার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন নাভিদ মোহাম্মাদজাদেহ।
‘নো ডেট, নো সিগনেচার’ ছবিটি এর আগে ৩৫তম ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা পরিচালক ও সেরা সহায়ক অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছিল।
ছবিটিতে দারুণ ও ব্যতিক্রমীভাবে বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে। জুরিবোর্ড ছবিটিতে নাভিদ মোহাম্মাদজাদেহর পারফরমেন্সের প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি তাঁরা ছবিটির শীর্ষ চরিত্রে অভিনয় করা চার ব্যক্তির পরফরমেন্সেরও প্রশংসা করেছেন।
ইরানি জনগণের জন্য এ সম্মাননা উৎসর্গ করে উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে পরিচালক ভাহিদ বলেন, ‘আমি একজন ইরানি হওয়ায় গর্বিত এবং ইরানের সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সেরা চলচ্চিত্রকার রাখশান বানিইতেমাদ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে থাকায় আনন্দিত।’ ৭৪তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ইতালির ভেনিস নগরীতে ৩০ আগস্ট শুরু হয়ে চলে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
ভারতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কার্গিল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অ্যাওয়ার্ড জেতে ইরানের চারটি ছবি। ২৩ আগস্ট কার্গিল শহরে অনুষ্ঠিত উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। ইরানি চলচ্চিত্রকার ইউসেফ জাফরি তাঁর ডকুমেন্টারি ‘চকোলেট স্টোরির’ জন্য সেরা পরিচালকের অ্যাওয়ার্ড জেতেন। অন্যদিকে, মিলাদ জারমুজ স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘নাম্বনেসের’ জন্য সেরা পরিচালকের অ্যাওয়ার্ড পান।
এছাড়া এ উৎসবে ইরানের সাইয়্যেদ মোসলেম তাবাতাবায়ি পরিচালিত ‘লাইট সাইট’ সেরা অ্যানিমেশন ছবি হিসেবে নির্বাচিত হয় এবং অ্যানিমেশন ছবি ‘ইন দ্যা ক্রসহেয়ার্স’ এর জন্য মারজিয়েহ খেইরখাহ সেরা পরিচালকের পুরস্কার পান।
পঞ্চদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তিন বিভাগে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছে ইরান। সেরা ছায়াছবি, সেরা অভিনয় ও শ্রেষ্ঠ পরিচালনা বিভাগে পুরস্কার জিতে নেয় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের এই দেশটি।
ইরানের বার্তা সংস্থা ইসনা জানায়, ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে রেজা মির কারিমি’র পরিচালনায় নির্মিত ‘দোখতার’ বা ‘কন্যা’ শীর্ষক ছবিটি শ্রেষ্ঠ ছায়াছবি হওয়ার গৌরব অর্জন করে। একই ছায়াছবিতে অভিনয়কারী ফরহাদ আসলানি পান সেরা অভিনয়ের পুরস্কার।
অন্যদিকে ‘ম্যালেরিয়া’ শীর্ষক ছায়াছবি পরিচালনার জন্য সেরা পরিচালক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ইরানের পারভিজ শাহবাজি। ঢাকার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব গত ১২ জানুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হয় ২০ জানুয়ারি।
স্পেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অ্যানিমেশন ছবি হওয়ার গৌরব অর্জন করে ইরানি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘দ্য সারভেন্ট’। ৪০তম এলচি আন্তর্জাতিক স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র উৎসবের অ্যানিমেশন বিভাগে সেরা ছবির অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ছবিটি।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ‘২০১৭ সিলভার স্ক্রিম ফেস্টিভ্যালে’ সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন ছবির অ্যাওয়ার্ড, ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ১৩তম আন্তর্জাতিক ফ্যান্টাস্টিক ফেস্টিভ্যাল অব পোর্তো’তে দর্শক অ্যাওয়ার্ড, মেক্সিকোর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির অ্যাওয়ার্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে সেরা অ্যানিমেশন ছবি হিসেবে দ্বিতীয় পুরস্কার লাভ করে এই চলচ্চিত্রটি।
ফারনুশ আবেদির তথ্যমতে ‘সারভেন্ট’ চলচ্চিত্রটি প্রভু ও তার দাসের কাহিনীকে ঘিরে নির্মিত। এখানে দাসের ভূমিকায় দেখা যাবে রাক্ষুসে পোকা তেলাপোকাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারবে যে, সে আরও ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য। সুতরাং তেলাপোকা টেবিল উল্টে দেয়ার চেষ্টা করবে এবং শেষ পর্যন্ত খেলা নিজের অনুকূলে ঘুরিয়ে দিতে পারবে। ইলচি আন্তর্জাতিক স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র উৎসবের এবারের ৪০তম আসর ১৪ জুলাই শুরু হয়ে চলে ২১ জুলাই পর্যন্ত।
পর্তুগালে অনুষ্ঠিত ২১তম অ্যাভানকা চলচ্চিত্র উৎসব থেকে তিনটি অ্যাওয়ার্ড ঘরে তোলে ইরান। দেশটির তিনটি ছবি উৎসবের কয়েকটি বিভাগ থেকে অ্যাওয়ার্ডগুলো জয় করে। এর মধ্যে বাহমান ও বাহমান আর্ক পরিচালিত ইরানি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অ্যানিম্যাল’ উৎসবের সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির অ্যাওয়ার্ড পায়।
১৫ মিনিটের চলচ্চিত্রটিতে এক ব্যক্তির কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে, যে শিকারের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে সীমানা পাড়ি দিতে চায়। অতঃপর সে একটি ভেড়া শিকার করে এবং সেখান থেকে ছদ্মবেশে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
অন্যদিকে, মজিদ ইসমায়েলি-পার্সা পরিচালিত ‘কাশতিবান’ সেরা ফিচার চলচ্চিত্র হিসেবে সিনেমা প্রাইজ পেয়েছে। ছবিটির চিত্র ধারণের জন্য মোহাম্মাদ ফাকুরি উৎসবে সেরা সিনেমা চিত্রশিল্পীর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।
এছাড়া, পর্তুগীজ চলচ্চিত্র উৎসবে মোসলেম তাবাতাবাইয়ির ‘লাইট সাইট’ প্রতিযোগিতা করেছে। এবারের উৎসবে ১০টি দেশের ৩৭ জনের সমন্বয়ে গঠিত জুরিবোর্ড ১৮টি অ্যাওয়ার্ড ও ৭টি সম্মাননা দিয়েছেন। ইউরোপীয় এ চলচ্চিত্র উৎসবটি গত ২৬ জুলাই শুরু হয়ে চলে ৩০ জুলাই পর্যন্ত।
হলিউডের বিখ্যাত তথ্যচিত্র পরিচালক ও অ্যাক্টিভিস্ট মাইকেল মুরের চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ছবির খেতাব কুড়িয়েছে ইরানি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রিটাচ’। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত ‘ট্রাভার্স সিটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে’ ছবিটি সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়। ছবিটি পোলান্ডে অনুষ্ঠিত ৫৭তম ক্রাকো চলচ্চিত্র উৎসবেও দুটি পুরস্কার লাভ করে। সেরা কথাসাহিত্য বিষয়ক চলচ্চিত্র পরিচালনার জন্য পোলিশ উৎসবে ছবিটির পরিচালক কাভেহ মাজাহেরিকে সিলভার ড্রাগন অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়।
ইরান ডেইলির খবরে বলা হয়, ছবিটিতে এক তরুণীর মর্মান্তিক অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। পৃথিবীর যেখানে অধিকার বলে কিছু অবশিষ্ট নেই এমন এক জায়গায় ওই নারীকে জীবন অথবা মৃত্যু এবং স্বাধীনতা অথবা বন্দিদশার মধ্যে যে কোনো একটি বেছে নেয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
এর আগে ‘রিটাচ’ ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির জন্য ‘ক্রিস্টাল সিমোর্ঘ’ পুরস্কার পেয়েছে। সেই সাথে এটি ইরানের চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সংক্ষিপ্ত শিরোনামের জন্য খেতাব কুড়িয়েছে।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা কাভেহ মাজাহেরি এবং এটি প্রযোজনা করেছেন ইরানিয়ান ইয়ং সিনেমা সোসাইটি। মিশিগানে অডিয়েন্স ও সেরা ফিকশন শর্ট ফিল্মে অ্যাওয়ার্ডের জন্য ছবিটি দাখিল করা হয়। এই উৎসবের প্রতিষ্ঠাতা অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা মাইকেল মুর। বাৎসরিক চলচ্চিত্র উৎসব ‘ট্রাভার্স সিটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ মিশিগানের ট্রাভার্স সিটিতে জুলাইয়ের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত চলচ্চিত্র উৎসব দ্য পোর্তো অ্যালেগ্রি স্ক্রিন রাইটিং ফেস্টিভ্যালে (এফআরএপিএ) তিনটি অ্যাওয়ার্ড জিতেছে ইরানি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘লাঞ্চ টাইম’। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন আলী রেজা কাশেমি। উৎসবের এবারের ৫ম আসর ৪ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হয় ৭ জুলাই।
‘লাঞ্চ টাইম’ ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত। যেখানে মায়ের মৃত্যুর পর তার মরদেহ শনাক্ত করতে হাসপাতালে আসে কিশোরী মেয়েটি। কিন্তু অল্প বয়সের কারণে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্তরা মেয়েটিকে মর্গে ঢুকতে দেয় না। এ কারণে মরদেহ শনাক্ত করতে ঝামেলায় পড়তে হয় তাকে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা স্টুডেন্ট শর্ট ফিল্মের খেতাব কুড়ায় ইরানি চলচ্চিত্রটি। ‘স্নেক অ্যালি ফেস্টিভ্যাল অব ফিল্ম’ নামে ওই চলচ্চিত্র উৎসবের ৬ষ্ঠ আসরে ছবিটি সেরা ছবির অ্যাওয়ার্ড জেতে।
চলচ্চিত্রটিতে খোরশিদ চেরাঘিপুর, রুইয়া বখতিয়ারি, আমির তাঘদিরি, পেইম্যান নাইমি, সিয়াভাশ চেরাঘিপুর, বাহরাম ইমরানি, পুরিয়া আখাভান, মোহাম্মাদ হাদাদি, আলিরেজা কাসেমি, মাহদি ইয়েগানি ও আরাশ কাসেমি অভিনয় করেছেন।
ভিয়েনা স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র উৎসবে তিনটি অ্যাওয়ার্ড জিতেছে ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা ইবরাহিম হাতামিকিয়া পরিচালিত রাজনৈতিক ছবি ‘দ্য বডিগার্ড’।
হাতামিকিয়ার চলচ্চিত্রটি সেরা পরিচালক, সেরা শিল্প নির্দেশনার পুরস্কার জিতেছে। এছাড়া ছবিটির তারকা বাবাক হামিদিয়ান সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান থেকে এ তিনটি পুরস্কার ঘরে তোলে ‘দ্য বডিগার্ড’।
চলচ্চিত্রটিতে এক মাঝ-বয়সী দেহরক্ষীর কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে, যিনি একজন রাজনীতিবিদকে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর হাত থেকে রক্ষা করেন। এরপর পেশাগত জীবনে তাঁর আত্মত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন শুরু হয়।
এছাড়াও উৎসব থেকে সেরা পুরস্কার কুড়িয়েছে হংকংয়ের স্যাম্পসন ইয়ুন পরিচালিত ‘মিলিয়ন লাভস ইন মি’। অন্যদিকে, জার্মান পরিচালিত অ্যান্দ্রিজ মোরেলের ‘প্লাটনভ’ সেরা চলচ্চিত্রের অ্যাওয়ার্ড জিতেছে।
ইরানের ইসফাহানে অনুষ্ঠিত ৩০তম আন্তর্জাতিক শিশু-কিশোর চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ছবির খেতাব অর্জনের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগে ছয়টি অ্যাওয়ার্ড জেতে ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা ফেরেইদিন নাজাফি পরিচালিত ‘দ্য স্কেটার’।
‘দ্য স্কেটার’ চলচ্চিত্রটি উৎসবের আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শিত হয়। সেরা পরিচালকের জন্য ছবিটি গোল্ডেন বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ডও পায়। ছবিটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রের এক বালকের কাহিনী দারুণভাবে তুলে ধরার জন্য সেরা অভিনেতার অ্যাওয়ার্ড জিতেছে আমির-রেজা ফারামরিজি। প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক বিভাগ থেকে সে এই পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া জাতীয় বিভাগেও সেরা অভিনেতার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে সে।
জাতীয় বিভাগে ছবিটি সেরা চলচ্চিত্র ও সেরা পরিচালকের অ্যাওয়ার্ডসহ কয়েকটি অ্যাওয়ার্ড জেতে। সব মিলিয়ে নিজেদের ঝুড়িতে ছয়টি অ্যাওয়ার্ড ভরে ‘দ্য স্কেটার’।
বিশেষ অনুষ্ঠানে ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামি নীতিমালা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রেজা সালেহি-আমিরির উপস্থিতিতে বিজয়ীদের সম্মাননা জানানো হয়। এতে বিপুল সংখ্যক সিনেমা ব্যক্তিত্ব ও শিশু-কিশোর উপস্থিত ছিল।
ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা সাইদ মোসলেম তাবাতাবাঈ পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন ছবি ‘লাইট সাইট’ সেরা ছাত্র বিষয়ক ছবির পুরস্কার জেতে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত ‘ফাইন আর্ট্স্ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে’ (এফএএফএফ) ছবিটি সেরা ছাত্র বিষয়ক চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক ডজন ছবি উৎসবে প্রদর্শিত হয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় গত ১২ মে উৎসব শুরু হয়ে চলে ১৩ মে পর্যন্ত।
‘লাইট সাইট’ ছবিটি এম. ই নামের এক জীবকে ঘিরে নির্মিত। যে তার কক্ষের বাইরে একটি সাদা আলো দেখে মুগ্ধ হয়ে পড়ে। পরে সে ওই আলোর কাছে পৌঁছার চেষ্টা করে। কিন্তু পথে নানা প্রতিবন্ধকতায় পড়ে।
উৎসবে গ্রিসের ডিমিত্রিস কুতসিয়াবাসাকোস তাঁর ‘ইয়ান্নিস কাস্ত্রিটসিস: এ ম্যান অ্যান্ড হিজ শ্যাডো’ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন। অন্যদিকে, ফিনল্যান্ডের সারা ল্যাম্বার্গ পরিচালিত ‘ইন্নুয়েন্ডো’ উৎসবের সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে মনোনীত হয়েছে।
ভারতের জয়পুরে অনুষ্ঠিত ষোড়শ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (১৬-আইএফএফ) জয় করেছে ইরানের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য গাই কেম অন হর্সব্যাক‘ ও ‘বর্ন ইন মরড্যাড’। সদ্য পর্দা নামা ১৬-আইএফএফ এর দ্বিতীয় আসরে সেরা ছবির পুরস্কার জিতে নিয়েছে চলচ্চিত্র দুটি।
এ উসবের আয়োজন করে জয়পুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবÑ জেআইএফএফ। জয়পুরের কোচা সিনেমা হলে গত ১৭ মে উৎসব শুরু হয়ে চলে ২১ মে পর্যন্ত। এতে ১২ দেশের ১৩টি ভাষার ২৩টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।
১৬টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা হয়। তা হলো গণতন্ত্র, রাজনীতি, দুর্নীতি, ভয়ঙ্কর চলচ্চিত্র, রোমান্টিক ছায়াছবি, নারী বিষয়ক চলচ্চিত্র, শিশু বিষয়ক চলচ্চিত্র, অ্যানিমেশন ছবি, বিজ্ঞাপন চলচ্চিত্র ইত্যাদি।
ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা হোসেইন রাবিয়েই দাসরজারদি পরিচালিত ‘দ্য গাই কেম অন হর্সব্যাক’ উৎসবের সেরা ভালোবাসা ও রোমান্টিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির পুরস্কার জিতেছে। অন্যদিকে, ফারজাদ রহমানি পরিচালিত ‘বর্ন ইন মরড্যাড’ সেরা নারী ও শিশু বিষয়ক স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির খেতাব কুড়িয়েছে।
এর আগে আইএফএফের প্রথম আসরে ইরানের পাঁচটি চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিল।
পর্তুগালের দশম পর্তো সেভেন ইন্টারন্যাশনাল শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভালে ইরানি চলচ্চিত্র ‘ইউ জাস্ট বি মাই মাদার’ এর অভিনেত্রী সারা বাহরামি সেরা অভিনেত্রীর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এর আগে এ চলচ্চিত্রটি দিল্লি ইন্টারন্যাশনাল ডিজিটাল ফিল্ম ফেস্টিভাল ও এথেন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিজিটাল ফিল্ম ফেস্টিভালে প্রশংসা কুড়ায়। স্বামী পরিত্যক্তা একজন নারী হিসেবে সারা এ চলচ্চিত্রে আরেক ব্যক্তির সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন যেখানে ওই ব্যক্তিটির পুত্র তাকে সহজে নিতে পারে নি। শেষ পর্যন্ত সারা ওই ছেলে ও তার প্রেমের মধ্যে যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হন। এ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন রকিহ তাভাকোলি।
উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের মর্যাদা পায় জার্মানির চলচ্চিত্র ‘সেলফি’। স্পেনের ‘দি ফোর্থ কিংডম’ চলচ্চিত্রটি একই মর্যাদা পায়। এছাড়া সেরা অ্যানিমেশনের জন্য স্পেনের ‘মেকানিজ্ম ডায়াবলিকো’ চলচ্চিত্রটি অ্যাওয়ার্ড পায়। উৎসবে ইরানি পরিচালক সাইদ নাকাভিয়ান পরিচালিত ‘রিফিউজি ক্যাম্প’ প্রদর্শিত হয়।
২০তম ব্রুকলিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা শৈল্পিক পুরস্কার পেয়েছেন ইরানি অভিনেত্রী গোলাব আদিনেহ। চলচ্চিত্র নির্মাতা মারজান আশরাফিজাদেহ পরিচালিত ‘দ্য সিস’ চলচ্চিত্রে সেরা অভিনয়ের জন্য তিনি এই পুরস্কার লাভ করেন।
এবারের ব্রুকলিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ‘দ্য সিস’ ছবিটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে নবমবারের মতো অংশগ্রহণ করলো। ব্রুকলিনে ছবিটি দুইবার দেখানো হয়েছে। এতে গোলাব আদিনেহের অভিনয় দেখে অভিভূত হয়েছেন আন্তর্জাতিক জুরিবোর্ড।
এর আগে সপ্তম বেইজিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (বিজেআইএফএফ) ‘দ্য সিস’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর অ্যাওয়ার্ড পান তিনি।
ইরানি এই চলচ্চিত্রটি দুই নারীর চরিত্রকে ঘিরে নির্মিত। যেখানে তাঁরা ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে একত্রে বসবাস করেন। যে সম্পর্ক চিরতরে শেষ হওয়ার নয়। তবুও শেষ পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদের দিন এসে হাজির হয়।
স্পেনে অনুষ্ঠিতব্য মাদ্রিদ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের চারটি ক্যাটাগরিতে প্রধান পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা ইব্রাহিম হাতামিকিয়ার ফিচার ফিল্ম ‘বডিগার্ড’।
‘বডিগার্ড’ ছবিটি প্রথম ইরানের ৩৪তম আন্তর্জাতিক ফজর চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে। এই উৎসবে শীর্ষ চরিত্রে সেরা অভিনয় ও সেরা ভিজুয়াল ইফেক্টের জন্য ছবিটি দু’টি ক্রিস্টাল সিমোর্ঘ সেরা পুরস্কার) জয় করেছে।
মাদ্রিদ চলচ্চিত্র উৎসবের চারটি বিভাগ তথা সেরা অভিনেতা হিসেবে পারভিজ প্যারাস্তোয়ি, সেরা সহকারী অভিনেতা হিসেবে বাবাক হামিদিয়ান, সেরা বিদেশি চলচ্চিত্র বিভাগে এহসান মোহাম্মাদ হাসানি ও সেরা এডিটিং-এ প্রধান পুরস্কারের জন্য মেহদি হুসেইনভান্দ মনোনীত হয়েছেন।
এছাড়া চলচ্চিত্রের আরও অনেক ক্ষেত্রেই ইরান সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে যা এই সীমিত পরিসরে তুলে ধরা প্রায় অসম্ভব। তবে একথা বলা যায়, চলচ্চিত্রে ইরানের সফলতার এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশটি একদিন বিশ্বের সিনেমা জগতে নেতৃত্বের আসন গ্রহণ করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।