মঙ্গলবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে নারীর ভূমিকা

পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৫ 

news-image

ইসলামী সরকারের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল ব্যক্তিকে জীবনের সকল ক্ষেত্রে তার দক্ষতাপূর্ণ মাত্রায় পৌঁছে দেয়া এবং এসব লক্ষ্য যাতে অর্জিত হতে পারে সে জন্য ইসলামী সরকার প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি চালিকাশক্তি হিসাবে কাজ করে। চূড়ান্ত পর্যায়ে মানুষ ব্যাপকতর মানবীয় অন্তর্দৃষ্টি অর্জনে সক্ষম হয় এবং এই অন্তর্দষ্টি মানুষকে খোদার মহত্ত্বের স্বীকৃতি ও প্রশংসার দিকে নিয়ে যায়। এই পর্যায়ে সমাজ জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয়।

ইসলামে মানবীয় মূল্যবোধের ভিত্তি সম্পদ, মর্যাদা-অবস্থান বা নারী-পুরুষ ভেদে নয়। এর ভিত্তি হলো চরিত্র ও সৎকর্ম।

43b5f2e8100f59facbfede10faba888bপবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে : ‘তুমি একনিষ্ঠ হয়ে নিজকে দীনে প্রতিষ্ঠিত কর। আল্লাহর প্রকৃতির অনুসরণ কর, যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন; আল্লাহর  সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সরল দীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।’ (সূরা রূম : ৩০)

ইসলামে জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষকে সমানভাবে দেখা হলেও মহিলাদের জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কতিপয় প্রতিশ্রুতি দান করা হয়েছে- যার মধ্য দিয়ে নারীর গুরুত্ব ও বিশেষত্ব ফুটে উঠেছে।

এখানে ঐ জাতীয় প্রতিশ্রুতির সারমর্ম তুলে ধরা হলো :

নারীকে মানবীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের দোলনা বলে বিবেচনা করা হয়।

1(110)(1)প্রত্যেক নারীর সহজাত প্রকৃতিতে সেবা ও দয়ার নিরঙ্কুশ উৎস বিদ্যমান। যা তার অন্যান্য সামাজিক কর্তব্য ও দায়িত্বকে ছাপিয়ে যায় এবং তা সামাজিক জীবন ও মূল্যবোধের সূত্রকে পুরোপুরি নিশ্চিত করে।

মাতৃতান্ত্রিক দায়িত্ব পালন করার জন্য তাকে সেবিকার ভূমিকা আত্মস্থ করতে বয়ঃপ্রাপ্তির পূর্ব থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়।

মহিলাদের জন্য হিজাবের বিধান করা হয়েছে, যাতে সমাজের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসাবে চিন্তা করতে তাকে ইন্দ্রিয়গত কোন সমস্যায় পড়তে না হয়। কেননা, তাদের অস্তিত্ব কেবল যৌন উদ্দেশ্যে নিবেদিত নয়।

ইসলাম মহিলাদেরকে ঘরের মধ্যে গণ্ডিবদ্ধ করে রাখার পক্ষে উকালতি করে না বা তাদেরকে বাণিজ্যিক যৌন পণ্য হওয়ার অনুমতি দেয় না। ইসলাম মহিলাদের আত্ম-উপলব্ধি ও আত্ম-মর্যাদাবোধ এবং তাদের পূর্ণ মানবীয় যোগ্যতা অর্জনে সহায়ক পরিবেশ সমর্থন করে।

73c409bc44cdbd031bb8928a2d554326দুঃখের বিষয় যে, সৃষ্টিধর্মী পরিকল্পনায় মহিলাদের অবস্থান এখনও পুরোপুরি উপলব্ধি হচ্ছে না। মহিলাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার অভাবে বিশেষত পশ্চিমা জগতে নারী-পুরুষের মধ্যে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা প্রায়শই সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতার ভিত্তিতে অভিন্ন দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণের অর্থ যৌন ক্ষেত্রে তাদের সমতা প্রকাশ করে না।

ইসলাম নারীদেরকে পরিবারের অভিভাবক এবং স্নেহ-মমতা ও উচ্চতর মূল্যবোধের উৎস বিবেচনা করে তাদের অবস্থান ও মর্যাদাকে সমুন্নত করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইতিহাসে নারীর তুলনামূলক অনুপস্থিতি এবং পুরুষ শাসনে তাদের গৃহবন্দিত্ব নারীর স্বাভাবিক প্রতিভার অপচয় করেছে এবং কেবল সাম্প্রতিককালে পাশ্চাত্যে তারা যখন মুক্ত হলো, তখন আমরা পুনরায় তাদেরকে দেখতে পাই ভোগবাদের বিকাশবাহন হতে এবং পূর্ব নির্ধারিত উদ্দেশ্য মোতাবেক কাজ করার জন্য যৌনতার মাধ্যমে দর্শকদের মনোরঞ্জন করতে। কিন্তু এগুলোই কি তার প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য?

সকল খোদায়ী ধর্মেই মহিলাদেরকে বিশিষ্ট নবীদের পাশাপাশিই দেখতে পাওয়া যায়। যেমন : ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া, হযরত ঈসা (আ.)-এর মাতা মারইয়াম এবং মহানবী (সা.)-এর পত্নী খাদীজা ও কন্যা ফাতিমা (আ.)।

Iranian-Women-Basketball_132464353803আমরা জানি যে, হযরত ঈসা (আ.)-এর মাতা মারইয়ামকে পবিত্র কুরআন একজন মহিমান্বিত মহিলা হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং সে অনুসারে হযরত ঈসা (আ.)-এর নামের সাথে তাঁর নামও পঁচিশ বার কুরআনে উচ্চারিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা হযরত মারইয়ামকে সমগ্র মানবতার জন্য এক আদর্শ নমুনা বা উদাহরণ হিসাবে চিত্রিত করেছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে : ‘ফেরেশতাগণ বলেছিল, হে মারইয়াম! আল্লাহ তোমাকে মনোনীত ও পবিত্র করেছেন এবং বিশ্বের নারীর মধ্যে তোমাকে মনোনীত করেছেন। হে মারইয়াম! তোমার প্রতিপালকের অনুগত হও ও সিজদা কর এবং যারা রুকু করে তাদের সাথে রুকু কর। ’ (সূরা আলে ইমরান : ৪২-৪৩)

images (1)আমরা জানি যে, ইসলাম মহিলাদের প্রতি অবমাননাকর বিশ্বাস ও ব্যবস্থার প্রতি এক চরম মুষ্টাঘাত হেনেছে এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে তার উপস্থিতি অনুমোদন করেছে। প্রাক-ইসলামী আরবে যখন কন্যাশিশুদেরকে প্রায়শই জীবিত কবর দেয়া হতো তখন মহানবী (সা.) একটি কন্যাসন্তান লাভ করলে প্রকাশ্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন এবং কন্যা ফাতিমার হাতে চুমু খেয়েছেন। এভাবে তিনি দেখিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলার আদেশ মোতাবেক ইসলামে নারীকে কত উচ্চতর মর্যাদা দান করা হয়েছে!

মহানবী (সা.) নারীদেরকে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছেন।

ইসলামী সরকারে নারীদের অংশগ্রহণ

afkhamইসলামে সরকারের উচ্চতর সোপানে দায়িত্ব পালনে নারীদেরকে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে নারীরা নির্বাহী পর্যায়েও দায়িত্ব পালন করে থাকেন। নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছে :

১. মহিলাদের জন্য খণ্ডকালীন চাকুরির ব্যবস্থা। যেসব মহিলা পূর্ণ সময় কাজ করতে পারেন না বা ইচ্ছুক নন এই ব্যবস্থা তাদের জন্য।

২. ২০ বছর চাকরির পর পূর্ণ সুবিধাসহ চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের সুযোগ।

৩. নিয়োগকর্তা কর্তৃক পর্যাপ্ত নার্সারি স্কুলের ব্যবস্থা এবং কর্মস্থলে শিশুদেরকে বুকের দধ পান করানোর সুযোগ দান।

৪. তিন বছরের কম বয়েসী শিশুর মায়েদের এক বছর পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকার সুযোগ দানের জন্য ছুটির ব্যবস্থা।

৫. নতুন মায়েদের তিন সন্তান পর্যন্ত তিন মাস সবেতন প্রসূতি ছুটি।

ইরানের ইসলামী সরকারের অধীনে মহিলারা নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে কাজ করে থাকেন :

১. প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনে, শিক্ষকতায় ও পরামর্শক পদসমূহে।

২. স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থায়। এতে রয়েছে স্বাস্থ্য কার্যক্রমের যাবতীয় দিক ও বিভাগ।

৩. ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্টের দফতরে সম্প্রতি বেশ কয়েকজন মহিলাকে উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে।

৪. শিল্প ও কৃষি খাতের প্রকৌশল ও কারিগরি পর্যায়ে।

সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের ভূমিকা

১. ভোটাধিকার

ক. প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট সদস্য এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা নির্বাচন।

খ. পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অধিকার।

২. সরকারি সংস্থায় চাকরি

ক. ‘দি সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল কাউন্সিল অব ওম্যান’ ইরানী মহিলাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে থাকে।

খ. মহিলা বিষয়ক দফতরটি পরিচালিত হয় একজন মহিলা নির্বাহী দ্বারা, যিনি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাও বটে। মহিলা বিষয়ক নীতিমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন তদারকীর জন্য তিনি দায়িত্বশীল।

গ. ‘দি কমিশন অব ওম্যান’ দেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, পেশাগত ও সামাজিক বিষয়ক রাষ্ট্রীয় নীতি পর্যালোচনা করে এবং সেসবের অবস্থা উন্নয়নে প্রস্তাব পেশ করে। প্রত্যেকটি রাষ্ট্রীয় ও সরকারি সংস্থায় এই কমিশনের প্রতিনিধি আছে এবং তারা কমিশনের কাছে মহিলাদের যুক্তিসংগত দাবি-দাওয়া ও অধিকারের কথা অবহিত করে। কমিশন এসব ব্যাপারে বিকল্প নীতি সুপারিশও করে থাকে।

ঘ. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরস্থ সংস্থাসমূহ ইরানস্থ ইউনেস্কো সদর দফতর প্রকাশিত প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়ন করে।

ঙ. মহিলাদের শরীরচর্চা শিক্ষা দফতর ও মহিলাদের ক্রীড়া কার্যক্রম বিষয়ক কমিশন পুরোপুরিভাবে মহিলাদের জন্য এবং মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত হয়।

চ. আর্থিক ও সামাজিকভাবে আত্মনির্ভরশীল হতে ইচ্ছুক অদক্ষ বয়স্ক মহিলাদের প্রয়োজন পূরণের জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো সাগ্রহে কাজ করে যাচ্ছে।

৩. বেসরকারি সংস্থাসমূহ

ক. মহিলা বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রসমূহের ব্যবস্থাপনা, পরিচালন ও কর্ম সম্পাদনা মহিলাদের দ্বারাই সম্পন্ন করা হয়।

খ. বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সারা দেশে মহিলাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

গ. মুনাফাবিহীন শিক্ষা কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে বালিকা ও মহিলাদেরকে শিক্ষার সকল পর্যায়ের বিভিন্নমুখি দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

ঘ. বেসরকারিভাবে প্রদত্ত তহবিল থেকে প্রয়োজনের সময় মহিলাদের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়।

কতিপয় পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে ইরানে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পরবর্তী বছরগুলোতে মহিলারা তাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় বিরাট অগ্রগতি অর্জন করেছে।

১৯৯২ সালে ইরানের ২০টি মন্ত্রণালয়ের ওপর পরিচালিত এক জরিপের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোট ২০ লাখ ৮১ হাজার ৩৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৯৩৯ জন মহিলা অর্থাৎ মহিলাদের সংখ্যা শতকরা ২৫ ভাগ।

এ প্রসঙ্গে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, মোট সরকারি পদের শতকরা প্রায় ৪০ ভাগই মহিলাদের।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে, পশ্চিমা দেশগুলোতে সমান কাজের জন্য পুরুষদের মতো নারীদের সমান পারিশ্রমিক দেয়া হয় না। গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষা ক্ষেত্রে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ আনুপাতিকহারে কম। অথচ ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘ প্রস্তাবে পুরুষ ও মহিলাভেদে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কয়েকটি পশ্চিমা দেশের কর্মশক্তি সংক্রান্ত একটি জাতিসংঘ পরিসংখ্যানে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, পশ্চিমা জগতে মোট কর্মশক্তির শতকরা ৪৪ থেকে ৪৫ ভাগ মহিলা। সে তুলনায় ইরান মাত্র শতকরা ৭.২ ভাগ পিছনে অর্থাৎ ইরানের মোট কর্মশক্তির শতকরা ৩৬.৮ ভাগ মহিলা। জাতিসংঘ পরিসংখ্যানের আলোকে আমরা যদি সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপটে গৃহকর্মে মহিলাদের সক্রিয় ভূমিকা পর্যালোচনা করি, তাহলে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পরি যে, ইরানে একটি নতুন ধারা ও নতুন দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, নিঃসন্দেহে যার ভিত্তি ইসলামী শিক্ষা ও মহিলা বিষয়ক কর্মনীতি। এটি নিশ্চিত যে, ইসলাম ছাড়া অন্য কোন চিন্তাধারায় সমাজে মহিলাদের ভূমিকা পালনের প্রতি এত সমর্থন দেয়া হয়নি। এই মর্মে এক আদেশ জারি করে ইমাম খোমেইনী (রহ.) ইরানে ইসলামী বিপ্লবের সূচনাকালে মহিলাদেরকে রাজনৈতিক অঙ্গনে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং সমাজে মহিলাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। সমাজের একটি বৃহৎ মানবীয় সম্পদ হিসাবে তিনি মহিলাদের গতিশীল ভূমিকা সংহত করার ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ ছিলেন।