বৃহস্পতিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইরান পরিচিতি : কাশান

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২৬, ২০১৬ 

-কামাল মাহমুদ
ইরানের ইসফাহান প্রদেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ শহর কাশান। এটি কাচান নামেও অভিহিত। ২০১১ সালের হিসেব অনুযায়ী এখানকার জনসংখ্যা প্রায় ১১ লক্ষ। বসবাসযোগ্য ভূমি ২,১০০ হেক্টর। কাশানের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে মরুভূমি। যেমন- মারানযাব, দাসতে কাবীর প্রভৃতি মরুভূমি। ব্যুৎপত্তিগতভাবে ‘কাশিয়ান’ অধিবাসীদের নামানুসারে এখানকার নাম কাশান। যারা প্রায় ৯০০০ (নয় হাজার) বছর আগে এ অঞ্চলে বসবাস করত। ১২ শতক থেকে ১৪ শতকের মাঝামাঝি সময়ে কাশান হয়ে ওঠে মানসম্মত মৃৎশিল্প ও টাইল্স উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু। ফারসি শব্দভা-ারে কাশী শব্দটি এ কাশান থেকে উদ্ভূত। কাশান শহর দুটি বড় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। একটি হলো ‘কাকাশ চেইন’ বা মাউন্ট জারজাসÑ যা কাশানের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এখানে ইরানের সবচেয়ে বড় অ্যাস্ট্রলজিক্যাল টেলিস্কোপ স্থাপিত হয়েছে। অপরটি হলো ‘মাউন্ট আরদেহাল’Ñ যা কাশানের পশ্চিমে অবস্থিত। এটি কাশানের দামাভান্দ নামেও খ্যাত। এর চূড়া ইরানের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের অন্যতম।
প্রাগৈতিহাসিক যুগেই এখানে সভ্যতার সূচনা হয়েছিল। প্রায় ৭০০০ বছর পূর্বের সভ্যতার অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন আজো কালের সাক্ষী হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কাশানের অনেক নিদর্শন প্যারিসের লুভার যাদুঘর, নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন যাদুঘর এবং ইরানের জাতীয় যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
সালজুক-স¤্রাট প্রথম সুলতান মালিক শাহ কাশানের মধ্যবর্তী স্থানে একটি নগর দুর্গ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রদান করেন। যাকে বলা হয় গ¦ালে জালালী। যা আজো কাশানের আইকন হিসেবে মর্যাদার আসনে সমাসীন হয়ে আছে।
সাফাভী সম্্রাটদের অবকাশ যাপন কেন্দ্র হিসেবে কাশানের ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে। বিশেষ করে ‘বাগে ফিন’ বা ফিন গার্ডেন ইরানের বিখ্যাত বাগান যা কাশানে অবস্থিত। চমৎকার হ্রদবিশিষ্ট এ বাগানের ডিজাইন করেন শাহ আব্বাস। সাফাভী আমলের পরে কাজার স¤্রাটরাও কাশানের উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনে আত্মনিয়োগ করেন। এখানে রয়েছে ৭০০০ বছরের পুরাতন হ্রদ যা ‘চাশমে সোলায়মান’ বা সোলায়মান হ্রদ হিসেবে খ্যাত। এ বাগানেই আমীর কবির তাকী যান্দকে হত্যা করা হয়েছিল। বর্তমানে ইরানের শীর্ষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি হলো তেহরানের আমীর কবির বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৭৮ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প কাশানকে এবড়ো থেবড়ো করে দেয় এবং সাফাভী আমলের অধিকাংশ ইমারত ও ঐতিহাসিক নিদর্শন মাটির সাথে মিশে যায়। কিন্তু কাশানের অধিবাসীরা আবার কাশানকে বিনির্মাণ করেন যা পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য। ১৮ শতক থেকে ১৯ শতকের কাজার শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় কাশান নবরূপ লাভ করে। এখানে প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি পর্যটক কাশানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। কাশানের পাশেই রয়েছে ‘কামসার’ ও ‘আবিয়ান’ নামক দুটি নগরী যেখানে প্রায় সারা বছর পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। এর নিকটেই রয়েছে কৃত্রিম গিরিগুহা ও ফায়ার প্যালেসÑ যা পর্যটকদের বিমোহিত করে।

শিল্প : কাশান আন্তর্জাতিকভাবে কার্পেট, রেশমি কাপড় ও অন্যান্য বস্ত্রশিল্পের জন্য বিখ্যাত। কাশানে রয়েছে ইরানের বিখ্যাত যান্ত্রিক ও হস্তনির্মিত কার্পেট কারখানা। পাথর ও তামাজাত দ্রব্য তৈরিতে কাশানের সুনাম সুদীর্ঘকালের। কার্পেট ও গোলাপ পানি কেনাকাটার জন্য ব্যবসায়ী ও পর্যটক উভয় শ্রেণির মানুষ কাশানেই বেশি ভীড় করে থাকে।

দর্শনীয় স্থান : কাশানের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে আগা বুযুর্গ মসজিদ (১৮ শতকে নির্মিত, ওস্তাদ আলী মারিয়াম এর ডিজাইন করেন), আমেরী হাউজ (১৯ শতক), জালালী কটেজ, বোরুযারদী হাউজ (১৮ শতকে নির্মিত), আব্বাসী হাউজ (১৮ শতক), তাবাতাবায়ী হাউজ, আত্তারী হাউজ, সুলতান আমীরের মাযার, ৪০ দুখতারান দুর্গ, আবু লুলুয়ার মাযার (১১ শতক), ফিন গার্ডেন, ফিন গোসলখানা, কাশান জামে মসজিদ, কাশান বাজার, মসজিদ ময়দান, তাবরিজিয়া মসজিদ প্রভৃতি।

রেস্টুরেন্ট ও হোটেল : কাশানের বিখ্যাত রেস্টুরেন্টের মধ্যে রয়েছে মনুচেহরী রেস্টুরেন্ট, আব্বাসী টি হাউজ এন্ড ট্রেডিশনাল রেস্টুরেন্ট, মোজাফফারী ট্রেডিশনাল রেস্টুরেন্ট, সারায়ে আমেরিয়া রেস্টুরেন্ট, শাহনেশীন আমীনদোভলে রেস্টুরেন্ট, রোজ হাউজ, নেজীন রেস্টুরেন্ট, গোলশান রেস্টুরেন্ট, সাজীদ ফাযার, মাহীনেস্তান রাহেব, কামালুল মুল্ক হাউজ রেস্টুরেন্ট, মারীয়াম রেস্টুরেন্ট, সোহরাব রেস্টুরেন্ট প্রভৃতি। আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে ঈশান হাউজ, গোলেস্তান হোটেল, আমীর কবির হোটেল, সারীয়ে হোটেল প্রভৃতি বিখ্যাত। স্থানীয় খাবারের মধ্যে কোলবে কাশান বিখ্যাত।

যাতায়াত : যাতায়াতের জন্য রয়েছে বিমান, বাস, ট্রেন, ট্যাক্সি ও মোটর সাইকেল। তেহরান এবং ইসফাহানের মধ্যে কাশানের অবস্থান। তেহরান থেকে সড়ক পথে ২৫০ কিলোমিটার উত্তরে এবং ইসফাহান থেকে দক্ষিণে ২২০ কিলোমটিার। কোম-কেরমান-কাশান হাইওয়ে রোড কাশানের কানেক্টিং রোড, এছাড়া কাশান-কোম-তেহরান হাইওয়ে, ইসফাহান-আরিয়ান-কাশান প্রভৃতি হাইওয়ে রয়েছে। বাস স্টেশনের মধ্যে কাভে বাস স্টেশন, মোল্লা সাদরা বাস স্টেশন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া কাশান-মাশহাদ-গোরগানসহ কতক রেল রুট রয়েছে। রেল ও বাস স্টেশনে রয়েছে টিভি ও অন্যান্য বিনোদন ব্যবস্থা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : কাশানের বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কাশান ইউনিভার্সিটি। এটি ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৯ সালে এটি কাশান টিচার্স ট্রেনিং বিশ^বিদ্যালয়ে পরিণত হয়। ১৯৯৪ সালে এতে বিভিন্ন অনুষদ যুক্ত হয়। ১৯৯৫ সালে আর্টিটেকচার, ইঞ্জিনিয়ারিং, মানবিক প্রভৃতি অনুষদ চালু হয়। ৫৩০ হেক্টর ভূমি বা ৮০,০০০ স্কয়ার মিটার নিয়ে এর অবস্থান। এর মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা, কমপ্লেক্স ও ডরমেটরি। তেল ও অ্যানার্জি গবেষণা কেন্দ্র এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিশেষত্ব।
ইসলামিক আযাদ ইউনিভার্সিটি অব কাশান : আযাদ ইউনিভার্সিটির কাশান শাখা ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। অ্যাকাউন্টিং, সাহিত্য, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং তিনটি অনুষদ নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ৪০০০ শিক্ষার্থী, ২৭৫ জন ট্রেইনার, ১৭৫ জন পূর্ণকালীন শিক্ষক, ১৭০ জন অতিথি শিক্ষক নিয়ে কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এ বিশ^বিদ্যালয়। প্রতিবছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল সংখ্যক গ্রাজুয়েট কর্মক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিশ^বিদ্যালয়ের আয়তন ৫৩ হেক্টর বা ৩০০০ মিটার। এছাড়া কাশান ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সাইন্স চিকিৎসা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

খেলাধুলা : খেলাধুলার জন্য কাশানে রয়েছে কাশান অ্যাকাডেমিসহ কয়েকটি ফুটবল ক্লাব ও স্টেডিয়াম।

ব্যক্তিত্ব : কাশান যে সকল বিখ্যাত ব্যক্তিকে লালন করেছে তাঁদের মধ্যে সবিশেষ উল্লেখযোগ্য হলেন সোহরাব সেপেহরী, জামসিদ কাশানী, কামাল আল মুল্ক, ওস্তাদ আলী মারইয়াম, সাইয়্যেদ হোসাইন নাসের প্রমুখ।
কাশান তেহরানের ও ইসফাহানের নিকটেই এক প্রাচীন শহর। যেখানে প্রাগৈতিহাসিক যুগেই সূচনা হয়েছিল প্রাচীন সভ্যতার। বিশে^র বিভিন্ন যাদুঘরে আজো তার নিদর্শন বিদ্যমান। কাশানের টাইল্স ও গোলাপ পানি বিশ^খ্যাত। বিশেষত হাতে বোনা কার্পেট ও তামাজাত দ্রবাদি সমগ্র বিশে^র ক্রেতাদের মন কেড়ে নেয়। ইরানের সবচেয়ে উন্নতমানের ও সর্বাধিক পরিমাণ গোলাপ পানি, আতর, গোলাপের পাপড়িজাত অন্যান্য দ্রব্য কাশানেই উৎপাদিত হয়। কাশানের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলি পর্যটকদের নিকট আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত।

কাশানের গোলাপ : কাশানের বিশ্বখ্যাতি গোলাপ, গোলাপ পানি ও গোলাপ দিয়ে তৈরি নানাবিধ খাবারের জন্য। বসন্তকাল (২১ এপ্রিল থেকে ২১ মে) গোলাপ সংগ্রহ করার উত্তম সময়। তবে বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য মে মাসের শুরু থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অধিকাংশ গোলাপ আহরিত হয়ে থাকে। কিছু কিছু স্থানে সারা বছর গোলাপ পাওয়া গেলেও মূলত বাণিজ্যিক ও স্থানীয়ভাবে বসন্তকালেই গোলাপ তোলা হয়। এপ্রিল থেকেই গোলাপের সৌরভ কাশান ও কামসার থেকে আশেপাশের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
কাশানের গোলাপ উৎসব পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে খুবই প্রিয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, এমনকি বিদেশ থেকেও পর্যটকরা গোলাপ উৎসবে যোগ দিতে কাশানে আসেন। এ সময় কাশানে অতিরিক্ত প্রায় ৮০,০০০ (আশি হাজার) লোকের সমাগম ঘটে। প্রতি বছর মে মাসের মাঝামাঝি কাশানে গোলাপ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ সময় কাশান যেন নববধূর মতো রঙিন হয়ে ওঠে। সেলজুক শাসনামল থেকে এর প্রচলন হয়ে আসছে। কামসারে ‘মায়দানে মসজিদ’ নির্মাণের সময় এক রোমান ভদ্রলোক ‘কুহে আসবী’ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে কয়েকটি গোলাপ চারা এনে এখানে রোপন করেন। তারপর সময়ের বিবর্তনে নানা জাতের গোলাপ আজ কাশান ও কামসারকে সুরভিত করে আসছে।
কাশানের গোলাপ বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়। এখানকার গোলাপ উৎপাদন ও গোলাপ পানি ও গোলাপ দিয়ে নানা রকম সুরভিত খাবারের রেওয়াজ সুপ্রাচীন। প্রায় ২৫০০ বছর থেকে এখানকার মানুষ গোলাপের বহুবিধ ব্যবহার করে আসছে। মুসলিম-হিন্দু-খ্রিস্টানসহ নানা ধর্মের মানুষ গোলাপ পানি ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করে থাকে। আবে জমজম পানির সাথে মোহাম্মাদী গোলাপের প্রক্রিয়াজাত পানি মিশিয়ে পবিত্র কা’বা ঘর ধৌত করা হয়ে থাকে। এখানকার গোলাপ ও গোলাপের সৌরভ মিশিয়ে নানা জাতীয় খাবার, মিস্টান্ন, পারফিউম, প্রসাধনী ও ঔষধ তৈরি করা হয়। গোলাপ পানির সাথে চিনি মিশ্রণ করে সিরাপ তৈরি করা হয়। এছাড়া চা, কফি, আইসক্রীম, হালুয়া, রাইস পুডিং, লাচ্ছি, ফলের জুস, ¯œ্যাক্স প্রভৃতির সাথে গোলাপ মিশিয়ে খাবার তৈরি করা হয়Ñ আরব দুনিয়ায় যার চাহিদা অপরিসীম।
গোলাপের প্রক্রিয়াজাতকরণের পরে যে উচ্ছিষ্ট থাকে তা পশুখাদ্য ও জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গোলাপ দিয়ে আধুনিককালে তৈল উৎপাদন আরম্ভ হয়েছে। যা সাধারণত কসমেটিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অতীতে স্থানীয়ভাবে হাতে গোলাপ প্রক্রিয়াজাত করলেও আধুনিককালে কাশানে মেশিনের মাধ্যমে কারখানাজাত হয়ে সুবাসিত গোলাপ পৌঁছে যায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে, যদিও এখনও প্রাচীন পদ্ধতিতে গোলাপ প্রক্রিয়াজাতকরণ অব্যাহত আছে। নানা প্রকার গোলাপের মধ্যে এক ধরনের গোলাপ আছে যার নাম মোহাম্মাদী গোলাপ। এর ঘ্রাণ খুবই মিষ্টি এবং এ দিয়ে উন্নতমানের পারফিউম ও সুরভিত খাবার তৈরি করে স্থানীয় চাহিদা মেটানো হয় ও রপ্তানিও হয়ে থাকে। বিশেষত আরব দেশসমূহ, মালয়েশিয়া, ভারত, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশে মোহাম্মাদী গোলাপ পানি, আতর ও সুরভিত খাবার রপ্তানি হয়ে থাকে। সাধারণত ৩০ কেজি গোলাপের পাপড়ি দিয়ে প্রক্রিয়াকরণের মধ্য দিয়ে ৮০ লিটার গোলাপ পানি উৎপাদিত হয়।
১৯৭৪-৭৫ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে কাশানে গোলাপ ফুল দিয়ে নানাবিধ সামগ্রী উৎপাদিত হতে শুরু করে। এখন কাশানে গোলাপ ফুলের পণ্য তৈরির জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে উঠেছে কাশান ও কামসারে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বমানের গোলাপ সুগন্ধি হতে হলে প্রতি ১০০ মি.লি-এ ৩৫ মি. গ্রাম বা ৩৩০ পিপিএম থাকতে হয় যা কাশান ও কামসারের মোহাম্মাদী গোলাপ থেকে উৎপাদিত হয়ে থাকে। প্রতি বছর প্রায় ৬০০০ টন গোলাপ এখানে উৎপাদিত হয়।