শনিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

গাছকে কাছে পাওয়ার আয়োজন

পোস্ট হয়েছে: আগস্ট ১১, ২০১৭ 

news-image

মামুনুর রশীদ :‘একধার থেকে গিলছে শহর, যা আছে গেলার মতো/ উপকণ্ঠের সবুজ ঘুচিয়ে, বাড়ি উঠে গেল কত!’ শিল্পী কবির সুমনের গানের কথার মতোই এই ইট-কাঠের নগরে সবুজের স্নিগ্ধতা ঘুচে গিয়েছে অনেক আগেই। তবু মানুষ তার সহজাত সৌন্দর্যচেতনা আর বৃক্ষ-লতাগুল্মের কাছাকাছি থাকার তাড়না থেকেই ফ্ল্যাটের সীমিত পরিসরের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চায় সুবিশাল বট আর ছায়াপ্রদায়ী হিজলের সমারোহ। কিংবা স্নিগ্ধ গন্ধরাজ, জুঁই অথবা কামিনীর সৌরভ।

আর এটা যার মাধ্যমে করা সম্ভব হয়েছে সেই নান্দনিক শিল্পকর্ম বনসাইয়ের এক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে। গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীটি আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটি। আয়োজকেরা বলছেন, চার দিনের এই প্রদর্শনীতে পর্যায়ক্রমে ১ হাজারের বেশি নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি ও বিলুপ্তপ্রায় গাছের বনসাই প্রদর্শিত হবে। সবার জন্য উন্মুক্ত এই প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল দশটায় শুরু হয়ে রাত আটটা পর্যন্ত চলবে।

সন্ধ্যায় প্রদর্শনীস্থলে বেশ কয়েকজন আগ্রহী দর্শনার্থীর দেখা মিলল। তাঁদের কেউ বনসাই কিনতে এসেছেন। আবার কেউ ঘুরে ঘুরে উপভোগ করছেন বনসাইয়ের বিচিত্র রূপ।

দেখা গেল, মিলনায়তনের তিনটি কক্ষে কয়েক শ বনসাই দিয়ে প্রদর্শনীটি সাজানো রয়েছে। নানা প্রজাতির বৃক্ষের সমারোহে গড়ে ওঠা এক টুকরো বনভূমি যেন। প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া বনসাইয়ের মধ্যে যেমন বট, পাকুড়, অশ্বত্থ, ছাতিম, হিজল, নিসিন্দা, কামিনী, হাসনাহেনার মতো নানা প্রজাতির পরিচিত ফলদ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের বনসাই রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় পান্থপাদক, মুচকন্দ কিংবা কেলিকদমের বনসাই। কিনতে গেলে এসব বনসাইয়ের দাম পড়বে ১ হাজার থেকে শুরু করে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটির আয়োজনে এটি ১৯তম প্রদর্শনী। এ সম্পর্কে সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুল হক বলেন, বনসাইয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটা খুবই কম জায়গা নেয়। আকার, বৈশিষ্ট্য ও বয়সের ওপর ভিত্তি করেই এগুলোর দাম নির্ধারণ করা হয়। যদিও বনসাই খুব ছোট পাতার ও দীর্ঘদিন বাঁচে এমন গাছ দিয়ে করা হয়, তারপরও এর মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় দেশি গাছগুলো সংরক্ষণ করে রাখার জন্য আমাদের চেষ্টা থাকে। যেমন: দেশি বঁইচি, খয়ের, কর্পুর, জংলি আম কিংবা নিশিন্দার মতো গাছের বনসাই এখানে রয়েছে।

আনিসুল হকের মতে, এ রকম প্রদর্শনীর ভেতর দিয়ে মানুষের ভেতর বনসাই নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। প্রতিবছরই বাড়ছে আগ্রহী দর্শনার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা।

এর আগে সকালে প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’-এর সমন্বয়কারী খুশী কবির। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘মাটি ও মানুষ’-এর উপস্থাপক রেজাউল করিম সিদ্দিক ও স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম।- প্রথম আলো।