বুধবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইরানে বিপ্লবের ৪০ বছর

পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯ 

news-image

ইরানে সংঘটিত ‘ইসলামী বিপ্লব’-এর ৪০তম বার্ষিকী ১১ ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক বিশ্বের বহুমুখী বৈরিতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দশকের পর দশক ধরে চলমান অবরোধের মধ্যেও দেখা গেছে, অভূতপূর্ব প্রাণশক্তিতে ভরপুর ইরানি জাতি বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে দ্রুত ও দৃপ্তগতিতে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। বৈশ্বিক মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনে তাদের অবস্থান এখন ১৮৯ দেশের মধ্যে ৬০তম, যা তুরস্ক, চীন ও ভারতের ওপরে। ইরানের ভৌগোলিক সীমার মধ্যেই শুধু নয়, তেহরানের প্রভাবের পরিধি বাড়ছে ইরাক-সিরিয়া-ইয়েমেন-লেবানন পর্যন্ত। চার দশক ধরে কঠিন অবরোধের মধ্যে থেকেও ইরান যে শুধু টিকে আছে তাই নয়; অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে পূর্ণ শক্তিমত্তারও পরিচয় দিচ্ছে, যা বিস্ময়কর।

বিপ্লবের আগে ইরানের জনমানসে প্রধান বৈরী দেশ ছিল যুক্তরাজ্য। মূলত যুক্তরাজ্যকে ইরানের তেলসম্পদ লুটে নেয়ার সুযোগ করে দেয়ার প্রতিবাদেই তদানীন্তন শাহের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ক্ষোভ থেকে জন্ম নেয় এক অপ্রতিরোধ্য জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধসঞ্জাত ধর্মীয় চেতনা। সেটাই পরে কোম শহরের ইসলামী নেতৃত্বের নিরলস চেষ্টায় সমগ্র জাতির মধ্যে এক ধরনের বিশাল জাগরণ সৃষ্টি করে এবং সর্বব্যাপী বিপ্লবকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে।

বিপ্লব সফল হওয়ার পর ১৯৭৯ থেকে ক্রমেই ওয়াশিংটন তথা যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান বৈরী দেশ হয়ে ওঠে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ইতিহাসের কঠোরতম অর্থনৈতিক অবরোধ কার্যকর করেছে। তেল বিক্রি, সমুদ্র-বাণিজ্য, ব্যাংক ব্যবস্থা- সবই এই নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন। ইরানকে নতজানু করার জন্য ৪০ বছর ধরেই ওয়াশিংটন একের পর এক প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান সে সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সবচেয়ে বড় শয়তান’ হিসেবে অভিহিত করে। এখন ওই অভিধাটি ব্যবহার না করলেও দুই দেশের বৈরিতার মাত্রায় তেমন কোনো হেরফের হয়নি। তবে ইউরোপের প্রধান কয়েকটি দেশ জার্মানি, ব্রিটেন, রাশিয়া ও ফ্রান্স ইরানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে শরিক না হয়ে দেশটির সাথে কিছু অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক সম্পর্ক রক্ষা করছে। এভাবে ইরান কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে কার্যত পেছনে ফেলে দিয়েছে।

ইরান তার রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রচেষ্টারই প্রতিফলন ইরাকে, সিরিয়ায়, লেবাননে এবং ইয়েমেনে ইরানি প্রভাবাধীন শক্তির একটি বলয় তৈরি করা।

ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো ইরান বিপ্লবের অগ্নিগর্ভ দিনগুলোতে দু’বার তেহরান সফর করেন। ইরান বিপ্লব ও সেই সময়কার ইরান নিয়ে তিনি বেশ কিছু নিবন্ধ লিখেছেন। তিনি পাশ্চাত্যের বেশির ভাগ পণ্ডিতের মতো ইরান বিপ্লবকে ‘মৌলবাদ’ বা ‘ইসলামী’ অভিধায় চিহ্নিত না করে বরং এটিকে ‘বহমান ইতিহাসের এক সমসাময়িক অভিব্যক্তি’ হিসেবে দেখেছেন। বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির ‘আধ্যাত্মিকতার রাজনীতি’র ভবিষ্যৎ নিয়ে ফুকো আশাবাদী ছিলেন। নতুন রাজনীতি ও সংস্কৃতির এই নতুন জোয়ার মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন পটপরিবর্তনের সূচনা করবে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি সম্ভবত তার অনুমানের অভ্রান্ততার সাক্ষ্য দেয়। ফুকো বিশ্বব্যাপী পশ্চিমা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ইরান বিপ্লবকে ‘প্রথম বড় ধরনের অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করেন।

এই বিপ্লব কেবল ইরানের সবচেয়ে বড় বিপ্লব নয়, বরং অনেকের মতে এটি গোটা বিশ্বের ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে বড় বিপ্লব। কারণ, এর সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে ছিল ইরানি জাতির মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ। ভাবলে বিস্মিত হতে হয়, বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ও গৌরবময় বিপ্লবের উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় যে ফরাসি বিপ্লবকে, তাতে তৎকালীন ফরাসির মাত্র ২ শতাংশের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল।

ইরান বিপ্লব নিয়ে দেশে দেশে প্রচারমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা গত ৪০ বছরেও কিছুমাত্র কমেনি। এখনো পাশ্চাত্যের এবং আমাদের মতো দেশগুলোর পাশ্চাত্যপন্থী লেখক-বুদ্ধিজীবীরা এই বিপ্লবকে নিছক মোল্লাতন্ত্রের উত্থান এবং ইরানকে কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মার্কিন অবরোধের কারণে ইরান কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কিভাবে দেশটির শাসকগোষ্ঠীর সম্ভাব্য পতন ঘটতে পারে, তা নিয়েও গবেষণার শেষ নেই। ইরানে নারী অধিকার, সংখ্যালঘু অধিকার এবং মানবাধিকার কতভাবে খর্ব করা হয়েছে কিংবা কোমভিত্তিক ইসলামী নেতৃত্বের সাথে রাজধানীকেন্দ্রিক শিক্ষিত তরুণসমাজের মানসিক দ্বন্দ্ব কিভাবে দেশটিতে ‘সম্ভাব্য বিস্ফোরণ’ ঘটাতে পারে, তা নিয়েও কৌতূহলোদ্দীপক বিচার-বিশ্লেষণ হামেশা চলছে। কিন্তু তারা কোনো তল খুঁজে পাচ্ছে না।

পাশ্চাত্যের লেখক-বুদ্ধিজীবীদের এই ব্যর্থতার পেছনের কারণ হলো, তাদের সংস্কৃতি ও শিক্ষার মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি। ইমাম খোমেনি তার অনুসারীদের কাছে ইসলামী জাগরণের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরিষ্কার একটি ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছিলেন, যা তাদের মনে বিশ্বাসের সুদৃঢ় শিকড় গেড়েছিল। সেই বিশ্বাসের অবসান হয়েছে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই।

বিপ্লবের মূল মর্মবাণী ছিল স্বাধীনতা, মুক্তি, ইসলামী প্রজাতন্ত্র। আয়াতুল্লাহ খোমেনি দেখিয়ে গেছেন সত্যের পথে যে বাধাবিপত্তি আছে তার সাথে লড়াই করে কিভাবে অটল-অবিচল থাকতে হয়। ইতিহাস, বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিবেচনায় ইসলামী জ্ঞান থেকে ইরানের ইসলামী বিপ্লব রসদ সংগ্রহের কৌশল শিখিয়েছে। তাই তাকে প্রকৃতি ও চার পাশ সম্পর্কে গভীর অনুধ্যান এবং এর নিরিখে ইসলামের মর্মবাণী কী, তা নিরূপণ করতে হয়।

একজন বিপ্লবীর জীবনের যেসব বাস্তব ও ব্যক্তিগত দিক রয়েছে তাকে ইসলাম উদ্ভাসিত করে। একজন অনুসারী তার ধর্মীয় নেতা বা ইসলামী শাসকের কাছ থেকে জীবন সংগ্রামের যেসব রসদ পান, তা তাকে এতটাই সমৃদ্ধ করে তোলে যে, কোনো আগ্রাসী শক্তিকেই তিনি ভয় পান না। তার উপলব্ধি অটুট থাকে। কারণ, তিনি তার লক্ষ্য ও তা অর্জনের পথগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার জ্ঞান অর্জন করেন। এভাবেই এক ধরনের দৃঢ় আস্থা নিয়ে ইসলামী বিপ্লবের অনুসারীরা একের পর এক বাধা অতিক্রম করতে পেরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া ইরাকের সাথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, পরাশক্তিগুলোর অবরোধ কিংবা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের মানুষ যে কঠিন মনোবল নিয়ে বছরের পর বছর লক্ষ্য অর্জনে ধাবিত হতে পেরেছে, তার রহস্য নিহিত রয়েছে ওই বিশ্বাস ও আত্মিক সম্পর্কের মধ্যে।

ইরানে সম্পদের সামাজিক বণ্টনের একটি সুপ্রাচীন ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পদের জোগান দেয়ার এই ব্যবস্থা এখনো অব্যাহত আছে এবং তা আরো জোরালো হয়েছে। বিপ্লবের নেতারা ক্ষমতাকে নিজেদের সম্পদ অর্জনের বা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেননি। বরং সততা ও নিষ্ঠার দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে।

সমাজের স্বাভাবিক বিকাশ ও অগ্রগতির নিয়ামকগুলো তারা ধর্মের নামে রুদ্ধ করেননি, যেমনটি করেছিলেন আফগানিস্তানের তালেবানি শাসকেরা। বাইরের বিরূপ প্রচারণা সত্ত্বেও ইরানি সমাজে নারীদের ভূমিকা অতীতের চেয়ে সঙ্কুচিত তো নয়ই, বরং আরো বিস্তৃত হয়েছে। দেশটির সাহিত্য, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, ক্রীড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য- এমনকি রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের দিকে তাকালেই সেটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ইরান বিপ্লবের পর ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ইরানিদের গড় আয় বেড়েছে ৬৮ শতাংশ। গড় আয়ু ৫৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৫ বছর। কঠোরতর অবরোধে পড়ে এসব অগ্রগতি হয়তো কিছুটা বাধাগ্রস্ত হবে, কিন্তু থমকে যাবে না। উল্লেখ করার বিষয় হলো, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরানই হচ্ছে জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে সবচেয়ে অগ্রসর দেশ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক পশ্চিমা দেশকেও ইরান এখন চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরলে বিষয়টি বোঝা সহজ হবে।

ইরানি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া ২০১৬-১৭ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ওই বছর দেশটির রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ। তেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞার পরও প্রধানত পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী রফতানি থেকে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশটি। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ইরান সম্প্রতি বিশ্বের শীর্ষস্থান দখল করে। ২০১৭ সালের হিসাবে এ ক্ষেত্রে শীর্ষে ছিল ইরান, দ্বিতীয় অবস্থানে রাশিয়া এবং তৃতীয় স্থানে ছিল চীন। শীর্ষ ২৫টি দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতায় ইরানের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ শতাংশ। দেশটির প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্যের রফতানিও বেড়েছে বিপুল পরিমাণে। ২০১৫ সালে ইরান ৫০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞানভিত্তিক পণ্যসামগ্রী রফতানি করে। দৈনিক তেহরান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে ন্যানো প্রযুক্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, জাপান ও ফ্রান্সের মতো দেশকে টপকে চতুর্থ শীর্ষস্থান দখল করেছে ইরান। এই খাতে আট হাজার ৭৯১টি আর্টিকেল প্রকাশ করে দেশটি এই অবস্থান অর্জন করে। এই তালিকায় চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত ছিল যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে। বৈজ্ঞানিক উৎপাদনেও সম্প্রতি বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জন করেছে দেশটি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে ইরানের অবস্থান এখন ১৬তম।

এতক্ষণ যেসব বিষয়ে বলা হলো তাতে মনে হতে পারে, অর্থনীতি সামাল দিতে হিমশিম খাওয়া ইরানের মোল্লাতান্ত্রিক (!) শাসকেরা সম্ভবত সব ধরনের মননশীলতার চর্চা বন্ধ করে দিয়ে কেবল বৈষয়িক উন্নয়নের দিকেই মনোযোগী হয়েছেন। কিন্তু বিশ্বের চলমান ঘটনাবলির খবর যারা রাখেন তাদের অজানা নয় যে, সৃজনশীল সংস্কৃতির চর্চা সেখানে বন্ধ তো হয়ইনি, বরং তা বিশ্বমানে উন্নীত হয়েছে। আট কোটি মানুষের এই দেশটিতে এখনো বছরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয় প্রায় ২০০টি। প্রতি বছর জাতীয় চলচ্চিত্র উৎসব পালিত হয় এবং বিশ্বের সর্বত্র এ ধরনের উৎসবে অংশ নিয়ে পুরস্কার নিয়ে আনেন ইরানি চলচ্চিত্র জগতের গুণী ব্যক্তিরা। ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে বিগত বছরগুলোতে ইরানের চলচ্চিত্র শিল্প বিশ্বের দর্শক ও বোদ্ধাদের কাছে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্বের বেশির ভাগ চলচ্চিত্র নির্মাতা যখন নিছক বাণিজ্যিক উপাদানকে হাতিয়ার করে অতি সহজে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন, তখন ইরানের নির্মাতারা বেছে নিয়েছেন পেশাগত দক্ষতা ও শিল্পের নান্দনিক প্রকাশের দিকটি। তারা কাজে লাগাচ্ছেন সামাজিক, চারিত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধগুলো; যা দর্শকের কাছে ভিন্ন তাৎপর্য বহন করেছে। এ কারণেই বিশ্বব্যাপী আজ ইরানি চলচ্চিত্রের এমন জয়জয়কার। সেই সাথে শক্তিশালী চিত্রনাট্য, অনন্য অভিনয়শৈলী, কলাকুশলীর মনকাড়া আবেদন এবং বিশ্বমানের কারিগরি কৌশলের কারণে বিশ্বের সর্বত্র আজ ইরানি সিনেমা ব্যাপকভাবে সমাদৃত। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত ও সম্মানজনক পুরস্কার অস্কার থেকে শুরু করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ঘরে তুলে নিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটি। দু-দু’বার সেরা পরিচালক হিসেবে অস্কার জিতেছেন ‘অ্যা সেপারেশন’ ও ‘দ্য সেলসম্যান’ ছবির পরিচালক আসগর ফারহাদি। এ ছাড়াও ইরানে অনেক মেধাবী চলচ্চিত্রকারের জন্ম হয়েছে, যাদের হাত ধরে দেশটি ভবিষ্যতেও অস্কার জিতবে বলে বোদ্ধাদের ধারণা।

এভাবে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরান যে অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, তা মূলত ইসলামী বিপ্লবেরই সুফল। সম্পূর্ণ প্রতিকূল বিশ্বপরিস্থিতির মোকাবেলা করে এই অর্জন অভূতপূর্ব, অনন্য। বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নের কাণ্ডারিদের জন্য এ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।