শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

কৃষিখাতে ইরানের সাফল্য

পোস্ট হয়েছে: নভেম্বর ২২, ২০১৮ 

news-image

সাইদুল ইসলাম –

সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছে মূলত কৃষি তথা চাষাবাদ ও পশুপালনের মাধ্যমে। সেজন্য কৃষিই হলো মানব সভ্যতার প্রাচীনতম পেশা। সভ্যতার বিবর্তনে শিল্পসহ অন্যান্য খাতের ব্যাপক উন্নয়ন হলেও কৃষির গুরুত্ব আজও কমে নি। বর্তমান সময়ে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রতিকূল জলবায়ুর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী কৃষির ওপর আলাদা করে গুরুত্বারোপের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বিশে^র মানুষের আগামী দিনের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিখাতের উন্নয়ের বিকল্প নেই। তাছাড়া একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে এই কৃষিখাত। এই খাতে যে দেশ যত বেশি শক্তিশালী, স্বনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে সেই দেশ ততটাই এগিয়ে। তাই একটি সম্ভাবনাময় উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কৃষিক্ষেত্রে পরিকল্পিত উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সমৃদ্ধির ইতিবাচক গতিধারায়।
এক সময় তেল রফতানি ছিল ইরানের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। কিন্তু সেই তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে ক্রমশ বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে দেশটি। ইসলামি বিপ্লবের পর বিগত ৩৯ বছরে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিগুলোও পাল্টে যাচ্ছে। ক্রমশ শিল্প, কৃষি ও সেবা খাতের বিকাশ ঘটছে। বিশেষ করে কৃষিখাতে দেশটির উন্নয়নের চিত্র দেখলে যে কেউ রীতিমত বিস্মিত হবেন। ২০১৭ সালে ইরানি অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর অন্যতম কৃষি প্রবৃদ্ধি ছিল উল্লেখ করার মতো। গেল বছর বিশ্বে কৃষি পণ্যের বৈচিত্র্যের দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থান দখল করতে সক্ষম হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটি। এছাড়া ইরানের তুলনামূলক রফতানি সম্ভাবনাময় খাতগুলোর তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে দেশটির কৃষি খাত। ইরানের বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা (টিপিও) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
টিপিও’র তথ্যমতে, ইরানের কৃষি খাতের যেসব পণ্য রফতানি সম্ভাবনার শীর্ষে রয়েছে তার মধ্যে কৃষি ও উদ্যানজাত পণ্য, হাঁস-মুরগি, পশুপালন ও মাৎস্য পণ্য অন্যতম। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও’র তথ্য মতে, ভিন্ন ভিন্ন ৬৬টি পণ্যের সমন্বয়ে বিশ্ব কৃষি পণ্যের মৌলিক কাঠামো গঠিত। এর মধ্যে বিশ্বে সর্বোচ্চ ১৫ ধরনের পণ্য উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় সেরা দশে রয়েছে ইরান।
বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বা ফাও’র তথ্য মতে, ইরান হচ্ছে বিশ্বের প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে একটি যে দেশটি কমলা, মাল্টা ও লেবুজাতীয় ফল উৎপাদনে সেরা অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া শশা, ক্ষীরা, খেজুর, বেগুন, ডুমুর, পেস্তা, নাশপাতি, আখরোট ও তরমুজ উৎপাদনে বিশ্বের সেরা পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে ইরান। নানা জাতের আপেল, আঙুর, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, ছোলা, গম, নানা ধরনের শাক-সবজিসহ প্রায় সব ধরনের কৃষিপণ্য এখানে উৎপাদিত হয়। এছাড়া অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে ইরান দুগ্ধজাত সব ধরনের পণ্য, ডিম ও মুরগি বিদেশে রফতানি করে। ইরানের কৃষি গবেষণা সংস্থার প্রধান এস্কান্দারযান্দ জানিয়েছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কৃষি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এই পাঁচটি খাত হলো : গম, বার্লি, তুলা, ভুট্টা ও ধান উৎপাদন। গত বছর ইরান ৪ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন টন কৃষিপণ্য রফতানি করেছে। এ থেকে দেশটির আয় হয়েছে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশটি কৃষির যেসব দিকে উল্লেখ্যযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে তার কিছু দিক নিচে তুলে ধরা হলো :
ইরানের লাল স্বর্ণ খ্যাত ‘জাফরান’
পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান কৃষিপণ্যের একটি জাফরান। যাকে ইরানের ‘লাল স্বর্ণ’ বলা হয়ে থাকে। কারণ, বিশ্বের মোট উৎপাদিত জাফরানের প্রায় ৯০ শতাংশই উৎপাদিত হয় মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে। পৃথিবীব্যাপী ইরানি জাফরানের একক আধিপত্যের কারণে বিশ্ব বাণিজ্য বা বিশ্ব বাজারে এখনও দুটি নাম পরস্পরের সমার্থক হয়ে আছে- ‘জাফরান’ এবং ‘ইরান’। তবে এই জাফরান চাষ সহজ কাজ নয়। আবহাওয়াগত বৈচিত্র্য, উর্বর মাটি এবং কষ্টসহিষ্ণু পরিশ্রমী মানুষের কাজ জাফরান চাষ। আর ইরানের পরিশ্রমী কৃষকদের কল্যাণে এ দেশের মাটি হয়ে উঠেছে আল্লাহর নিয়ামতে পরিপূর্ণ। বিচিত্র উদ্ভিদের জন্য অনুকূল হিসেবে ইরানের মাটি বিশ্বখ্যাত। খ্রিস্টপূর্ব কাল থেকেই তাই ইরান ভূখ-ে চাষ হয়ে আসছে বিচিত্র উদ্ভিদের। বলা হয়ে থাকে যে, ইরানিরাই সর্বপ্রথম জাতি যারা এইসব মূল্যবান উদ্ভিদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে এবং দীর্ঘকাল থেকে এর চাষ করে এসেছে ।
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ কেরমানশাহ এবং হামেদানের আলভান্দ পাহাড়ের পাদদেশে এইসব উদ্ভিদের চাষ করা হতো। এই এলাকাটিকেই জাফরান নামক মূল্যবান উদ্ভিদ চাষের মূল কেন্দ্র হিসেবে মনে করা হয়। খ্রিস্টপূর্ব ৫৪৯ থেকে ৭২৮ সালের মধ্যে মাদদের শাসনামলে এখানে এই উদ্ভিদের চাষ হতো। সময়ের পরিক্রমায় জাফরান চাষাবাদের কাজ এখন ইরানের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে, এমনকি দেশটির মূল্যবান এই কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও রফতানি দিন দিন বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ফারসি বছরের প্রথম ৫ মাসে ইরানে জাফরান রফতানি ৩৩ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ফারসি বছরের একই সময়ে ইরানে জাফরান রফতানির পরিমাণ ছিল ৬৯ টন যার আর্থিক মূল্য ছিল ৯২ মিলিয়ন ডলার। আর চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে জাফরান রফতানি থেকে আয় হয়েছে ১২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। স্পেন, আমিরাত, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ফ্রান্স, কানাডা, জার্মানি, ব্রিটেন, হংকং, পাকিস্তান,অস্ট্রেলিয়া, ইরাক, ওমান, বাহরাইন, অস্ট্রিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, জাপান, নিউজিল্যান্ড, চেক রিপাবলিক, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, কাতার ও কুয়েতসহ বিশ্বের ৫০টি দেশে ইরান জাফরান রফতানি করে। আর ইরানে উৎপাদিত জাফরানের ৯৫ ভাগই চাষ হয় দেশটির দুই প্রদেশ- দক্ষিণ খোরাসান ও খোরাসান রাজাভিতে। জাফরানসহ বছরে ৫০ হাজার টন মসলা উৎপাদন করে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি।
বিশ্বের সবচেয়ে দামি খাবার ক্যাভিয়ার বা ‘কৃষ্ণ সোনা’
ক্যাভিয়ার উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ স্থানে রয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। বিশ্বের সবচেয়ে দামি খাবার হওয়ায় অনেকে ক্যাভিয়ারকে ‘কৃষ্ণ সোনা’ হিসেবেও অভিহিত করে থাকেন। এটি এক ধরনের সামুদ্রিক মাছের ডিম। যার নাম স্টার্জন। ইরানে ওই মাছটির নামও ক্যাভিয়ার। এটি অ্যানার্জিপূর্ণ একটি খাবার। যেমন সুস্বাদু তেমনি সুঘ্রাণময়। কাস্পিয়ান সাগর, কৃষ্ণ সাগর, আরাল ও আজভ সাগরসহ ইউরোপ ও আমেরিকার বিক্ষিপ্ত কিছু এলাকায় ক্যাভিয়ার পাওয়া যায়। তবে স্টার্জন বা ক্যাভিয়ার মাছের নিরাপদ স্থান হলো ইরানের কাস্পিয়ান সাগর।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বিশ্বের শতকরা ৯৩ ভাগ ক্যাভিয়ার রয়েছে এই কাস্পিয়ান সাগরে এবং বলা হয়ে থাকে উপযুক্ত পরিবেশের কারণে বিশ্বের শতকরা নব্বই ভাগ ক্যাভিয়ার এই কাস্পিয়ানেই শিকার করা হয়। ইরান বছরে প্রায় ২০ টন ক্যাভিয়ার উৎপাদন করে থাকে এবং দেশটিতে এর উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি এক রিপোর্টে বলা হয়েছে ইরান আগামীতে বছরে একশ’ টন ক্যাভিয়ার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। প্রতি কেজি ক্যাভিয়ারের দাম ৩৪ থেকে ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার। ইউরোপের দেশগুলো ছাড়াও চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কুয়েত, আমিরাত, আযারবাইজান, আর্মেনিয়া ও লেবাননে ইরান ক্যাভিয়ার রফতানি করে থাকে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বছরে ১১ লাখ টন জলজ প্রজাতির প্রাণী তথা মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেয় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে সামনে রেখে ওই বছর মৎস্য খাতে বড় বড় পদক্ষেপ নেয়া হয়। এসব পদক্ষেপের ফলে বিরল প্রজাতির মাছ চাষে বিশেষ করে দামী মাছ উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষে উঠে এসেছে দেশটি। মৎস্য সংস্থার প্রধান হাসান সালেহি জানিয়েছেন, মোট উৎপাদিত এসব মাছের মধ্যে ৫৪ শতাংশ সমুদ্র ও খোলা পানিতে চাষ হয়েছে। অন্যদিকে বাকি ৪৬ শতাংশ মাছ উৎপাদিত হয়েছে মৎস্য খামারে।
উটপাখির মাংস উৎপাদনে ইরান বিশ্বে দ্বিতীয়
প্রতি বছর অন্তত ৬০ হাজার উটপাখি পালন করা হয়ে থাকে ইরানে। এসব পাখি থেকে মাংস উৎপাদন হয় ৩০ লাখ টনেরও বেশি। বিশ্বে উটপাখির মাংস উৎপাদনে ইরান দ্বিতীয়। আর এদিক থেকে প্রথম স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ইরানের অস্ট্রিচ প্রোডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান বেহরুজ রেজায়ি বলেন, শুধু মাংস নয়, এই মূল্যবান পাখির চামড়া, পালক, তেল, ডিম ও ডিমের খোসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক। এবং এসব পণ্য আর্থিকভাবে বেশ মূল্যবান। তিনি আরো জানান, ইরানে উটপাখি শিল্প পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১৪ বছর আগে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে অভিজ্ঞতা না থাকায় খামারিদের লোকসানের মুখে পড়তে হলেও এখন তারা তা সামাল দিয়ে এটিকে একটি লাভজনক খাতে পরিণত করেছেন।
ডিম উৎপাদনে বিশ্বে ১২তম ইরান
বৈশ্বিকভাবে ডিম উৎপাদনের র‌্যাংঙ্কিংয়ে ১২তম অবস্থানে রয়েছে ইরান। দেশটির কৃষি উপমন্ত্রী মোরতেজা রেজায়ি এই তথ্য জানিয়ে ডিম রফতানি প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। রেজায়ির তথ্যমতে, চলতি ইরানি বছরের শেষ নাগাদ ৫ লাখ টন ডিম উৎপাদন হবে। ৮ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে মাথাপিছু ডিম উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬.২৫ কেজি।
‘প্রত্যেক ইরানি বছরে ১৮৫ থেকে ১৯৮টি ডিম ভোগ করে থাকে। অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় ইরানে মাথাপিছু ডিম ভোগের পরিমাণটা বেশি। তারপরও অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে ডিম রফতানির জন্য উদ্বৃত্ত থাকছে’’, যোগ করেন রেজায়ি।
দেশীয় বাজারে থাকা উদ্বৃত্ত ডিম রফতানি জোরদার করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই কর্মকর্তা। এজন্য তিনি ডিমের সর্বোত্তম মান নিশ্চিত ও মুরগির স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের মতো পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেন। আন্তর্জাতিক বাজারের বড় অংশ দখল করতে হলে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রেজায়ি আরও জানান, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে শীর্ষ ডিম সরবরাহকারী দেশগুলোর অন্যতম। অনেক দেশ ইরানি ডিম পছন্দ করেন বলে জানান তিনি।
মধু উৎপাদনে বিশ্বে অষ্টম ইরান
ইরানের উপ কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর দেশে বছরে ৮০ হাজার টনের অধিক মধু উৎপাদন হয় এবং উৎপাদিত মধুর মাত্র দুই শতাংশ আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি করা হয়। জৈব মৌমাছি পালন ও মৌচাষের ক্ষেত্রে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগের ওপর অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। সম্মেলনে মৌচাষের মূল উদ্দেশ্য, বেশি বেশি মধু উৎপাদন এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে পরাগমিলন সম্পর্কে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ইরানের উপ কৃষিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ৫৭ লাখ মৌচাক রয়েছে। এ থেকে ৮০ হাজার টন মধু উৎপাদিত হয়। মৌচাকের সংখ্যায় বিশ্বে ইরানের অবস্থান চতুর্থ এবং মধু উৎপাদনে অষ্টম।
তিনি আরও জানান, ইরানের মোট উৎপাদিত মধুর দুই শতাংশ অর্থাৎ ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টন মধু বিদেশে রফতানি করা হয়। তুরস্ক, ইরাক, আযারবাইজান রিপাবলিক, চীন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে এ মধু রফতানি করা হয়।
গম রফতানি
ইরানের পণ্য বিনিময় সংস্থা ইরান মারকেন্টাইল এক্সচেঞ্জ (আইএমই)-এর মাধ্যমে গত ফারসি অর্থবছরে ১২ লাখ টনের অধিক গম বাণিজ্য হয়েছে। এর আগের বছর যে পরিমাণের গম বাণিজ্য হয়েছে গত বছর তার চেয়ে বেশি হয়েছে ১৮৬ শতাংশ। আইএমই এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হামেদ সোলতানি নেজাদ এই তথ্য জানান।
ইরানি এই কর্মকর্তা বলেন, গত বছর আইএমই এর মাধ্যমে দ্বিগুণের অধিক অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৭৫০ টন গম রফতানি করেছে ইরান। ফিনানসিয়াল ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, গত ইরানি বছরে দেশীয়ভাবে রেকর্ড পরিমাণ বেশি ১ কোটি ৪০ লাখ টন গম উৎপাদন হয়। ইরানের গম রফতানির প্রধান গন্তব্য হলো আর্মেনিয়া, আফগানিস্তান, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরাক, ওমান, কুয়েত এবং নেদারল্যান্ডস।
বিশ্বের বৃহত্তম খেজুর রফতানিকারক দেশ ইরান
খেজুর রফতানি থেকে ইরানের বছরে আয় হয় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফিন্যান্সিয়াল ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, খেজুর উৎপাদনে বিশ্বে ইরানের অবস্থান দ্বিতীয় এবং বিশ্বের বৃহত্তম খেজুর রফতানিকারক দেশ ইরান। গত ইরানি বছরে দেশে খেজুর উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ লাখ টন। উৎপাদনের ২০ ভাগ খেজুর ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দূর প্রাচ্য ও রাশিয়ায় রফতানি করা হয়।
কিসমিস রফতানিতে ইরান বিশ্বে তৃতীয়
গত ইরানি বছরের ২২ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম পাঁচ মাসে ২৩ হাজার ৬৫০ টনের অধিক কিসমিস রফতানি করেছে ইরান। এ থেকে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে দেশটি। এসব কিসমিস রফতানি করা হয়েছে বিশ্বের ৫৪টি দেশে। ইরানের শুল্ক প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের সবচেয়ে বড় কিসমিস ক্রেতা দেশ ইরাক। উক্ত সময়ে ইরান থেকে ৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের কিসমিস আমদানি করেছে দেশটি। ইরানি কিসমিসের অন্যান্য বৃহৎ ক্রেতা দেশের মধ্যে রয়েছে কাজাখস্তান, স্পেন, ইউক্রেন, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, স্লোভাকিয়া, অস্ট্রিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং পোল্যান্ড। বিশ্বে বর্তমানে তৃতীয় বৃহত্তম কিসমিস রফতানিকারক দেশ ইরান।
আঙ্গুর উৎপাদনে বিশ্বে ৮ম ইরান
বছরে প্রায় ৩২ লাখ টন আঙ্গুর উৎপাদনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ আঙ্গুর উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় ৮ম স্থান অধিকার করেছে ইরান। দেশটির কৃষি উপমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ইতালি, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে সর্বাধিক আঙ্গুর উৎপাদনকারী দেশ। কৃষি উপমন্ত্রী আরো জানান, ইরানে ২ লাখ ৯৪ হাজার হেক্টর জমিতে আঙ্গুর চাষ করা হয়। ইরানের কুর্দিস্তান, কাজভিন, উত্তর খোরাসান, পূর্ব ও পশ্চিম আযারবাইজানে আঙ্গুর চাষ হয়ে থাকে।
পেস্তাবাদাম রফতানি
পৃথিবীতে যত দামী ফল বিশেষ করে বাদামজাতীয় ফল রয়েছে তার মধ্যে পেস্তা অন্যতম। এই ফলটির নাম আসলেই যে দেশটির কথা সবার আগে উচ্চারিত হয় তার নাম ইরান। কারণ, বিশ্বে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানের পেস্তার সরবরাহ হয়ে থাকে এই দেশটি থেকেই। গত ফারসি বছরের প্রথম চার মাসে প্রায় ১৬ হাজার ৬৬০ টন পেস্তাবাদাম রফতানি করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। এ থেকে দেশটির আয় হয়েছে ১৭৩.৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ইরান থেকে এসব পেস্তাবাদাম যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, বাহরাইন, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, কানাডা, কাতার, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, পোল্যান্ড, সুইডেন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, জাপান, রোমানিয়া ও হংকংয়ে রফতানি করা হয়েছে। ইরানের শিল্প, খনি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মোজতাবা খোসরোতাজ বলেন, বিশ্ব পেস্তাবাদাম বাজারের অর্ধেকের বেশি পরিমাণ রফতানি করে কেবল ইরান।
আখরোট উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় ইরান
আখরোট উৎপাদনে ইরান বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পরই ইরানের অবস্থান। এরপর রয়েছে তুরস্ক, মেক্সিকো, ভারত, চিলি, সার্বিয়া, ইউক্রেন ও স্পেনের অবস্থান। বিশ্বে ১২ লাখ হেক্টর জমিতে আখরোট চাষ হয়ে থাকে। মোট আখরোট উৎপাদনের পরিমাণ ৩৪ লাখ টন।
তিনি আরো জানান, আখরোটের গড় উৎপাদনেও এগিয়ে রয়েছে ইরান। দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টন আখরোট উৎপাদন হচ্ছে। যার মূল্য ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। দেশটির এক লাখ ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে আখরোট উৎপাদন হয়ে থাকে। অন্যান্য দেশে একই জমিতে যেখানে আধা কিলোগ্রাম আখরোট উৎপাদন হয়, ইরানে এর পরিমাণ ৩ কিলোগ্রাম। বছরে ৫ হাজার টন আখরোট রফতানি করে ইরান। প্রতি কিলোগ্রাম আখরোটের দাম পড়ে ৬ থেকে ৮ মার্কিন ডলার। ইরানের কেরমান, হামেদান, লরেস্তান, কোহগিলোইয়ে-বোয়েরাহমাদ এবং কেরমানশাহ প্রদেশে ব্যাপকভাবে আখরোট চাষ হয়ে থাকে। উল্লেখ্য বিশ্বের শীর্ষ ফল উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় সেরা দশে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি।
বিশ্বের চতুর্থ ডুমুর উৎপাদক দেশ ইরান
বিশ্বে ডুমুর উৎপাদনে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের ট্রপিকাল এবং সাবট্রোপিকাল ফ্রুটস ডিপার্টমেন্টের মহাপরিচালক মাসুদ লাতিফিয়ান এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইরান বছরে ৮০ হাজার টন ডুমুর ফল উৎপাদন করে থাকে এবং এই ফল উৎপাদনে বিশ্বে তার দেশ চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ইরানি এই কর্মকর্তা আরও জানান, বছরে ২ লাখ ৫৫ হাজার টন ডুমুর উৎপাদনের মধ্য দিয়ে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে তুরস্ক। বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ১০ লাখ টন ডুমুর চাষ হয় বলে জানান তিনি। ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস ওয়েবসাইটের গত পহেলা জুনের প্রতিবেদন মতে, বিশ্বে ডুমুর উৎপাদনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মিশর ও মরোক্কো। তালিকায় ইরানের পরের অবস্থানে রয়েছে আলজেরিয়া, গ্রীস, সিরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেন।
বছরে তিন লাখ টন চেরি ফল উৎপাদন হয় ইরানে
ইরানে বছরে প্রায় তিন লাখ টন চেরি ফল উৎপাদন হয়। বিশ্বব্যাপী মোট উৎপাদিত এই ফলের প্রায় ২ শতাংশই ইরানে উৎপাদিত হচ্ছে। তেহরান এগ্রিকালচারাল জিহাদ অর্গানাইজেশনের বাণিজ্য বিষয়ক দফতরের উন্নয়ন ব্যবস্থাপক হামিদ রেজা খলিলি এই তথ্য জানিয়েছেন। হামিদ রেজা বলেন, তেহরান প্রদেশে এককভাবে বছরে প্রায় ৮৪ হাজার টন চেরি উৎপাদন হয়, যার মূল্য ১১০ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।


আপেল রফতানি
ইরান ২০১৭-১৮ শস্য বছরে ৭ লাখ টন আপেল রফতানি করেছে। যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। দেশটি বছরে প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন টন আপেল উৎপাদন করে যার এক পঞ্চমাংশ বিদেশে রফতানি হয়ে থাকে। ইরান যেসব দেশে আপেল রফতানি করে সেগুলো হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, আযারবাইজান, জর্জিয়া, ইরাক, তুর্কমেনিস্তান, রাশিয়া, ওমান, কিরগিজিস্তান, কাজাখস্তান, কুয়েত, ভারত, কাতার, বাহরাইন, সুদান ও তুরস্ক।
তরমুজ রফতানি
ফারসি বছরের প্রথম তিন মাসেই ইরান ৫ লাখ ১৯ হাজার ৭৯০ টন তরমুজ রফতানি করেছে। এতে আয় হয়েছে ৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইরাক, আমিরাত, আফগানিস্তান, তুরস্ক, রাশিয়া, কাতার ও ওমান ইরানের প্রধান তরমুজ আমদানিকারক দেশ।
টমেটো রফতানি
চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে টমেটো রফতানি করে ১১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। এই পাঁচ মাসে দেশটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩ লাখ ৬ হাজার ৬৫৫ টন টমেটো রফতানি করে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শুল্ক প্রশাসন আইআরআইসিএ প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এই চিত্র দেখা গেছে। ইরাক, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমেরাত, আফগানিস্তান ও কাতারে ইরান টমেটো রফতানি করে থাকে।
ইরানের লেটুস রফতানি
গত ইরানি বছরের (ফারসি ক্যালেন্ডার) প্রথম পাঁচ মাসে ৪২ হাজার ১শ’ টনের অধিক লেটুস সবজি রফতানি করেছে ইরান। এ থেকে দেশটির আয় হয়েছে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইরানের শুল্ক প্রশাসন প্রকাশিত তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, আযারবাইজান, আর্মেনিয়া, রুশ ফেডারেশন, বাহরাইন, ওমান, কাতার ও আফগানিস্তানে ইরান লেটুস রফতানি করে থাকে। উল্লেখ্য, শাক-সবজি উৎপাদনে ইরানের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম। দেশটি বছরে প্রায় ২৮ মিলিয়ন টন সবজি উৎপাদন করে থাকে।
হারবাল ওষুধ রফতানি
ইরান থেকে বছরে বুটি গোলাপ, জাফরান, সুগন্ধি লতাবিশেষ ও বিভিন্ন ধরনের হারবাল ওষুধ রফতানি হয় সাড়ে তিনশ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের হারবাল ওষুধ দপ্তরের পরিচালক পেইমান ইউসেফি আযার এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ওষুধি গাছের চাষাবাদ বিশ্বে একটি উদীয়মান অর্থনীতি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এতে প্রবৃদ্ধির হার ৯ শতাংশ। দ্রুত অগ্রগতির কারণে নিকট ভবিষ্যতে কৃষি ক্ষেত্রে ওষুধি গাছ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সীফুড রফতানি
গত অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে ইরান ১১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সীফুড রফতানি করেছে। ইরানের ফিশারিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হাসান সালেহি জানান, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে দেশটির রফতানির পরিমাণ বেড়েছে শতকরা ৩০ ভাগ। সালেহি জানান, কৃষির পাশাপাশি সীফুড থেকে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বেড়েই চলেছে। গত কয়েক বছরে এখাতে রফতানি দ্বিগুণ হয়েছে। তিনি আরো জানান, গত বছর সীফুড উৎপাদন হয়েছে এক মিলিয়ন টন। এর মধ্যে ৮২ হাজার টন সীফুড রফতানি হয়েছে।
দুগ্ধজাত পণ্য রফতানি
চলতি অর্থবছরে বিলিয়ন ডলারের দুগ্ধজাত পণ্য রফতানি করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ইরান। দেশটির কৃষিমন্ত্রী মাহমুদ হোজ্জাতি এই তথ্য জানিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা ইরনার খবরে বলা হয়, তিনি বলেছেন, ‘অতীতে আমরা দুগ্ধজাত পণ্য, মুরগি ও গম আমদানি করতাম। কিন্তু আজ আমরা শুধু দেশীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম হই নি, আমরা এসব পণ্যের রফতানিকারক হিসেবেও পরিগণিত হয়েছি।’ এগ্রিকালচারাল কমিশন অব তেহরান চেম্বার অব কমার্স, ইন্ডাস্ট্রিজ, মাইনস অ্যান্ড এগ্রিকালচার এর চেয়ারম্যান কাভেহ জারগারানের তথ্যমতে, গত অর্থবছরে দুগ্ধজাত পণ্য রফতানি করে ইরান আয় করেছে ৭৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রফতানিতে ইরানের আয় ২.৭ বিলিয়ন ডলার
ফেডারেশন অব ইরানিয়ান ফুড অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব মতে দেশটি বছরে প্রক্রিয়াজত খাবার রফতানি করে ১.৩৭ মিলিয়ন টন। এ খাতে গত ফারসি বছরের প্রথম ৯ মাসে আয় করেছে ২.৭ বিলিয়ন ডলার। পরিমাণের দিক থেকে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রফতানি বেড়েছে ১৩ ভাগ এবং মূল্যমানে বেড়েছে ০.৫ ভাগ।
ইরানে বাহারি রঙিন মাছ উৎপাদন
ইরানে গত ফারসি বছরে এর আগের বছরের তুলনায় বাহারি রঙিন মাছ রফতানি দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর ২৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এধরনের বাহারি মাছ উৎপাদন হয়। এসব মাছ দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হয়ে থাকে। সৌখিন মাছ হিসেবে এধরনের বাহারি মাছ অ্যাকুরিয়ামে শোভা পায়। ইরান থেকে রঙিন মাছ রফতানি হয় তুরস্ক, আযারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকে। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও ইরান বাহারি মাছ রফতানি করে বলে জানান ইরানের উপ কৃষিমন্ত্রী হাসান সালেহি।
রেশম পোকা চাষে বিশ্বে অষ্টম ইরান
রেশম সুতা উৎপাদনের লক্ষ্যে রেশমপোকা প্রতিপালনকে রেশম চাষ বলা হয়। বিশ্বে রেশম পোকা চাষে অষ্টম স্থানে রয়েছে ইরান। দেশটির রেশম গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান রেজা সৌরাতি জাঞ্জানি এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, চীনে চার হাজার বছর আগে রেশম পোকা চাষ শুরু হয়। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, চীন সাধারণত সাদা গুটির চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। অন্যদিকে, ইরানে হলুদ গুটির চাষ বেশি হয়।
ইরানের রেশম পোকা চাষ শিল্পের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে জাঞ্জানি বলেন, বর্তমানে খাতটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। দেশে এর পুরনো ইতিহাস রয়েছে। বর্তমানে পঞ্চাশের অধিক দেশে উষ্ণতার জন্য রেশম ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। আর রেশমের ৯৫ ভাগ কাঁচামাল এশীয় দেশগুলো থেকে আসে।
বিশ্বব্যাপী সৌরভ ছড়াচ্ছে ইরানি গোলাপ
মে মাসের শুরু থেকে জুনের মাঝামাঝি। মধ্য ইরানের কাশান এবং এর আশপাশের শহর ও গ্রামগুলো যেন সাজে অপরূপ প্রাকৃতিক রূপে। সাদা, লাল আর গোলাপি গোলাপের পাশাপাশি নানা প্রজাতির ফুল তৈরি করেছে নয়নাভিরাম দৃশ্য। সেখানে পা ফেলতেই যেন চার দিক থেকে বাতাশে ভেসে আসে ম-ম সুমিষ্ট ঘ্রাণ। মুহূর্তেই জুড়ে যায় মন। উৎসব হোক বা শোক, সব জায়গাতেই পবিত্রতার প্রতীক গোলাপজল। এমনকি খাবার, ওষুধ এবং রূপচর্চায়ও ব্যবহৃত হয় এই উপকরণটি। আর গোলাপ জল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ইরান। এর মন মাতানো সৌরভ শুধু ইরানেই নয়, ছড়িয়ে গেছে বিশ্বব্যাপী।
কথিত আছে গোলাপের তেল ও গোলাপ জলের অনেক চিকিৎসাগত উপকার আছে। গোলাপের তেল মানুষের মনে বয়ে আনে স্বস্তি। দূর করে বিষন্নতা, দুঃখ, স্নায়ুবিক চাপ ও উত্তেজনা। পাশাপাশি ঠা-া নিরাময় ও ত্বক্বের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। গোলাপ জল ছাড়াও গোলাপ তেল ব্যবহৃত হয় সুগন্ধি এবং ওষুধ তৈরিতে। যার বেশির ভাগই রফতানি হয় ফ্রান্সে। আর এর এক বোতল কিনতে খরচ হবে ৮ থেকে ১০ হাজার ডলার।
সম্প্রতি কাশান শহরের গভর্নর হামিদ রেজা মোমেনিয়ান জানান, কাশানে বছরে ২ হাজার টন গোলাপ জল ও তেল উৎপাদন হয়। তা রফতানি করে আয় হয় ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ গোলাপ জল ও তেল পারস্য উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ছাড়াও ইউরোপে রফতানি হয়।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বর্তমান সরকার দেশটিতে কৃষিক্ষেত্রে আরো উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্প্রতি দেশজুড়ে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৩ হাজার ৬৫০টি নতুন কৃষি প্রকল্প চালু করেছে । কৃষি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ পরিচালক শাহরোখ রামেযান নেজাদ জানান, এসব প্রকল্পের আওতায় রয়েছে পানি, মাটি ও অবকাঠামো, পশুসম্পদ এবং হাঁস-মুরগি, সম্পূরক শিল্প, প্রাকৃতিক সম্পদ, উদ্যানচাষ ও গ্রামীণ সমবায়সহ বিভিন্ন খাত।
বিশ্ব বাজারে ইরানের শোভাবর্ধক গাছের কদর
আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে চলেছে ইরানের ফুল ও শোভাবর্ধক গাছের চাহিদা। বিগত ফারসি বছরে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যের চিত্র তেমনটাই বলছে। গত বছর ফুল ও শোভাবর্ধক গাছ আমদানি-রফতানিতে দেশটির ইতিবাচক বাণিজ্যিক ভারসাম্য দেখা গেছে। এক্ষেত্রে ইরানের বাণিজ্যিক ভারসাম্যের পরিমাণ ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছুঁয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের গ্রিনহাউস, মেডিসিনাল প্লান্টস অ্যান্ড ইডিবল মাশরুম অ্যাফেয়ারস ব্যুরোর প্রধান গোলামরেজা তাকাভি জানান, গত বছর তাঁর দেশ ২৫ মিলিয়ন ডলারের ফুল গাছ, বীজজাত চারা ও বাতি রফতানি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃষিখাতে উন্নয়নের রোল মডেল হতে যাচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। কৃষিতে এই অভূতপূর্ব উন্নয়ন দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যে তো বটেই, সারাবিশ্বে এনে দিয়েছে আলাদা মর্যাদা।