মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৭ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

কীভাবে তোমার আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করবে : হিংসা

পোস্ট হয়েছে: জুলাই ২৫, ২০১৯ 

সংকলন : আফসানেহ আরযমান্দ
মানবীয় অনুভূতিসমূহের মধ্য থেকে এমন একটি অনুভূতি যা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে খুবই ক্ষতিকর এবং পীড়াদায়ক হয়ে ওঠে তা হলো হিংসা। কিন্তু হিংসা কী এবং কীভাবে আমরা এটি দমন করব ও একে আমাদের কল্যাণে ব্যবহার করব ?
হিংসার সংজ্ঞা
হিংসাকে অনেক ভাবেই সংজ্ঞায়িত করা যায় এবং কীভাবে একজন ব্যক্তি এই আবেগকে পরিচালিত করতে পারে সে সম্পর্কে প্রত্যেক বিশেষজ্ঞেরই নিজস্ব মতামত রয়েছে। যদি তুমি একবার একে নিয়ন্ত্রণে আনতে পার, তা হলে তুমি সুখী জীবন যাপন করতে পারবে।
হ্যারল্ড কফিনের অভিমত অনুযায়ী হিংসা হলো ‘যে শিল্পের মাধ্যমে নিজের কল্যাণসমূহের পরিবর্তে অন্যের কল্যাণসমূহ গণনা করা হয়।’
অপরদিকে হিংসা ইতিবাচকও হতে পারে এবং তোমার জীবনে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রেরণাদায়ক হতে পারে। এটি হিংসা সম্পর্কে আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে যার মাধ্যমে তুমি সাফল্য, ব্যক্তিত্ব, শক্তিমত্তা এবং অন্যান্য ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে অন্য ব্যক্তিদের মতো হওয়ার ইচ্ছা পোষণ কর।
এটি তোমাকে তাদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী করে তোলে এবং তোমার নিজের সুপ্ত গুণাবলি খুঁজে পেতে এবং জীবনে অগ্রসর হতে সাহায্য করে। যখন আমরা অন্যদের সুখে সুখী হতে পারব তখন আমরা নিজেদেরকে অধিকতর সুখী অনুভব করব এবং একই সময়ে আমরা তাদের পথে চলার চেষ্টা করব- যদি আমরা বিশ^াস করি যে, তারা নিজেদের নেয়ামতকে গণণা করেই কোন না কোনভাবে সফল হয়েছে বা জীবনে অগ্রসর হয়েছে।
আমাদের যা নেই, তা নিয়ে বিলাপ করার চেয়ে আমাদের যা আছে, তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকাটাই আমাদেরকে অধিকতর সুখকর জীবনের দিকে পরিচালিত করে। হিংসা তোমার কাঁধে একটি ছোট শয়তানের ন্যায় হতে পারে যা তোমার কানে ফিসফিস করে, তোমার অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয় এবং তোমার জীবনকে এমন কিছুতে পরিণত করে যা প্রায়শই ভোগান্তি এবং অধিক মাত্রায় নেতিবাচকতায় পূর্ণ। অথবা হিংসা এমন কিছু হতে পারে যা তোমাকে মাঝে মাঝে ভীষণ বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ করে তোলে।
হিংসা থেকে পরিত্রাণের উপায়
১. যদি হিংসার কারণ হয় তুলনা করা, তবে নিজের প্রতি দৃষ্টি দাও
আসলে সবসময় কেউ না কেউ থাকে যার অবস্থান তোমার থেকে উত্তম- সেটা ক্লাসেই হোক কিংবা বাড়িতে আর তুমি যদি এখানে হিংসার মনোভাব পোষণ কর তবে এটি নিশ্চিত যে, তোমার জন্য এটি সর্বদা তিক্ত অনুভূতি হয়ে থাকবে। এজন্য তোমার নিজের প্রতিভা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যর প্রতি দৃষ্টি দাও এবং সচেতন হও যে, ‘অপর পাশের ঘাসগুলো সর্বদাই বেশি সতেজ হয়।’
তোমার যা আছে সেটির দিকে দৃষ্টি দাও এবং নিরর্থক তুলনার মাধ্যমে নিজেকে কষ্ট দিও না যা তোমাকে প্রকৃত অর্থে কোন অবস্থানে নিয়ে যাবে না।
২. নিজের যা আছে তা নিয়ে কৃতজ্ঞ থাক
এই বিষয়টিকে দৈনন্দিন চর্চার বিষয়ে পরিণত কর, এমনকি অল্প সময়ের জন্য হলেও। দীর্ঘ সময় পর তুমি একটি বিশাল পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবে। এই সময়ে উত্তম হবে যে, দিনের একটি ঘণ্টা তুমি নির্দিষ্ট করবে তোমাকে প্রদত্ত সকল নেয়ামতের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার জন্য; এসকল নেয়ামতের একটি তালিকা তৈরি কর- এটি যত বড় কিংবা ছোট নেয়ামতই হোক না কেন। তাহলে তুমি কৃতজ্ঞ ও আশ্বস্ত হবে এবং সত্যিসত্যিই আশ্চর্যান্বিত হবে।
৩. অভাব-অনটনকে বা কোনো কিছু হারানোকে ভয় পাবে না
যদি তুমি চিন্তা কর যে, অন্য কেউ তোমার স্থান নিয়ে নিয়েছে অথবা তুমি প্রতিনিয়ত কোনো কিছু হারানোর ভয় কর, তাহলে তুমি অন্যের প্রতি তীব্র হিংসাপরায়ণ হয়ে উঠবে। বৃহৎ পরিসরে চিন্তা কর এবং জীবনে নিজের স্থান নিয়ে কখনও চিন্তা করো না। কারণ, শীঘ্রই কিংবা পরবর্তীকালে তুমি তোমার পরিকল্পনা, সততা ও কঠোর কর্মের মাধ্যমে তোমার প্রাপ্য স্থান পেয়ে যাবে। এ ছাড়া তুমি এখনই কেন এসব বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করছ?
৪. স্বাভাবিক জীবন যাপন কর
কোনো কিছু না করে বসে থেক না। কারণ, এ ক্ষেত্রে তোমার নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রচ-ভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং এত দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে যা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না। জীবনকে উপভোগ কর এবং তোমার মধ্যে যে সকল ঘাটতি রয়েছে সেগুলো নিয়ে অধিক সময় ধরে প্রচেষ্টা চালাও।
৫. লোভী হয়ো না
তুমি বুঝে ওঠার আগেই তুমি লোভী হয়ে উঠতে পার এবং তখন হিংসা তার ভয়ানক ছায়ার মাধ্যমে তোমার পশ্চাদ্ধাবন করবে। তুমি ভাল হওয়ার প্রতিযোগিতাকে একটি উপকারী উচ্চাকাক্সক্ষী কারণ হিসেবেও গ্রহণ করতে পার এবং জীবনে কিছু করতে পার। কিন্তু এটি যেন তোমাকে ধ্বংস না করে। আর অনুসরণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ব্যক্তি হলো তারা যারা কাউকে হিংসা করে না; কারণ, তাদের মধ্যে আসলেই বিশেষ কিছু রয়েছে। বরং তাদের প্রতি হিংসা নয়,আমরা তাদেরকে অনুসরণ করতে পারি এবং কীভাবে অন্য ব্যক্তির সাথে নিজেদেরকে তুলনা করেও স্থির ও আরামে থাকা যায় তার শিক্ষা লাভ করতে পারি।
অনুবাদ : সরকার ওয়াসি আহম্মেদ