শনিবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

English

ইসলামি ঐক্য সম্মেলনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ভাষণ

পোস্ট হয়েছে: ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭ 

news-image

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য। এবং দরুদ ও সালাম আমাদের সর্দার ও আমাদের নবী আবুল কাসেম মুস্তাফা মুহাম্মাদ এর প্রতি; তাঁর পূতঃপবিত্র বংশধর ও সম্ভ্রান্ত সাহাবীদের এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা তাদের অনুসরণ করবে সবার প্রতি পেশ করছি।

ইসলামের মহান সম্মানিত পয়গাম্বর হযরত নবী করিম এর বরকতপূর্ণ ও সৌভাগ্যমণ্ডিত জন্মদিন, একই সাথে তাঁর সম্মানিত সন্তান (বংশধর) হযরত জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আস সাদেক (তাঁর ও তাঁর পিতৃপুরুষদের প্রতি আমাদের সালাম) এর জন্মদিবস উপলক্ষে সম্মানিত উপস্থিতি, মান্যবর মেহমানবৃন্দ, উপস্থিত ইসলামি দেশসমূহের রাষ্ট্রদূতবর্গ, ইসলামি ঐক্য সপ্তাহের মেহমানগণ, সমগ্র ইরানি জাতি, সকল মুসলিম উম্মাহ এবং বিশে^র সকল স্বাধীনচেতা মানুষের প্রতি মোবারকবাদ জানাচ্ছি। আমি আশা করি এই দিন এই জন্মতিথি আমাদের সবার মধ্যে নতুন আত্মসচেতনতা জন্ম হওয়ার উপলক্ষ হবে। পয়গাম্বর (সা.)-এর পবিত্র জন্মগ্রহণের মধ্য দিয়ে আমাদের সামনে যে পথ উন্মুক্ত হয়েছে এবং যে দায়িত্ব আমাদের ওপর বর্তেছে সে ব্যাপারে এই উপলক্ষ আশা করি আমাদের চেতনাকে জাগ্রত করবে। আমাদের অবশ্যই সেই পথ ধরে অগ্রসর হতে হবে।

পয়গাম্বর (সা.)-এর পবিত্র অস্তিত্ব হচ্ছে রহমত, অনুগ্রহ, ‘রাহমাতুল্লিল আলামীন’, এই রহমত সমগ্র জগতবাসীর জন্য। এই রহমত তাদের জন্য অবারিত যারা মহান পয়গাম্বরের অনুসারী, অনুরূপভাবে (আরো) যারা তাঁর পথ ও তাঁর প্রদর্শিত হেদায়াতকে মেনে নিয়েছে তাদের প্রতিও এই রহমত প্রসারিত হয়। তারাও রহমতপ্রাপ্ত, আল্লাহর রহমতের ছায়াতলে তারা আশ্রিত। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন : ‘শীঘ্রই আমি তা বরাদ্দ করব ঐসব লোকের জন্য যারা সংযমী জীবন অবলম্বন করে, যাকাত আদায় করে ও আয়াত (আমার বিধান ও নিদর্শনসমূহ) এর প্রতি ঈমান আনয়ন করে। যারা সেই নবীকে অনুসরণ করে, যিনি উম্মী, যাঁর সম্পর্কে তারা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিপিবদ্ধ পায়।’- সূরা আরাফ, আয়াত ১৫৬ ও ১৫৭ এর অংশবিশেষ।

যারা এমন মহান নবীর অনুসরণ করে, তাঁকে অনুকরণ করে চলে, তাঁর পথনির্দেশনা ও হেদায়াত মেনে চলে তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে শামিল। এটি আল্লাহরই কৃত ওয়াদা। এই ওয়াদার অন্যথা নেই, ফেরত যায় না। ইসলামি জাহান ও ইসলামি উম্মাহ বহু চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করেছে। তবে তারা ঠিক ঐ সময়ই আল্লাহর পক্ষ হতে দুনিয়াবি ও পরকালীন রহমতের ভাগী হয়েছে যখন সেই নবীর অনুসরণ ও অনুকরণ করেছে।

‘যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, তাঁকে শক্তি যুগিয়েছে এবং তাঁকে সাহায্য করেছে আর তাঁর সাথে যে নূর (আলোকবর্তিকা) নাযিল করা হয়েছে, তার অনুসরণ করেছে তারাই প্রকৃত সফলকাম।’- সূরা আরাফ, আয়াত ১৫৭ এর অংশবিশেষ)

এখানে তাদের কথা বলা হয়েছে যারা তাঁকে অনুসরণ করে চলেছে।

পয়গাম্বর (সা.) সর্বস্তরের সকল মানুষের জন্য সুবাসিত সুসংবাদ নিয়ে এসেছেন। সবার জন্য বন্দিদশা হতে মুক্তির সওগাত বয়ে এনেছেন। পয়গাম্বর (সা.) মানবজাতিকে যা উপহার দিয়েছেন তা একদলকে বাদ দিয়ে আরেকদলকে দেয়া হয়েছে এমন বিষয় নয়। গোটা মানবজাতির জন্য দেয়া হয়েছে এই উপহার। তবে এর দ্বারা সে ব্যক্তিই লাভবান হয় যে তা অনুসরণ করে, নিজের জীবনে তা কার্যকরী করে। যেসব জিঞ্জির-বেড়ি মানুষের গলায় ও হাতে পায়ে জড়ানো হয়, তার দ্বারা মানুষ নড়াচড়া করতে পারে না, যা তাদেরকে উড়াল দিতে দেয় না, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতা হতে দূরে সরিয়ে দেয়, তাতে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। পয়গাম্বর (সা.) এই বন্ধনকে মানুষের গলদেশ ও হাত-পা থেকে খুলে দিয়েছেন। এসব বন্দিদশা বা বন্ধন বলতে কী বুঝায়? এসব বন্দিদশা হচ্ছে বৃহৎ শক্তিগুলোর জুলুমের বন্দিদশা, শক্তিমদমত্তদের ক্ষমতার দাপট, শ্রেণিবৈষম্য অব্যাহত থাকা। জুলুমপূর্ণ ও শক্তির দাপটের আভিজাত্য বলবৎ থাকা। এগুলোই হচ্ছে বন্দিদশা। আল্লাহর নবী এগুলোর মোকাবিলা করেন। এসবের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালান। বিভিন্ন জাতি এই পথটি ধরে চলতে পারে, তবে শর্ত হল এ পথে অবিচলতা প্রদর্শন করতে হবে। রুখে দাঁড়াতে হবে তাদেরকে। তাহলে বৃহৎ শক্তিগুলোর ওপর বিজয়ী হতে পারবে। হ্যাঁ, আজকের দিনে মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে বিশ^শক্তিগুলোর পক্ষ হতে বড় বড় চক্রান্ত চালানো হচ্ছে। তবে এসব চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সম্ভব। এগুলো ব্যর্থ করে দেয়ার শক্তি তারা রাখে। হযরত মূসা (আমাদের নবী ও তাঁর প্রতি সালাম) আল্লাহ তা‘আলার কাছে আবেদন করেন যে, ‘হে আল্লাহ! তুমি ফিরআউন ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের দুনিয়ার জীবনে ভোগ বিলাসিতার সামগ্রী এবং ধন-সম্পদ দিয়েছ যাতে তারা তোমার পথ থেকে মানুষকে গোমরাহ করতে পারে। হে আল্লাহ! তুমি তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দাও, তাদের অন্তরকে কঠিন করে দাও, যাতে তারা ঈমান না আনে, মর্মন্তুদ শাস্তি ভোগ করে।’- সূরা ইউনূস এর ৮৮ নং আয়াতের অংশবিশেষ।

এভাবে তিনি বদদোয়া করেন। মূসা (আ.)-এর মোকাবিলায় ফিরআউন এক বিরাট শক্তি ছিল। শান-শওকত, শৌর্যবীর্য, অস্ত্র, সৈন্যসামন্ত, অর্থবিত্ত, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি সব তার করায়ত্বে ছিল। মূসা (আ.)-এর হাত ছিল খালি। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন, সাহায্য চাইলেন। আল্লাহ তা‘আলা জবাবে বললেন : ‘তোমাদের দুজনের (মূসা ও হারুন) দোয়া কবুল করা হয়েছে।’ তোমাদের প্রার্থনা মঞ্জুর করেছি। তবে শর্ত আছে। শর্ত হলো ‘তোমরা উভয়ে অবিচল থাকবে এবং যারা মূর্খ তাদের পথ তোমরা অবলম্বন করবে না।’ লড়াইয়ের ময়দানে ইস্তিকামাত বা অবিচলতা এক ধরনের আর রাজনীতির ময়দানে অবিচলতা এক ধরনের। যুদ্ধের ময়দানে মানুষের ইচ্ছা ও মনোভাব থাকে এক রকম। আর রাজনীতির ক্ষেত্রেও অবিচলতা অবশ্যই থাকতে হবে। যদি জাতিসমূহ, জ্ঞানী-গুণীরা অবিচলতা প্রদর্শন করেন তাহলে নিশ্চয়ই তাঁদের বিজয় অর্জিত হবে।

হ্যাঁ, আজ ইসলামি উম্মাহর বিরুদ্ধে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা, বিশ্বপরাশক্তি, তাদের পশ্চাতে যায়নবাদ, যায়নবাদী সরকার, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী, বিশ্বের অর্থপূজারিরা, এসব শক্তির পদলেহী মুসলমানদের মধ্যকার ভোগবাদীরা। এরা সবাই ইসলামের মোকাবিলায়, পয়গাম্বরের পথের মোকাবিলায় সারিবদ্ধ হয়েছে।

‘তুমি ফিরআউন ও তার সভাসদদের দুনিয়ার জীবনে ভোগের সামগ্রী ও ধন-সম্পদ দিয়েছ।’ হ্যাঁ, এরাই আজকের দিনের ফিরআউন। আজকের ফিরআউন যায়নাবাদী সরকার। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তাদের পদলেহীরাই আজকের ফিরআউন। তারা ক্রমান্বয়ে চাচ্ছে যে, মুসলমানরা একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ুক। তারা এতদঞ্চলে যুদ্ধ বাঁধাতে চায়। এ বিষয়টি সবাইকে বুঝতে হবে। সবাইকে জেনে রাখতে হবে যে, আমেরিকান রাজনীতিকরা তাঁদের পর্যালোচনায়, কথাবার্তায় ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এ কথা স্বীকার করেছেন যে, এশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আমাদেরকে যুদ্ধ বাঁধাতে হবে। অনৈক্য সৃষ্টি করতে হবে। এদেরকে পরস্পরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে হবে। যাতে যায়নবাদী সরকার নিরাপদ বেষ্টনীতে থাকতে পারে। আরামে থাকতে পারে। এই সুযোগে তারা যেন অগ্রগতি অর্জন করতে পারে। ইসলামি উম্মাহর দেহ থেকে যেন এতখানি রক্তপাত ঘটে, যাতে তারা সম্পূর্ণ নিস্তেজ হয়ে যায়। দুর্বলতার শিকার হয়। রুখে দাঁড়ানোর শক্তি হারিয়ে ফেলে। এসবের মোকাবিলায় কী করতে হবে। পথ হলো : ‘তোমরা উভয়ে অবিচলতার প্রদর্শন কর এবং মূর্খদের পথ অনুসরণ করো না।’

আমরা ঐক্যে বিশ্বাস করি। আমরা একতাবদ্ধ থাকার ব্যাপারে আগ্রহী। বর্তমান সময়টি, এই দিনগুলো হচ্ছে ঐক্য সপ্তাহের উপলক্ষ। আমাদের মরহুম ইমামই ঐক্য সপ্তাহের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঐক্য ইসলামি মাযহাবগুলোর মধ্যে। আল্লাহ তা‘আলার দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং ইরানি জাতি বাস্তবে নিজেদের মধ্যে এবং বিভিন্ন মুসলিম মাযহাবের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের মধ্যে কোনোরূপ সমস্যা ও অসুবিধা নেই। কিন্তু এই ঐক্য প্রয়াস, ঐক্যের লক্ষ্য অভিমুখী তৎপরতা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের বিরুদ্ধে এমন কতিপয় লোক আছে, যাদের সিদ্ধান্ত হলো, তারা অনৈক্য সৃষ্টি করবে এবং যুদ্ধ বাঁধাবে। তাদের পলিসি এটাই। এই লক্ষ্যেই তারা চেষ্টা চালাচ্ছে।

আমাদের এতদঞ্চলের অভ্যন্তরে এই তাকফিরি গোষ্ঠীকে তারা সৃষ্টি করেছে, যাতে তাদের ধারণায় মাযহাবী যুদ্ধ লাগিয়ে দিতে পারে। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাদের মুখে প্রচণ্ড আঘাত করেছেন, মাযহাবী যুদ্ধ সংঘটিত হয় নি। ভবিষ্যতেও সংঘটিত হবে না। যারা দুশমনের উস্কানির শিকার হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়িয়েছি। রুখে দিয়েছি। ইনশা আল্লাহ সফলকামও হয়েছি।

তবে তাদের আসল ব্যাপার ছিল দুশমনের পক্ষে মজদুরী করা। উদ্দেশ্য মাযহাবী যুদ্ধ ছিল না, গোত্রীয় যুদ্ধ ছিল না, ফেরকাগত যুদ্ধ ছিল না, দুশমন চেয়েছিল সুন্নি আর শিয়ার মাঝে যুদ্ধ বাঁধাবে। আলহামদু লিল্লাহিল্লাযি জাআলা আ‘দাআনা মিনাল হুমকা। (আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি আহমকদের মধ্য হতে আমাদের দুশমন বানিয়েছেন। )

আইএস এই অঞ্চলে যত সুন্নিকে হত্যা করেছে তাদের সংখ্যা যে পরিমাণ শিয়াকে হত্যা করেছে তার চেয়ে বেশি ছিল। এরা চেয়েছিল শিয়া-সুন্নির মাঝে যুদ্ধ বাঁধাবে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য করেছেন। তাকফিরি গোষ্ঠীর সাথে আমরা যে মোকাবিলা করেছি তা ছিল যুলুমের বিরুদ্ধে মোকাবিলা। ইসলামকে বিক্রিত করার বিরুদ্ধে মোকাবিলা। যে বন্য গোষ্ঠী ইসলামি চরিত্র, ইসলামি সভ্যতা ও ইসলামের হাকিকত থেকে দূরে ছিল আমরা তাদের মোকাবিলা করেছি। যারা মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারছিল, জীবিত অবস্থায় মানুষের চামড়া খুলে নিচ্ছিল, মুসলিম পরিবারবর্গকে ধরে ধরে বন্দি করছিল, রাজনৈতিক দুর্নীতি, যৌন অনাচার, আর্থিক দুর্নীতি ও কাজে কর্মে দুর্নীতি এবং সব ধরনের ফ্যাসাদ ও বিপর্যয় তাদের পেয়ে বসেছিল। যায়নবাদীদের অনুচর ছিল এরা। এএটি একটি বাস্তবতা। আমরা এদের মোকাবিলায় রুখে দাঁড়িয়েছি। ইসলামি দুনিয়া যদি চায় যে, মর্যাদা নিয়ে থাকবে তা হলে ঐক্য, একতা ও সংহতি অবশ্যই হাতছাড়া করবে না। ইসলামি জাহান যদি সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায় তাহলে অবশ্যই তাদেরকে যায়নবাদী ইসরাইলের মোকাবিলায় রুখে দাঁড়াতে হবে।

আজ ইসলামি দুনিয়া ও ইসলামি উম্মাহর যাবতীয় রাজনৈতিক সমস্যার শিরোভাগে রয়েছে ফিলিস্তিন ইস্যু। ফিলিস্তিন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও ফিলিস্তিনি জাতির মুক্তির পক্ষে কাজ করার ব্যাপারে প্রত্যেকের ওপর দায়িত্ব রয়েছে। তার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কাজ করতে হবে। অবশ্য দুশমন এ ক্ষেত্রেও ব্যর্থ মনোরথ হয়েছে। প্রত্যেকে জেনে রাখবেন যে, এখন যে এরা দাবি করছে, বলছে যে, বায়তুল মুকাদ্দাসকে যায়নবাদী সরকারের রাজধানী করবে, এটা তাদের চরম দুর্বলতার পরিচায়ক। তাদের অক্ষমতার কারণে এ কথা বলছে। ফিলিস্তিন বিষয়ে তাদের হাতসমূহ বন্ধ হয়ে গেছে। এ কাজের ফলেও নিঃসন্দেহে এক বড় আঘাত তারা পাবে। ইসলামি জাহান তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। নিশ্চিতভাবেই ফিলিস্তিন ইস্যুতে দুশমন তার কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জন করতে পারবে না। ফিলিস্তিন স্বাধীন হবেই। ফিলিস্তিন যে স্বাধীন হবে তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। হয়ত খানিকটা দেরি হতে পারে বা কিছুটা আগে হবে। কিন্তু নিশ্চয়ই তা ঘটবে। ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য ইসলামি উম্মাহর সংগ্রাম ইনশা আল্লাহ সফলকাম হবেই।

আলহামদু লিল্লাহ! ইরানি জাতি তার বীরত্ব দিয়ে, তার দূরদর্শিতা দিয়ে, তার অবিচলতার মাধ্যমে কঠিন রাস্তা পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছে। বহু কঠিন গিরিসংকট অতিক্রম করতে সমর্থ হয়েছে। সবার জানা উচিত, সারা দুনিয়ায় আমাদের বন্ধুদের জানা উচিত, আমাদের দুশমনরাও জেনে রাখুক যে, বিপ্লব বিজয়ের পরবর্তী এই ৩৮ বছরে আমরা যেসব পথ পাড়ি দিয়েছি তাতে এমন সব সমস্যা ছিল যেগুলো বিভিন্ন জাতিকে অচল ও বিপর্র্যস্ত করে ফেলত। কিন্তু এসব সমস্যা ইরানি জাতিকে বিপর্যস্ত করতে পারে নি। আর এরপরও আমাদের সামনে যেসব সমস্যা সৃষ্টি করা হবে নিশ্চয়ই সেগুলো আমাদের আগের সমস্যার চেয়ে অবশ্যই কম এবং ছোট আকারের হবে। আর সমস্যার মোকাবিলা করার জন্য ইরানি জাতির সামর্থ্য ও শক্তি পূর্বের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি। আমরা এসব সমস্যাকে পরাস্ত করবই- আল্লাহর দেয়া তাওফিকের বলে। দুশমন ইরানি জাতিকে ব্যর্থতা ও পরাজয়ের সম্মুখীন করতে এবং তাদেরকে পশ্চাদপসরণে বাধ্য করতে পারবে না। আর আমরা ইনশা আল্লাহ সব সমস্যার উত্তরণ ঘটাতে এবং সকল মুসলিম জাতির কাছে ইসলামের ইজ্জত ও মর্যাদা তুলে ধরতে সক্ষম হব। আর ইসলামের মর্যাদার ঝাণ্ডাকে এখন যা আছে তার চেয়ে উচ্চে ও আরো ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে সমর্থ হব।

ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ। (সংক্ষেপিত)