শুক্রবার, ২৫শে মে, ২০১৮ ইং, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

ইসলামি পর্যটনের রাজধানী ইরানের তাবরিজ

পোস্ট হয়েছে: মে ১৬, ২০১৮ 

সাইদুল ইসলাম : ইরানের পূর্ব আযারবাইজান প্রদেশের কেন্দ্রীয় শহর তাবরিজ। ২০১৮ সালের জন্য ইসলামি পর্যটনের রাজধানী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ঐতিহাসিক এ শহরটি। এ উপলক্ষে অনানুষ্ঠানিকভাবে গত জানুয়ারিতে ‘তাবরিজ ২০১৮’ নামের একটি ইভেন্টের উদ্বোধন করেছে দেশটি। আর ২৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় এই ইভেন্টের। এতে যোগ দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও কয়েকটি মুসলিম দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
‘তাবরিজ ২০১৮’ নামের ইভেন্টের উদ্বোধনীতে ইরানের সংস্কৃতি মন্ত্রী আব্বাস সালেহি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, হস্তশিল্প ও পর্যটন সংস্থার (আইসিএইচএইচটিও) প্রধান আলি আসগর মুনেসান, ইরানের পার্লামেন্ট ‘মজলিস’ এর প্রথম ডিপুটি স্পিকার মাসুদ পেজেশকিন, পূর্ব আযারবাইজানের গভর্নর জেনারেল মজিদ খোদাবাখ্স ও কয়েকটি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূত যোগ দেন। এতে তাবরিজের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে লোকসংগীত ও নৃত্যও পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ইরানের সংস্কৃতিমন্ত্রী তাবরিজ শহরের নানা গুরুত্ব তুলে ধরেন। মূলত যেসব যোগ্যতা শহরটিকে ইসলামি পর্যটনের রাজধানীর মর্যাদা এনে দিয়েছে সেসব বিষয় তুলে ধরেন তিনি। একই সাথে অন্যান্য শহরের জন্য তাবরিজ একটি মডেল শহর হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
সালেহি আরও জানান, তাবরিজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির প্রতীক হিসেবে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবে। ২০১৮ সালের শেষে এই অঞ্চলের সংস্কৃতি অমরত্ব লাভের জন্য সীমান্ত ছাড়িয়ে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ইরানের সংস্কৃতির সঙ্গে এটি সেতুবন্ধন করবে।
আইসিএইচএইচটিও প্রধান আলি আসগর মুনেসানও তাঁর বক্তব্যে ‘তাবরিজ ২০১৮’ ইভেন্টের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘২০১৮ ইভেন্ট’ চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। তবে তাবরিজ শহরের অধিকতর উন্নয়নের জন্য এটি একটি শুরুর স্থান মাত্র। আমাদের বিস্তৃত লক্ষ্য উদ্দেশ্য অর্জনে এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তিনি জানান, ইরানের পাঁচটি সেরা পর্যটন গন্তব্যের মধ্যে পূর্ব আযারবাইজান অন্যতম। চলতি ইরানি বছরের প্রথমার্ধে সেখানে তিন লাখ বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৬ শতাংশ বেশি। তিনি বলেন, তাবরিজে ১৮শ’ জাতীয় ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় এলাকা রয়েছে। যেসব জায়গায় ইরানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের অধিকাংশই ভ্রমণ করেছেন।
মুনেসান আরও জানান, তাবরিজ শহরের সাড়ে তিন হাজার বছরের ইতিহাসের মূল্যবান সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রকৃতি পর্যটনের জন্য এর ব্যাপক সক্ষমতা রয়েছে। জাতীয় লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি ইসলামি সম্মেলন সংস্থা ওআইসি যেসব লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন শহরকে ইসলামি পর্যটনের রাজধানী হিসেবে নির্বাচিত করে ইরান সেসব সাধারণ লক্ষ্যও পূরণ করবে। তিনি বলেন, ওআইসি সুনির্দিষ্টভাবে ইসলামি পর্যটনের প্রচারণা চালাচ্ছে। তাই ইসলামি পর্যটকদের কাছে তাবরিজকে একটি আদর্শ গন্তব্য প্রমাণিত করতে অতীতে যেসব শহরকে ইসলামি পর্যটনের রাজধানী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে সেসব শহরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে।
এক ঝলকে তাবরিজ
ভৌগোলিক অবস্থান
তাবরিজ শহর ৩৮ ০২ উত্তর অক্ষাংশ ও ৪৬ ২৫ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত একটি বৃহৎ শিল্প, ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। শহরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ১,৩৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। এটি নিম্ন আর্দ্রতাসম্পন্ন মহাদেশীয় জলবায়ু এলাকায় অবস্থিত। এখানকার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২৮৫ মিলিমিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে অনেক উঁচুতে অবস্থিত বিধায় একদিকে এ শহরের শীতকাল দীর্ঘ এবং শীতে প্রচণ্ড ঠান্ডা বিরাজ করে, অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম অনুভূত হয়।
যোগাযোগ
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন ও শিল্পসমৃদ্ধ শহর হওয়ায় তাবরিজের সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত উন্নত। শহরটি ইরানের রাজধানীর সাথে ৬১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়ক দ্বারা যুক্ত যা ইরান ও আযারবাইজানের সীমান্ত সংলগ্ন সুদূর জুলফা এবং ইরান ও তুরস্কের মধ্যে সংযোগ সাধন করেছে। অন্য আরও কয়েকটি মহাসড়কের মাধ্যমে তাবরিজের প্রতিবেশী প্রদেশ, যেমন আরদেবিল, কুর্দিস্তান ও পশ্চিম আযারবাইজনের রাজধানীর সাথে সংযুক্ত। এছাড়া তেহরান-আঙ্কারা ও তেহরান-মস্কো রেলপথটি তাবরিজ শহরের ওপর দিয়ে গিয়েছে। রেলপথটি কাজভীন, যানজন ও তাবরিজ অতিক্রমের পর সুফিয়ান নামক স্থানে বিভক্ত হয়ে একটি অংশ জুলফা হয়ে মস্কো এবং অন্য অংশ তুরস্কের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় রেল নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিমান সংস্থা ‘হোমা’ তেহরান-তাবরিজ রুটে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা করে এবং আকাশপথে তেহরান থেকে মাত্র আধ ঘণ্টায় তাবরিজ পৌঁছা যায়।
ভাষা ও ধর্ম
পূর্ব আযারবাইজানের অন্যান্য অংশের ন্যায় তাবরিজের অধিবাসীরা আজারী ভাষায় কথা বলে। ১৯৫০ সালে সাফাভী বংশের রাজত্ব শুরু হলে তুর্কি ভাষা আজারী ভাষার স্থান দখল করে। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ফলে তুর্কি ভাষা ফারসি, আরবি, আর্মেনীয় ও জর্জিয়ান ভাষা দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং তাবরিজীরা বর্তমানে নব্য আজারী ভাষায় কথা বলে। তাবরিজের সংখ্যাগুরু অধিবাসী মুসলিম, আর সামান্য সংখ্যক খ্রিস্টান রয়েছে, যারা মূলত আর্মেনীয় বংশোদ্ভূত।
শহরের নামকরণ
এ শহরের নামকরণ সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণ নানা মতে বিভক্ত। কোনো কোনো ইতিহাস গ্রন্থে এ শহরের আদি নাম ‘তাওরী’, আবার অন্য ইতিহাস গ্রন্থে ‘তাওরিজ’ নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। এ শহরের মধ্যযুগীয় ও আজারী নাম ‘তাওরী’ যার মূল ‘তাও’ অর্থাৎ তাপ বা গরম এবং ‘রি’ অর্থ নদী বা ঝরনা। এতে এ শহরে যে অনেক উষ্ণ প্রস্রবণের অস্তিত্ব ছিল এটার প্রমাণ পাওয়া যায়। কেউ কেউ আর্মেনীয় রাজা খসরু- যিনি পার্সিয়ান রাজা চতুর্থ আরদাভান-এর সময় রাজত্ব করেন, তিনি এ শহরের পত্তন করেছেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। ঐতিহাসিকগণ লিখেছেন, তিনি আর্মেনিয়ার নিকটবর্তী এট্রোপাটেন (আযারবাইজান) রাজ্যে দাভরেজ শহর নির্মাণ করেন যা কালের বিবর্তনে ‘তাভরিজ’, ‘তাওরিজ’ ও ‘তাবরিজ’ নাম ধারণ করে।
স্থাপত্য নিদর্শন
সমৃদ্ধ অতীতের অধিকারী তাবরিজ শহরে অনেক স্থাপত্য নিদর্শন রয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে উপর্যুপরি বৈদেশিক আক্রমণ ও দখলদারিত্ব, তৎকালীন সরকারের উদাসীনতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন : ভূমিকম্প ও বন্যার কারণে বহু নিদর্শন ধ্বংস হয়ে গেছে। কালের বিবর্তনে এখনও যেগুলো টিকে আছে সেগুলো ইলখানী, সাফাভী ও ক্বাজার রাজত্বকালে নির্মিত হয়। কোনো কোনো স্থাপত্য অতুলনীয় নির্মাণশৈলীর নিদর্শন। প্রধান কয়েকটি স্থাপত্য নিদর্শন সম্পর্কে নিচে বর্ণনা করা হলো :
মসজিদ : কাবুদ (নীল) মসজিদ : কাবুদ মসজিদ তাবরিজের একটি উল্লেখযোগ্য স্থাপনা। এ মসজিদ বাইর ও ভিতরের অপূর্ব নীল-সবুজ কারুকার্যময় টাইলস-এর জন্য প্রসিদ্ধ এবং এটি ‘টারকুইজ অব ইসলাম’ নামে পরিচিত। দৃষ্টিনন্দন টাইল্স ও ক্যালিগ্রাফি আচ্ছাদিত মসজিদটি একটি অনন্য অট্টালিকা। এটি ১৪৬৫ খ্রিস্টাব্দে রাণী জেহান বেগমের নির্দেশে জাহানশাহ কারা কউনলুর সময় নির্মিত হয়। এ অট্টালিকায় রয়েছে সুউচ্চ প্রবেশপথ যার চৌকাঠ সুদৃশ্য কারুকার্য খচিত, রয়েছে টাইল্স ও ক্যালিগ্রাফিসমৃদ্ধ দু’টি মিনার ও গম্বুজ যা প্রবেশ পথ ও নামাযের হলঘরের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। আলী শাহ মসজিদ : তাবরিজ শহরের অন্যতম প্রাচীন এবং উল্লেখযোগ্য স্থাপনা যা ইসলামি স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন। জামে মসজিদ : এ মসজিদটি ইলখানী শাসনামলে নির্মিত তাবরিজ শহরের একটি অত্যন্ত প্রাচীন নজরকাড়া অট্টালিকা। মসজিদটির উঁচু চত্বর এ সময়েই নির্মিত হয়। ওস্তাদ ও শগের্দ (শিক্ষক ও ছাত্র) মসজিদ : যেহেতু এ মসজিদের ভিতর ও বাইরের ক্যালিগ্রাফি বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার আবদুল্লাহ সিরাজী এবং তাঁর এক ছাত্রের তৈরি সেজন্য এটি ‘ওস্তাদ ও শগের্দ’ মসজিদ নামে খ্যাত। এ মসজিদের গম্বুজটি গোটা নামায ঘর আচ্ছাদিত করে রেখেছে যার ডিজাইন একে বাড়তি সৌন্দর্য দান করেছে। এ শহরে আরও অনেক প্রসিদ্ধ মসজিদ রয়েছে যার মধ্যে শাহজাদা মসজিদ, মাক্ববারহ (মাযার) মসজিদ ও যাহিরিয়া মসজিদ উল্লেখযোগ্য।
শু’আরা গোরস্তান : এ কবরস্থানে অনেক ইরানি কবি, সুফি, বিজ্ঞানী ও দ্বীনী আলেম শায়িত আছেন। আসাদী তূসি, খাকানী শেরভানী, জাহির ফারিয়াবী, কাতরান তাবরিজী, মুহাম্মাদ শিরিন মাগরেবী, হোমাম তাবরিজী, সালমান সাফাভী, ফালাকী শেরভানী, কাজী বেইজাভী ও সমকালীন প্রসিদ্ধ কবি মুহাম্মাদ হোসাইন শাহরিয়ারকে এখানে দাফন করা হয়েছে।
চার্চ : এ শহরে ছয়টি গির্জা রয়েছে যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো সাধু সেরকির চার্চ, যা তাবরিজের আর্মেনীয়ান এলাকা বারন আভাক্-এ অবস্থিত। এটি ১৮৪৫ সালে সংস্কার করা হয়। এরপর সেন্ট মেরী চার্চ যার নির্মাণকাজ ১৭৪৫ সালে সম্পন্ন হয়। এটি সবচেয়ে প্রাচীন চার্চ। আর আছে আবল মেরী চার্চ যা ১৯১০ সালে নির্মিত হয়।
গোলেস্তান উদ্যান : এটি তাবরিজ শহরের অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র যা ৫৩ হাজার বর্গমিটার জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এ উদ্যানটি প্রায় ৬০ বছর আগে একটি পুরনো সমাধিস্থলে নির্মিত হয়েছিল। এ উদ্যানে রয়েছে সবুজ বৃক্ষরাজিতে ঘেরা অনেকগুলো বড় বড় পুকুর।
আযারবাইজান যাদুঘর : ১৯৬২ সালে নীল মসজিদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এ জাদুঘর উদ্বোধন করা হয়। এটি ৩০০ বর্গমিটার জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এতে তিনটি প্রধান হল রয়েছে যেগুলোতে ঐতিহাসিক নিদর্শনাবলি, ইরানের বিভিন্ন উপজাতির পোশাক, প্রসিদ্ধ ইরানি ক্যালিগ্রাফারদের ক্যালিগ্রাফি, চিত্রকর্ম, ঘোষণাপত্র, দলিলাদি ও শাসনতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য দ্রব্যাদি প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। এ শহরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ভবনের মধ্যে রয়েছে তাবরিজ লাইব্রেরি, তুমানিয়ান স্কুল, রেল স্টেশন ও পৌরভবন।
বাজার
প্রাচীন সৌন্দর্য, বাণিজ্যিক গুরুত্ব ও বিশালাকারের জন্য তাবরিজ বাজার ইরানের অন্যতম বৃহৎ ও সুন্দর বাজারগুলোর অন্যতম। স্থাপত্যশৈলী, অসংখ্য সরাইখানা, প্রশস্ত চত্বর, মসজিদ ও স্কুল এর সৌন্দর্য এবং গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এ বাজারের প্রকৃত ইতিহাস ও উৎপত্তি সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় নি। তথাপি এর ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহ, যেমন জামে মসজিদ, তালেবিয়াহ স্কুল ও সাদেক্বিয়াহ স্কুলের নির্মাণশৈলী এগুলোর প্রাচীনত্বের ইঙ্গিতবহ।
কুটিরশিল্প
ইরানের প্রসিদ্ধ কার্পেট (গালিচা) প্রস্তুতকারী শহরগুলোর মধ্যে তাবরিজ অন্যতম। গালিচা থেকে তাবরিজের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের পরিচয় মেলে। ইরানের রফতানিকৃত গালিচার সিংহভাগই তাবরিজের তৈরি।