রবিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে বায়োটেকনোলজি*

পোস্ট হয়েছে: নভেম্বর ৮, ২০১৬ 

ভূমিকা
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এর সাথে স¤পৃক্ত অন্যান্য কৌশল উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইরানে বিগত ২ দশকে বায়োটেকনোলজি বিষয়ে লক্ষণীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে। ফলে মানব সমাজের সমস্যা সমাধানে আশা দেখা যাচ্ছে। ইরানে উদ্ভিদভিত্তিক বায়োটেকনোলজি ব্যবহার করে বিকল্প রক্ত এবং অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। পরিবেশ দূষণ রোধের জন্য বায়োটেকনোলজি ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব কৌশল এবং যন্ত্রাদি তৈরির মাধ্যমে আয়বর্ধক নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইরান এখন থেকে সত্তর বছর আগে জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গবেষণার মাধ্যমে মানুষ ও প্রাণীর ভ্যাকসীন তৈরির জন্য ‘রাযি’ এবং পাস্তুর ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে।

১.১ ইরানে বর্তমান বায়োটেকনলজি গবেষণার চিত্র
ইরান ১৯৯০ সালে আধুনিক বায়োটেকনোলজি গবেষণায় আত্মনিয়োগ করে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ব্যাপক সাফল্য লাভের যোগ্যতা দেখিয়েছে। বর্তমানে ইরানে ১৬০টি সরকারি গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ২১৮টি বেসরকারি সেন্টার ও কো¤পানি বায়োটেকনোলজি গবেষণা এবং উৎপাদন খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বায়োটেকনোলজি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশনার সংখ্যার দিক থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ১ম স্থানে এবং এশিয়ায় ১ম সারির পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে (সারণী-১)।

 বায়োটেকনোলজি খাতে বিশ্বে ইরানের অবস্থান

  • প্রকাশিত নিবন্ধের সংখ্যায় বিশ্বে ইরানের অবস্থান ১৪তম
  • বায়োটেকনোলজি ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন এশিয়ায় ১ম সারির ৫টি দেশের অন্যতম
  • বায়োটেকনোলজি ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন মধ্যপ্রাচ্যে ১ম
  • ভ্যাকসীন উৎপাদন মধ্যপ্রাচ্যে ১ম
  • বর্তমানে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ২৮টি বায়োফার্মাসিউটিক্যালস উৎপাদিত হচ্ছে।

১.২ ইরানে বায়োটেকনোলজি গবেষণা এবং উন্নয়ন অগ্রাধিকার
জাতীয় বায়োটেকনোলজি কর্মসূচি বিবেচনায় নিয়ে বায়োটেকনোলজি কমিশন গবেষণা ও উন্নয়নের অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করেছে। এক্ষেত্রে ইউনেস্কো ঘোষিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে বায়োটেকনোলজি গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য কৃষি এবং চিকিৎসা খাতকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসাবে নির্ধারণ করেছে। ইরানে স্বাস্থ্য খাতে বায়োটেকনোলজি কার্যক্রমের মধ্যে বায়োফার্মাসিউটিক্যাল্স উৎপাদন, রোগ নির্ণয়, কোষ থেরাপি এবং পুন উৎপাদনক্ষম ঔষধ অন্যতম। কৃষি খাতে বায়োটেকনোলজি কার্যক্রমের মধ্যে বায়োফার্টিলাইজার, বায়োপেস্টিসাইড, টিস্যু কালচার। পরিবেশ খাতে ইরানের অগ্রাধিকার হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বায়োটেকনোলজির ব্যবহার।

১.৩ ইরানের বায়োটেকনোলজি সেন্টারসমূহ
বায়োটেকনোলজি কাউন্সিল : এ কাউন্সিলের সদস্যগণ হচ্ছেন স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ, বায়োটেকনোলজি সেন্টারসমূহের পরিচালকবৃন্দ এবং বায়োটেকনোলজি খাতে ৫ জন বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী। এ কমিশনের প্রধান কাজ হচ্ছে বায়োটেকনোলজি সেন্টারসমূহের কাজের সমন্বয় এবং গবেষণা অগ্রাধিকার নির্ণয়।
সেন্টার ফর ইনোভেশন এন্ড টেকনোলজি কোঅপারেশন (সিআইসিটি) : এই সেন্টার বহির্বিশ্বের সর্বাধুনিক বায়োটেকনোলজি আহরণে সাহায্য করে। সিআইসিটি-র জীববিজ্ঞান বিভাগ বায়োটেকনোলজি এবং ফার্মাসিউটিক্যাল্স খাতে প্রযুক্তি হস্তান্তরে সাহায্য করে।
ন্যাশনাল কমিটি ফর পলিসি মেকিং ইন মেডিক্যাল বায়োটেকনোলজি : স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এ কমিটি মেডিক্যাল বায়োটেকনোলজি খাতে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে থাকে। মন্ত্রণালয়ের গবেষণা সচিববৃন্দ, বায়োটেকনোলজি সেন্টারসমূহের পরিচালকবৃন্দ এবং বায়োটেকনোলজি খাতে ৫ জন বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী এ কমিটির সদস্য।

১.৪ মেডিক্যাল বায়োটেকনোলজি
এ বিভাগে ইরানের পাস্তুর ইনস্টিটিউট-এর সাফল্যসমূহ তুলে ধরা হলো।

১.৪.১ পাস্তুর ইনস্টিটিউট, ইরান
ইরানে বায়োটেকনোলজি সংস্থাসমূহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পাস্তুর ইনস্টিটিউট যেখানে প্রধানত স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা এবং বিভিন্ন রোগ নির্ণয় করা হয়।
রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য তেহরানের কেন্দ্রস্থলে প্রায় ৮০ বছর পূর্বে এ ইনস্টিটিউট স্থাপিত হয়। ইরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাস্তুর ইনস্টিটিউট একটি ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, যেমন- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, পাস্তুর ইনস্টিটিউট-এর আন্তর্জাতিক শাখাসমূহের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে এবং সক্রিয় সহযোগিতা নিয়ে থাকে। পাস্তুর ইনস্টিটিউট প্রধানত জৈব প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সংক্রামক রোগ নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণের প্রায়োগিক এবং মৌলিক গবেষণা পরিচালনা করে আসছে।

১.৪.২ মেডিক্যাল বায়োটেকনোলজি খাতে প্রধান প্রধান উদ্ভাবন
অ্যানজিপারস (ANGIPARS ™) : ডায়াবেটিক ফুট আলসার নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কার্যকর ঔষধ। এটি প্রয়োগের ফলে  ডায়াবেটিক ফুট আলসারজনিত অঙ্গচ্ছেদ থেকে রোগীরা রেহাই পাচ্ছে।
ইমোড (IMOD ™) : এইচআইভি/এইড্স রোগের চিকিৎসায় এ ঔষধ ব্যবহার করা হয়। ২০০১ সালে রাশিয়ায় এইড্স রোগের চিকিৎসার জন্য একটি ঔষধ আবিষ্কারের জন্য মহতি উদ্যোগ নেয়া হয়। রাশিয়া এবং ইরানের একদল বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে ইরানে এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয় যার ফসল হলো এই হার্বাল ঔষধ।
সিন্নোভেক্স (CinnoVex ™) : সিন্নোভেক্স হলো রিকম্বিনেন্ট ইন্টারফেরন বিটা ১-এ-র ট্রেড নাম যা রিল্যাপসিং মাল্টিপল স্কেরোসিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এই ঔষধের ১ গ্রামের মূল্য ২.৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার। উল্লেখ্য, বিশ্বে সিন্নোভেক্স উৎপাদনকারী তিনটি দেশের অন্যতম হলো ইরান।
গামা-ইমোনেক্স (GAMA-IMMUNEX ™) : ইন্টারফেরন গামা-১ বি মানব দেহের প্রোটিন হতে তৈরি এবং এটি ভাইরাল ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী। একই জাতীয় বিদেশী ঔষধ এবং গামা-ইমিউনেক্স সমমানের এবং অধিক কার্যকরী। যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানির পাশাপাশি তৃতীয় গামা-ইমিউনেক্স প্রস্তুতকারী দেশ হচ্ছে ইরান। মূল্য এবং মানের দিক থেকে এটি অন্য বিদেশী ঔষধের সমতুল্য।
কোষ থেরাপি : কোষ থেরাপির জন্য হেমাটোপইটিক কোষ ব্যবহার করে মাল্টিপল ট্রমা, ক্যান্সার, পুকেন সিনড্রোম, ডায়াবেটিস এবং এমএস রোগের চিকিৎসা করা হয়।
হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসীন : হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসীন এইচবিভি সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং তীব্র ও মারাত্মক হেপাটাইটিস, সিরোসিস, লিভার ফেইলর এবং প্রাথমিক লিভার কারসিনোমা চিকিৎসায় প্রয়োগ করা হয়।

১.৫ মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট
ইরানে মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট তৈরিতে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট তৈরিতে ইরানের অগ্রগতি এ পর্যায়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

১.৫.১ ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্স্ড মেডিক্যাল টেকনোলজিস (IMAT) : এটি ইরানে মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট তৈরির অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত প্রকল্পসমূহ অনেক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবনগুলো হলো পারেস সার্জিক্যাল নেভিগেশন সিস্টেম, রোবোলেন্স, অটো অ্যাকাউস্টিক এমিশন ফর ইনফ্যান্ট্স হিয়ারিং স্ক্রিনিং ইত্যাদি।
এ ইনস্টিটিউটের তিনটি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে- ১. বায়োমেডিক্যাল অ্যান্ড রোবোটিক্স টেকনোলজি, ২. মলিকিউলার ইমেজিং এবং ৩. টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড স্টেম সেল রিসার্চ।
ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্স্ড মেডিক্যাল টেকনোলজিস-এ ১৬-এর অধিক বিজ্ঞানী রয়েছেন যাঁরা আরো ৭০ জন গবেষক এবং ৩০ জন প্রশাসনিক ও সহযোগী স্টাফের সহায়তায় নতুন নতুন মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট তৈরিতে নিয়োজিত। এ ইনস্টিটিউটের অত্যাধুনিক যন্ত্রাদির মধ্যে রয়েছে ন্যানো-স্কোপ, পারেস সার্জিক্যাল নেভিগেশন সিস্টেম, ইমেজিং সিস্টেম ফর অ্যানিমেল্স, সার্জিক্যাল রিট্রেক্টর, অটো-অ্যাকাউস্টিক এমিশন, সার্জিক্যাল অ্যাসিসট্যান্ট রোবট এবং ইলেকট্রোরিস।

১.৬ এগ্রিকালচারাল টেকনোলজিস
এ পর্যায়ে ইরানের কৃষিতে বায়োটেকনোলজি উদ্ভাবনের সাথে জড়িত ২টি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান এবং কৃষি ক্ষেত্রে ইরানে উদ্ভাবিত বায়োটেকনোলজি পণ্য নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি দু’টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এগ্রিকালচারাল বায়োটেনোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব ইরান (ABRII) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (NIGEB) অ্যাডভান্স্ড প্ল্যান্ট মলিকিউলার বায়োলজি এবং বায়োটেকনোলজি বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে নিবিড় সহযোগিতায় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা এবং যন্ত্রাদি উদ্ভাবন করছে। ইরানে উদ্ভাবিত বায়োটেকনোলজি পণ্যসমূহ হলো- Seed Potato Roytube ™, Phosphate, Biofertilizer BARVAR ™, AzotoBarvar-1 ™, Biofertilizer Nitro Kara ™, Biofertilizer, Tissue culture plant ইত্যাদি। প্রাণিস¤পদের জন্য পণ্যসমূহ হলো- Vaccine, Antisera, Diagnostic Kits, ইত্যাদি।
এছাড়াও ইরানে কৃষিতে বায়োটেনোলজি প্রয়োগ করে স্টেম বোরার প্রতিরোধী ধান, পোকা প্রতিরোধী তুলা, রাইজোমেনিয়া প্রতিরোধী সুগার বিট উদ্ভাবন করা হয়েছে। অনেক উদ্ভিদের মাইক্রো প্রপাগেশন প্রটোকল তৈরিসহ উদ্ভিদের বিভিন্ন রোগ শনাক্ত করার জন্য কিট তৈরি করা হয়েছে। উদ্ভিদ ও মানব দেহে বায়োফার্মাসিউটিক্যাল্স তৈরির প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে।

১.৬.১ এগ্রিকালচারাল বায়োটেনোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব ইরান (ABRII) : অইজওও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন এগ্রিকালচারাল রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন অর্গানাইজেশন (AREO)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি জাতীয় কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এটি ১৯৮৩ সালে সিড অ্যান্ড প্ল্যান্ট ইমপ্রুভমেন্ট ইনস্টিটিউট-এর অধীন প্ল্যান্ট বায়োটেনোলজি ডিপার্টমেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় যা ১৯৯৯ সালে ABRII-তে উন্নীত হয়। এখানে অ্যাডভান্স্ড প্ল্যান্ট মলিকিউলার বায়োলজি এবং বায়োটেকনোলজি বিষয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়। ABRII-তে উদ্ভিদ বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনা এবং এগ্রিকালচারাল বায়োটেনোলজি বিষয়ে গবেষণা ও উন্নয়নে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ABRII-তে ৬টি গবেষণা বিভাগ রয়েছে, যথা- জেনোমিক্স : টিস্যু কালচার অ্যান্ড জিন ট্রান্সফরমেশন; মাইক্রোঅর্গানিজম অ্যান্ড বায়োসেফটি; ফিজিওলজি অ্যান্ড প্রুটিওমিক্স; টিকনিক্যাল সার্ভিস অ্যান্ড রিসার্চ সাপোর্ট; জেনেটিক্স, সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি।
ABRII-তে  আধুনিক যন্ত্রপাতি সজ্জিত গবেষণা খামার, লাইসিমিটার, গ্রীণ হাউজ এবং নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, ১০টি ফাইটোট্রন্স, কোল্ড রুম, টিস্যু কালচার সুবিধাদি রয়েছে। এখানে ১০০-এর বেশি গবেষক নিয়োজিত রয়েছেন।

১.৬.২ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (NIGEB) : বিজ্ঞান, গবেষণা এবং প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন এ প্রতিষ্ঠান ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানে ৫টি খাতে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যথা- মেডিক্যাল বায়োটেকনোলজি, প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি, অ্যানিম্যাল অ্যান্ড মেরিন বায়োটেকনোলজি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল বায়োটেকনোলজি এবং বেসিক সায়েন্স। এখানে গবেষণার একটি বিষয় হলো প্রতিকূল পরিবেশের উপযোগী ফসল, যেমন- ফসফরাস ঘাটতি এবং লবণাক্ততা সহনশীল ফসল উদ্ভাবন করা। এখানে গবেষকগণ রাইজোমুনিয়া এবং রাইজোটনিয়া রোগ প্রতিরোধী সুগার বিট এবং আগাছানাশক প্রতিরোধী ফসল উদ্ভাবন করেছেন।

১.৬.৩ প্রধান প্রধান এগ্রিকালচারাল বায়োটেকনোলজি পণ্য/উদ্ভাবনসমূহ
Seed Potato Roytuber ™: রোয়ান টিউবার কো¤পানি স্বাস্থ্যকর এবং ভাইরাসমুক্ত আলু বীজ উদ্ভাবন করেছে যা Potato Roytuber ™: নামে পরিচিত।

Source: Determination of a Nation : Scientific and Technological Achievements of the Islamic Revolution in Iran. Embassy of the Islamic Republic of Iran, New Delhi.