মঙ্গলবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

English

উজবেকিস্তানেও ফারসি নববর্ষ উদযাপন

পোস্ট হয়েছে: মার্চ ২৮, ২০২২ 

news-image

ইরান এবং উজবেকিস্তানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোতে বর্ণিল আয়োজনে পালিত হচ্ছে নববর্ষ। নওরোজ তথা বছরের প্রথম দিন পুনরুজ্জীবনের সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। এবছর ২১ মার্চ পড়ে ফারসি বছরের প্রথম দিন। দিনটি থেকে ইরানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে শুরু হয়েছে টানা জাতীয় ছুটি।

আক্ষরিকভাবে নওরোজ অর্থ নতুন দিন। ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোসহ বিশাল একটি ভৌগোলিক অঞ্চল জুড়ে বসন্তের সূচনাকে নওরোজ হিসেবে উদযাপন করা হয়। এসব দেশে নবর্ষের দিনে দিন ও রাত সমান হয়ে থাকে।

হাখামানেশী যুগে সাধারণ মানুষজন ও কর্মকর্তারা সর্বত্র বার্ষিক ঐতিহ্য হিসেবে নওরোজকে স্মরণ করতো। বাড়িতে ও পার্সেপোলিস শহরে নানা আয়োজনে দিনটি উদযাপন করা হতো। পার্সেপোলিস ছিল হাখামানেশী সাম্রাজ্যের আনুষ্ঠানিক রাজধানী। প্রাচীনকাল থেকেই এখানে নওরোজ উদযাপিত হয়।

বর্তমান বিশ্বে আজারবাইজান প্রজাতন্ত্র, ভারত, ইরান, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, তুরস্ক ও উজবেকিস্তানের জন্য একটি সাধারণ ঐতিহ্য হিসেবে ২০০৯ সালে এই উৎসবটি প্রাথমিকভাবে জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকোর তালিকাভুক্ত হয়।

এক বছর পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২১শে মার্চকে আন্তর্জাতিক নওরোজ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মধ্য এশিয়া এবং ককেশাস, মধ্যপ্রাচ্য, কৃষ্ণ সাগর অববাহিকা এবং বলকান অঞ্চলের ৩০ কোটির অধিক মানুষ এই ছুটি উদযাপন করে থাকে।

ইরানে নওরোজের ইতিহাস ৩ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে খুঁজে পাওয়া যায়। দেশটি থেকে এটি শেষ পর্যন্ত পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

ইউনেস্কোর মতে, নওরোজ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মধ্যে এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শান্তি ও সংহতির মূল্যবোধ জাগ্রত করে। পাশাপাশি পুনর্মিলন এবং প্রতিবেশীত্বের মূল্যবোধেরও প্রসার ঘটায়। এইভাবে মানুষ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বন্ধুত্বে অবদান রাখছে নওরোজ।

নওরোজ ঐতিহ্য স্থানভেদে কিছুটা ভিন্ন পরিলক্ষিত হয়। ইরানে আগুন এবং স্রোতের উপর লাফানো থেকে শুরু করে টাইটরোপ হাঁটা, বাড়ির দরজায় মোমবাতি জ্বালানো, ঘোড়দৌড়ের মতো ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা করা হয়। এছাড়া কিরগিজস্তানে স্থানীয় কুস্তির প্রচলন আছে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি।