রবিবার, ১৬ই জুন, ২০১৯ ইং, ২রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইরান পরিচিতি : ইসফাহান

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ১৭, ২০১৬ 

কামাল মাহমুদ
অবস্থান
ইরানের অন্যতম জনবহুল নগরী ইসফাহান। এটি ইসফাহান, এসফাহান, হিসফাহানসহ নানাভাবে উচ্চারিত হয়ে থাকে। এ শহর তেহরান থেকে ৩৪০ কিলোমিটার (২১১ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত। ২০১১ সালের হিসেব অনুযায়ী এ শহরের জনসংখ্যা ১৯০৮৯৬৮ জন। বৃহত্তর ইসফাহানের জনসংখ্যা ৩৭৯৩১০৩ জন। শহর এলাকা ২৮০ স্কয়ার কিলোমিটার সমুদ্র সমতল থেকে ১৫৯০ মিটার (৫.২১৭ ফুট) উচ্চতায় রয়েছে যাগরোস পাহাড়- যার পাদদেশে ইসফাহান অবস্থিত। ইসফাহান ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল শহর। ইসফাহান শহরের প্রসিদ্ধ স্থানের মধ্যে রয়েছে যারীন শহর, ফুলাদ শহর, নাযাফাবাদ, শীদে, শাহীন শহর, মোবারাকে, কালভারযান, চারমাহীন। এ সবগুলোই মেট্রোপলিটন সিটির অন্তর্ভুক্ত।

ইতিহাস
ইসফাহানের ব্যুৎপত্তি ঘটেছে বহু প্রাচীনকাল থেকেই। এর ইতিহাস জানতে আমাদেরকে সেই প্রস্তর যুগে ফিরে যেতে হবে। এ শহর ইলামী সভ্যতা (২৭০০-১৬০০ খ্রি.পূ.) থেকে আরম্ভ করে ধীরে ধীরে বর্তমান রূপ লাভ করেছে। তখন এর নাম ছিল আসফানদানা বা ইসফানদানা। মধ্যযুগে এ শহর ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার পর এর নগরায়ন আরম্ভ হতে থাকে। যায়েন্দেরুদ নদীর তীরবর্তী হওয়ায় ক্রমে ক্রমে এ শহরের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। ৬৪৮-৩৩০ (খ্রি. পূ.) সনে ইসফাহানে হাখামানেশী সা¤্রাজ্য প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এ সময়ে এ নগরী অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। হাখামানেশীদের পতনের পর পার্থিয়ানদের সময়কালে (২৫০ খ্রি. পূ.-২২৬ খ্রি.) এখানে পারস্য সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক চেতনা বিকাশ লাভ করে। সাসানী আমলে (২২৬-৬৫২ খ্রি.) এ অঞ্চলে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। তারা বিশেষ করে কৃষি সংস্কার ও উৎপাদনে ব্যাপকভাবে মনোযোগী হয়। তারা এখানে যরথুস্ত্র ধর্মমত চালু করে। এসময়কালে এ শহরকে ‘সাফাহান’ নামে ডাকা হতো। পরবর্তীকালে সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা এ শহর পরিচালিত হতো। যাদেরকে ‘ইসফোহান’ বলা হতো। পরবর্তীকালে এখানে সেনাশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দ্রুততম সময়ে শহরের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। এ সময়কালে প্রাচীন সব সড়ক নির্মিত হয় এবং পারসেপোলিসের ভিত্তি স্থাপিত হয়। ১৫৯৮ সালে শাহ আব্বাস দি গ্রেট তুর্কী আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য পারস্যের রাজধানী কাজভীন থেকে এখানে স্থানান্তর করে ইসফাহান নামকরণ করেন। তাঁর সময়কালকে ইসফাহানের উন্নয়নের ‘স্বর্ণযুগ’ বলা হয়ে থাকে। এ সময়ে ইসফাহানে সংস্কৃতি বিকাশ লাভ করতে থাকে এবং নতুন নতুন স্থাপনা নির্মিত হয়। শাহ আব্বাসের সময়কাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অনেক অভিবাসী ইসফাহানে স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলে, বিশেষত জর্জিয়ানরা। ১৬ শতকে ইসফাহানে কমপক্ষে ২৫০০০০ জর্জিয়ান অধিবাসী ছিল। শাহ আব্বাসের সময় থেকেই ইসফাহান ইউরোপে পরিচিতি লাভ করে। বহু ইউরোপীয় পর্যটক ইসফাহানে ভ্রমণ করতে থাকেন। ১৭৭৫ সালে তেহরানে রাজধানী স্থাপিত হবার পূর্বে বহুবার ইরানের রাজধানী স্থানান্তরিত হয়েছে।
বিশ শতকেও বসবাসের উত্তম জায়গা হিসেবে প্রচুর অভিবাসী ইসফাহানকেই বেছে নিয়েছে। যার ফলে জনসংখ্যার দিক থেকে ইসফাহান ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরীতে পরিণত হয়েছে। বিশ শতকের শুরুর দিকে ইসফাহানে প্রচুর অধিবাসী আশ্রয় লাভ করে বিশেষত ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময়কালে।

আবহাওয়া
ইসফাহানের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক। যায়ান্দে নদীর তীরে ও যাগরোস পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ইসফাহানের ৯০ কিলোমিটার উত্তর দিকে কোন উদ্ভিদ দৃশ্যমান হয় না। এখানে গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম থাকে। আবার শীতকালে বেশ ঠাণ্ডা অনুভূত হয় এবং তুষারপাত হয়। যদিও ১৯৮৬, ১৯৮৭, ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে এখানে তুষারপাত হয়নি। বার্ষিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭০ সেলসিয়াস, সর্বনি¤œ তাপমাত্রা মাইনাস ১৯.৪০ সেলসিয়াস।

দর্শনীয় স্থান
ইসফাহানের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে শাহ মসজিদ, সিয়োহী পুল (স্থাপিত ১৬০২ ইং), নাকশে জাহান স্কয়ার, খাজু ব্রীজ (১৬৫০ ইং), শাহরেস্তান পোল, জুবী পোল (১৬৬৫ ইং), মারনান ব্রীজ প্রভৃতি। বিখ্যাত চার্চসমূহের মধ্যে রয়েছে বেদখেম চার্চ (১৬২৭ ইং), সেন্ট জর্জ চার্চ (১৭ শতক), সেন্ট মেরী চার্চ (১৭ শতক), ভানক ক্যাথেভরাল (১৬৬৪ ইং) প্রভৃতি। পার্ক ও বাগানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বার্ডস গার্ডেন, ইসফাহান ফুল বাগান, প্রভৃতি। বিখ্যাত স্থাপনাসমূহের মধ্যে আছে আলম হাউজ, আমিন হাউজ, মালেক ভিনিয়ার্ড, কাজভীন হাউজ (১৯ শতক), শায়খ-উল-ইসলাম হাউজ, আশরাদ প্রাসাদ (১৬৫০ ইং), হাশ্ত বেহেশ্ত (অস্টম স্বর্গ) প্রাসাদ (১৬৬৯ ইং), চেহেল সেতুন (১৬৪৭ ইং) প্রভৃতি। বিখ্যাত মাযার ও সমাধির মধ্যে রয়েছে- মাযারে আল রশীদ, বাবা কাসেমের মাযার (১৪ শতক), সাফাভী রাজপুতদের মাযার, নিজামুল মুল্ক সমাধি (১৪ শতক), শায়েব মাযার, শাহ শাহান মাযার (১৫ শতক), সোলতান বখ্ত আগার মাযার (১৪ শতক) প্রভৃতি। বিখ্যাত মসজিদসমূহের মধ্যে রয়েছে আগা নূর মসজিদ (১৬ শতক), হাকিম মসজিদ, ইল্চী মসজিদ, জামে মসজিদ (১৬০১ ইং), মোহাম্মাদ জাফর আবাদী মসজিদ (১৮৭৮ ইং), রহিম খান মসজিদ (১৯ শতক), রোকনুল মুল্ক মসজিদ, সাইয়্যেদ মসজিদ (১৯ শতক), শেখ লুতফুল্লাহ মসজিদ (১৬১৮ ইং) প্রভৃতি। এছাড়া অসংখ্য সুউচ্চ মিনার রয়েছে ইসফাহানে। বিখ্যাত যাদুঘরসমূহের মধ্যে রয়েছে কনটেমপোরারি আর্টস্ মিউজিয়াম, ডেকোরেটিভ আর্টস্ মিউজিয়াম, ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম (১৫ শতক) প্রভৃতি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শিক্ষাদীক্ষায় প্রাচীনকাল থেকেই ইসফাহানের সুনাম রয়েছে। এখানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে রয়েছে ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, ইসফাহান ইউনিভার্সিটি, ইসফাহান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সাইন্স, ইসলামিক আযাদ ইউনিভার্সিটি অব নাজাফাবাদ প্রভৃতি। স্কুলসমূহের মধ্যে চাহারবাগ স্কুল (১৭ শতক), কাশগারিয়ান স্কুল (১৬৯৪ ইং), মাদারেসে খাজু, নিমভার স্কুল (১৬৯১ ইং), সাদ্র স্কুল (১৯ শতক), আদব হাই স্কুল, হারাতী হাইস্কুল, সারেমিয়া হাইস্কুল, সায়েব এডুকেশন কমপ্লেক্স, ইমাম মোহাম্মাদ বাকের এডুকেশন কমপ্লেক্স, মাহবুবে দানেশ, ফারজানগানে আমীন হাইস্কুল, ইমাম সাদেক এডুকেশনাল কমপ্লেক্স প্রভৃতি।

খেলাধুলা
ইসফাহান অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খেলার আয়োজন করে থাকে। ২০০৭ সালে বিশ্ব ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের সফল আয়োজক ইসফাহান। এখানে রয়েছে নাকশে জাহান স্টেডিয়াম, যেখানে ৭৫০০০ (পঁচাত্তর হাজার) দর্শক একসঙ্গে খেলা দেখতে পারে। এখানে তিনটি বিখ্যাত ফুটবল এসোসিয়েশন আছে- সোপাহান ইসফাহান, জব অহান ইসফাহান, গীতি পাসান্দ। এছাড়া রয়েছে ডারবী ও ফুটসাল ক্লাব। কয়েকজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হলেন- ইরানের সাবেক জাতীয় খেলোয়ার ও জাতীয় ফুটবল দলের কোচ মাহমুদ ইয়াভারী, আব্দুল আলী চেঙ্গিস, মানসুব ইবরাহীম যাদে, মোহাম্মাদ নাভীদফিয়া, আরসালান কাজেমী, বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়ন মোহাম্মাদ তালায়ী প্রমুখ।
চত্বর বা স্কোয়ারের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে নাকশে জাহান স্কোয়ার- যা শাহ স্কোয়ার বা ইমাম স্কোয়ার নামেও পরিচিত। এটি ১৫৯৮ থেকে ১৬২৯ সালের মধ্যে নির্মিত হয়। এটি বর্তমানে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃত। এটি ১৬০ মিটার প্রশস্ত এবং ৫০৮ মিটার দীর্ঘ। এর চতুর্পাশ্বে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা। পশ্চিম দিকে আলী কুপা প্যালেস, পূর্ব দিকে শেখ লুতফুল্লাহ মসজিদ, উত্তর দিকে কায়সারিয়া গেট যা দিয়ে সরাসরি ইসফাহান শাহী বাজারে প্রবেশ করা যায়। এছাড়া মেয়দানে কোহনে, চাহার বাগ বুলাভার্ড প্রভৃতি। অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে আতশগাহ (যরথুস্ত্র অগ্নি মন্দির), নিউ জুলকা (আর্মেনিয়ান কোয়ার্টার, স্থাপিত ১৬০৬ ইং), বাদল উদ্দিন আমেলী গোসলখানা, পিজিয়ন টাওয়ার, তাখ্তে ফুলাদ প্রভৃতি।

যাতায়াত ব্যবস্থা
ইসফাহানের যাতায়াত ব্যবস্থা বেশ উন্নত ও পরিপাটি। এখানে রয়েছে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, রেল, মেট্রোরেল ও সড়ক পথ। বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণ করে থাকে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া, দুবাই ও দামেস্কসহ নানা দেশের যাত্রীরা ইসফাহান বিমানবন্দর ব্যবহার করে থাকে। ইসফাহানে রয়েছে ৪৩ কিলোমিটার মেট্রোরেলপথ। এর রয়েছে ২০টি স্টেশন। ২০১০ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। অনেকগুলো রুটে ইসফাহান থেকে রেল চলাচল করে থাকে। ইসফাহান-তেহরান, ইসফাহান-শিরাজ, ইসফাহান-ইয়ায্্দ, ইসফাহান-বন্দর আব্বাস ও ইসফাহান-জাহেদান রুট তন্মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সড়কপথে চলাচলের জন্য বাস ও ট্যাক্সি তো রয়েছেই।

খাবার
ইসফাহানের খাবারে রয়েছে আলাদা স্বাদ ও ঐতিহ্য। এখানকার বিখ্যাত খাবার হলো বিরিয়ানি। যা উন্মুক্ত আগুনে ছোট কড়াইয়ে রান্না করা হয়। এটি এক প্রকার বিশেষ রুটির সাথে পরিবেশন করা হয়, যার নাম ‘তাফতুন’। এছাড়া অন্যান্য রুটির সাথেও এ বিরিয়ানি পরিবেশিত হয়ে থাকে। কেশেনজান আরেকটি বিখ্যাত খাবার যা মুরগি, ভেড়া বা গরুর গোশত ও চাল দিয়ে তৈরি করা হয়। এছাড়া অন্যান্য খাবারের মধ্যে রয়েছে গাজ, খোরেশেতে মাস্ত, পুলাকীসহ নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার।

আধুনিক ইসফাহান
ইরান ইসফাহানের কার্পেট, টেক্সটাইল, স্টীল, হ্যান্ডিক্রাফট প্রভৃতি পণ্য রপ্তানি করছে। ইসফাহানে রয়েছে নিউক্লিয়ার পরীক্ষণ কেন্দ্র ও নিউক্লিয়ার ফুয়েল (ইউএফসি) উৎপাদন কেন্দ্র। ইরানের বৃহত্তম স্টীল উৎপাদন কারখানা ইসফাহানেই অবস্থিত। প্রায় ২০০ কোম্পানি ইরানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। ইসফাহানে রয়েছে বড় বড় তেল শোধনাগার। এখানে ইরান বিমান বাহিনীর একটি বড় ঘাঁটি ও এয়ার ক্রাফ্ট তৈরির কারখানা রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ‘আই আর এএন-১৪০’ নামে একটি এয়ার ক্রাফ্ট সফলভাবে তৈরিতে সক্ষম হয়েছে।

ব্যক্তিত্ব
ইসফাহানের অনেক ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব ইরান তথা বিশ্ববাসীকে আলোর দিশা দেখিয়েছেন, সমাজকে করেছেন অগ্রগামী। বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন ইসলামিক রেভুলেশন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আয়াতুল্লাহ মোহাম্মাদ বেহেশ্তী (১৯২৮-১৯৮১), সাবেক প্রধানমন্ত্রী জনাব মোহাম্মাদ আলী ফোরুগী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসাইন ফাতেমী (১৯১৯-১৯৫৪), আহমদ আমীর আহমাদ (১৯০৬-১৯৫৬), ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় সেনবাহিনী প্রধান জনাব হোসাইন খারাজী, মোহসেন নূর বাখ্শ (১৯৪৮-২০০৩), পাকিস্তান পিপল্স পার্টির চেয়ারম্যান (১৯৭৯-১৯৮৩) নুসরাত ভুট্টো (জুলফিকার আলী ভুট্টোর স্ত্রী ও বেনজীর ভূট্টোর মা), হেযবে মিল্লাতে ইরান এর প্রতিষ্ঠাতা জনাব দারীয়ুশ ফোরুহার (১৯২৮-১৯৯৮) প্রমুখ।
ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সালমান ফারসী, আল্লামা মাজলিসী, আল্লামা বেহেশতী, আয়াতুল্লাহ রহিম আরবাব চিয়ারমাহিনী, আয়তুল্লাহ আশরাফী ইসফাহানী প্রমুখ।
ইসফাহানের লেখক ও কবিদের মধ্যে রয়েছেন হামিদ মোসাদ্দেক (১৯৩৯-১৯৯৮), হাতেফ ইসফাহানী, হেলেন আলীয়া নীয়া, হোসাঙ্গ গুলশারী (১৯৩৮-২০০০), কামাল উদ্দিন ইসমাইল (১২ শতক), মির্জা আব্বাস খান শেইদা (১৮৮০-১৯৪৯), মোহাম্মাদ আলী জামালযাদে প্রমুখ।
শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন জালাল উদ্দিন তাজ ইসফাহানী (জন্ম ১৯৫৩ ইং), হাসান কাসায়ী (১৯২৮ ইং), জালীল শাহনাজ (১৯২১-২০১৩), ফরীদুন রাসূলী, মাস্টার আহমাদ আরচাঙ্গ, আলী রেজা ইফতেখারী (১৯৫৬ ইং), নাসরুল্লাহ মঈন (১৯৫১ ইং), হোসমান্দ আগীলী (১৯৫৪ ইং), হাসান সামাঈযাদে, লায়লা ফোরুহার প্রমুখ।
অভিনেতাদের মধ্যে রেজা আরহাম সাদ্র (১৯২৩-২০০৮), অস্কার বিজয়ী পরিচালক আসগর ফারহাদী (জন্ম ১৯৭২ ইং), নাসরুল্লাহ ভাহদাত (১৯২৫ ইং), মোহাম্মাদ আলী কেশভারজ (১৯৩০ ইং), জাহাঙ্গীর ফোরুহার (১৯১৬-১৯৯৭), বাহমান ফরমানরা (১৯৪২ ইং), রাসূল সাদ্র আমেলী (১৯৫৩ ইং), হুমায়ুন আসাদীয়ান, সুরাইয়া ইস্পানদিয়ারী (১৯৫৬-২০০১), হুমায়ুন এরশাদী (১৯৪৭ ইং) প্রমুখ।
চিত্রশিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন বোগদান সালতানোভ (১৬৩০-১৭০৩), সুমাবাত দের কিরোগিয়ান (১৯১৩-১৯৯৯), হোসাইন মোসাভীরুল মোলকী (১৮৮১-১৯৬৯), ফরিদুন রাসূলী, ওস্তাদ জাভেদ রোস্তম শিরাজী, মাহমুদ কারসিয়ান (১৯৬০) প্রমুখ।
ইসফাহানের রয়েছে অতীত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। ইসফাহান সুদূর অতীতকাল থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্ববাসীর কাছে এক প্রাচীন শহর হিসেবে বিখ্যাত হয়ে আছে। বিশ্ব সংস্কৃতির অনেক নিদর্শন রয়েছে এ ইসফাহানে। সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনের লোকেরা তাঁদের কর্মের জন্য পেয়েছেন বিশ্বখ্যাতি। বর্তমান ইরানের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান গবেষণায় ইসফাহান অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। নিউক্লিয়ার পরীক্ষণ কেন্দ্র ও নিউক্লিয়ার ফুয়েল উৎপাদনের কেন্দ্র হওয়ায় ইসফাহান বিশ্বনেতাদের কাছে নতুন করে আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। রেলপথ, মেট্রো, আকাশপথ ও সড়কপথের যোগাযোগে ইসফাহান অসামান্য। সব মিলিয়ে ইসফাহান এখন বিশ্বের অন্যতম আধুনিক নগরীর মর্যাদায় সমাসীন। তাই ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের কাছে ইসফাহান এক আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।