সোমবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার জরুরি শীর্ষ বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেণ্টের ভাষণ

পোস্ট হয়েছে: জুলাই ১০, ২০১৮ 

news-image

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার জরুরি শীর্ষ বৈঠকে যায়নবাদী সরকারের মোকাবিলা ও ফিলিস্তিনি মজলুম মুসলমানদের সমর্থনে ছয় দফা প্রস্তাব ও বাস্তব কর্মপন্থা উপস্থাপন করেছেন। তিনি বিশ্বের সকল মুসলমান ও ইসলামি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে একটি শক্তিশালী, স্থায়ী মধ্যপ্রাচ্য গঠন এবং সব ধরনের অহেতুক দ্বন্দ্বও আত্মঘাতী সংঘাত পরিহার এর মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা ও একাত্মতার মাধ্যমে জবরদখলের অবসান ঘটানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে যেন বিশাল মধ্যপাচ্য ও পশ্চিম এশিয়াকে পুনরায় ইবরাহীমী ধর্মসমূহের সহাবস্থানের কেন্দ্রভূমিতে পরিবর্তিত করার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তাঁর ভাষণের চুম্বক অংশ: মার্র্কিন সরকার বায়তুল মুকাদ্দাসে তার দূতাবাস স্থানান্তরের মাধ্যমে যায়নবাদী ইসরাঈল সরকারকে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর হিংস্র হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে/ যায়নবাদী সরকার কর্তৃক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবরদখল ইসলামি জাহানের প্রতি সবচেয়ে বড় হুমকি/ যায়নবাদীরা সকল মানবিক মূল্যবোধ পদদলিত করে বিশ্বসম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে/ পবিত্র মাহে রমযানের শেষ শুক্রবার কুদ্সদিবস হিসেবে সকল মুসলিম দেশের ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হোক/ আমেরিকার নতুন সরকার বিশ্বের আইনানুগ সরকার ব্যবস্থা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হুমকি/ যায়নবাদী পণ্য ও কোম্পানিগুলোকে বর্জন করা এবং মার্কিন সরকারের সাথে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য ইসলামি দেশগুলোর প্রতি আহ্বান/ যায়নবাদী ইসরাঈল সরকারের অপরাধযজ্ঞের মোকাবিলা করার জন্য ইসলামি জাহানের প্রতি ইরানের ছয়টিপ্রস্তাব ও বাস্তব কর্মকৌশল।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমীন ড. হাসান রুহানি গেল ১৮ মে ২০০০ শুক্রবারতুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার জরুরি শীর্ষ বৈঠকে প্রদত্ত ভাষণে বলেন, অপরাধী যায়নবাদী সরকার বিশ্ববাসীর অশ্রুসিক্ত চোখের সামনে সকল মানবিক মর্যাদাকে পদদলিত ও যাবতীয়মূল্যবোধের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বিশ্বসমাজের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।তিনি বলেন, যায়নবাদী সরকার যদি উন্নত ও জনগণ শাসিত দেশগুলোর আওতায় থাকে আর একটি ঐক্যবদ্ধ জাতির মুখোমুখি অবস্থান করে তাহলে সে এত নিঃসংকোচে তার অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যেতে পারবে না।

প্রেসিডেন্ট রুহানির ভাষণের পূর্ণ বিবরণ

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

সম্মানিত প্রেসিডেন্ট জনাব এরদোগান!

মাননীয় প্রেসিডেন্ট দ্বয়

সম্মানিত ভদ্রমহোদয় ও মহিলাগণ!

শুরুতেআমি আজকের অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আয়োজন করার জন্য আমার সম্মানিত ভাই প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। চলতি মে মাসের ১৪ তারিখ তেহরানে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশগুলোর পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (চটওঈ)এর ফিলিস্তিন কমিটির বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠানের পরপর ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার জরুরি শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে যে, ইসলামি উম্মাহ একক হাতের মতো হয়ে ইসলামি জাহানের সবচেয়ে বড় হুমকি অর্থাৎ যায়নবাদী সরকার কর্তৃক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবরদখলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি যে, এই বৈঠক ইসলামি দেশগুলো সমচিন্তা ও নিজস্ব শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এমন কর্মপন্থা ও বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণ করতে সক্ষম হবে, যার মাধ্যমে এই ভয়াবহ সংকটের অবসান হবে এবং মজলুম ফিলিস্তিনি জনগণ বিশেষ করে গাজার অধিবাসীদের প্রতি জরুরিভিত্তিক সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হবে।

আজ আমরা যায়নবাদী গোষ্ঠী কর্তৃকফিলিস্তিনে নিরীহ নিরপরাধ মানুষের বংশ নিপাতের জন্য পরিচালিত সত্তর বছরের অপরাধযজ্ঞের সর্বশেষ দৃশ্যপটের শোক পালন করছি। অপরাধী যায়নবাদীরা বিশ্ববাসীর অশ্রুসিক্ত নয়নের সম্মুখে মানবীয় মর্যাদাকে পদদলিত করে এবং সব ধরনের মূল্যবোধের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য দেখিয়ে বিশ্বসম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। অথচ লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ ন্যূনতম মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে। যায়নবাদী সরকার তাদের বর্ণবাদী ব্যবস্থাকে মিথ্যামিথ্যি গণতন্ত্র বলে চালিয়ে দিচ্ছে। আর তাদের সমাজে বিরাজমান ধর্মীয় উগ্রবাদকে সেক্যুলারিজম নামে আখ্যায়িত করছে। এর চেয়েও বেদনাদায়ক হলো কোনো কোনো পশ্চিমা দেশ আগ্রাসীদের সীমালঙ্ঘন ও আগ্রাসনের পক্ষে সাফাই গাইছে।

এহেন পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার দূতাবাসকে বায়তুল মোকাদ্দাসে স্থানান্তর করেছে। স্বেচ্ছাচারী ও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার এই পদক্ষেপ যাযনবাদী অপরাধী সরকারকে সবুজ সংকেত দেখিয়েছে, যাতে এই সরকার আরো কোনো বর্বর অপরাধযজ্ঞ চালাতে পারে। হোয়াইট হাউজ প্রমাণ দিয়েছে যে, অন্তর্জাতিক নিয়মাবলি ও মূলনীতিসমূহ পদদলিত করতে সে কোনো কিছুর পরোয়া করে না এবং জোরজবরদস্তি সত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করাই তার স্বভাব।

মার্কিন দূতাবাস বায়তুল মোকাদ্দাসে স্থানান্তরের ঠিক কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বিশ্বসমাজের মর্যাদার ওপর আরেকটি আঘাত হেনেছে। তিনি বহু পক্ষীয় এমন একটি পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছেন, যে চুক্তি জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। আরো কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে একতরফা বেরিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতায়এই পদক্ষেপআমেরিকার নতুন সরকার যে বিশ্বের আইনানুগ ব্যবস্থা ও বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কতভয়ানক হুমকি তার প্রমাণ দিয়েছে।

তবে এর বিপরীতে কালো সোমবারে (ফিলিস্তিনি জাতির ইয়াউমুন নাকাবা এর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ১৯৪৮ সালের ১ মে ইসরাঈল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে ফিলিস্তিন থেকে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনিকে তাদের পৈত্রিক ভিটেমাটি থেকে উৎখাত ও বাইরে তাড়িয়ে দেয়া হয়। ফিলিস্তিনি জনগণ সে দিবসটিকে নাকাবা দিবস বা দুর্দশা ও শোক দিবস হিসেবে পালন করে থাকেন।(অনুবাদক) ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতিরোধ প্রমাণ দিয়েছে যে, ফিলিস্তিনের নতুন ও তরুণ প্রজন্ম তাদের অধিকার সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। তারা তাদের অধিকার ত্যাগ করতে কিংবা তা নিয়ে কোনো দরকষাকষি করতে মোটেও রাজি নয়। প্রমাণিত হয়েছে যে, অবিচলতার মাধ্যমে জবর দখলকারীদের নৃশংস চেহারা অধিক উন্মোচিত করা যায়। এর মাধ্যমেই ইসলামের প্রথম যুগের মুসলমানরা কী ধরনের অবিচলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন তার চিত্র দুনিয়াবাসীর সামনে তুলে ধরা সহজ। ফিলিস্তিন প্রমাণ দিয়েছে যে, সকল বৈধ অধিকার আদায় করা এবং শান্তিতে বসবাস করার যোগ্যতা তার রয়েছে।

সত্যের ওপর এই অবিচলতা এবং দুঃখ দুর্দশায় ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দেখানোর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের সকল বন্ধুর মনে আশাও প্রতিরোধের একটি আলোর শিখা তাঁরাবিকশিত করেছেন। আজকের দিনে প্রতিরোধের রণাঙ্গন কেবল ফিলিস্তিনি নারী ও পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং সারা দুনিয়ার মুক্তিকামী মানুষের সংখ্যা ক্রমবর্ধমানহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যাদের জাগ্রত বিবেক ফিলিস্তিনিদের ওপর এতসব জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্রোধে ফুঁশে উঠছে।

ভদ্র মহোদয় ও মহিলাগণ!

এখন সে সময় উপস্থিত হয়েছে, যে সময়ে আমাদেরকে নিজেদের কাছে প্রশ্ন করতে হবে যে, কোন উপায়েযায়নবাদী শত্রুকে চিরতরে ইসলামি উম্মাহর সম্মান ও মর্যাদার ওপর আঘাত থেকে বিরত রাখা যাবে?

আগ্রাসী সরকারের মোকাবিলায় একমাত্র বিজয়ী পক্ষকে অবরোধ করার পরিবর্তে যদি সবাই সমঃস্বরে প্রতিরোধের বাণীটির পুনরাবৃত্তি করত, যদি কোনো কোনো মহল নীরবতার মাধ্যমে শত্রুকে অভয় দেয়াআর কারো কারো লজ্জাজনক গুঞ্জরণের পরিবর্তে নিজেদের সম্মুখে একটি শক্তিশালী মধ্যপ্রাচ্য দেখতে পেত, তাহলে কি যায়নবাদী দুশমন এতখানি হিংস্রতা চালানোর দুঃসাহস দেখাতে পারত? ইসরাঈল যদি জনশাসিত উন্নত দেশগুলোর আওতার মধ্যেআর একটি ঐক্যবদ্ধ জাতির মুখোমুখি থাকে তাহলে কিছুতেই সে নিশ্চিন্তে তার অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যেতে পারত না।

এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত কয়েকটিপ্রস্তাব ও বাস্তব কর্মপন্থা বিবেচনার জন্য পেশ করছি :

১.  গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে যায়নবাদী সরকারের সাম্প্রতিক অপরাধযজ্ঞ ও মার্কিন সরকারের বে-আইনী সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাধারণ পরিষদের একটি জরুরি অধিবেশনের জন্য জাতিসঙ্ঘের কাছে প্রস্তাব উত্থাপন ও তা কার্র্যকরি করার পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

২.  আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক বে-আইনী সিদ্ধান্তের মোকাবিলার কর্মপন্থা পর্যালোচনা ও প্রণয়নের জন্য সদস্য দেশগুলোর যথাযোগ্য আইনগত ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ পরিষদ গঠন করা যেতে পারে।

৩. মার্কিন সরকার ও যায়নবাদী ইসরাঈলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।মুসলিম সরকারসমূহ ও দুনিয়ার মুক্তিকামী মানুষের কাছে আমাদের আবেদন, ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সহায়তা প্রদান এবংট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্তের মোকাবিলার স্বার্থে মার্কিন সরকারের সাথে নিজেদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এর বিষয়টি আপনারা পুনর্বিবেচনা করুন। অনুরূপভাবে জবরদখলকারী যায়নবাদী সরকারের সাথে সব রকমের সম্পর্ক ছিন্ন করে যায়নবাদী কোম্পানিসমূহ ও তাদের পণ্যসামগ্রী বর্জন করুন।

৪.  ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের উপযোগী কর্মপন্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ নিতে হবে।

৫.  যাযনবাদী ইসরাঈলের পারমাণবিক অস্ত্রগুদাম আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য, বিশেষ করে এশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের হুমকি। এতদঞ্চল পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইরান ইতিপূর্বে বহুবার প্রস্তাব রেখেছিল। এই বিষয়টি ইসলামি দেশসমূহের প্রাধিকারযোগ্য পদক্ষেপের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত।

৬. ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্বের স্বাধীনচেতা জাতিসমূহের সংহতি ও সমর্থন জ্ঞাপন এবং ইসরাঈল ও তার মদদদাতাদের অপরাধযজ্ঞের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দিবস হিসেবে মাহে রমযানের শেষ শুক্রবার বিশ্ব কুদস দিবস হিসেবে ইসলামি দেশসমূহের ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভূক্ত করার প্রস্তাব করছি। এটি ইমাম খোমেইনীর রেখে যাওয়া চিন্তা ও আদর্শ যে, তিনি যায়নবাদীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর সংগ্রামের কর্মপন্থা ইসলামি উম্মাহকে সংগঠিত করা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

আমরা কার্যকর ঐক্যের মাধ্যমে এ অঞ্চলকে একটি শক্তিশালী ও স্থায়ী শান্তির অঞ্চল হিসেবে গঠন এবং অহেতুক ও আত্মঘাতী কলহ থেকে দূরে থেকে সমচিন্তা ও সহযোগিতার মাধ্যমে যায়নবাদী সরকারের আগ্রাসন অবসানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে পারব। আর মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ার বিশাল অঞ্চলটিকে পুনরায় ইবরাহিমী ধর্মসমূহের সহাবস্থানের কেন্দ্রভূমি হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

এই সম্মানজনক কর্মপন্থার ব্যাপারে- যার একমাত্র লক্ষ হচ্ছে মানবীয় সম্মান ও মর্যাদার প্রতিরক্ষা করা, নিঃসন্দেহে আমরা আল্লাহর সাহায্য লাভ করতে সক্ষম হব। কেননা, এটা আল্লাহর অলঙ্ঘনীয় ওয়াদা যে,

ان تنصروالله ینصرکم و یثبت اقدامکم

‘তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য কর, তাহলে তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদক্ষেপসমূহ সুদৃঢ় করবেন।’