মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৭ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কবি সাদীর স্মরণ অনুষ্ঠান

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২৪, ২০১৯ 

news-image

বিশ্বখ্যাত ইরানি কবি শেখ সাদীর স্মরণে মঙ্গলবার ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ইরানি ভিজিটিং প্রফেসর ড. কাযেম কাহদুয়ী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রফেসর ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান। 

ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কালচারাল কাউন্সেলর ড. মাহদী হোসেইনী ফায়েকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠোনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবুল কালাম সরকার।

অনুষ্ঠানে ড. কাযেম কাহদুয়ী বলেন, এমন এক মহান কবির স্মরণ অনুষ্ঠানে আজ আমরা উপস্থিত হয়েছি যার নাম জানে না উপ-মহাদেশে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। ফারসি সাহিত্যে যত কবি, সাহিত্যিক রয়েছেন তাঁদের মধ্যে সাদী উপমহাদেশের মানুষের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় কবি। সাদী শিরাজি ছিলেন মানবতার কবি।

তার সাহিত্যকর্মে নৈতিকতা, মানবতা ও বিনম্রতার বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে। তার মতে, ফুলের সংস্পর্শে মাটির ঢেলা যেমনিভাবে সুগন্ধি প্রাপ্ত হয়, অনুরূপ জ্ঞানী-গুণীর সংস্পর্শে থাকলে মানুষের চরিত্রেও এ প্রভাব পড়াটা স্বাভাবিক।সাদী বলেন, তারাই প্রকৃত বড় যাদের মধ্যে কোন দম্ভ বা অহঙ্কার নেই।মানবতা ও বিনম্রতার এক উদাহরণ দিয়ে ড. কাহদূয়ী বলেন, একজন গিটার বাদক কোন কারণে রেগে গিয়ে অপর একজনের মাথায় তার গিটার দিয়ে আঘাত করে গিটারটি ভেঙে ফেলেছে এবং লোকটির মাথা ফেটে গেছে। লোকটি এর প্রতিবাদ না করে যখন উল্টো বলছে আমার মাথা হয়তো ভালো হয়ে যাবে কিন্তু এই দরিদ্র লোকটার গিটারটা ভেঙে গেল! সে এখন গিটার পাবে কোথায়? এমন মানুষগুলোই যে প্রকৃত বড় মানুষ, মানবতার অগ্রদূত কবি সাদী তার সাহিত্যকর্মে তা চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রফেসর ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান বলেন, সাদী ছিলেন অমর কবি।তিনি বিভিন্ন সমাজের মানুষকে কাছে থেকে দেখেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা তিনি লেখনির মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন।তার গ্রন্থ ‘গুলিস্তান’ সমাজ কল্যাণের একটি বড় গ্রন্থ। সাদী বলেন, অহঙ্কার পতনের মূল। যারা অহঙ্কার করে তারা কখনো বড় হতে পারে না। তিনি বলেন, সাদী তার সাহিত্য কর্মের মধ্যদিয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে আছেন এবং থাকবেন।

ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কালচারাল কাউন্সেলর ড. মাহদী হোসেইনী ফায়েক বলেন, কবি সাদী কেবল ফারসি ভাষাভাষিদের কবি ছিলেন না। তিনি ছিলেন বিশ্বকবি। তার সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি বিখ্যাত হয়েছেন।এমন কবি সাহিত্যিকদের স্মরণ অনুষ্ঠান আমাদেরকে সাহিত্য চর্চায় আরো অনুপ্রাণিত করবে।

ইরানের বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকদের নিয়ে আগামীতে যাতে আমরা এ ধরনের আরো অনুষ্ঠান করতে পারি সে চেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবে।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবুল কালাম সরকার। অধ্যাপক আবব্দুস সবুর খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ছাত্র বাদল মিয়া, নাজমুল ইসলাম ও ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ফারসি ভাষা শিক্ষা কোর্সের ছাত্রী সিফাতে এলাহী।