বুধবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

ইরান ও ইসলামের দুশমনদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে : আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী

পোস্ট হয়েছে: মার্চ ৪, ২০১৮ 

news-image

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ্ উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী ঘোষণা করেছেন, ইরান ও ইসলামের দুশমনদের বিরুদ্ধে ইরানী জনগণের প্রতিরোধ ও সংগ্রাম বিগত চল্লিশ বছরের ন্যায় আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। গত ৯ই জানুয়ারী (২০১৮) ধর্মীয় নগরী কোমের সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ীর সাথে সাক্ষাৎ করলে তাদের উদ্দেগে প্রদত্ত ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ উযমা খামেনেয়ী তাঁর ভাষণে অতি সম্প্রতি ইরানী জনগণ ইসলামি বিপ্লব ও ইসলামি শাসন ব্যবস্থার প্রতি স্বীয় আস্থা ও সমর্থন ব্যক্ত করে দেশব্যাপী যে সময়োজিত ও সমন্বিত উত্তাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে সে জন্য দেশবাসীর প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবী-দাওয়ার অপব্যবহার করে ফায়দা লোটার লক্ষ্যে ইরান ও ইসলামের দুশমনরা যে ষড়যন্ত্র করেছিলো তার বিভিন্ন পর্যায় ও দিকের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি তাঁর ভাষণে বলেন যে, ইরানী জনগণের, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ও ইসলামের দুশমনদের বিরুদ্ধে ইরানের ও ইরানী জনগণের  প্রতিরোধ ও সংগ্রাম বিগত চল্লিশ বছরের ন্যায় আগামীতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে।

১৯৭৮ সালের ৯ই জানুয়ারী তারিখে তৎকালীন শ্হাী সরকারের বিরুদ্ধে কোমের জনগণের অভ্যুত্থানের চল্লিশতম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ীর সাথে কোমের জনগণের এ সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার তাঁর ভাষণে কোমবাসীদের উক্ত অভ্যুত্থানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং কোমের জনগণকে সহাসী, প্রেরণা সৃষ্টিকারী ও আশা উদ্রেককারী বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, কোমের জনগণ ইসলামি বিপ্লবের প্রতি পরিপূর্ণভাবে নিষ্ঠাবান। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইতিপূর্বে কোমের জনগণ প্রতি বছর ৩০শে ডিসেম্বর তারিখে গণমিছিলে অংশগ্রহণ করতো, কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে তারা তাদের এবারের গণমিছিল চার দিনের জন্য পিছিয়ে দেয় ও গত ৩রা জানুয়ারী (২০১৮) তারিখে এ বিরাট সংগ্রামী গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার বলেন, বিগত চল্লিশ বছর যাবত ইরানী জনগণ, বিশেষ করে ইরানের যুব সমাজ যে বিষয়টির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করে আসছে তা হচ্ছে চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টি ও অন্যান্য শক্তির কাছে নতি স্বীকারে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন। তিনি বলেন, ইরানী জনগণ একই যৌক্তিক ভিত্তিতে স্বীয় সমুন্নত ও মহান লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সমূহ হাছি¡লের জন্য আগের চেয়েও অধিকতর উৎসাহ-উদ্দীপনা ও মনোবল সহকারে চেষ্টা চালিয়ে যাবে, আর বিপ্লবের সূচনা কালের তুলনায় বর্তমানে আমাদের যুবকদের সংখ্যা অনেক বেশী।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীকে ইরানী জনগণের ব্প্লৈবিক চেতনার সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, গত ৩০শে ডিসেম্বর যখন আগুন নিয়ে খেলা ও দুর্বৃত্তপনা শুরু হয় তখন ইরানী জনগণ দেশব্যাপী তাদের আন্দোলন শুরু করে, কিন্তু যখন তারা লক্ষ্য করলো যে, দুশমনদের ভাড়াটেরা বিরত হচ্ছে না তখন গোটা জাতির গণআন্দোলন সাফল্যের সাথে ও প্রতিদিন অব্যাহত থাকলো।

ইসলামি বিপ্লবের নেতা জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের গণমিছিল কোনো মামূলী ঘটনা নয়। বস্তুতঃ দুশমনদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এতো আবেগ-উদ্দীপনা, উৎসাহ, আশা-আকাক্সক্ষা, অন্তর্দৃষ্টি ও শৃঙ্খলা সহকারে এ ধরনের বিশাল ও সমন্বিত গণ-আন্দোলন সারা বিশ্বে নযীর বিহীন।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী ইরানী জনগণের এ অনবরত বিক্ষোভের বর্ণনা দিয়ে বলেন, এ হচ্ছে ইরানী জনগণের বিরোধীদের বিরুদ্ধে এ জনগণের লড়াই, ইরান-বিরোধীদের বিরুদ্ধে ইরানের লড়াই ও ইসলাম-বিরোধীদের বিরুদ্ধে ইসলামের লড়াই এবং এ লড়াই আগামীতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, অবশ্য এ লড়াই ও এ প্রতিরোধ ইরানী জনগণকে তাদের জীবনের অন্যান্য দিক থেকে, উদাহরণ স্বরূপ, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি হাছি¡ল্ এবং নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া হতে বিরত র্খাবে না।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানী জনগণের বিরুদ্ধে তার দুশমনদের এ উস্কানিমূলক কার্যকলাপ ও ষড়যন্ত্রের পিছনে নিহিত একমাত্র কারণ হচ্ছে স্বয়ং ইসলামি বিপ্লব, কারণ, ইসলামি বিপ্লব দুশমনদের প্রভাবের মূলোৎপাটন করে ফেলেছে।

তিনি আরো বলেন, এবারেও ইরানী জনগণ তাদের সমস্ত শক্তি সহকারে একটি প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা প্রাচীর সম দৃঢ়তা প্রদর্শন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যকে এবং লন্ডনে বসবাসকারীদেরকে  বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা সফল হতে পারে নি এবং ভবিষ্যতেও সফল হতে পারবে না।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অকল্যাণকামীরা ইরানের অভ্যন্তর থেকেই ইরানের জন্য বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টির লক্ষ্যে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করে একদল ভাড়াটে তৈরী করেছে ও নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে – এ তথ্য উল্লেখ করে ইসলামি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ্ উযমা খামেনেয়ী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারী কর্মকর্তাগণ – রাজনৈতিক বিষয়াদিতে যাদের নির্বুদ্ধিতা অত্যন্ত সুস্পষ্ট – এবার তাদের নিজেদের গোপন চেহারা ফাশ করে দিয়েছে। তারা ইরানের ডাস্ট্বিনে (রিসাইক্ল্ বিন্-এ) নিক্ষিপ্তদেরকে তুলে এনে পুনরায় কাজে লাগানো ও তাদেরকে পুনরায় মঞ্চে নিয়ে আসার লক্ষ্যে নেটওয়ার্ক তৈরী ও একদল ভাড়াটে লালনের কথা এবং এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পারস্য উপসাগরীয় এলাকার দেশগুলোর নামসর্বস্ব সরকারগুলোকে প্রতারিত করে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করার কথা স্বীকার করেছে।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ইসলামের দুশমনরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার লক্ষ্যে যে হাজার হাজার সাইবারস্পেস্ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে ও এরপর বহু টেলিভিশন চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করেছে এবং বহু গুপ্তহত্যা স্কোয়াড্ ও বোম্বিং স্কোয়াড্ গড়ে তুলেছে, আর তাদেরকে ইরান সীমান্তের অভ্যন্তরে পাঠিয়ে দিয়েছে – যারা ইরানী জনগণের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে মিথ্যা, অপপ্রচার ও গুজব হামলা চালিয়েছে – এ তথ্য উল্লেখ করে ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা বলেন, তারা যে এ সব অপচেষ্টা চালায় তার পিছনে লক্ষ্য ছিলো ইরানী জনগণের, বিশেষ করে যুব সমাজের মন-মানসিকতায় পরিবর্তন সাধন করা, কিন্তু এর ফল হয় প্রিয় শহীদ হোজাজী ও অন্যান্য শহীদের শাহাদাত – যারা বিপ্লবের হেফাযতের জন্য তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশের লক্ষ্যে শত্রু পক্ষ এমনকি কিছু লোককে প্রলোভন দিয়ে তাদের পক্ষে কাজ করার জন্য আকর্ষণ করতে সক্ষম হয় এবং ঐ লোকগুলো সরাসরি হৈচৈ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে, আর বিগত কয়েক দিনে মার্কিন কর্মকর্তারা যেভাবে এতে নাক গলিয়েছে তা সকলেই দেখেছে। কিন্তু তারা আজ পর্যন্ত সফল হতে পারে নি, বরং তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানী জনগণ ইরান ও ইসলামের দুশমনদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেয়ায় ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার জনগণের প্রতি তাঁর আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমি মনে করি যে, ইরানী জনগণ কেবল এবারই নয়, বরং হাজার বার প্রমাণ করেছে যে, ইরানী জাতি প্রকৃতই একটি পরিপক্ব, অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী, অধ্যবসায়ী, পরিশ্রমী, সময়জ্ঞানের অধিকারী ও সময় সচেতন জাতি এবং এ কারণে তারা জানে যে, কখন মাঠে নামতে হবে।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী জোর দিয়ে বলেন, দুশমনদের কাছে এ সব বাণী পৌঁছে গিয়েছে, যদিও তারা যখন প্রচারণা চালায় তখন তা স্বীকার করে না, বরং তারা তাদের প্রচারণায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী শত শত লোককে হাজার হাজার হিসেবে তুলে ধরে, অন্যদিকে বহু মিলিয়ন জনগণের আন্দোলনকে তারা একটি ছোট্ট গ্রুপ বলে দাবী করে, কিন্তু তাদের নীতিনির্ধারকরা এভাবে ব্যাপক ইরানী জনগণের মাঠে নামা সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত এবং এর বাণীও তাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ইরানী জনগণ এ বিরাট আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে স্বীয় দায়িত্ব পালন করেছে এবং শত্রু পক্ষের নীতিনির্ধারকদের অন্তরে ভীতি সৃষ্টি করে দিয়েছে, আর এভাবে এ জাতি স্বীয় অন্তর্দৃষ্টিকে ও উদ্দেশ্যমুখীনতাকে পূর্ণতা প্রদান করেছে।

পূর্ববর্তী কয়েক দিন যাবত কিছু ব্যক্তি ও দল বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ও সাইবারস্পেস নেটওয়ার্কে যে সব ভাষ্য ও বিশ্লেষণ প্রচার করে আসছিলো ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার সে সবের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ সমস্ত বিশ্লেষণ ও ভাষ্যে একটি অভিন্ন সঠিক পয়েন্ট রয়েছে, তা হচ্ছে, জনগণের সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবী-দাওয়া ও একটি বিশেষ গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সৃষ্ট বন্য ও ধ্বংসাত্মক তৎপরতার মধ্যে পার্থক্য করতে হবে এবং জনগণের সঠিক দাবী-দাওয়া অবশ্যই পূরণ করতে হবে।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, কতক রোক তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকছে এবং এ কারণে তারা প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে কোথাও জড়ো হচ্ছে – এটা এক বিষয়, কিন্তু কিছু লোক এ সমাবেশ থেকে ফায়দা হাছি¡ল্ করছে এবং কোরআন ও ইসলামের অবমাননা করছে – তারা ইরানী পতাকার অবমাননা করেছে ও বিভিন্ন মসজিদে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে – এটা আলাদা বিষয়। তিনি বলেন, গণবিক্ষোভ ও গণদাবী এমন একটি বিষয় যা সব সময়ই ছিলো এবং এখনো আছে। সাম্প্রতিক বছরে ইরানের বিভিন্ন শহরের কিছু লোক বিনিয়োগ ফান্ডের জন্য বা কতক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে তাদের বক্তব্য পেশের উদ্দেশ্যে মজলিসে শূরায়ে ইসলামি (পার্লামেন্ট)-এর সামনে জমায়েত করে, কিন্তু কেউই তাদের এ কাজের বিরোধিতা করে নি বা এ জন্য তাদের প্রতি শত্রুতা প্রদর্শন করে নি; এ ধরনের দাবী-দাওয়ার কথা অবশ্যই শুনতে হবে এবং সাধ্যানুযায়ী তা পূরণ করতে হবে।

ইসলামি প্রজাদন্ত্র ইরানে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, গোয়েন্দা বিভাগ যে সব প্রমাণ ও নিদর্শন উদ্ঘাটন করেছে তা প্রমাণ করে যে, এ সব ঘটনা ছিলো পূর্বপরিকল্পিত এবং এ সব ঘটনার পিছনে একটি ত্রিভুজ (তিনটি পক্ষের সমন্বিত শক্তি) সক্রিয় ছিলো। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যায়নবাদীরা ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা তৈরী করে এবং এ পরিকল্পনাটি নিয়ে কােয়ক মাস যাবত কাজ করে, এরপর তারা এ ত্রিভুজের একটি কোণ তৈরী করে। তাদের পরিকল্পনা ছিলো এই যে, প্রথমে ছোট ছোট শহরে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং এরপর তা রাজধানীতে পৌঁছে যাবে।

ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার বলেন, এ ত্রিভুজের দ্বিতীয় কোণটি ছিলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ধনী সরকারগুলোর একটি – যে সরকারটি এ চক্রান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ করে।  আর এ ষড়যন্ত্রের তৃতীয় কোণটি ছিলো বিশ্বাসঘাতকদের ঘাতক সংগঠনের  সাথে সম্পর্ক রক্ষাকারী  একদল সেবাদাস এবং তারা কয়েক মাস ধরে এ জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী উক্ত প্রতিবাদ বিক্ষোভের আহ্বানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তারা তাদের এ আহ্বানে “উচ্চ দ্রব্যমূল্যের প্রতি ‘না’” শ্লোগান ব্যবহার করে – যা ছিলো একটি আকর্ষণীয় শ্লোগান এবং এ শ্লোগানের সাহায্যে তারা কিছু লোককে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করতে ও দৃশ্যপটে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। তিনি বলেন, প্রথম দিকে কিছু লোক এ শ্লোগানে এসে শামিল হয়, কিন্তু অচিরেই যখন লোকেরা এর উদ্দেশ্য-লক্ষ্যে ও শ্লোগানে পরিবর্তন দেখতে পায় তখন তারা নিজেদেরকে এ থেকে সরিয়ে নেয়। ফলে যেই লোকেরা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার  বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে “উচ্চ দ্রব্যমূল্যের প্রতি ‘না’” শ্লোগান তুলেছিলো সেই একই লোকেরা ওদের থেকে সরে যাবার পর ৩০শে ডিসেম্বর আমেরিকা ও বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে শ্লোগান তোলে।

ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর ওপর তাঁর আলোকপাতের ধারাবাহিকতায় দুশমনদের প্রচার মাধ্যম সমূহে প্রচারিত কতক বক্তব্য ও বিবৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, পরিকল্পিত তৎপরতা পরিচালনা ও সে লক্ষ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি প্রতিবেশী দেশে দু’টি কমান্ড্ পোস্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো। এ দু’টি কমান্ড্ পোস্ট্ বা ঘাঁটির একটির কাজ ছিলো সাইবারস্পেস নেটওয়ার্কের অভিযান পরিচালনা এবং দ্বিতীয়টির কাজ ছিলো দাঙ্গা সৃষ্টি করা। আর এ উভয় ঘাঁটিই পরিচালিত হচ্ছিলো আমেরিকান ও যায়নবাদীদের দ্বারা এবং তারা মনে করছিলো যে, তারা অবশ্যই বিজয়ী হবে।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দুশমনরা যে নির্বোধ এ জন্য হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট শুকরিয়া আদায় করেন এবং বলেন, ইরানী জনগনের পক্ষ থেকে উপর্যুপরি পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ সত্ত্বেও দুশমনরা এখনো ইরানী জনগণকে চিনতে পারে নি এবং তারা এখনো একটি জাতির ঈমান ও সাহসিকতার অভেদ্য প্রাচীরের তাৎপর্য বুঝতে পারে নি।

তিনি বলেন, মার্কিন সরকারের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক প্রলাপোক্তি সমূহ হচ্ছে তাদের চরম উত্তেজনাকর আক্রোশ এবং তা তাদের সাম্প্রতিক ব্যর্থতারই প্রতিক্রিয়া। তারা বলে যে, ইরান সরকার তার নিজের জনগণকে ভয় পায়। (!) না, মোটেই তা নয়। কারণ, ইরানের সরকার তার জনগণের ভিতর থেকেই জন্ম নিয়েছে এবং ইরানের ইসলামি সরকার এই একই জনগণের পৃষ্ঠপোষকতায়  তোমাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে আছে।

ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার আরো বলেন, তারা বলে যে, ইরান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিকে ভয় পায়। জবাবে আমরা বলছি, আমরা যদি তোমাদেরকে ভয়ই পাবো তো কীভাবে আমরা ১৩৫০-এর দশকে  তোমাদেরকে লাথি মেরে ইরান থেকে বের করে দিলাম এবং ১৩৯০-এর দশকে  প্রায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে তোমাদেরকে তাড়িয়ে দিলাম?

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকার সাম্প্রতিক সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সাথে যে ধরনের আ্চরণ করেছে সে ব্যাপারে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্বেগ প্রকাশকে রাহ্বার তাদের প্রলাপোক্তির আরেকটি দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তোমাদের কি লজ্জা হয় না? গত বছর আট শতাধিক মার্কিন নাগরিক পুলিশের হাতে নিহত হয়েছে। অকুপাই ওয়াল্ স্ট্রীট্ উত্থানের সময় জনগণের বিরুদ্ধে তোমরা তোমাদের শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী সব কিছু করেছ্ এবং যে কোনো অভিযোগে ও যে কোনো বাহানায় তোমরা লোকদেরকে হত্যা করেছো। আর এখন তোমরা ইরানী জনগণের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করছো!!

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অকল্যাণকামী বুটিশ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ইরানী জনগণের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশের কথা উল্লেখ করে হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, সম্প্রতি বৃটিশ মুসলমানদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বিভিন্ন হামলা ও মুসলমানদের আত্মরক্ষার ঘটনা সম্পর্কে একজন বৃটিশ বিচারক অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করেছেন, এমতাবস্থায় এহেন দেশের কর্মকর্তারা কী করে বিক্ষোভকারীদের সমর্থকে পরিণত হয়ে গেলো?

ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার বলেন, আমেরিকানদের সুস্পষ্ট লক্ষ্য হচ্ছে ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করা। প্রকাশ্য নীতিগত অবস্থানে এ লক্ষ্য গোপন রাখার জন্য আমেরিকার সাবেক সরকার যে সব চেষ্টা চালিয়েছিলো এবং সে চেষ্টারই অংশ হিসেবে তৎকালীন মার্কিন সরকার ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার বরাবরে যে সব পত্র প্রেরণ করেছিলো তিনি তার উল্লেখ করে বলেন, সন্দেহ নেই যে, তাদেরও মনোভাব ছিলো নাশকতামূলক, তবে আমেরিকার বর্তমান সরকার প্রকাশ্যেই এবং কোনো কিছু বিবেচনা না করেই এ লক্ষ্যের কথা ঘোষণা করেছে।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, ইরানীদের জাতীয় শক্তির প্রধান উপাদানগুলোকে নিশ্চিহ্ন করাই ছিলো আমেরিকানদের প্রধান লক্ষ্য এবং এর মাধ্যমেই তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রী শাসন ব্যবস্থাকে উৎখাত করতে চেয়েছিলো। কিন্তু ইরানী জনগণের সাধারণ আবেগ ও জনমত সরকারের অনুকূলে, অন্যদিকে যুব সমাজের ঈমান ও মনোভাব ইরানের জাতীয় শক্তির প্রধান উপাদান সমূহের অন্যতম, আর এই একই কারণে দুশমনরা তাদেরকে তুচ্ছ করার ও নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জতীয় শক্তির অন্যান্য উপাদানের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা শক্তি ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে শক্তিশালী উপস্থিতি অন্যতম। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সাথে আলোচনার কথা উল্লেখ করতে সাহস পায় না। কিন্তু কোনো ইউরোপীয় দেশ যখন বলে, আমরা ইরানের সাথে আলোচনা করতে চাই, তখন অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করা উচিত যে, কেন তোমরা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উপস্থিত আছো?

ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার এরপর তাঁর ভাষণে মার্কিন প্রশাসনকে সম্বোধন করে তিনটি বিষয় উল্লেখ করেন; তিনি বলেন, প্রথমতঃ সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে তোমরা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছো এবং তোমরা যদি এর পুনরাবৃত্তি কর তাহলে তোমরা পুনরায় ব্যর্থ হবে। দ্বিতীয়তঃ বিগত কয়েক দিনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বেশ ক্ষতি হয়েছে এবং এটা প্রতিশোধ বিহীন যাবে না। তৃতীয়তঃ এই লোকটির  – স্বয়ং আমেরিকানদের মতেই যে ব্যক্তি মানসিক ও শারীরিকভাবে অস্থিতিশীল – অবশ্যই জেনে রাখা উচিত যে, এ সব কৃত্রিম পাগালামি জবাব বিহীন যাবে না।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকারের উদ্দেশে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রতিরোধের এবং জাতির ও দেশের স্বার্থের হেফাযতের জন্য নির্দেশ দিয়ে বলেন, ইরানের বাইরের যে সব লোক, বা দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইরানের অভ্যন্তরেও যে সব লোক, এ সমস্যাবলীর সামাজিকীকরণ করতে চায় এবং আমেরিকানদের সাথে যোগাযোগের অধিকারী হতে চায় তাদের অবশ্যই এ মন্তব্যগুলো শুনে রাখা উচিত এবং জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ্ তা‘আলার অনুগ্রহে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকার এ সব সমস্যার সবগুলোরই অবসান ঘটাবে।

ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার তাঁর ভাষণের অপর এক অংশে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের কর্মকর্তাদের এবং দেশের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের প্রতি অধিকতর সচেতন ও সাবধান হবার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে দুশমনদের জড়িত থাকার বিষয়টি  কেবল একটি বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার বিষয় মাত্র নয়, বরং তা গোয়েন্দা বিভাগের দেয়া তথ্যাদি ও সংবাদ সমূহের ওপর ভিত্তিশীল। সুতরাং এ সব বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা যেন আমাদেরকে আমাদের দুর্বলতা সমূহ ও সমস্যাবলী সম্পর্কে উদাসীন করে না ফেলে।

ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার জোর দিয়ে বলেন, মাছি যেভাবে ক্ষতের ওপর বসে ঠিক সেভাবেই দুশমনরা সমস্যাবলী ও দুর্বলতা হতে সৃষ্ট ক্ষত থেকে ফায়দা গ্রহণ করে। সুতরাং আপনাদেরকে ক্ষত সমূহ নিরাময় করতে হবে; আপনারা ক্ষত সৃষ্টি হতে দেবেন না। কারণ, আমাদের দেশের অভ্যন্তরে যদি দুঃখ-কষ্ট আদৌ না থাকে তাহলে বিদেশীদের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর ভ্রান্ত তথ্য প্রচার তাদের জন্য কোনো কাজ দেবে না। তাহলে আর আমেরিকানরা কিছুই করতে পারবে না।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন যে, জনগণের অধিকারের প্রতিরক্ষা করা এবং তাদের সমস্যাবলীর সমাধানের জন্য চেষ্টা চালানো সরকারী কর্মকর্তাদের সকলের দায়িত্ব। তিনি বলেন, জনগণের একটি অংশ, বিশেষ করে দরিদ্র শ্রেণীর লোকেরা চাপের মধ্যে আছে। তাই সরকারী কর্মকর্তাদের সকলের জন্যই সর্বশক্তি নিয়োগ করে দরিদ্র শ্রেণীর সমস্যাবলীর সমাধানের জন্য চেষ্টা করা অপরিহার্য।

ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী তাঁর ভাষণে সমাজের সমস্যাবলী চিহ্নিত করণ, মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাবলীর সমাধানের প্রতি মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করণ এবং সমস্যাবলীর মূলোৎপাটনের লক্ষ্যে শ্রম বিভাজন করার জন্য রাষ্ট্রের তিন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী ইতিপূর্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রদত্ত বিভিন্ন সাক্ষাতে সামাজিক অসামঞ্জস্য সমূহের প্রতি তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং উল্লেখ করেন যে, কতক কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ সব ক্ষতি হ্রাস করার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, তবে সকলেরই জেনে রাখা প্রয়োজন যে, আমাদের এমন কোনো সমস্যা নেই যা সমাধান করা সম্ভব নয় এবং আমাদের দেশে এমন কোনো গিঁট নেই যা খোলা সম্ভব নয়। তবে আমাদেরকে আরো বেশী প্রস্তুত হতে হবে, আরো বেশী সচেতন হতে হবে এবং আরো বেশী ও অধিকতর নির্ভুলভাবে চেষ্টা ও সংগ্রাম করতে হবে।

ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার দেশের সকল বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে যে সব গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ প্রদান করেন তার মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা ও মিলেমিশে কাজ করা অন্যতম। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে, যখন গোঁয়ার ও একগুঁয়ে দুশমন হুমকি দিচ্ছে ও বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টির জন্য আপচেষ্টা চালাচ্ছে তখন দেশের কর্মকর্তাদের ও রাজনৈতিক সংস্থা সমূহের জন্য একত্রে ও মিলেমিশে কাজ করা এবং একে অন্যকে পর্যালোচনা ও ছোট করা হতে বিরত থাকা অপরিহার্য।

ইতিপূর্বে ২০০৯ সালে কোনো কোনো মহল কর্তৃক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও আইন অমান্য করার ফলে ইরানকে ও ইরানী জনগণকে যে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হয় তার উল্লেখ করে হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী তাঁর ভাষণে বলেন, আমি সব সময়ের মতোই সকলকে আইন মেনে চলার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি এবং এ জন্য তাকিদ করছি।

ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার বলেন, ন্যায়সঙ্গত সমালোচনা করা উািচত এবং উত্তমভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়া উচিত, আর এটাই কার্যকর হয়ে থাকে। তিনি বলেন, সমালোচনা ও স্মরণ করিয়ে দেয়ার নামে যেন গুযব ছড়ানো না হয় এবং ভিত্তিহীন গল্প তৈরী, তিলকে তাল করা ও অযৌক্তিক বিষয় উপস্থাপন করা না হয়।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী সরকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কর্ম সংস্থান ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগ প্রদানের জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বেশীর ভাগ অনাচারের পিছনে মূল কারণ হচ্ছে বেকারত্ব, সুতরাং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। কিন্তু বাড়াবাড়ি ও ভারসাম্যহীনতা এ সমস্যার সমাধান দেবে না। তবে সৌভাগ্যবশতঃ সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এ ক্ষেত্রে কর্মব্যস্ত রয়েছেন।

ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী তাঁর ভাষণের অপর এক অংশে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ বাহিনী ইসলামি বিপ্লবের রক্ষী বাহিনী ও গণবাহিনী যথাযথ ভূমিকা পালন করায় তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে যারা জড়িত ছিলো তাদের সকলকে এক দৃষ্টিতে না দেখার জন্য আহ্বান জানিয়ে রাহ্বার বলেন, এ ক্ষেত্রে যুবকরা ও কিশোররা – যারা সাইবারস্পেস্ হিস্টিরিয়ার প্রভাবে কিছু করেছে এবং যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেবাদাস ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করে – এই দুই ধরনের লোকের মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য করতে হবে। তিনি বলেন, যারা সাইবারস্পেস হিস্টিরিয়ার কারণে এতে জড়িত হয়েছিলো – তা তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হোক বা না হোক, তাদের সাথে কথা বলতে হবে এবং তাদেরকে প্রকৃত বিষয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে হবে। কিন্তু যারা বিশ্বাসঘাতকদের হাতের পুতুল এবং মানুষ হত্যাকারী তাদের বিষয়টি আলাদা।

ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার তাঁর ভাষণের শেষ পর্যায়ে সরাসরি দেশের সাধারণ জনসগণের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, যতো বারই দেশের জন্য প্রয়োজন হয়েছে ততো বারই ইরানী জনগণ দৃঢ়তার সাথে অভাবনীয় সংখ্যায় ও অনান্তরিকতার সাথে রাজপথে নেমে এসেছে; এ কারণে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের ওপর সন্তুষ্ট হবেন। তিনি বলেন, বিগত চল্লিশ বছরে নির্বাচন, গণমিছিল ও অন্যান্য যে কোনো উপলক্ষ্যে Ñ  যখনই প্রয়োজন হয়েছে তখনই ইরানী জনগণ যথাযথ ভূমিকা পালন করেছে এবং ইরানের জন্য সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে এসেছেন।

ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার গুযব ছড়ানাকে ইরান ও ইসলামের দুশমনদের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার বলে অভিহিত করেন এবং জনগণের উদ্দেশে বলেন, যতোক্ষণ পর্যন্ত না আপনারা স্বয়ং যথাযথ ও যুক্তিসঙ্গত দলীল-প্রমাণ দেখতে পাচ্ছেন এবং তার বিষয়বস্তুও যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হচ্ছে ততোক্ষণ পর্যন্ত আপনারা তা প্রচার করবেন না; কিছুতেই আপনারা শত্রুদের তৈরী গুযব ও ভিত্তিহীন বক্তব্য ও বিবৃতি ছড়িয়ে দেবেন না।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী আরো বলেন, জনগণকে মনে রাখতে হবে যে, দেশের কর্মকর্তাগণ ঘুমিয়ে নেই, বরং তাঁরা তাঁদের সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছেন ও কঠোর পরিশ্রম করছেন, যদিও কতক ক্ষেত্রে ঘাটতি ও ত্রুটি রয়েছে। তিনি বর্তমানে কতক সমস্যার সমাধানের জন্য যে প্রচেষ্টা চলছে তার উল্লেখ করেন এবং বলেন, অন্য কতোগুলো সমস্যা আছে যেগুলোর সমাধান সময় সাপেক্ষ ব্যাপার; সেগুলোর সমাধানের জন্য আরো সময় লাগবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের প্রায় সকল কর্মকর্তাই প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে স্বয়ং জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত; তাঁদের অবশ্যই উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে এবং অধুনাতম সব কিছু ব্যবহার করে জনগণের সমস্যাবলীর সমাধানের জন্য অধ্যবসায়ের সাথে চেষ্টা-সাধনা করতে হবে এবং এ জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার হযরত আয়াতুল্লাহ্ উযমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী তাঁর এ ভাষণের সমাপ্তিতে বলেন, আমি দেশের অত্যন্ত উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী এবং আমি মনে করি যে, আল্লাহ্ তা‘আলা এ জাতিকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করতে চান এবং আল্লাহ্ তা‘আলার অনুগ্রহে তা প্রকাশিত হবে।

ইংরেজী অনুবাদের ভিত্তিতে বঙ্গানুবাদ :  নূর হোসেন মজিদী