মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৭ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইরান-ইউরোপ সম্পর্ক: পরমাণু সহযোগিতার ক্ষেত্রে নয়া অধ্যায়ের সূচনা

পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৬ 

news-image

পরমাণু ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার জন্য ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি বর্তমানে ব্রাসেলস সফর করছেন।

ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার নীতিমালার আলোকে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সহযোগিতা বিস্তারের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি কমিশনার কানাইয়াথের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আলী আকবর সালেহি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ইরান ও ইউরোপ প্রযুক্তি ও জ্ঞানবিজ্ঞানে সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, খুব শিগগিরি ইরান নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লিয়ার সংযোজনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পের সদস্য হতে যাচ্ছে। পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আইটিইআর নামে এই প্রকল্পের অন্য সদস্য দেশের মধ্যে রয়েছে ইউরোপের ২৭টি দেশ। এ ছাড়া আমেরিকা, চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানও আইটিইআর নামের এই প্রকল্পের  সদস্য।  এই প্রকল্পের আওতায় আগামী ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। বর্তমানে ইরানও এ ক্ষেত্রে পুঁজি বিনিয়োগের কাজ শুরু করল।

ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা এক বছর অতিক্রান্ত হল। কিন্তু চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এখনো ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হয়নি। চুক্তিতে শান্তিপূর্ণ পরমাণু তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া ও গবেষণার অধিকার ইরানকে দেয়া  হয়েছে। পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী ইরান সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা তো কমায়নি বরং পরমাণু সংক্রান্ত গবেষণা আরো বিস্তৃত করেছে।

ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীরা ব্যাপক পরিশ্রম করে আইসোটোপ তৈরির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এ ব্যাপারে আলী আকবর সালেহি বলেছেন, অত্যাধুনিক সেন্ট্রিফিউজ নির্মাণের জন্য রাশিয়ার সহযোগিতায় আইসোটোপ উৎপাদনের কাজ চলছে। নিউক্লিয়ার সংযোজনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আন্তর্জাতিক আইটিইআর হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। ইরান এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ায় পরমাণু জ্বালানি ক্ষেত্রে দেশটি ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরমাণু শিল্পকে বাণিজ্যিকি করণে ইরানের তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে পর্যাপ্ত হেভি ওয়াটার উৎপাদন ও বিক্রি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আরাক পরমাণু প্রকল্প থেকে হেভি ওয়াটার উৎপাদনে ইরান স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। ওষুধ ও কেমিক্যাল শিল্পে ব্যবহারের জন্য হেভি ওয়াটার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পণ্য। ইরানের তৈরি হেভি ওয়াটার গুণগত মানের দিক থেকে অনেক উন্নত। অত্যাধুনিক এ পণ্য তৈরিতে বিশ্বের গুটি কয়েক দেশের মধ্যে ইরান অন্যতম। বর্তমানে আমেরিকা ও রাশিয়া ছাড়াও ইউরোপীয়  ইউনিয়নের অনেক কোম্পানি ইরানের কাছ থেকে হেভি ওয়াটার বা ভারি পানি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইরান বর্তমানে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সমৃদ্ধি অর্জন করেছে।

সূত্র: পার্সটুডে ।