বুধবার, ১৯শে জুন, ২০১৯ ইং, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ঈদুল ফিতরের খোৎবায় রাহবার সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী

পোস্ট হয়েছে: জুন ২২, ২০১৬ 

পারমাণবিক সমঝোতায় ইরানী জাতির শক্তিমত্তা প্রমাণিত হয়েছে

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা ইসলামী বিপ্লবের রাহ্বার হযরত আয়াতুল্লাহ্ আল-‘উয্মা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত জেনেভা সমঝোতাকে ইরানী জাতির শক্তিমত্তার পরিচায়ক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের ছয়টি শক্তিধর দেশ শেষ পর্যন্ত ইরানের জন্য কয়েক হাজার সেন্ট্রিফিউজের ব্যবহার এবং পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে ইরানে গবেষণা ও তৎপরতা চালানোর বাস্তবতা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। এটা ইরানী জাতির শক্তিমত্তার পরিচয় ছাড়া আর কিছু নয়।
রাহ্বার গত ১৭ই জুলাই (২০১৫) তেহরানের ঈদগাহ্ মুসাল্লায়ে বোযোর্গে প্রদত্ত ঈদুল ফিত্র-এর খোত্বায় এ কথা বলেন।
রাহবার খোত্বার শুরুতে পবিত্র ঈদুল ফিত্র উপলক্ষে ইরানের জনগণ ও দুনিয়ার সকল মুসলমানের প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন এবং তাকওয়া অবলম্বন, প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণ ও গুনাহ থেকে দূরে থাকার জন্য নসিহত করেন। তিনি বলেন, এ বছরের রমযান মাস প্রকৃত অর্থেই একটি বরকতময় মাস ছিল। এ মাসে এ জাতির ওপর আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ হতে অফুরান বরকত নাযিল হয়েছেÑ যার নিদর্শন প্রচ- গরমের মধ্যে ও দীর্ঘ দিবসে রোযা রাখা, দেশের সর্বত্র কোরআন মজীদের ব্যাপক চর্চা, হাজার হাজার রোযাদার নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে অসংখ্য দোয়ার মজলিস অনুষ্ঠান, আল্লাহ্র দরবারে প্রত্যেকের হৃদয় নিংড়ানো আকুতি ও দো‘আ-মোনাজাত, আল্লাহর রাস্তায় দান-খায়রাত, ব্যাপক ইফতারের আয়োজন- সৌভাগ্যজনকভাবে কয়েক বছর থেকে মসজিদে, হাটে বাজারে, পাড়ায়-মহল্লায় যার ব্যাপক প্রচলন হয়েছে এবং সর্বশেষ আল-কুদ্স দিবসের বিশাল মিছিল। এগুলোর প্রত্যেকটিই আল্লাহ্র রহমত নাযিল হওয়ার একেকটি নিদর্শন।
ইসলামী বিপ্লবের রাহ্বার বলেন, কুদ্স্ দিবসের আগের রাতে- ২৩শে রমযানে শবে ক্বদরে রাত জেগে ইবাদত, অথচ পরদিন উত্তপ্ত দুপুরে কুদ্স দিবসের মিছিলে অংশগ্রহণ- এগুলোই ইরানী জাতিকে চেনার সঠিক নিদর্শন। তিনি বলেন, ইরানী জাতি একদিকে ইবাদতের মেহরাবে নিজের পরিচয় এভাবেই দেয়, আবার বিশ্বের শক্তিমদমত্তদের মোকাবিলায় মাঠে-ময়দানে সদা উপস্থিত থাকে। ইরানী জাতিকে বিজাতীয়দের বিদ্বেষপ্রসূত দৃষ্টিকোণ থেকে চেনার চেষ্টা করলে হবে না। ইরানী জাতিকে চিনতে হবে তাদের নিজেদের মাধ্যমে, তাদের স্লোগান, তাদের আন্দোলন ও তৎপরতার মাধ্যমে। বস্তুত ইরানী জাতি মাহে রমযানে তার পরিচয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে। আমরা ইনশাআল্লাহ আজ ঈদের দিনে আল্লাহ পাকের তরফ হতে রমযানে আমাদের আমলসমূহ কবুল হওয়ার প্রতিদান গ্রহণ করব। এর ফলে আমরা নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতিতে সমৃদ্ধ হব।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, ইরানী জাতির স্লোগানসমূহ প্রমাণ করেছে আমাদের নীতি-আদর্শের স্বরূপ কী। আল-কুদ্স দিবসের মিছিলে শুধু তেহরান বা বড় বড় শহরে নয়; বরং ইরানের সর্বত্র জনগণ ‘আমেরিকা মুর্দাবাদ, ইসরাঈল ধ্বংস হোক’ স্লোগানে মুখর ছিল।
প্রথম খোত্বার শেষভাগে রাহবার আল্লাহ্র দরবারে অফুরান রহমত ও মাগফিরাত লাভের জন্য দো‘আ করেন।
ইসলামী বিপ্লবের রাহ্বার দ্বিতীয় খোত্বায় মাহে রমযানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ঘটনাপ্রবাহের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, দুঃখজনকভাবে পবিত্র মাহে রমযানে ইয়েমেনে, বাহরাইনে, ফিলিস্তিনে ও সিরিয়ায় মু’মিন মুসলমানদের অনেকেই শত্রুর কালো কুৎসিত জিঘাংসার শিকার হয়ে দিনাতিপাত করেছে। এসব ঘটনার সবগুলোই ইরানী জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এর মধ্যে একটি বিষয় আমাদের অভ্যন্তরীণ। আর তা হলো পারমাণবিক ইস্যু। এ ব্যাপারে কয়েকটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করা জরুরি মনে করছি।
রাহ্বার বলেন, প্রথমে এ দীর্ঘ ও শ্বাসরুদ্ধকর আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিশেষ করে সম্মানিত প্রেসিডেন্ট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জন্যÑচুক্তির যে পাঠ তৈরি হয়েছে, তা নিয়মতান্ত্রিক আইনি প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হোক বা না হোকÑসওয়াব ও প্রতিদান সংরক্ষিত আছে। বিষয়টি এই ভাইদেরকেও আমি নিকট থেকে বলেছি। অবশ্য এ খসড়া অনুমোদনের জন্য একটি নিয়মতান্ত্রিক আইনি প্রক্রিয়া আছে। এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে হবে এবং তা হবে ইন্ শাআল্লাহ্। আমাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ খুব সতর্কতার সঙ্গে দেশের ও জাতির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখবেন। তাঁরা আপন জাতির কাছে যা অর্পণ করবেন, তা যেন উন্নত শিরে মহান রাব্বুল ‘আলামীনের কাছেও পেশ করতে পারেন।
রাহ্বার বলেন, এ চুক্তি অনুমোদিত হোক বা না হোক, ইন্ শাআল্লাহ্, এ চুক্তির কোন ধরনের অপব্যবহারের সুযোগ দেয়া হবে না। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের মূলনীতিতে কোন আঁচড় দেয়ার অনুমতি কাউকে দেয়া হবে না। দেশের নিরাপত্তার সীমানা ও প্রতিরক্ষার সক্ষমতাগুলো ইন্ শাআল্লাহ্ সংরক্ষিত থাকবে। যদিও জানি যে, দুশমন এ বিষয়টি অত্যধিক গুরুত্বের সাথে দেখছে। তবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র তার নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার হেফাযতে, বিশেষ করে দুশমনদের হুমকিপূর্ণ পরিবেশে, কোন অবস্থাতেই দুশমনের আধিক্যলিপ্সার কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, এ চুক্তি অনুমোদিত হোক বা না হোক, আমরা এতদঞ্চলে আমাদের বন্ধুদের প্রতি সাহায্য-সমর্থন থেকে পিছপা হব না। ফিলিস্তিনের মযলুম জনগণ, ইয়েমেনের মযলুম জনগণ, সিরিয়ার সরকার ও জনগণ, ইরাকের সরকার ও জনগণ, বাহরাইনের মযলুম জনগণ, লেবানন ও ফিলিস্তিনের সত্যিকার প্রতিরোধযোদ্ধারা- এদের সকলেই আমাদের সাহায্য ও সমর্থনপুষ্ট থাকবে।
তিনি বলেন, এসব আলোচনা এবং যে খসড়া প্রস্তাব তৈরি হয়েছে, তাতে কোন অবস্থাতেই আমেরিকার শক্তিমদমত্ত সরকারের প্রতি আমাদের নীতি-অবস্থানে কোন পরিবর্তন হবে না। যেমনটি ইতিপূর্বে বহুবার উল্লেখ করেছি, বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে আমেরিকার সাথে আমাদের কোন আলোচনা নেই, দ্বিপক্ষীয় বিষয়াদি নিয়েও আমাদের আলোচনা নেই। কখনো কখনো ব্যতিক্রমী বিষয়ে, যেমন এই পারমাণবিক বিষয়ে, কল্যাণ বিবেচনায় আমরা আলোচনা করেছি। আর তা এই প্রথম বার ছিল না; ইতিপূর্বেও কয়েক বার হয়েছে-  যা আমি পূর্বেও সর্বসাধারণের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যগুলোতে উল্লেখ করেছি।
রাহ্বার বলেন, এতদঞ্চলে আমেরিকার নীতির সাথে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নীতির ব্যবধান ১৮০ ডিগ্রি। আমেরিকানরা হিয্বুল্লাহ্কে এবং লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনকে- যারা একটি দেশের সবচেয়ে আত্মত্যাগী প্রতিরক্ষা বাহিনীর নমুনা- সন্ত্রাসী বলে অভিযুক্ত করে। এর চেয়ে বড় অবিচার আর কিছু হতে পারে না। এর বিপরীতে তারা যায়নবাদী সন্ত্রাসী, শিশুহত্যাকারী ইসরাইল সরকারকে সর্বপ্রকার সাহায্য-সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের একটি নীতির সাথে কীভাবে আপস করা যায়? কীভাবে আলোচনা করা যায় বা কীভাবে সম্মত হওয়া যায়?
রাহ্বার বলেন, বিগত আলোচনা শেষ হবার পর এই কয়েক দিনে আমেরিকার সম্মানিত কর্তাব্যক্তিরা হুঙ্কার দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অবশ্য এসব বিষয় নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। তাঁদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাই তাঁদেরকে এসব আস্ফালনে বাধ্য করছে। তাঁরা বলছেন, আমরা ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করেছি, আমরা ইরানের পরমাণু অস্ত্রের পথে প্রতিবন্ধক হয়েছি। কিন্তু আসল ব্যাপার তো অন্যখানে। এ প্রসঙ্গের সাথে আমেরিকা বা অন্য কারো সাথে আলোচনার কোন সম্পর্ক নেই। কারণ, আমরা কোরআন ও ইসলামী শরীয়ার আলোকে পরমাণু অস্ত্রের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারকে হারাম মনে করি, তাই এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেই নি। তাঁরা নিজেরাও জানেন যে, এটাই হলো বাস্তব। এরপরও তাঁরা আস্ফালন করে বলছেন, আমরা ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করেছি। ইরানের আত্মসমর্পণ নিয়ে তাঁরা স্বপ্ন দেখেন মাত্র। ইসলামী বিপ্লবের শুরু থেকে যেসব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে বশীভূত করার স্বপ্ন দেখেছেন, তাঁরা হয় মারা গেছেন অথবা ইতিহাসে হারিয়ে গেছেন। আপনারাও তাঁদের মতোই। আপনাদের এ আশা কোনদিনও পূরণ হবে না।
রাহ্বার বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ক’দিনের কথাবার্তায় একটি বিষয় লক্ষণীয় ছিল। তা হলো, আমেরিকার অতীতের ভুলভ্রান্তি সম্পর্কে স্বীকারোক্তি। সাদ্দাম হোসেনকে সাহায্য করার মতো দু’তিনটি ভুলের কথা তিনি স্বীকার করেছেন, কিন্তু কয়েক ডজন ভুলের প্রসঙ্গে কোন কথা বলেন নি। শাহের ২৫ বছরের যুলুমপূর্ণ শাসন, অত্যাচার-নিপীড়ন, হত্যা, অপরাধযজ্ঞ, ইরানী জাতির মর্যাদা ভূলুণ্ঠিতকরণ, ইরানের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক স্বার্থগুলোকে পদদলিতকরণ, সাগর থেকে ইরানের যাত্রীবাহী বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা তিনি বলেন নি। আমি উপদেশের সুরে এসব মহারথিকে একটি কথা বলতে চাই, আপনারা ২৮ মোরদাদের* ঘটনা বা ইরানের ৮ বছরের যুদ্ধ ও ইরানের প্রতিরক্ষার লড়াইয়ের ব্যাপারে স্বীকার করছেন যে, ভুল করেছেন। আমি বলতে চাই যে, ঠিক এখনো ইসলামী ইরান এবং অন্যান্য জায়গায় আপনারা একই ধরনের ভুল করছেন। আপনারা যেমন অতীতের ভুলের মুখোশ উন্মোচন করছেন তেমনি পরে অন্যরা এসে আপনাদের ভুলের মুখোশ উন্মোচন করবেন। কাজেই ভুল থেকে বেরিয়ে আসুন এবং বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিন।
রাহবার বলেন, আমি দেশের জনগণের খেদমতে যা আরয করতে চাই, তা হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার সাহায্যে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান শক্তিশালী ও মজবুত এবং দিন দিন আরো শক্তিশালী হচ্ছে। গত দশ-বারো বছর যাবৎ বিশ্বের ৬টি শক্তিশালী দেশ-যারা অর্থনৈতিক সম্পদ ইত্যাদির কারণে বিশ্বের শক্তিধর দেশ হিসেবে পরিগণিত- ইরানের মোকাবিলায় অবস্থান নিয়েছিল, ইরানকে পারমাণবিক প্রযুক্তি থেকে বিরত রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছিল। তাঁরা এ কথা পরিষ্কার ভাষায় আমাদের কর্মকর্তাদের বলেছেন। তাঁরা এখনো সেই আশা পোষণ করছেন। ইরানের সাথে এই দশ-বারো বছরের টানাপড়েন দ্বারা ফল এতটুকু হয়েছে যে, এই ছয় শক্তি ইরানে কয়েক হাজার সেন্ট্রিফিউজের ব্যবহার মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে ইরানে গবেষণা ও তৎপরতা চালানোর বাস্তবতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। এটা ইরানী জাতির শক্তিমত্তার পরিচয় ছাড়া আর কিছু নয়। এটা আমাদের জাতির অবিচলতা, আমাদের পরমাণু-শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আল্লাহ্র রহমত ছাড়া আর কিছু নয়।
ইরানের সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে দিতে পারার আস্ফালন সম্পর্কে রাহ্বার বলেন, এমন আস্ফালনের জবাব দেয়াটা আমি শোভন মনে করছি না। তবে যাঁরা এ জাতীয় কথা শোনেন তাঁরা অতীতের অভিজ্ঞতা সামনে আনলে ঠিকই জবাব পেয়ে যাবেন। অবশ্য আমরা পরিষ্কার বলতে চাই যে, আমরা কোন যুদ্ধকেই স্বাগত জানাব না। আমরা কোন যুদ্ধে তৎপর হব না, আগে পদক্ষেপ নেব না। তবে যদি যুদ্ধ বেধেই যায়, তো যুদ্ধের ময়দান থেকে যে পরাজয় বরণ করে বেরিয়ে যাবে, সে হচ্ছে সীমালঙ্ঘনকারী ও অপরাধী আমেরিকা।
রাহবার সূরা নাস্র্ তেলাওয়াতের মাধ্যমে তাঁর খোত্বা শেষ করেন।

* ১৯শে আগস্ট ১৯৫৩। শাহের প্রথম বারের মতো দেশ থেকে পলায়নের পর এদিন সিআইএ-র সহযোগিতায় সংঘটিত এক সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে শাহের পক্ষে পুনরায় ইরানে ফিরে এসে ক্ষমতা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।