সোমবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ৬৬তম ফারসি ভাষা শিক্ষা কোর্সের উদ্বোধন

পোস্ট হয়েছে: মে ১০, ২০১৬ 

news-image

গত ৪ মে ২০১৬ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ফারসি ভাষা শিক্ষা কোর্সের ৬৪ ও ৬৫তম ব্যাচের কৃতি ছাত্রদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী ও ৬৬তম ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আবদুস সবুর খান, একই বিভাগের ইরানি ভিজিটিং প্রফেসর ড. ফরহাদ দরুদগারিয়ান, কোর্সের শিক্ষক প্রফেসর ড. তারিক জিয়াউর রহমান সিরাজী ও প্রভাষক জনাব মেহেদী হাসান, ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর জনাব সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনী ও ডেপুটি কাউন্সেলর জনাব আসগার খসরুয়াবাদী। অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কর্তৃক পরিচালিত ফারসি ভাষা শিক্ষা কোর্সের উদ্দেশ্য হলো ফারসি ভাষার ব্যাপারে দক্ষতা ও পারদর্শিতা অর্জন।

thumbnail_IMG_2403ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষকগণ এ কেন্দ্র কর্তৃক পরিচালিত কোর্সসমূহের ক্লাস নিচ্ছেন। এভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মধ্যে একটি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ফারসি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ভাষা। উপমহাদেশের সাথেও ফারসি ভাষার সম্পর্ক অনেক দিনের। যদি ফারসি ভাষার সহযোগিতা না নেয়া হয় তাহলে উপমহাদেশের ইতিহাসের অনেক কিছুই আমরা পাব না। আর বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যাবে, ফারসি ভাষা শেখার মাধ্যমে সবার সামনে জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক বিশাল ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়ে যাবে।

জনাব সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনী বলেন, ৬৬তম ফারসি কোর্সের উদ্বোধন ও ৬৪ ও ৬৫তম কোর্সের সনদ বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে ফারসিপ্রেমিকদের সাথে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্পর্কের দিকটি বোঝা যায়। তিনি বলেন, আমি মনে করি, এখানে অংশগ্রহণকারীরা কেবল ফারসি ভাষা শেখার জন্য আসেন না তাঁরা এর মাধ্যমে অতীতের একটি জানালা খুলতে চান। একটি ঐতিহাসিক সম্পর্কের দিক উন্মোচন করতে চান। সেই জানালা খোলার মাধ্যমে ফারসি ভাষায় সামাজিক, আধ্যাত্মিক, নৈতিক শিক্ষার যে গ্রন্থগুলো রচিত হয়েছে সে গ্রন্থগুলোর সাথে পরিচয় লাভ করতে পারবেন। তিনি ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার কথা ঘোষণা করেন।

thumbnail_IMG_2485প্রফেসর ড. ফরহাদ দরুদগারিয়ান বলেন, ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দীর্ঘদিন যাবত ফারসি ভাষা শিক্ষা বিস্তারে বিরাট ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি বলেন, ফারসি মিষ্টি ভাষা ও জীবন্ত ভাষা। ফারসি এমন একটি ভাষা যে ভাষার নিজস্ব শব্দসম্ভার ব্যাপক। এ ভাষার রয়েছে দীর্ঘ ২০০০ বছরের ইতিহাস। অর্থাৎ বিশ্বের প্রাচীনতম ভাষাগুলোর অন্যতম হলো ফারসি ভাষা। আর বাংলাদেশের সাথেও ফারসি ভাষার সম্পর্ক অনেক প্রাচীন। তুর্কি সালতানাত থেকে শুরু করে বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে ফারসি ভাষার ইতিহাস জড়িত। উপমহাদেশের বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকগণ ফারসি ভাষার চর্চা করেছেন। তিনি এক্ষেত্রে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, কবি মনিরউদ্দীন ইউসুফ, মনোয়ার আহমদ, আবেদা হাফিজ, ড. ইয়াকুব আলী প্রমুখের নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানেও বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে এ ভাষার চর্চা হচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষকম-লী এক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান রাখছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এক্ষেত্রে যাঁরা ফারসি ভাষায় বই-পুস্তক লেখার মাধ্যমে ফারসি সাহিত্যকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন তাঁদের প্রশংসা করেন।

প্রফেসর ড. আবদুস সবুর খান ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ফারসি ভাষা কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাত্ররা ব্যাপকভাবে উপকৃত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

thumbnail_IMG_2522জনাব আসগার খসরুয়াবাদী তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ফারসি ভাষা বাংলাদেশের মানুষের কাছে অপিরিচিত কোন ভাষা নয়। কারণ, বাংলাদেশের সমাজ-সংস্কৃতির সাথে এ ভাষা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেমন স্বাগত জানানোর জন্য ‘খোশ আমদেদ’ শব্দ দুটি সবসময় শোনা যায়। তিনি নতুন ব্যাচে ভর্তি হওয়া ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, ফারসি ভাষা শেখার মাধ্যমে বাংলা ভাষার সাথে ফারসির এবং বাংলাদেশের সাথে ইরানের ঐতিহাসিক বন্ধন সম্পর্কে ছাত্ররা অধিকতর অবগত হতে পারবে। তিনি ফারসি ভাষা শিক্ষার ব্যাপারে ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সার্বিক সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেন। তিনি এ ক্ষেত্রে ইরানি চলচ্চিত্র, বিভিন্ন ডকুমেন্টারি এবং ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের লাইব্রেরি ব্যবহার করে উপকৃত হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কোর্সে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা ফারসি ভাষায় তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে। অনুষ্ঠান শেষে ৬৪ ও ৬৫তম কোর্সে ১ম থেকে ৩য় স্থান অর্জনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।