রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির ভাষণ

পোস্ট হয়েছে: জুন ১৯, ২০১৬ 

بسمالله الرحمن الرحیم
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعاً وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْکُرُوا نِعْمَة اللَّهِ عَلَيْکُمْ إِذْ کُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِکُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَاناً
‘আর তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে ঐক্যবদ্ধভাবে আঁকড়ে ধর, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের অন্তরসমূহের মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে দিয়েছেন। অতএব, তার রহমতের বদৌলতে তোমরা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে গেছ।’ (সূরা বাকারা : ১০৩)
জনাব এরদোগান! ভ্রাতৃপ্রতীম দেশ তুরস্কের সম্মানিত প্রেসিডেন্ট ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের প্রেসিডেন্ট! ইসলামি দেশসমূহের রাষ্ট্রপ্রধানগণ! ভদ্রমহোদয় ও ভদ্রমহিলাগণ!
শুরুতে আমি আপনার প্রতি মোবারকবাদ জানিয়ে তুরস্কের সরকার ও জাতির উঞ্চ আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং আপনার জন্য সৌভাগ্য ও সাফল্য কামনা করছি।
আমরা যে আজ ‘ইনসাফ ও শান্তির জন্য ঐক্য ও সংহতি’-র স্লোগানে সুন্দর ও ঐতিহাসিক নগরী ইস্তাম্বুলে সমবেত হয়েছি, তাতে সমগ্র জাহানের সকল মুসলমানের অভিন্ন ভাগ্য নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার উপযুক্ত সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মাত্র কয়েক শতাব্দী আগে ইসলামি সভ্যতা যখন শক্তিমত্তা ও ক্ষমতার চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল তখন কেউ হয়ত চিন্তাও করেনি যে, একদিন ইসলামি জাহান এতখানি দুর্বলতা ও নিস্তব্ধতার সম্মুখীন হবে এবং পশ্চিমা সভ্যতার মোকাবিলায়, যে সভ্যতা চিন্তাদর্শন ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলমানদের কাছে ঋণগ্রস্ত ছিল, তাদের সম্মুখে দুর্বল অবস্থানের শিকার হবে।
অথবা যেদিন ইসলামি সভ্যতা বিভিন্নমুখি চিন্তাধারা, নানা গোত্র ও সম্প্রদায়কে নিজের মধ্যে আত্মস্থ করেছিল এবং তাদের মাঝে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বলবৎ করেছিল, সেদিন হয়ত কেউ কল্পনাও করেনি যে, একদিন মুসলমানদের মধ্যে এমন ফেরকাবাজি ও উগ্রবাদ বিস্তার লাভ করবে এবং তারা মুসলমানের হাতে মুসলমান নিহত হওয়াকে একটি স্বাভাবিক ব্যাপারে রূপান্তরিত করবে।
বাস্তবতা হল, ইসলামি সভ্যতার পতন তখন থেকে শুরু হয়েছে যখন থেকে বৃহৎ ইসলামি শক্তিগুলো পারস্পরিক শক্তি বৃদ্ধির পরিবর্তে পরস্পরের সঙ্গে অনর্থক সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। আর বিদেশি আগ্রাসনের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছে।
আর এখন দুঃখজনকভাবে ইতিহাসের পুনরাবৃৃত্তি ঘটছে। ইসলামি জাহানের উপর সর্বতোমুখি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক হামলা বিশেষ করে চিন্তাধারা ও আকিদাগত আগ্রাসন পুনরায় তীব্রতর হয়েছে। তবে এবার নতুন আঙ্গিকে ও ইসলামের বিরুদ্ধে ইসলামকে ব্যবহার করে, মাযহাবের বিরুদ্ধে মযহাবকে লাগিয়ে দিয়ে। উগ্রবাদী ও তাকফিরি গোষ্ঠীগুলোর কথা সবাই জানেন যে, তারা কোথা থেকে ও কীভাবে সংগঠিত হয়েছে, আর কোন স্থান থেকে পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে, তারা সম্ভাব্য সবচেয়ে সহিংস ও নিষ্ঠুর পন্থায় মুসলামান ও অমুসলমানদেরকে নির্বিচারে হত্যা করছে। নিকষ সহিংসতা ইসলামি নৈতিক চরিত্রের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই নৃশংসতা ও হিং¯্রতা ইসলামের নামে ও ইসলামি পতাকা ব্যবহার করে চালানো হচ্ছে আর এর মাঝখানে মূল বলি হচ্ছে ইসলাম আর ইসলামি মূল্যবোধ ও মূলনীতিসমূহ।
এটা কিছুতেই হতে পারে না যে, ইসলামি জাহান নিরাপত্তাহীনতা, সহিংসতা ও সুসংগঠিত সন্ত্রাসের তরঙ্গের মধ্যে হাবুডুবু খাবে আর সর্বতোমুখী পশ্চাদপদতা ও অনগ্রসরতার আষ্টেপৃষ্ঠে বন্দি হয়ে থাকবে। বরং তার উচিত হবে এক উন্নততর অবস্থানে সে বসবে। এর এটা সম্ভব হবে না, যতক্ষণ না আমরা আরো বেশি উৎকণ্ঠা নিয়ে বর্তমান অবস্থা ও পরিস্থিতি এবং নিজের চারপাশের দুনিয়া নিয়ে চিন্তাভাবনা করি।
আসলে আমাদের কাজকর্মই হল সেই মানদ- যার নিক্তিতে ইসলামি জাহানের জনগণ আমাদের আচরণ কতখানি ইসলামি সে বিষয়ে বিচার-ফায়সালা করবে। আমাদের মুখের বুলি, দাবি, উপাধি বা নানা নামধামের ভিত্তিতে বিচার করে দেখবে না।
কোন কোন ইসলামবিরোধী গোষ্ঠীর প্রতি অর্থনৈতিক ও সামরিক সাহায্য-সহযোগিতা যদি তাদের কাছে সুযোগ এনে দেয়, যাতে তারা ইসলামের নামকে জিম্মি করে নিতে পারে, আর ইসলামের সুন্দর চেহারাকে অপরাধযজ্ঞ ও মানুষ হত্যার কলঙ্ক দ্বারা কলুষিত করতে পারে আর ইসলামোফোবিয়ার ঘৃণ্য চক্রান্তের জন্য অজুহাত ও সাক্ষ্য হিসেবে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়, তাহলে কিভাবে ইসলামের শান্তি ও স্বস্তির প্রতিরক্ষা করা সম্ভব হবে?
ইসলামি উম্মাহর শত শত কোটি ডলার সম্পদ ও পুঁজি যুবকদের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান খাতে ব্যয়ের পরিবর্তে যদি কাল্পনিক আশঙ্কার অজুহাতে সামরিক বারুদের গুদামে ব্যয় করা হয় আর পরস্পরের বিরুদ্ধে ব্যয়িত হয়, তা হলে কিভাবে ঐক্যের কথা বলা যাবে? কিভাবে যুবকদেরকে ইসলামি মর্যাদা ও বরকতের নীতিমালা মেনে চলতে রাজি করানো সম্ভব হবে?
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যেদিন থেকে তেহরানে অনুষ্ঠিত ইসলামি সম্মেলন সংস্থার ৮ম অধিবেশনের সভাপতির আসন গ্রহণ করে, ঠিক সেদিন থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ‘বিশ্ব সহিংসতা ও উগ্রবাদের মোকাবিলা’ তত্ত্ব উত্থাপন পর্যন্ত, একটিমাত্র কথার উপর অবিচল ছিল। আর তা হচ্ছে, আলোচনা ও সহযোগিতাই হল যুগের ব্যথা-বেদনা ও সমস্যাদি অনুধাবন এবং তার কার্যকর উপশমের প্রাথমিক উপায়। আমাদের কর্তব্য হল, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সহিংসতার মোকাবিলার জন্য বিশ্ব পর্যায়ের উদ্যোগগুলোতে ইসলামের নামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা। আমরা যেন এতদঞ্চল ও বিশ্বে স্থায়ী নিরাপত্তা, নিরাপদ জীবন ও সর্বতোমুখী মানব অধিকার পুনরায় ফিরিয়ে আনি।
ইসলাম আমাদের শিক্ষা দিয়েছে, অপরাধ যেখানেই হোক এবং যে নামেই হোক তা অপরাধ হিসেবেই গণ্য। তা মযলুম ফিলিস্তিন ভূখ-ে হোক বা লাহোরে অথবা দামেস্কে, ইস্তাম্বুলে কিংবা নিউ ইয়র্ক, প্যারিস কিংবা ব্রাসেলসে সংঘটিত হোক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমাদেরকে এর উৎস ও ক্ষেত্রসমূহ সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে এবং সুদৃঢ় প্রত্যয় ও ইস্পাত-কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে তার যত ধরন ও আকার আছে সবগুলোর মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে।
অতএব, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করতে চায় যে,
১. সর্ব প্রকার বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশগুলোর মাঝে আলোচনা ও কূটনৈতিক পথ ও পদ্ধতি গ্রহণের নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। যাতে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভুল ধারণাগুলো এবং যায়নবাদ ও বৃহৎ শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপ ও দখলদারির প্রতি উদাসীনতা তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত ও বিশেষ রাজনৈতিক বিন্যাসের দ্বারা আলোচনার অগ্রগণ্যতাকে প্রভাবিত করতে না পারে।
২. ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সমস্যা, সব দেশের স্থায়ী নিরাপত্তা, বৈজ্ঞানিক উন্নতি ও সর্বাত্মক উন্নয়নকে গোটা ইসলামি জাহানের নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও উন্নয়ন বলে মূল্যায়ন করতে হবে ও একে স্বাগত জানাতে হবে। কোন মতেই এই সুযোগ দেয়া যাবে না যে, ভীতিপ্রদ পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং কাল্পনিক বিপদ ও হুমকির জন্ম দিয়ে এই প্রয়োজনটি বেমালুম ভুলে যাওয়া হবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সকল সদস্যের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাতে চায় যে, ইরানের বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষমতাগুলোতে তারা যেন তাদের নিজেদের বলে মূল্যায়ন করে। ইরানের শক্তিকে নিজেদের শক্তি বলে গণ্য করে। যেমন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সবার ব্যাপারে এ ধরনের মনোভাব পোষণ করে থাকে।
৩. যায়নবাদী ইসরাইল সরকারের বিপদাশঙ্কাকে সবসময় সহিংসতা ও উগ্রবাদ উৎপাদনের আসল উৎস বলে মনে করতে হবে। এ কথা স্বীকার করতে হবে যে, অধিকৃত ভূখ-ে ফিলিস্তিনি নিরপরাধ জনগণের উপর বিশেষ করে শিশু ও নারীদের উপর গণহত্যা এবং অমানবিক হামলা ও আগ্রাসন এবং গাজা অবরোধ এমন এক সরকারের সহিংস চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ, যে সরকার দুঃখজনকভাবে আন্তর্জাতিক সমাজসমূহের অবহেলা বিশেষ করে পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রশ্রয়ে তার নৃশংসতা ও হিং¯্রতা অব্যাহত রেখে চলেছে।
ভদ্রমহোদয়গণ!
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এতদঞ্চলে সব ধরনের উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা হতে দূরে থেকে তার পরিচ্ছন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নীতি গ্রহণ করে সব সময় ইসলামি উম্মাহর সংহতি ও ঐক্য সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর ইসলামি দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা জোরদার করাকে সত্যিকার অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। ইসলামি ইরান এ কথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, মতবিরোধসমূহ ও ভুল বুঝাবুঝি নিরসনের একমাত্র পথ হচ্ছে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া গ্রহণ ও আলোচনার মাধ্যমে অগ্রসর হওয়া। এ কারণেই আমরা অন্যান্য দেশের সাথে সম্ভাব্য সমস্যাদি ইসলামি ভ্রাতৃত্ব, সৎ প্রতিবেশীসুলভ মনোভাব এবং ইসলামি উম্মাহর সর্বজনীন কল্যাণ চিন্তার নিরিখে সমাধান করব। আমরা আলোচনা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে গঠনমূলক পরামর্শ, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সন্দেহ-সংশয় দূরীকরণ ও বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যাপারে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করছি।
ইসলামি দেশসমূহের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ!
সবার কাছে এ কথা পরিষ্কার যে, না সৌদি আরব ইরানের জন্য সমস্যা আর না ইরান সৌদি আরবের জন্য সমস্যা। আসল সমস্যা হচ্ছে অজ্ঞতা, গোঁড়ামি ও সহিংসতা। আমাদের সবার জন্য সমস্যা ও সংকটের জট হচ্ছে ইসলামি জাহানে অনৈক্য ও বিরোধ।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সবসময় আগ্রাসন, হুমকি, জবরদখল ও সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় ইসলামি ও মুসলিম দেশগুলোর সাহায্যকারী ছিল এবং এখনও আছে।
যেদিন সাদ্দাম কুয়েতে আগ্রাসন চালিয়েছিল সেদিন সবার আগে ইরান এই আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছিল আর ইরাকি ও কুয়েতি শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিল। যে সময় তাকফিরি সন্ত্রাসীরা বাগদাদ ও আরবিলের প্রবেশদ্বারের নিকটবর্তী হয়েছিল তখন এই ইরানই তাদের বর্বরোচিত হামলার মুখে ইরাকের সরকার ও জাতির সাহায্যে এগিয়ে গিয়েছিল। যে সময় দামেস্ক আগ্রাসন ও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল তখন এই ইরানই সিরিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিল। যে সময় গাজা যায়নবাদী ইসরাইল সরকারের আগ্রাসনের শিকার হয়েছিল তখন বীর হিজবুল্লাহ ও ইরান ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আর যে দিন লেবানন তাদের হামলার সম্মুখীন হয়েছিল সেদিনও এই হিজবুল্লাহই লেবাননের জনগণের সম্মুখ সারিতে থেকে যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছিল।
যদি কোন দিন সন্ত্রাসী বা আগ্রাসীরা কোন ইসলামি দেশে আগ্রাসন চালাতে চায় কিংবা কোন পবিত্র ইসলামি স্থানের উপর হুমকি সৃষ্টি করে আর আমাদের কাছ থেকে সাহায্য চাওয়া হয় তাহলে নির্দ্বিধায় আমরা মযলুম মুসলমানদের সাহায্যে এগিয়ে যাব।
ভদ্রমহোদয় ও ভদ্রমহিলাগণ!
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার অধিবেশন থেকে, যা ঐক্যের নামে অনুষ্ঠিত হয়েছে, ইসলামি উম্মাহর মধ্যে অনৈক্যের সৃষ্টি করে এমন কোন বার্তা যেন উত্থাপিত না হয়। আর যে কোন অনৈক্য সৃষ্টিমূলক তৎপরতা, যেহেতু এই সংস্থা ও ইসলামি উম্মাহর ঐকমত্যের সাথে সংগতিশীল নয় এবং এই সংস্থা প্রতিষ্ঠার দর্শনের সাথে সাংঘর্ষিক, সেহেতু তা নিশ্চিতভাবে মূল্যহীন।
ইসলামের দয়াময়তা ও যুক্তি দর্শনের আলোকে আমাদের উপর কর্তব্য হল, দ্বীনের চেহারা থেকে যে কোন ধরনের সহিংসতা, উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার ধুলোবালি দূর করা। আমাদেরকে কুরআন মজীদের এই আয়াতের আলোকে ইসলামি জাহানকে ‘মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যপূর্ণ’ সমাজের মডেল হিসেবে দুনিয়ার সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
و کَذَلِکَ جَعَلْنَاکُمْ أُمَّهً وَسَطًا لِّتَکُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَ يَکُونَ الرَّسُولُ عَلَيْکُمْ شَهِيدًا
‘আর এভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী জাতিরূপে প্রেরণ করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির সামনে সাক্ষী হও। আর রাসূল তোমাদের ব্যাপারে সাক্ষী হন।’ (সূরা বাকারা : ১৪৩)
ওয়াস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।